বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ১
চরম এক্কান মুভি দেখে সিনেমাহল থেকে বের হলাম। অনেক রাত হয়েছে। এবার বাসায় গিয়ে খানদানি একটা ঘুম দিব।
হেটে হেটে বাসার দিকে আসছিলাম। হঠাৎ শুনলাম একটা নারী কণ্ঠ: এই ছোকরা, এদিকে আয়......"
এত্তবড় সাহস কার, আমাকে ছোকরা বলে ডাকে। রেগে গিয়ে বললাম: ঐ কোন শালিরে, আমাকে ছোকরা ডাকিস, জানিস আমার বিয়ের বয়স হয়েছে?
--ও তাই নাকি, আমি তো তোমাকেই খুঁজছি বিয়ে করার জন্য।
--ছি ছি! কি লজ্জা, এত রাতে মেয়ে হয়ে বাইরে ঘুরছিস, আবার আমার মতো খানদানি ছেলেকে বিয়ের কথা বলছিস? আমি যদি কখনো দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়, তাহলে একটা আইন করব, সন্ধ্যার পর মেয়েগুলো বের হতে পারবেনা।
--ঐ ছোকরা, জানিস আমি কে??
--ঐ তুই কোন নবাবজাদি রে?
--আমি ভূতের মেয়ে.....
--কি??" চমকে উঠলাম আমি ভালো করে খেয়াল করলাম, ওর চোখ দুইটা উল্টানো, নাকটা অনেক লম্বা। দেখে তো আমার কথা দিয়ে মুখ বের হচ্ছিলনা, থুক্কু মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলনা। ভয়ে ভয়ে বললাম: ভুল হয়ে গেছে, আমি এবার যাই??
--কোথায় যাবি তুই?
পেটটা চেপে ধরে বললাম: পেটে চাপ ধরেছে। জরুরি যেতে হবে.....
--ঐ চুপ, মিথ্যা বলবিনা, আমাকে তুই বিয়ে করবি চল......
হায়! হায়! কপালে আরো কত কি আছে কে জানে। মায়ের কথা অমান্য করে সিনেমা দেখতে না আসলে আজ এই অঘটনটা হতোনা।
--বিয়ে করতে হবে? না, আমার বিয়ের বয়স হয়নি।
--ঐ তুই না বললি একটু আগে তোর বিয়ের বয়স হয়েছে।
--বোন, ওটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে।
--ঐ চুপ, বোন ডাকবিনা,, একটু পর আমি তোর বউ হব। জানিস, আমি এখানে এসেছি আমার বিয়ের পাত্র খুঁজতে। আমার বান্ধবীদের আমি গর্ব করে বলে এসেছি আমি মানুষ বিয়ে করব।"
ভূতের মেয়েটা আমাকে জোর করে নিয়ে যেতে লাগল তাদের জগতে। আমি জোরে জোরে চিৎকার করে বললাম, মা মাগো তোমার ছেলে বিয়ে করতে যাচ্ছে, হয়তো আর ফিরে পাবেনা তোমার ছেলেকে, মাফ করে দিও মা.....
ভূতের মেয়েটা আমাকে তাদের রাজ্যে নিয়ে এল। এখানে এসে অনেক ভূতের সাথে পরিচয় হল। পরদিনই আমার সাথে ভূতের মেয়ের বিয়ে ঠিক হল। একটা বৃদ্ধ ভূতকে দেখিয়ে আমার হবু বউ বলল: উনি তোমার শ্বশুর, যাও সালাম কর।
আমি বললাম: উনি আমার শ্বশুর? কিন্তু উনি ল্যাংটা কেন? উনার কাপড় কই?
--ঐ চুপ, শ্বশুরকে সম্মান কর।
মনের জোরে আমার ল্যাংটা হবু শ্বশুরকে সালাম করলাম। ইচ্ছে হয়েছিল শ্বশুরের পা দুইটা ধরে একটা আছাড় মারি..... কিন্তু শেষে নিজের বিপদের কথা চিন্তা করে আর মারলামনা।
পরদিন আমাদের বিয়ে হল। আমাদের বিয়েতে অনেকগুলো ভূত পেত্নী নাচানাচি করল। আমি ভিডিও করে নিলাম। কখনও এখান থেকে ফিরে যেতে পারলে ভূতের নামে মামলা করব। আমার মায়ের কত শখ ছিল ছেলের বিয়ে ধুমধাম করে দিবেন, তা আর হলনা, মা মাগো আমায় ক্ষমা করে দিও মা।
রাতে ভূতের মেয়ের সাথে আমার বাসর হবে। কয়েকটা পেত্নী (দুর্ভাগ্যক্রমে আমার শালী) আমাকে জোর করে ঠেলে দিল বাসর করতে। আমি বাসর ঘরে ঢুকলাম। আমার বউ লজ্জা পেয়ে ঘোমটা টেনে দিল। ইচ্ছে হয়েছিল একটা লাথি মারি। কত আশা ছিল বিদেশী একটা প্রিন্সেসকে বিয়ে করব, বাসর করব, সংসার করব,, আজ কপালের দোষে ভূতের মেয়ের সাথে সংসার করতে হচ্ছে। বাসর রাতে আমি বউকে বললাম: বউ, আমি ঘরজামাই থাকতে পারবনা, আমি খানদানি ছেলে, আমার একটা প্রেস্টিজ আছে।
বউ বলল: তা হবেনা, আমি ভূতের মেয়ে, মনুষ্য জগতে আমাকে কেউ মেনে নেবেনা।
--কেন মেনে নেবেনা? তোমাকে প্রয়োজনে দুইটা মানুষের চোখ লাগায় দেব, আর তোমার লম্বা নাকটা না হয় অর্ধেক কেটে ফেলব। তারপর মানুষের মতো দেখাবে তোমাকে।
আমার কথা শুনে আমার সদ্য বিয়ে করা বউ আমার দিকে রেগেমেগে তাকাল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। নিজেকে সামলিয়ে বললাম, না না, ঠিক আছে, আমিই থেকে যাব এখানে। পোড়া কপাল আমার।
--তুমি আমার স্বামী, বাসর রাতে স্বামীর ছোয়া পেতে প্রতিটা ভূতের মেয়ে চাই। আমাকে আদর করবেনা তুমি?""
আদর? শালির মুখের দিকে তাকালে মুখে থু থু চলে আসে, ওরে নাকি আমি আদর করতাম। মনের কথাটা মনে চেপে রেখে বললাম: আমার এত কিউট বউ একটা, এন্জেল ভূত্নীকে কি আমি আদর না করে পারি?
আমার কথা শুনে আমার বউ এর মুখটা লজ্জায় কালো হয়ে গেল। মানুষ লজ্জা পেলে মুখ লাল হয়, এদের কালো হয়। অদ্ভুত!
বউ বলল: যাহহ এভাবে বলোনা, আমার লজ্জা করে।
আমি বললাম: ওরে আমার লজ্জাবতী বউরে, আচ্ছা আমাদের বাচ্চা হলে সেটা মানুষের বাচ্চা হবে নাকি ভূতের বাচ্চা হবে?
--তাতো জানিনা.....
--তাহলে একসাথে দুইটা দুইটা বাচ্চা জন্ম দিও। একটা মানুষের বাচ্চা, আরেকটা ভূতের বাচ্চা।"
আমার বউ লজ্জা পেয়ে বলল: যাহহহ দুষ্ট....."
তার কথাটি শুনে ইচ্ছে হয়েছিল তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি মারি। কিন্তু আমি অসহায়। পারলাম না তা করতে।
এরপর ভূতের মেয়ের সাথেই আমি সংসার করতে লাগলাম। অনেকদিন হয়ে গেল। আমার নিজের জগতে ফিরে যাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি এখন। ও বলা হয়নি, আমাদের একটা সন্তান হয়েছে। অর্ধেক ভূত, অর্ধেক মানুষ। এখন ওর একটা নাম রাখতে হবে...... কি নাম রাখা যায় চিন্তা করতেছি। শত হলেও আমারই তো সন্তান সে.......
[[চলবে....]]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now