বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘গভীর রাতে কেউ যদি পিছন থেকে ডাকে, তবে ঘুরে তাকানো যাবে না, তাকালে যে নিশি ধরবে!’
আমাদের দেশের গ্রামের মানুষেরা এই কথাটা একদম মন থেকে মেনে চলে দেখে বেশ অবাক হয়ে গেলাম!
যে সময় মানুষ চাঁদে পা রেখেছে সেই সময় মানুষকে এইসব আধিভৌতিক কুসংস্কার বিশ্বাস করতে দেখে রাগও লাগে, আবার হাসিও পায়। সেইবার দাদা মারা যাওয়ায় অনেক বছর পর গ্রামে এসেছি । আমাদের গ্রামটা একটু সেকেলে ধাঁচের। এখানে বেশিরভাগ রাস্তা এখনো কাঁচা, সব বাড়িতে বিদ্যুৎও নেই। সব মিলিয়ে মনে হয় এখানে আসলে সময়ও যেন পিছিয়ে যায়। আর একারণে সময় বের করতে পারলেই গ্রামে চলে আসি। তবে এবার গ্রামে এসে কেন জানি কুসংস্কার একটু বেশিই শোনা যাচ্ছে!
দাদাকে দাফন করার ৩ দিন পর বাড়ির কোলাহল একটু একটু করে কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। আমারও হঠাৎ করে যেন একটু নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে হলো। রাতে বের হয়ে বড় মাঠে যাবো বলে ঠিক করলাম।
মাঠটা বিশাল। ধু ধু প্রান্তর শেষে একটা ঝাঁকড়া তেঁতুল গাছ আছে। এই গাছকে নিয়েও নানান কথা হয়। এই গাছে নাকি একজন কিশোরী ফাঁসি দিয়েছিল, এরপর থেকে প্রতি অমাবস্যাতেই নাকি এই গাছে একটা ছায়া দেখা যায়। কেউ কেউ ছায়াটিকে কাছ থেকে দেখতে গিয়েছিল, তবে ছায়াটা কাছ থেকে দেখার পর কেউ নাকি আর স্বাভাবিক থাকতে পারেনি!
গাছের নিচে বসে বাতাস খাচ্ছি আর মানুষের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করছি। কত সহজেই না একজন মানুষ চলে যায় খুব দূরে। নিজের চিন্তায় এত ডুবে গিয়েছি যে, সময় নিয়ে কোন ধারণাই ছিলো না। গাছের উপর থেকে কোন নিশাচর পাখির ডাক শুনে হঠাৎ যেন সম্বিত ফিরে পেলাম! উপরে তাকিয়ে দেখলাম কোন পাখিই নেই। ৫ সেকেন্ড পর মনে হলো কোন পাখি নয়, একজন মানুষই আমাকে ডাকছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি কোন মানুষের চিহ্ন-ই নেই! কী আশ্চর্য!
কোথাও কোন শব্দ নেই, সব যেন কবরের মতো নীরব। হঠাৎ আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। জানি ভয়টা অবাস্তব, তবুও ভয় যে লাগছে সেটাই তো সত্যি। বাকি সব তো এখন মিথ্যা! জোরে হাঁটা ধরলাম আমি। প্রায় মিনিট পনেরো হাঁটার পর অবাক হয়ে দেখলাম, আমি আবারো সেই তেঁতুল গাছের নিচেই চলে এসেছি। বুঝলাম ভয়ে হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। জোরে শ্বাস টেনে আবারো হাঁটা ধরলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর অবাক হয়ে নিজেকে আবারো আগের জায়গাতেই আবিষ্কার করলাম! এবার আর মাথা ঠিক রাখতে পারলাম না। দৌড়ানো শুরু করলাম। কিন্তু কী আশ্চর্য, আমি সেই আগের জায়গাতেই ফিরে এসেছি!
তবে এবার সব কিছু কেমন যেন অন্যরকম লাগছে। তেঁতুল গাছটা যেন একটু বড় হয়ে গিয়েছে, আর ডালগুলো যেন হাত বাড়িয়ে আমাকে ধরতে আসছে!
১২ই মার্চ, ২০১৮ সাল:
একটি স্থানীয় পত্রিকায় একটি খবর বের হলো, “কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু। মৃত্যুর সঠিক কারণ কোন ডাক্তারই বলতে পারছে না।
NS
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now