বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ডায়নির_রহস্য
#শেষ পর্ব
তানভীরকে সমস্ত প্ল্যানটা বলার পর সে কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।কারণ এতে আমার প্রাণের ঝুঁকিও আছে।যদি এই প্লানে সফল না হই তাহলে অন্যান্য মেয়েদের মতো আমাকেও এই ডাইনীর হাতে মরতে হবে। আর যদি সফল হই তাহলে ডাইনী আসবে আমাদের সকলের সামনে আর এতে হয়তো এই মৃত্যু খেলাও শেষ হয়ে যাবে চিরদিনের মতো।কিন্তু তানভীর তো রাজি হচ্ছে না।
—দেখো জান্নাত!আমি জেনেশুনে তোমাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারিনা।আর আমরা সবাই জানি ঐ খুনীটা অনেক পাওয়ারফুল। সে এতগুলা মেয়েকে মেরেছে। আমি তোমাকে হারাতে চাই না।
—প্লিজ বুঝার চেষ্টা করুন।আমাদের হাতে এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।আমি এই ডাইনীকে আনতে চাই সবার সামনে।এতে যদি আমাকে মরতে হয় তাতেও আমি পিছু হটব না।কিন্তু এরদ্বারা তো অনেক মেয়ের জীবন বেঁচে যাবে।আর আপনি নেগেটিভ কেন ভাবতেছেন?আল্লাহ চাইলে আমার কিছুই হবে না।কারণ ঐ ডাইনী যতই পাওয়ারফুল হোক না কেন মহান আল্লাহ পাকের কাছে তুচ্ছ। প্লিজ! অনুমতি দিয়ে দেন এবং আমি যেভাবে বলছি সেভাবেই সব করেন।প্লিজ প্লিজ প্লিজ
—(কিছুক্ষণ চিন্তা করে)ঠিক আছে।তবে আমার একটা শর্ত আছে।
—কি শর্ত!
—একসাথে দুজনে যাবো।তুমি একা না।
—কিন্ত তাহলে তো..
—আমি লুকিয়ে থাকবো। আমাকে কেউ দেখবে না।তুমি তোমার কাজ করার পর আমি আমারটা করব।
—অক্কে মাই ডিয়ার হাসবেন্ড। এমনি হবে!(জড়িয়ে ধরে)
(রাত ১০:৩০)
যখনই প্লান অনুযায়ী কাজ শুরু করতে যাবো অমনি তানভীরের ফোনে কল আসল।ফোনে কথা বলার পর তানভীরকে অনেক টেনসড লাগছে।
—কি ব্যাপার! কি হয়েছে?
—জান্নাত! তিনদিন পর আমাদের ঢাকায় চলে যেতে হবে।
—মানে! (উত্তেজিত হয়ে)
—স্যার ফোন করেছিল।আমার এখানের কাজ শেষ তাই ঢাকায় ফিরে যেতে বলেছেন।
—কিন্ত যদি আজকে আমাদের কাজ শেষ না হয় তখন?
—কিছুই করার নেই।যেভাবেই হোক আজকের মধ্যে... (হঠাৎ গতরাতের সেই অদ্ভুত শব্দ আর আলো)
আমি আর তানভীর কিছু বুঝে উঠার আগেই কারো করুন আর্তনাদ শুনে দরজা খুলে দৌড় দিলাম।দেখলাম স্নেহার আম্মু বাড়ির বাহির থেকে দৌড়ে ভিতরে ডুকছে তার সাথেই একজন ছেলে।ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম কবি ভাইয়া। আপু চিতকার করেই চলেছে। তার মুখে শুধু একটাই কথা।"ডাইনী"বাড়ির সবাই অলরেডি নিচে চলে এসেছে।আমি আপুকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করলাম।কিন্তু উনি অনেক ভয় পেয়ে গেছেন তাই থেমে থেমেই চিৎকার করছেন।হঠাৎ সামনে কাকে দেখে যেনো উনি আরো জোরে চিৎকার করে বলছেন,"এই সেই ডাইনী। এই সবাইকে মেরেছে। আমাকেও আজ মারতে চেয়েছে। "
আমরা সবাই সামনের দিকে তাকালাম দেখলাম কোনো মহিলা সামনে আসছে,অন্ধকারের কারণে ফেইস বুঝা যাচ্ছে না। যখনি উনি আলোতে আসল তখন বাড়িওয়ালা বলে উঠল
—এই মেয়ে!তুমি এসব কি বলছ?উনি ডাইনী হতে যাবে কেন।যতসব ফালতু মেয়ে।
—না, আমি সত্যি বলছি।এই মহিলাই ছিল।
(এবার মহিলার চেহেরাটা ভালো করে দেখলাম।কিন্তু উনি তো বৃদ্ধ একজন মহিলা।উনি কিভাবে ডাইনী হবে।উনি তো হাঁটতেই পারছেন না।উনি কি করে কোনো মানুষ মারবে!)
—আপু।তুমি মনে হয় ভুল দেখেছো।উনি তো বৃদ্ধ একজন মানুষ। স্বাভাবিক মানুষ।
—না জান্নাত ! এ কোনো স্বাভাবিক মহিলা নয়।আমি একে হাওয়ায় উড়তে দেখেছি।এর চোখগুলো আগুনের মতো লাল ছিল আর এর হাত থেকে কারেন্ট বেরুচ্ছিল।সম্পূর্ণ মুখ অত্যন্ত ভয়ানক ছিল।আমাকে বিশ্বাস করো এই সেই ডাইনী যে সবাইকে মারছে।
—হ্যা,উনি ঠিক বলছে।আমিও দেখেছি উনি হাওয়ায় উড়ছিল, খুব ভয়ানক রূপ ছিল উনার।(কবি ভাইয়া)
তানভীর বলে উঠল :
—আপনি কি করে জানেন?
—আসলে আমি একটু কাজে বাহিরে গিয়েছিলাম, ফ্রেন্ডের সাথে ফোনে কথা বলছিলাম। হঠাৎই কারো চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি এই আপু চিল্লাচ্ছে আর ঐ মহিলাটা হাওয়ায় উড়ছে আর তার হাত থেকে কারেন্ট বের হচ্ছে।
বাড়িওয়ালা চিৎকার করে বলে উঠল:
—সবাই মিথ্যা কথা বলছে।আমার মা এমন কিছু না।কি ডাইনী ডাইনী বলছ?ডাইনী বলতে কিছুই নেই।(সকলে অবাক হয়ে তার দিকে তাকাই,কারণ আমরা কেউই জানি না যে এই মহিলা উনার মা।আর উনাকে তো এতদিন কেউই দেখিনি এইবাড়িতে।)
তানভীর জিজ্ঞেস করল :
—আপনার মা মানে!উনাকে তো আমরা কেউই দেখিনি। উনি কোথায় ছিল এতদিন?
—আমার মা মেন্টেলি ডিসঅর্ডার। আমি চাইতাম না আমার মাকে কেউ কিছু বলুক তাই তাকে সবসময় লুকিয়ে রাখতাম সকলের কাছ থেকে।আলাদা ঘরে থাকত সে,আর সেজন্যই আমি সবসময় কোলাহলমুক্ত বাড়ি রাখার চেষ্টা করতাম।কিন্তু আজকে কি করে উনি বাহিরে চলে গেছে তা আমি জানি না।
(আপু রেগে গিয়ে বলে উঠল)
—সব বানিয়ে বলা।এই মহিলাই ডাইনী,এই সবাইকে মেরেছে। এ কোনো সাধারণ মানুষ নয়।একে পুলিশের কাছে দিয়ে দাও।তা না হলে আমাকে মেরে ফেলবে।সবাইকে মেরে ফেলবে।
—আমার মা এমন না।তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে ।
—কিন্ত আমি যা দেখেছি তাও কি ভুল?(কবি ভাইয়া)
সত্যিই তো একজন মানুষ ভুল দেখতে পারে কিন্তু দুজন মানুষ একি ভুল কি করে দেখবে।তাহলে কি সত্যিই এমহিলা ডাইনী?এর কোনো আলাদা ক্ষমতা আছে?তবে উনাকে দেখে তো তা মনে হয় না।
বাড়ির সবাই শুধু একি কথা বলছে উনাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে।তা না হলে সবার জীবন যাবে।আমার আর তানভীরের এমুহূর্তে কি করা উচিত বুঝতে পারছিনা। তবে যদি কিছু সত্য থাকে তাহলে তো উনাকে এখানে রাকা বিপদজনক। এখানে থাকাটা এখন উনার জন্যই বিপদজনক, কারণ সবাই এখন তার উপর রেগে আছে। যে কেউ যে কিছুই করে দিতে পারে।তাই তাকে এখন পুলিশের কাছে দেওয়াটাই ভালো।তানভীরের সাথে কিছুক্ষণ আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তই নিলাম।কিন্তু সবার মোবাইল তো যার যার ঘরে তাই কবি ভাইয়ার মোবাইলটা থেকেই পুলিশকে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে উনাকে নিয়ে গেলো।বাড়িওয়ালা অনেক ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করল কিন্তু পুলিশ তার কাজ করে চলে গেল।তানভীর বাড়িওয়ালাকে শান্তনা দিচ্ছে।
—যদি আপনার মা দোষী না হয় তবে উনি শাস্তি পাবে না।সেটার দায়িত্ব আমি নিলাম।
সবাই তখন তানভীরকে কথা শুনাচ্ছে যে একজন ডাইনীর জন্য দায়িত্ব নেয়া আর মৃত্যুকে ডেকে আনা একি কথা।
( পরদিন রাত ১১:০০)
বাড়ির বাহিরে এক গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ফোনে তানভীরের সাথে কথা বলছি।সে নাকি কি সারপ্রাইজ দিবে এখন।তাই দাঁড়াতে বলেছে এখানে।হঠাৎই দূরে পুকুরপাড়ের উপর কিছু একটা ভেসে উঠল।সেটা আস্তে আস্তে হাওয়ায় উড়তে শুরু করল।একি! এটা আমি কি দেখছি।এমন বিভৎস রকমের চেহারা আমি কোথাও দেখিনি।হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে গেলো,এই কি তাহলে সেই ডাইনী।এর সমস্ত চুল হাওয়ায় উড়ছে,চোখ থেকে ঠিকরে রক্ত বেরিয়ে আসছে।খুবই কর্কষ কন্ঠে সে বলছে
—বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিস!এখন তুই শাস্তি পাবি!শাস্তি! (বিকট অট্টহাসি হাসছে)
পিছনে তাকাতেই দেখলাম...
(রাত ১২:০০ টা)
নিচ তলার খালি জায়গায় সমস্ত বাড়ির মানুষ, আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা এমনকি পুলিশও উপস্থিত।
তানভীর সবাইকে আসতে বলেছে।আজ সবাই তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত ডাইনীকে দেখবে।হঠাৎ সবার সামনে বিকট হাসি দিয়ে সেই ডাইনী হাওয়ায় ভাসতে লাগল।সবাই তো ভয়ে একেবারে শেষ। কেউ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলনা।আর হঠাৎই ডাইনীটা মিলিয়ে গেল।এখনও সকলে ভয়ে কেঁপে উঠছে।তানভীর প্রথমে কথা শুরু করল:
—এই ছিল আপনাদের সকলের সেই ডাইনী।যে এতগুলো মানুষকে মেরেছে। কি তাইতো?কিন্তু আমি যদি বলি এই ডাইনীটার কোনো অস্তিত্ব নেই তবে কি বিশ্বাস করবেন?
—(সকলে অবাক দৃষ্টিতে তাকাল)
—(তানভীর একটা প্রজেক্টর দেখিয়ে বলল) এই সেই স্থান যেখানে ডাইনীটা থাকে।মানে বলতে চাই এটার মাধ্যমে থ্রিডি ছবি বা ভিডিও যেকোনো জায়গায় রিফ্লেক্স করা যায়।এর জন্য কোনো আলাদা কোনো পর্দা বা সাদা স্থানের প্রয়োজন নেই।আর এর পাশে যে ছোট বক্সটা দেখছেন এটা হচ্ছে মাইক্রোফোন টাইপের যাতে যেকোনো কথাকে একটা ভয়ানক আওয়াজ করা যায়।আর যেটার মাধ্যমে অর্থাত কারেন্টের শক দিয়ে সবাইকে মারা হয়েছে সেটা হচ্ছে এই যন্ত্রটা।যাতে একই সময়ে ৪০০ বোল্টের মতো বিদ্যুৎ ইউস করা যায়৷ আর এর ফলে যে আলোর সৃষ্টি হয় তার আলোই দেখেছেন অনেকে।
—এসব আপনি কি করে জানলেন? (পুলিশ)
—সেটা বলবে এই রহস্যের প্রধান চরিত্র ইনি(কবি ভাইয়াকে দেখিয়ে)
মাথা নিচু করে সকলের সামনে আসলেন ভাইয়া।বলতে শুরু করলেন:
—আমার সব প্লান শেষ হয়ে গেছে এই দুজনের কারণে। (আমাকে আর তানভীরকে দেখিয়ে)।আমি তো ঐসব মেয়েদের শাস্তি দিচ্ছিলাম যারা নিজেদের ভালবাসার মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।যারা এই দুনিয়ায় থাকার যোগ্য না।এজন্য আমি সাইন্সের সাহায্যে এইসব কাজ করি কিন্তু তা চালিয়ে দেই ডাইনীর নামে। আর এসব বোকারা এটা বিশ্বাস করে নেয়।যেহেতু এই বাড়ির বাড়িওয়ালা খুব স্ট্রিক তাই আমি খোঁজখবর নিয়ে এই বাড়িটাকে আমার প্লান চরিতার্থ করার জায়গা বানাই।সেজন্য আমি এই বাড়িওয়ালার মায়ের চেহারাটা ডাইনীর চেহারার জন্য বাছাই করি।কেননা আমি এ সম্পর্কে জানতাম,কিন্তু সেদিন স্নেহার মাকে মারার সময় এই বুড়িটা আমাকে দেখে ফেলে তাই সেদিন ওকে না মারতে পেরে বুড়ীর উপর সব দোষ দিয়ে দিই।আর আজ যখন একে ( আমাকে দেখিয়ে) গাছের নিচে লুকিয়ে কথা বলতে শুনি তখনি মনে করি এও এদের মতো তাই সেই একি ভাবে মারার চেষ্টা করি।কিন্তু যখনি মারার জন্য পিছন থেকে কারেন্টের যন্ত্রটা ওর ঘাড়ে লাগাতে যাবো অমনি এর স্বামী এসে পড়ে।
সো আমাদের আর কিছু বলার নেই।পুলিশ একে ধরে নিয়ে গিয়েছে। ঐ আন্টিকেও ছেড়ে দিয়েছে।পরে জানা গেছে যে এই ভাইয়া নাকি উনার স্ত্রীর কাছে কোনোভাবে চিট হয়েছে তারপর থেকে সমস্ত মেয়েদেরই নাকি উনি সন্দেহের চোখে দেখে।আর তারপর তো উনার মুখ থেকেই শোনা।
যাক এবার যদি এই অন্ধবিশ্বাস দূর হয় উনাদের।
(সকাল ১০:৩০)
ঢাকায় যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিচে নেমে দেখি সমস্ত এলাকার মানুষ,পুলিশ,সমস্ত বাড়ি আমাদের জন্য অয়েট করছে। সবাই নিজেদের মতো করে দোয়া করল।সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।গাড়ীর মধ্যে ডাইনীর কথা মনে করেই হাসি পাচ্ছে আবার সেই মেয়েগুলার কথা মনে করে খারাপ লাগছে।তানভীররের কাঁধে মাথা রেখে এসব ভুলার চেষ্টা করে চোখ বন্ধ করলাম।
সমাপ্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now