বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ডায়নির_রহস্য
পর্ব_৩
পরদিন সকালে দেখি গেটের বাহিরে মানুষের ঝটলা।বিষয়টা বুঝতে পারছিলাম না উপর থেকে, তাই তাড়াতাড়ি করে বোরকা পরে নিচে নামলাম।এই মানুষগুলো কোথা থেকে আসল! এদের তো এই বাড়িতে কখনো দেখি নি।হঠাৎই আমাদের বাড়িওয়ালার ভয়েস শুনলাম মনে হলো।তাই ভিড় ঠেলে একটু উঁকি মেরে দেখি যে আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের আপু মাটিতে পড়ে আছেন।উনাকে ঘিরেই এত মানুষের ভিড়।কিন্তু উনি এখানে কেন!এ অবস্থায় কেন!
এসব প্রশ্ন নিয়ে সামনের দিকে আরেকটু এগিয়ে যেতেই দেখি উনি মারা গেছেন।দেখে মনে হচ্ছে কারেন্টের শক খেয়ে মারা গেছেন।খুব বেশি পরিমাণে কারেন্ট প্রবাহিত হয়েছে উনার শরীর দিয়ে।কিন্তু এখানে কারেন্টের তার আসবে কোথা থেকে।আর উনাকে কেউ ডাক্তারের কাছেই বা কেন নিয়ে যাচ্ছেন না।
সবার মুখে শুধু একটাই কথা--
—আরো একটা মৃত্যু হলো। এই ডাইনী কোনো মেয়েকে ছাড়বেনা।দেখে নিও এভাবে আরো মৃত্যু হবে।এখনও সময় আছে এই বাড়ি থেকে মেয়েরা চলে যাও।কেউ থেকো না এখানে।
উনাদের কথাগুলো শুনে উনাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকলাম।কি বলছে এসব!তারমানে গতকাল রাতে আমি যে অদ্ভুত সব আওয়াজ শুনেছি তা এদের কথিত সেই ডাইনীর! তারপর সেই আলো,সেটা কি এই আপুকে মারার জন্য বিচ্ছুরিত আলো ছিল।হাজারো প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কি হচ্ছে এসব আর হঠাৎই এই ডাইনীর আসার কারণই বা কী!
নাহ!আমাকে ঠান্ডা মাথায় এসব ভাবতে হবে।এই ডাইনীর রহস্যের আড়ালে কোনো মানুষরূপী ডাইনীর হাত নেই তো?যে ডাইনীর ভয় ডুকিয়ে দিয়ে এসব করছে।কিন্তু ! তাহলে রাতের সেইসব অদ্ভুত শব্দ, এগুলো তো কোনো মানুষের হতে পারে না।তাহলে কি সত্যি ডাইনী বলতে কিছু আছে?
এটা হতে পারেনা।জ্বীন থাকতে পারে তবে ডাইনী সেটা ইম্পসিবল!
—এই মেয়ে নিজের যথাযথ শাস্তি পেয়েছে। এ নিজের স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।(বাড়িওয়ালা)
(উনার মুখে এ কথা শুনে এখন সন্দেহটা উনার উপরই হচ্ছে। উনি কি করে জানেন যে আপু উনার স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে!আর এর শাস্তি ঐ ডাইনী কেন দিবে।কিছু তো কানেকশন আছে এইসবের মধ্যে।)
—(ভিড়ের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম) প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড। আমি এই বাড়িতে নতুন এসেছি। এই ডাইনীর রহস্যটা কি একটু বললে খুবই উপকৃত হতাম।
—যদি জীবনের মায়া থাকে তো এই বাড়ি থেকে চলে যাও।তা না হলে এই বয়সেই প্রাণটা হারাবে।( রেগেমেগে)
—প্রাণটা যখন যাবার এমনি যাবে।আপনি শুধু বলুন এই বাড়িতে এখন পর্যন্ত কয়টা মৃত্যু হয়েছে এই ডাইনীর হাতে?
—এই মেয়েটাকে নিয়ে পাঁচটা।
—কি!পাঁচটা।এই পর্যন্ত পাঁচটা মেয়ের মার্ডার হয়েছে আর আপনারা কোনো পুলিশ কম্পেলেন করেননি?
—কার বিরুদ্ধে করব?একটা ডাইনীর বিরুদ্ধে!
—ওফ!আপনারা এই ডাইনী নিয়ে পড়ে আছেন।নিজের চোখে এই ডাইনীকে দেখেছেন কখনো?
—না তবে শুনেছি।
—শুনা কথা নিয়েই পরে আছেন।এতগুলো মেয়ে মারা গেল আপনাদের এই শুনা কথার কারণে।
—এই মেয়ে তোমার কি মনে হয়!পুলিশ আসেনি এখানে?পুলিশ এসেছে কিন্তু তারাও এই ডাইনীর কাছে হার মেনেছে।কোনো প্রমাণ পায়নি যা দ্বারা এটা বুঝা যায় যে একাজ কোনো মানুষ করেছে।
—ঠিক আছে।আমি বের করব এই ডাইনীকে আর সবার সামনে নিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ। আর কোনো মেয়েকে এভাবে খুন হতে দিবো না।
—শেষমেষ নিজের প্রাণটা না হারাও।(তাচ্ছিল্যের সাথে)
—সেটা দেখা যাবে।বর্তমানে আমার সন্দেহের তালিকায় রয়েছে এই বাড়ির বাড়িওয়ালা।কিন্তু এই আপুর হাসবেন্ডই বা কোথায়!উনার স্ত্রী মারা গেছে অথচ উনাকে দেখতেই পারছিনা।এমনটা নয়তো যে উনি নিজেই মেরে এখানে রেখে গেছেন তারপর নাম দিয়েছেন ডাইনীর।আসলে কে এই ডাইনী আর কেনইবা শুধু মেয়েদের শাস্তি দিচ্ছে তার রহস্য বের করতে আমার তানভীরের সাহায্য লাগবে।উনাকে না বলে কিছু করা ঠিক হবে না।
(নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে গিয়ে তানভীরকে কল দিলাম)
—হ্যালো,আসসালামু আলাইকুম।
—ওয়ালাইকুমুস সালাম।কি খবর! এতক্ষণে স্বামীর কথা মনে পরল বুঝি।একজন বউ পেয়েছি যে কিনা স্বামীর কোনো চিন্তাই করে না।
—সরি! প্লিজ রাগ করবেন না।আমি আসলে নিচে ছিলাম, তাই ফোন দিতে পারিনি।
—এই সকাল বেলা নিচে কেন গেছিলা তুমি?কোনো সমস্যা হইছে?
—হুমম..অনেক বড় সমস্যা।
—কি?
—আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে যেই কাপলরা থাকে, সেই আপু মারা গেছে। আর তার লাশ পাওয়া গেছে গেটের বাহিরে।সবাই বলছে যে উনাকে নাকি ডাইনী শাস্তি দিছে।
—কি বলছো এসব!ডাইনী,শাস্তি এগুলো কি? তুমি কি এসব বিশ্বাস করতেছো নাকি?
—নাহ!তবে তাদের কথা মতে ডাইনী আছে আর সেই ঐ সমস্ত মেয়েদের শাস্তি দিচ্ছে যারা উচ্ছৃঙ্খল। এই পর্যন্ত পাঁচ জনকে মেরেছে তাদের কথিত সেই ডাইনী।কিন্তু আমি এটা প্রমাণ করতে চাই যে ডাইনী বলতে কিছু নেই আর এই মৃতদের আসল খুনীকে সবার সামনে আনতে চাই।এজন্য আপনার সাহায্য প্রয়োজন।
—অবশ্যই!তাদেরকে এই অন্ধকার থেকে বাহিরে আনা দরকার। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম।কারণ একমাস শেষ হতে খুব বেশিদিন বাকি নেই।যা করবার এই কদিনের মধ্যেই করতে হবে।
—জি,আপনি তাড়াতাড়ি বাসায় আসুন।তারপর দুজনে মিলে প্লান করব ইনশাআল্লাহ।
—ঠিক আছে।আল্লাহ হাফেজ।
তানভীর ঠিকই বলেছে,সময় খুব কম।এর মধ্যে আসল ডাইনী কে সেটা বের করাটা দরকার।তবে তার জন্য এই বাড়ির সবার সাথে কথা বলাটা জরুরী। কারণ সকলের ভাষ্যমতে প্রতিটি মৃত্যু একই পদ্ধতিতে করা হয়েছে।তার মানে এই দাঁড়ায় যে এই বাড়িতে যে সবচেয়ে বেশিদিন ধরে আছে সেই আসল খুনী।আর এদের তালিকার মধ্যে আছে,
১)বাড়িওয়ালা।(উনার উপর আমার পুরো সন্দেহ।)
২)স্নেহা_মিষ্টিরা
৩)নিচের ফ্লোরের কবি ভাইয়া।(উনি সন্দেহের মধ্যে আসে না।কারণ উনি খুবই চুপচাপ নিজের মতো থাকা একজন মানুষ,বাচ্চাদের খুব পছন্দ করে).
এই তিনজনই মোটামুটি একই সময় ধরে এই বাড়িতে থাকে। এর মধ্যে...
(হঠাৎ দরজায় নক)
তানভীর চলে এসেছে।
—আসসালামু আলাইকুম। কি ব্যাপার আমার বউটা দেখি খুবই চিন্তিত মনে হচ্ছে।
—ওয়ালাইকুমুস সালাম।নাহ!এমন কিছু না । আপনি ফ্রেশ হয়ে আসেন,আমি খাবার দিচ্ছি।
—এই যে মেডাম!আমি খেয়ে এসেছি। আপনার খাবার দিতে হবে না।একটু মাথা ঠান্ডা করে বসেন।আমি এখনি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
—অকে।
( তানভীর ফ্রেশ হয়ে আসার পর)
—এই তুমি খাবার খাইছো তো?
—সেটা বাদ দেন।এখন এই ডাইনীকে সবার সামনে আনার কথা ভাবেন।
—হুমম..সেটা তো ভাববোই।আমি অফিস থেকে খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি এই বিষয়ে।তাদের সবারই এক কথা যে ডাইনী মেরেছে তাদের।তবে এখন পর্যন্ত ডাইনীকে কেউ দেখেনি।
—তবে তারা এটা কিভাবে বলছে যে ডাইনী মেরেছে? অন্য কেউ তো হতে পারে।
—হুম. সেটাও জানতে চেয়েছি। সবারই এক কথা যে যারা এই বাড়িতে এই মৃত্যুগুলো দেখেছে তারা মাঝরাতে অদ্ভুত সব আওয়াজ আর আলো দেখতে পেত।পরদিন নাকি কারো না কারো লাশ পাওয়া যেত গেটের বাহিরে।
—হ্যা হ্যা। এরকম তো গতকাল রাতে আমিও দেখেছি এবং শুনেছি।
—তুমি তাহলে এ বিষয়ে কিছু বললে না কেন আমাকে?
— আমি এতোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করিনি।তবে আমি লাশটা দেখে বুঝেছি যে তাকে কারেন্টের শক দিয়ে মারা হয়েছে যার আলো আমি গতকাল দেখেছি।কেন যে তখন জানালার পাশে গেলাম না!(হাতের উপর হাত মেরে)
—অকে কুল ডাউন!এবার বলো তোমার কাকে মনে হয় যে এরকম করতে পারে? কারণ যেই হোক না কেন সে এই বাড়িতে থাকে এবং সে প্রতিটি ফ্যামিলিকে খুব ভালোভাবে অবজার্ব করে
—আমার তো মনে হয় বাড়িওয়ালা। যদিও না জেনে কারো ব্যাপারে বলা ঠিক না।কিন্তু মনে আছে আমরা যখন প্রথম এই বাড়িতে এসেছিলাম তখন উনার সব প্রশ্ন, তারপর সেই রুলস পেপারের শর্তগুলো,তারপর সেদিন মিষ্টির হাতে কারেন্টের শক দেওয়া। আমার এজন্য মনে হয় উনিই এমন করছে। যে তার শর্ত না মানবে উনি এভাবেই তাকে শাস্তি দেন আর তা ডাইনীর নামে চালিয়ে দিচ্ছেন।
—না না।উনি হতে পারেনা।উনিতো এসব বিশ্বাসই করেন না।উনি তো মানুষদেরকে এসব কুসংস্কার থেকে বের করতে কাজ করেন।আর উনার রুলসের কারণ হচ্ছে উনি খুবই পজিটিভ মাইন্ড এবং ডিসিপ্লিনার একজন লোক।তাই অনেক সময় এসব ব্যাপারে স্ট্রিক হয়ে যান।আর যেই এই মার্ডার গুলো করছে সে একজনই।আর দ্বিতীয় মার্ডারের সময় উনিতো দেশের বাহিরে ছিলেন।তাহলে এটা কোনো ভাবেই সম্ভব না যে উনি হত্যা করেছেন।
—আপনি এত কিছু কি করে জানেন?
—খবরাখবর নিয়ে।
—বাব্বাহ!ভালো ভালো।তাহলে আসল খুনীকে কি করে ধরব?
—সেটাই তো এখন ভাবনার বিষয়।
—(কিছুক্ষণ চিন্তা করে) আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে যার মাধ্যমে আজ রাতেই ঐ ডাইনীকে সবার সামনে আনতে পারব।
#চলবে………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now