বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাইনির রহস্য part 2

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X #ডায়নির_রহস্য পর্ব_২ এসব ডাইনীর কথা তো শুধু গল্পেই শুনেছি।নাহ!এসব নিয়ে ভেবে কাজ নেই।হয়তো এমনি মজা করে বলেছেন উনারা। আর আমি এসব নিয়ে সিরিয়াস বলে হয়তো তানভীর আমার সাথে মজা করেছে। এসব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজে মনোযোগ দিলাম।এর মধ্যে তানভীরের সাথে একবারও কথা হয়নি।হয়তো কাজে বিজি আছেন।কিন্তু বিকালের দিকে সমস্ত সাংসারিক কাজ শেষ হওয়াতে এখন বোরিং ফিল করছি।তাই একটা বই নিয়ে বসলাম,তবে কেন জানি পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না।তাই রুম থেকে বের হয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালাম। কি অদ্ভুত একটা বাড়ি!এত নিশ্চুপ যে মনে হচ্ছে কোনো পাতালপুরীতে আছি।কেউ বলবে না যে এখানে কোনো মানুষ থাকে।দূর! এর থেকে ভালো ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করি। ( যখনই রুমে ডুকতে যাবো, তখনই পিছন থেকে) —এই যে মণি!তুমি কখন এসেছ?একবারও আমাদের সাথে দেখা করতে আসলেনা।তুমি খুব পচা হয়ে গেছো। —(হকচকিয়ে পিছনে ফিরে দেখি দুটো ছোট বাচ্চা। অভিমানের সুরে কথাগুলো বলছে।কিন্তু আমি তো ওদের চিনি না।ওরা আমাকে মনি বলছে কেন!) —এই তুমি কে?তুমি তো আমাদের মনি না।আমাদের মনি কোথায়?(দ্বিতীয় বাচ্চাটা) —আসসালামু আলাইকুম।আমি তো তোমাদের মনি না তবে তোমরা চাইলে হতে পারি।কিন্তু তোমরা কোথায় থাকো আর তোমাদের মনি কি এখানে থাকতেন? —তুমি মনি হতে যাবে কেন?(রেগে)। আমরা ঐখানে থাকি (নিচের ফ্লোর দেখিয়ে)।আর মনি হলো আমাদের রিয়া মনি। —ওহ আচ্ছা!তো রিয়া মনি কোথায় গেছে তোমরা জানো না? —নাহ!তবে ঐদিন রিয়া মনিকে গেটের বাহিরে শুয়ে থাকতে দেখেছি,সবাই বলছিল রিয়া মনিকে নাকি ডাইনী..(হঠাৎ একটা মহিলা এসে তাকে থামিয়ে দিল।) —স্নেহা তোকে কতবার বলেছি উপরে আসবিনা, আর মিষ্টি তোকে না বললাম নাস্তা খেতে। যা তাড়াতাড়ি নিচে যা।(মেয়েগুলো ভয়ে চলে গেলো) —আসসালামু আলাইকুম।আমি এই বাড়িতে নতুন এসেছি। আপনি কি ওদের আম্মু? —ওয়ালাইকুমুস সালাম।জি!আপনি কি একা থাকবেন নাকি ফ্যামিলি সহ? —জি না।আমার স্বামীর সাথে এসেছি। —ওহ!তারপর সব গুছগাছ হয়ে গেছে? —জি। —আচ্ছা আমি পরে আপনার সাথে কথা বলব।মেয়েগুলোকে বিকেলের নাস্তা দিয়ে এসেছি।দেখি গিয়ে কি করে! —জি।আচ্ছা আপু ওরা যে রিয়া মনির কথা বলছিল উনি কে? —ও এই ফ্লাটে থাকত। —ওহ!আর ওরা যে বলছিল উনি গেটের বাহিরে শুয়ে ছিল, তারপর ডাইনী এসবের মানে কি? —(ঘাবড়ে গিয়ে)ও কিছু না।ওরা ছোট মানুষ। কি বলতে কি বলে ফেলেছে।আচ্ছা আমি যাই। আবার সেই ডাইনী।প্রথমে তানভীরের কলিগরা এখন এই বাচ্চাগুলো।এতগুলো মানুষতো এমনি কিছু বলতে পারে না।আর রিয়া গেটের বাহিরে শুয়ে ছিল এরইবা মানে কি!কিছু তো কানেকশন আছে এইসবের।কিন্তু কি সেটা?(মাথার মধ্যে শুধু এই বিষয়টাই ঘুরপাক খাচ্ছে।) তানভীর রাতে তাড়াতাড়িই এসেছে।এই বিষয়ে উনাকে আর কিছু বলিনি।সারাদিনের কথাগুলো একজন আরেকজনের সাথে শেয়ার করলাম,সাথে ঐ কিউট পিচ্চিগুলার কথাও বললাম।উনি শুনে বলল-- —বাহ!ভালোই তো। তোমার টাইম স্পেন্টের মানুষ পেয়ে গেলা।এখন আর আমাকে এত টেনশন করতে হবে না যে বউটা আমার একা একা বোরিং হচ্ছে। সাথে আমার মোবাইলের টাকাগুলোও বাচলো।কি বলো!(হাসতে হাসতে) —হুমম...কৃপণ হলে তো ভালোই হবে আপনার জন্য। কৃপণ একটা! (রাতের খাওয়া শেষ করে ঘুমুতে গেলাম দুজনে।এভাবেই প্রতিদিন সকালে তানভীরের অফিস আর আমার সাংসারিক কাজ। এই বাড়িতে পনেরো দিন হয়ে গেলো আমাদের আসার।এই পনেরো দিনে এক প্রকার ভুলেই গিয়েছিলাম ডাইনীর কথা।মোটামুটি অনেক জনের সাথেই পরিচয় হলো।তবে সবাই নিজের মতোই থাকতে বেশী পছন্দ করে।) একদিন আমি আর ঐ দুটো মেয়ের আম্মু বসে কথা বলছিলাম উনাদের রুমে।ওরা বাহিরে খেলা করছে।হঠাৎ স্নেহা চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো। আমরা বাহিরে গিয়ে দেখি বাড়িওয়ালা একটা ডেইরি মিল্ক মিষ্টির হাতে দিয়ে ধরে রেখেছে আর সে কাঁপছে। মনে হচ্ছে তাকে কেউ কারেন্টের শক দিচ্ছে। আপু তাড়াতাড়ি গিয়ে বাড়িওয়ালাকে থামতে বললেন, আর বাড়িওয়ালা অনেকটা ধমকের স্বরে বললেন যে কতবার বলেছি আমার বাড়িতে চিৎকার চেচামেচি এলাউড না।তারপরও এই বিচ্ছুগুলা সারাদিন এত হট্টগোল করে রাখে বাড়িটা!এজন্য এতটুকু শাস্তি ওদের প্রাপ্য। এই বলে উনি চলে গেলেন। আপু মিষ্টিকে নিয়ে ঘরে আসলেন। —আমার তো মনে হয় এই পাগল লোকটাই সবাইকে মেরেছে।আর নাম দিয়েছে ডাইনীর।(রাগে গজগজ করতে করতে) —ডাইনী!মানে ডাইনীর কথা সত্য আপু?এই বাড়ি সত্যিই ডাইনীর আস্তানা নামে পরিচিত? —না না!আমি তো এমনি বললাম।রাগের মাথায় কি না কি বলে ফেলেছি। —রাগের মাথায় কেউ ডাইনীর কথা বলে না আপু।কিছু তো রহস্য আছে এই বাড়ির। যা বারবার বলতে গিয়েও আপনি থেমে গেছেন।প্লিজ বলেন আপু বলেন। —এই বাড়িতে যখন এসেছ, তখন এই রহস্য তুমিও জানবে। (পাশের ফ্লাটে হাসবেন্ড ওয়াইফের মধ্যে মনে হয় ঝগড়া হচ্ছে। কথা কাটাকাটির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। তানভীর আজ আসবে না।তাই রাতে একাই ঘুমুতে গেলাম।) হঠাৎ মাঝরাতে অদ্ভুত আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে গেল।চারদিক হঠাৎই আলোকিত হয়ে গেলো।তারপর সব আবার নিস্তব্ধ। পরদিন সকালে দেখি গেটের বাহিরে মানুষের ঝটলা। চলবে.……


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাইনির রহস্য Last part
→ ডাইনির রহস্য part 3
→ ডাইনির রহস্য part 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now