বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাইনির রহস্য part 1

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X #ডাইনির_রহস্য নতুন বাসায় আসার পর থেকে বাড়িওয়ালা শুধু আমার সম্পর্কেই জিজ্ঞেস করছে।অথচ পাশে আমার স্বামী আছে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করছে না।বিষয়টা একটু আজব লাগছে,কেননা এসব ব্যাপারে তো ছেলেদের সাথে কথা বলা হয়। বাসা ভাড়া যেহেতু সে দিবে।কিন্তু এখানে তো পুরাই উল্টো।আমি কি করি,জব করি কিনা,রাতে বাহিরে যাই কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন। আমার তো মনে হচ্ছে উনার মাথায় সমস্যা আছে।তাই আমিও উনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। কারণ যেই করেই হোক বাসাটা এক মাসের জন্য ভাড়া নিতে হবে আমাদের।তারপর এই লোকের বাসায় থাকার আর কোনো প্রয়োজন নেই আমাদের। তানভীর (স্বামী)তার কাজের খাতিরে এই জেলায় এসেছে। কিন্তু উনার অফিস যেখানে সেখানে ফ্যামিলি নিয়ে থাকার মতো কোনো বাসা নেই।সেখানে শুধু ছেলেরা থাকে মেসে।এজন্য আমাকে আনতে চায়নি। কিন্তু আমার মাদরাসাও এক মাসের জন্য বন্ধ তাই বাসায় থেকে বোরিং হতাম এজন্য উনার সাথে জোর করেই আসা।অনেক বাসাই দেখা হয়েছে কিন্তু সবগুলোই উনার অফিস থেকে অনেক দূরে, শুধু এই বাসাটা অফিসের কিছুটা কাছাকাছি। আর বাড়িওয়ালাও রাজি হয়েছে এক মাসের জন্য ভাড়া দিতে।তাই আমরাও আজ সকালে এই বাসায় সিফট হই।তবে কে জানতো এই সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।যাইহোক উনি সবকিছু দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলেন আর যাওয়ার সময় কিছু রুলসের কাগজ দিয়ে গেলেন।বলে গেলেন আমরা যেন অক্ষরে অক্ষরে মানি,তা না হলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।বলেই চলে গেলেন।আমি তানভীরের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম উনার এমন গম্ভীর কণ্ঠে কথাগুলো শুনে। পড়তে শুরু করলাম কি আছে সেই রুলসে: *রাত দশটার পর কোনো মহিলা সদস্য বাড়ির বাহিরে যেতে পারবেনা এবং আসতেও পারবেনা। *বাড়ির মধ্যে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা করা যাবে না। *সকল ধরনের চিৎকার চেচামেচি থেকে বিরত থাকতে হবে। *বিবাহিত হলে সবসময় নিজেদের বিশ্বাস বজায় রাখবে,বিশ্বাস নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ কেউ করবেনা। আরো অনেক রুলস ছিল সেই পেপারে। তানভীর আর আমি তো পুরাই টাসকি খেয়েছি এই রুলস পরে।মনে হচ্ছে গার্লস হোস্টেলের রুলস,সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে তো স্বামী স্ত্রীর বিশ্বাস নিয়ে লিখা রুলসটা পড়ে।এটা কেমন বাসা যেখানে পার্সোনাল বিষয় নিয়েও রুলস দেওয়া হয়। যতটা আলাদা লেগেছে বাড়িওয়ালাকে তার থেকে বেশি আলাদা এই বাড়ির নিয়ম_কানুন। বাসাটার একটা সংক্ষিপ্ত বর্ননা দেওয়া যাকঃ আশেপাশের বাসা গুলো থেকে এই বাসাটা অনেকটা ভিতরে তাই অন্যান্য বাসাগুলোর সাথে এর সম্পর্ক নেই।বাসাটা দুই তালা বিশিষ্ট বিল্ডিং। তবে অনেকখানি জায়গা নিয়ে ঘুরিয়ে করা হয়েছে বিল্ডিংটা । নিচের ফ্লোরে মোটামুটি পাঁচটা ইউনিট এবং উপরে অর্থাত দোতলায় চারটা ইউনিট।বাড়িওয়ালা নিচের ফ্লোরেই থাকে একা একটা ইউনিট নিয়ে।আর বাকি চারটির মধ্যে দুটোতে তালা লাগানো দেখেছি আসার সময়।আমরা দোতলার একেবারে কোণার ইউনিট নিয়েছি যেখানে বেলকনি থেকে সরাসরি রাস্তা দেখা যায়।বাকি তিনটা খেয়াল করিনি। রুম গোছাতে গোছাতে রাত নয়টা দশটা বেজে গেছে।আসার সময় রান্না করে এনেছিলাম তাই আর রান্না করতে হয়নি।দুজনে ফ্রেশ হয়ে এশার নানাজ পড়ে খেয়ে ঘুমিয়ে যাই।পরেরদিন তানভীর সকাল সকাল অফিসে চলে যায়।আর আমি একা হয়ে যাই।উনি চলে যাওয়ার পর ভিজা কাপড় ছড়ানোর জন্য বেলকনিতে আসি ঠিক তখনি নিচের ফ্লোরে চোখ পরে। একজন বৃদ্ধ মহিলা আমাকে দেখে কি যেন বলার চেষ্টা করছে কিন্তু বুঝতে পারছিনা।এই বাসায় মনে হয় অনেক বেলা পর্যন্ত সবাই ঘুমায়।অবশ্য শুনেছি ব্যবসায়ী বেশিরভাগ শুধু তানভীরই চাকুরীজীবি।এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখি সেই মহিলাটাকে দেখা যাচ্ছে না।কিন্তু উনি গেল কোথায়!মেইন গেটও তো লাগানো।তাহলে কি উনি নিচের ফ্লোরের ভাড়াটিয়া?এসব চিন্তা করছি হঠাৎ ফোনে কল আসার শব্দ পেলাম।রুমে যেয়ে দেখি তানভীর ফোন দিয়েছে। —হ্যালো!আসসালামু আলাইকুম। —ওয়ালাইকুমুস সালাম। কি করো? —এইতো টুকটাক কাজ।আপনি অফিসে গিয়ে পৌঁছেছেন? —হুমম..একটু আগে।এই শুনো না!তোমাকে একটা ইন্টারেস্টিং নিউজ দেই। —কি নিউজ? —অফিসে আসার পর যখন সবার সাথে পরিচিত হচ্ছিলাম তখন কথায় কথায় একজন জানতে চাইল কোথায় বাসা নিয়েছি।তখন এই বাসার কথা বলাতে তারা কি বলল জানো! —কি!(উত্তেজিত হয়ে) —তারা বলল যে,শেষ পর্যন্ত ডাইনির আস্তানায় যেয়ে বাসা নিলেন।(তানভীর হাসতে লাগলো) —কি ডাইনী!কি বলছেন এসব! —আরে আমি বলছি নাকি।এগুলো তো অফিসের কলিগরা বলছে।যাক তোমার ডাইনীর সাথে সাক্ষাৎ হয়ে যাবে এ সুযোগে কি বল! —মজা করতেছেন?(রাগ করে) —আরে না না। আচ্ছা শুনো, আমার কাজের সময় গেছে পরে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। ভালো থেকো। —জি।আল্লাহ হাফেজ। ফোনটা রেখে দিয়ে তানভীরের কথাগুলো ভাবছিলাম।মানে কি এসবের ডাইনী,ডাইনীর আস্তানা!উনার কলিগরা কি মজা করে বলেছে নাকি সত্যি! কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব। এসব তো শুধু গল্পেই শোনা যায়। চলবে.……


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাইনির রহস্য Last part
→ ডাইনির রহস্য part 3
→ ডাইনির রহস্য part 2

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now