বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ১
-"স্যার আর কতক্ষণ এভাবে তাকিয়ে থাকবেন"বললো দোকানদার
-সরি চাচা আসলে ঘড়িটা দেখে একজনের কথা মনে পড়লো।
-কার কথা স্যার?
-আমার এক বন্ধু।বন্ধু বললে ভুল হবে ভাই।সে না এইরকম সেম ঘড়ি সব সময় পড়তো।ঘুমানোর সময়ও খুলতো না।এই বলে আমি(অরিক) কাদঁতে লাগলাম।
-একি স্যার আপনি কাঁদছেন কেনো?
-সরি আসলে আমার বন্ধুর কথাটা মনে পড়ে যায়।
-আচ্চা এক কাজ করেন আপনি ঘড়িটা কিনে নেন স্যার।
-হুম দেন।দাম কত?
-২৫০টাকা।
-এতো সুন্দর দামী ঘড়ির দাম মাত্র ২৫০?
-হুম স্যার নিয়ে নিন আপনার জন্য শুধু দামটা কম রাখছি।সেই এক ঘন্টা ধরে তাকিয়ে আছেন।
-আচ্চা দেন।
ঘড়িটা কিনে হাতে পড়ে নিলাম।খুব সুন্দর ঘড়িটা।একদম নীলের(সেই বন্ধুটার নামম)ঘড়ির মতো।
রাত তখন আটটা বাজে।সাতটার দিকে অফিস থেকে যাবার পথে ঘড়ির দোকাসটায় এই ঘড়িটার দিকে নজর পড়ে।এক ঘন্টা যে কিভাবে গেলো বুঝতেই পারলাম না।ওহ আমার নামটা বলি আমি অরিক।একটা কোম্পানিতে চাকরি করি।অল্পের জন্য বসাটা মিস করতাম।শেষ বাস ছিলো কোনো রকম দৌড়ে ধরলাম।বাসে সিটও পেয়ে গেলাম।তবে শেষে।কোনো রকম গিয়ে বসলাম।ঘড়িটার দিকে বার বার নজর যাচ্ছে আর নীলের কথা মনে পড়ছে।না জানি ওর কি হয়েছিলো।তিন মাস আগে একদিন রাতে বের হয় কোথায় যায় আমাকে বলে নি।এরপর আর খোঁজ পাই নি।অনেক খুজেছি পাই নি।ওর তো কেউ নেই।বাবা মাও নেই সেই ছোট বেলায় ওনারা মারা যায় এরপর থেকে ও আমার সাথেই থাকতো।নিখোঁজ আজ পর্যন্ত।ওর সাথে কত বছর কাঁটালাম।ভাবতে ভাবতে কখন যে পৌছে গেলাম খেয়ালেই নেই।বাস থেকে নেমে হাঁটা ধরলাম।মনে হলো আমার পিছু পিছু কেউ আসছে।একটু পর পর পিছনে তাকাচ্ছি তবে কিছুই দেখছি না।আধা ঘন্টার মধ্যে বাসায় পৌছে গেলাম।দারজাটা খুলে ভিতরে রুমে ঢুকে লাইট জ্বালালাম।
-কিরে অরিক কাজ শেষ?
-হুম নীল
ওমা নীল কোথায় থেকে আসলো।এখানে তো কেউই নাই।তাহলে একটু আগে কি হলো।কি হচ্ছে।একটু রেস্ট নিলে মনে হয় সব ঠিক হবে।দোকান থেকে কিনে আনা খাবারটা টেবিলে রেখেছি যে আর ধরি নি।ঘুমিয়ে গেলাম কখন খবরেই নেই।
রাত তিনটা -প্রখ্যাত এক বিজনেসম্যান অারমান যথারীতি ঘুমাচ্ছে।রাত তিনটাতে হঠাৎ ওনার ঘুম ভাঙ্গলো।চোখে খুলে নিজেকে অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করলো।
-আমি তো রুমে ছিলাম।এ আমি কোথায়।হাত পা বাঁধা কেনো।কেউ অাছেন? কে আমাকে এখানে আনলো?
-চুপ বেশি কথা বলবি না
-কে... কে আপনি?আমাকে এভাবে বেঁধে রেখেছেন কেনো?
-চিনলেন না আরমানন সাহেব।কন্ঠটা তো চিনার কথা।তিন মাস তো বেশি সময় না
-কে....তুমি?
-একজন খুনী!!!
-না না....এটা সম্ভব তুমি বেঁচে আছো?
-নাহ আমি অনেক আগেই মরে গেছি.....
অরিক-
সকালে ঘুম থেকে উঠে কেমন কেমন লাগছে।বাথরুমে গিয়ে মুখ ধোয়ার জন্য কলটা ছেড়ে হাত দিতেই খেয়াল করলাম রক্ত যাচ্ছে হাত থেকে।একি আমার হাতে রক্ত আসলো কিভাবে।হাতটা ভালো মতো ধুলাম।কিন্তু হাতে কোনো কাঁটা দেখি নি।মনের ভুল ভাবলাম।সকাল সকাল ঘুম ঘুম চোখ সব দেখছি যে।টেবিলের উপর রাখা রাতের খাবারটা খেয়ে অফিসের দিকে বের হলাম।
অন্যদিকে আরমান সাহেবের বাড়িতে শোকেয় ছায়া নেমে গেছে।আরমান সাহেব আর নেই।কেউ তাকে নিজ রুমে টুকরো টুকরো করেছে।দেড় মাস আগে পুরনো ওসি মারা যাবার কারণে রাকিব নতুন ওসি হয়।সে আজ এসেছে আরমান সাহেবের বাড়িতে।রাকিবের সাথে ভিতরে রুমে ঢুকলো এক অফিসার রাব্বি।রাব্বি বললো
-এসব কি স্যার।কি ভয়ানক কান্ড।হাত পা সব কাঁটা।মাথাটা রশি দিয়ে ঝুলানো হাত পায়ে কোনো চামড়া নেই।
-হুম।তাই দেখছি মনে হচ্ছে আরমান সাহেবের উপর অনেক রাগ জমে ছিলো।সেটার প্রতিশোধ নিয়েছে।মরে যাবার পরেও একটু দয়া দেখায় নি।
-কাজটা তো কোনো মানুষের মনে হয় না।হাত পা গুলো তো কাঁটা হয় নি।দেখেই বুঝা যাচ্ছে কোনো অস্ত্র দিয়ে হাত পা কাটা হয় নি।টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছে।
-হুম ঠিক বলেছে।কাজটা ওর জেনো না হয়।
-ওর জেনো না হয় মানে?
-ভুলে গেছো এই রকম অসম্ভব ধরনের খুনের কথা।চার মাস আগের ঘটনাগুলো।
-কিন্তু সেগুলো তো এমন ছিলো না।সেখানে তো অস্ত্র দিয়ে হাত পা কাটা হতো।এখানে তো টেনে ছিড়েই ফেলেছে।
-আমার তো মনে হয় ওরেই কাজ
-একজন খুনীর.....
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now