বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
:D চাচির বাসায়
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Furti (০ পয়েন্ট)
X
দুটো বড় সাইজের পল্ট্রি মুরগী নিয়ে চাচার বাসায় হাজির হয়েছিলাম। আকবর চাচা আমার বাবার দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই। পরিবার নিয়ে শহরেই থাকেন। দরজার ছিদ্র দিয়ে আমাকে দেখে চাচি তো দরজা খুলতে নারাজ। দরজার সামনে মুরগী নিয়ে কয়েক ঘন্টা বসে থাকার পরে যখন চাচা অফিস থেকে ফিরলেন। তখন চাচা আমাকে চিনতে পেরে সাথে নিয়ে বাসায় ঢুকলেন। চাচি আমাকে চিনতে না পারাটা স্বাভাবিক। কেননা তিনি এর আগে আমাকে বড় জোর একবার কি দুবার দেখেছিলেন। তখন আমার পিঠ পর্যন্ত চুল। মুখে দাড়ি গোঁফের জঙ্গল ছিলো। ছোট চুল আর ক্লিন শেভ করার কারনে চাচি আমাকে চিনতে পারেননি। চিনতে না পারার কারনে তিনি বেশ দুঃখ এবং লজ্জা প্রকাশ করলেন। আমি কিছু মনে করিনি। কেননা শেভ করার পরে নিজেই নিজেকে প্রথমে চিনতে পারিনি। নিজেকে আয়নায় দেখে বলেছিলাম এ আমি কি করলাম। কেন করলাম। এটার কি দরকার ছিলো।
যাই হোক সোফায় বসে চা খাচ্ছি আর ঢং দেখছি। চাচার মেয়ে জেপি খুব বেশি ঢং করে কথা বলছে। ইন্টারে পড়ুয়া মেয়ের কথা শুনে মনে হচ্ছে চার পাঁচ বছরের বাচ্চা। মেয়েরা যখন অতিরিক্ত ঢং করে কথা বলে তখন রাগে আমার গা জ্বলে। জেপিকে বললামঃ
-আপু জাদু দেখবা?
জেপি আমার কথায় খুব একটা গুরুত্ব দিলোনা। আমিও নাছোড় বান্দা। আবারো বললামঃ
-জেপি আপু জাদু দেখবা?
জেপি এবার খুব বিরক্তির সাথে বললোঃ
--না দেখতে ইচ্ছা করছেনা।
তবে চাচি আমার কথায় আগ্রহ দেখালেন। তিনি বললেনঃ
--আলিফ তুমি জাদু পারো?
-জ্বি চাচি পারি দেখবেন?
--অবশ্যই…
-দেখবেন আমি চোখের পলকে এই মুরগী দুটো গায়েব করে ফেলবো।
চাচি বিষ্ময়ের চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন
--বলো কি সত্যি পারবে তুমি?
-জ্বি চাচি পারবো।
এবার জেপি আমার কথায় আগ্রহ দেখালো। আমি জেপির হাতে একটা মুরগী দিলাম অন্য মুরগী দিলাম চাচির হাতে। মা মেয়ে দুজনের চোখে বিষ্ময়। আমি তাদের জাদুর নিয়ম শিখিয়ে দিলাম। বললাম আমি একটা মন্ত্র পড়বো। মন্ত্র পড়ার সাথে সাথে তাদের যেটা শিখিয়ে দিয়েছি তারা যেন সেটা করে। আমি মন্ত্র পড়া শুরু করলাম “জাদুতু দেখিতু চাহিতু মোরা, মুরগীতু দিলামতু চেপে”। আমি মন্ত্র পড়া শেষ করতেই চাচি আর জেপি দুজনে মিলে দুহাতে ধরে রাখা মুরগী দুটোকে খুব জোরে চাপ দিলো। মুরগী তো গায়েব হলোনা বরং চাপের কারনে চাচি আর জেপির গায়ের উপর হেগে দিলো। ব্যাস তারপর আর কি। আমি ফ্রেস হতে গেলাম। চাচি আর জেপি গেলো গোসল করতে।
খাওয়া করে একটা ঘুম দিয়ে দেখি রাত হয়ে গেছে। ঘর থেকে বের হয়ে দেখি চাচা চাচি আর জেপি তিনজন বসার ঘরে বসে টিভি দেখছে। আমাকে দেখে চাচা বসতে বললেন। সাথে এটাও বললেন আজকে যেই ফাইজলামো করেছি সেটা যেন আর না করি। চাচা গ্রামের গল্প শুরু করলেন। ছোট বেলায় কি কি সাহসি কাজ করেছেন সব বললেন। গল্পের ফাঁকে আমি বললাম
-চাচা মেহের আন্টির গল্পটা বলেন না। চাচা ভ্রুঁ জোড়া কুচকে বললেন
--কোন মেহের?
-ওইতো যাকে আপনি পছন্দ করতেন। মেহের আন্টির যখন বিয়ে ঠিক হলো তখন বললেন ফাঁস নিয়ে মরবেন। কাঁঠাল গাছে ফাঁসের দড়ি ঝুলালেন। মেহের আন্টির বাবা আপনকে ধরে সেই গাছে সারা রাত উল্টো ঝুলিয়ে রাখলো। সকালে যখন গাছ থেকে নামালো তখন মাতালদের মতো এলোমেলো ভাবে হাঁটছিলেন। ওই গল্পটা বলেন না।
চাচা গল্পটা আর বলেননি। খুব বিরক্তি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। রাতে বালিস নিয়ে আমার ঘরে ঘুমাতে আসলেন। চাচা তিনদিন ধরে আমার সাথেই ঘুমাচ্ছেন।
এই তিনদিনে অনেক ঘটনা ঘটেছে। চাচাদের পাশের গলি দিয়ে লোকজন ইদানিং হাঁটাচলা করতে ভয় পায়। লোকজন দৌঁড়ে গলি পার হয়। কেউ কেউ ছাতা নিয়ে যাওয়া আসা করে। বাড়িওয়ালা ভেবেছে তিনতলার ছোট বাচ্চা মানুষদের জানালা দিয়ে থুতু দেয়। তিন তলার আন্টি ছেলেকে এর জন্য মার ও দিয়েছেন। কিন্তু লোকদের হাঁটা চলার সময় থুতু ফেলা বন্ধ হয়নি। কাজটা যে আমার সেটা এখনো রহস্য। এক তলা থেকে আট তলা পর্যন্ত কে প্রতিদিন কলিং বেল বাঁজিয়ে পালায় সেটাও রহস্য।
বাসা পুরো খালি। সোফায় শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছি আর খাচ্ছি। সারাদিন খেয়ে খেয়ে ফ্রিজ খালি করে ফেলেছি। চাচি কিছু বলতেও পারেন না আবার সইতেও পারেন না।
ফোনে কেউ একজন মিসকল দিলো। যেহেতু আমি সিংগেল মানুষ মিসকল আসার কথা না। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি চাচি মিসকল দিয়েছেন। আমি চাচিকে পাল্টা মিসকল দিলাম। চাচি আবারো পাল্টা সিসকল দিলেন। আমিও মিসকল দিলাম। এবার একের পর এক মিসকল দিতেই থাকলাম। চাচি পাল্টা মিসকল দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিজের মিসকল দেয়ার প্রতিভা দেখে আমি নিজেই মুগ্ধ। এবার চাচি মিসকল দিতেই কলটা ধরে ফেললাম। কল রিসিভ করে আবার কেটে দিয়ে চাচির মিসকলের অপেক্ষা করতে লাগলাম। চাচি মিসকল দিবে আর আমি চট জলদি রিসিভ করে ফেলবো। কিন্তু চাচি আর মিসকল দিচ্ছেন না। আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। খুব জোড়ে দরজা ধাক্কানোর শব্দ কানে আসতেই মনে পড়লো বাসার কলিং বেলটা চাপতে চাপতে কালকে নষ্ট করে রেখেছি। দরজার ফুটো দিয়ে দেখলাম চাচি খুব বিরক্ত মুখে দরজা ধাক্কাচ্ছেন। দরজা খুলেই অবাক হয়ে গেলাম। চাচি ছাগল দাড়িওয়ালা এক বাচ্চা ছেলের কলার ধরে আছেন। চাচির পেছনে জেপি ভীত মুখে দাঁড়িয়ে। চাচি হুঙ্কার দিলেনঃ
--বারবার মিসকল দিচ্ছিলে কেন। ফোনে মিসকল দেয়ার ব্যালেন্স ছিলো সেজন্য মিসকল দিয়েছি যাতে দরজা খুলে দাও। ফোন রিসিভ করলে ভালো কথা। কোন কিছু না বলে আবার ফোন কেটে দিলে কেন?
-চাচি আমি ভাবলাম আপনি মিসকল মিসকল খেলছেন। আমার একটা গার্লফ্রেন্ড ছিলো। আমরা এভাবে মিসকল মিসকল খেলতাম।
--রাবিশ।
আমি ছাগলদাড়ির গালে একটা চড় দিলাম। চাচি বললেনঃ
--ওকে মারছো কেন?
-নিশ্চই কোন দোষ করেছে। সেজন্য এডভান্স মারলাম।
ছেলেটাকে সোফায় বসানো হলো। ছেলেটার ফোন আমার হাতে দিয়ে চাচি বললেনঃ
--ওর বাবার ফোন নাম্বার বের করো।
-আগে বলেন ছেলেটা কে?
চাচি জেপির কান ধরে টেনে বললেনঃ
--এই হারামজাদি এই ছাগলের সাথে পার্কে ঘুরতে গেছিলো। অনেকদিন ধরে সন্দেহ হচ্ছিলো। আজ পিঁছু করে ধরে ফেলেছি।
কোন কথা না বাড়িয়ে আমি ছেলের বাবার ফোন নাম্বার বের না করে ছেলের ইকবক্সে ঢুকলাম। জান বাবু জেপি নামের তিনটা মেসেজ কন্ভার্সেশন পেলাম। চাচিকে বললামঃ
-চাচি তাদের মেসেজ পড়ে শুনাই?
--পড়ো…
-“আমাল বাবুতা কি কলে লে?” “বাবুতা কি খাইতে থকালে?” “আমাল বাবুতা এতো কিউত কেন?”
চাচি বিরক্ত হয়ে বললেনঃ
--আলিফ তুমি তোতলাচ্ছো কেন?
-চাচি ওরা তো এভাবেই মেসেজ লিখছে। আমি তোতলাচ্ছিনা তো। মনে হয় তাদের কিবোর্ডটা তোতলা। চাচি আপনার মেয়ে কি লিখছে জানেন লিখছে “আমাল আম্মুতা খুব পতা। আমাকে খালি মালে।”
চাচি সত্যি সত্যি জেপির পিঠে একটা কিল বসিয়ে দিলেন। হারামজাদি আমি তোকে মারি? বল মেরেছি কখনো? বল মেরেছি? বলতে বলতে চাচি জেপির পিঠে আরেকটা কিল মারলেন। জেপি পিঠ বাঁকা করে বললো “আই মেরে ফেললো রে।”
চাচি ছাগল দাড়িকে আমার দ্বায়িত্বে রেখে জেপিকে অন্য ঘরে নিয়ে গেলেন। চাচি চলে যেতেই ছেলে আমার পা জড়িয়ে ধরলো।
--ভাইয়া ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেন। ছেড়ে দেন ভাইয়া। আন্টি না বুঝলেও আপনি তো আমার সমস্যাটা বুঝতে পারছেন। আপনিও নিশ্চই গার্লফ্রেন্ডসহ কোথাও ধরা খেয়েছেন। সেদিনের কথা মনে করে ছেড়ে দিন প্লিজ।
-হুম আমিও ধরা খেয়েছিলাম। মেয়ে দৌঁড়ে পালালেও আমি পালাতে পারিনি। সেই মেয়ের এক্স বয়ফ্রেন্ড আমাকে খুব মারছিলো। সেদিন আমি মার খেয়েছিলাম এখন তুমিও খাবা।
--না ভাইয়া প্লিজ।
-তাহলে ড্যান্স করে দেখাও।
--সরি! বুঝলাম না ভাইয়া।
-একটা গান আছেনা। ম্যায় নাগিন নাগিন। ওই গানে একটু ড্যান্স করো। নিজে গান বলবা আবার নিজে নাচবা। বাঁচার এটাই একমাত্র সুযোগ তোমার।
.
আমি ভেবেছিলাম ছেলে রাজি হবেনা। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। ছেলে দেখি সত্যি সত্যি নাচতে শুরু করেছে। নিজে গান গাচ্ছে নিজেই নাচছে। এমন দৃশ্য দেখে সোফায় শুয়ে হাসতে শুরু করলাম।
চাচি জেপিকে উত্তম মধ্যম মার দেয়ার পরে বসার রুমে এসে ছেলেকে নাচতে দেখে অবাক। তিনি অবাক হয়ে বললেনঃ
--এসব কি হচ্ছে। এই ছেলে তুমি নাচছো কেন?
জেপি মার খেয়ে কান্না করছিলো। কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের নাচ দেখে সেও হাসতে শুরু করলো। চাচি বললেনঃ
--এই ছেলে নাচ থামাও বসো।
আমি নিজের রুমে এসে কিছুক্ষন হাসলাম। তারপর কাঠের একটা চেয়ার নিয়ে বসার রুমে গিয়ে বললাম
-ওই নাগিন এই চেয়ারে বস। সোফায় আরাম করে বসেছিস সাহস তো কম না।
বাধ্য ছেলের মতো সে সোফা থেকে উঠে এসে কাঠের চেয়ারে বসে অসহায় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ
--ভাইয়া চেয়ারটা ভেজা।
-হোক ভেজা। ভদ্র ছেলের মতো বসে থাকো।
আমি চাচি আর জেপিকে ছেলের জান আর বাবু নামের মেসেজগুলো পড়ে শোনালাম। ছেলের তিনটা গার্লফ্রেন্ড জানার পরে জেপি নিজে ছেলের গালে চড় বসিয়ে দিলো। চাচি বললেনঃ
--আমার আর কিছু বলার নেই। এই ছেলে তুমি ভাগো এখান থেকে। আমি দশ গুনবো এর মধ্যে তুমি দৌঁড়ে পালাবা। এক…
ছেলে দৌঁড় দিতে গিয়ে দেখে ছেলের প্যান্টের সাথে চেয়ার আটকে গেছে। খুব চেষ্টা করছে চেয়ার ছেড়ে উঠার কিন্তু পারছেনা। আসলে চেয়ারে ভেজা পদার্থটা ছিলো আঠা। চেয়ারে আঠা দিয়ে এনেছিলাম। চাচি এদিক পাঁচ পর্যন্ত গুণে ফেলেছেন কিন্তু ছেলে চেয়ার থেকে উঠতে পারছেনা। উপায় না দেখে চেয়ার সহ ছেলে যখন পালাতে গেলো জেপি দৌঁড়ে গিয়ে চেয়ার টেনে ধরে বললোঃ
--হারামজাদা আমাদের চেয়ার নিয়ে কোথায় যাস। চেয়ার রেখে যা। ছেলে দৌঁড়ে পালাতে চায় আর জেপি চেয়ার দিবেনা। টানাটানিতে ছেলের প্যান্ট ছিড়ে গেলো। ছেলে দৌঁড়ে চলে গেলেও আমি এটা ভেবে অবাক হলাম। এতো বড় ছেলে জাঙ্গিয়া পড়েনা কেন? হোয়াই? পড়া উচিত। পড়লে আজ আমাদের এ দৃশ্য দেখতে হতোনা।
চাচি লজ্জায় অন্য ঘরে চলে গেছেন। জেপি হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি বের করে ফেলেছে। আমি চেয়ারে লেগে থাকা প্যান্টের ছেঁড়া অংশের দিকে তাকিয়ে আছি। আঠাটা ভালো ছিলো।।
লেখক - Ni Alif
Permission আছে শেয়ার করার !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now