বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাল্যবিবাহ

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Eva Chowdhury (০ পয়েন্ট)

X #বাল্যবিবাহ পর্ব:-০১ Writer:-EvA Chowdhury . . মাএই বাড়ি ফিরলো অর্পি।এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল আজ।সে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। - " মা? ও মা?" - " কি রে?রেজাল্টের কি খবর?" - " মা, আমি গোল্ডেন এ প্লাস পাইছি!! এবার ভালো একটা কলেজে এডমিট হবো।" - " আল্লাহ তোর আশা পুরণ করুক মা! " জাহানারা বেগম চুলোয় ভাত বসালেন।অর্পিটা পড়াশোনায় বড্ড ভালো।কিন্তু টাকার দায়ে মেয়েকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে পারেননি।তার উপর জুনায়েদ সাহেব মেয়েকে পড়ানোর দিকে একটুও খেয়াল নেই।জাহানারা বেগম একটা বাড়িতে কাজ নেন সেই টাকা থেকে মেয়ের পড়ার খরচ দেন।অর্পি আর তিথি দুই বোন।তিথি এবার সিক্সে পড়ে। - " মা?দেখো মা তুমার তিথিটা আজও গোসল করবে না বলছে!" - " মা গো...আজ গোসল করতে মন চাচ্ছে না। ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার।গোসল করা যায় বলো? " - " এই অর্পি? একদিন গোসল না করলে কি'ই বা হবে?ছাড় তিথিকে। " - " তুমার আস্কারা পেয়ে এই মেয়েটা বড্ড অলস হচ্ছে।আর একদিন গোলস করেনি?তিথি তো ৫দিন থেকে গোসল করেনি! " - " কাল ঠিক করবো আপ্পি...ছেড়ে দে না।" - " তুই জানিস না? পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ইমানের অঙ্গ! " - " মা, দেখো না..তুমার মেয়েটা এখন আমাকে শিক্ষা দিতে বসে গেছে! " - " অর্পি খেতে আয় তো..আজ নাহয় তিথিকে ছাড়। " - " দেখে নিবো তোকে.." -" দেখা যাবে..হুহ! " জাহানারা বেগম বেগুন ভর্তা ও আলু ভর্তা নিয়ে বসে আছেন কখন যে জুনায়েদ আসবেন।অর্পি আর তিথি ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে খেয়ে নিলো।তিথি খুব দ্রুত খেয়ে নিলো আজ তার স্কুলের মাঠে ক্রিকেট খেলা রয়েছে।তিথি তো অলরাউন্ডার।নিজের স্কুলকে জিতানোর জন্য তাকে খেলতেই হবে!!রেডি হয়ে মা আর অর্পির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্কুলের দিকে ছুটলো। - " কি রে চলে এলি? চল স্যার ডাকছে কি যেন বলবেন.." - " চল চল। " . জুনায়েদ সাহেব মন খারাপ করেই বাড়ি ফিরলেন।মাএ একশ টাকা রোজগার করলেন আজ।কি করে যে জীবন কাটবে?বাড়িতে আসতেই জাহানারা বেগম হাসিমুখেই ভাত আর ভর্তা দিলেন।খাওয়া শেষে তিনি বাড়ি কোণে লাগানো আম গাছের কাছে গেলেন।খুব যত্ন করে গাছটা চারেক লাগিয়েছিলেন তিনি।প্রতি আমের মৌসুমে ভালোই বিক্রি করেন।গাছগুলো পাশে থাকা আগাছা পরিষ্কার করে কলতলায় হাত ধুতে গেলেন।এরইমাঝে জুনায়েদ সাহেবের বোন রিপার ফোন.. - " আসলামু আলাইকুম আপা।কেমন আছো? " - " এইতো ভালোই।তুই কেমন আছিস?" - " এইতো আছি।" - " শুন.. তোদের আম গাছ থেকে দুই কেজি আম দিবি? জানিস'ই তো বাজারের আমগুলাতে ভেজাল মিশানো থাকে।" - " আচ্ছা আপা।" - " তো কত টাকা দিবো? " - " টাকা?এমনি টাকা দিতে পারো কিন্তু আমের জন্য না।বোনকে বাড়ির ফসল দেওয়া তো ভাইয়ের কর্তব্য। " - "তবুও..তুই তো আম বিক্রি করিস এজন্য বললাম দুই কেজি আম আমাকে দিয়ে দিলে কমপক্ষে তোর চারশ টাকা ক্ষতি হবে।" -" না আপা।তুমি তো আমার বোন তুমাকে দিতে লাভ আর ক্ষতি কি? " - " ঠিক!তা অর্পির রেজাল্ট এর কি খবর? " - " GPA-5 পাইছে আপা।" - " এবার তো ভালো একটা কলেজে পাঠা ওকে।!" - " দেখি আপা।আচ্ছা রাখি? " - " আচ্ছা। " জুনায়েদ সাহেব ঘরে এসে আম গাছের পোকা দমনের জন্য যে ঔষধ এনেছিলেন তা দিয়ে দিলেন।কামরাঙা গাছে ভালোই কামরাঙা আছে।রহিব ভাই ১০কেজি কামরাঙা চেয়েছেন আজ'ই পাঠাতে হবে উনার বাড়িতে।জাহানারা বেগম মুরগিগুলোকে খাবার দিলেন।মুরগির ডিম বিক্রি করেই ভালোই রোজগার করছেন তিনি। টেনেটুনে এভাবেই সংসার চালাচ্ছেন তারা।অর্পি মাঠে গিয়েছে গরুগুলাকে বাড়িতে আনার জন্য।অর্পি গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে পাশের এক বাড়িতে।মাস ৮০০টাকা। ভালোই চলবে তার পড়াশোনার খরচ টুকো চালাতে পারবে।রাতের খাবার খেতে বসলো সবাই.. - " বাবা বাবা..দেখো তিথিটা হাত ধুয়ে খেতে বসেছে.." - " না বাবা।এই দেখো আমার হাত ভিজা।" - " সাবান দিয়ে ধুইলে কবে?কতবার বললাম ধুয়ে আস সে আমার কথা শুনলোই না।" - " ছেড়ে দে না অর্পি। খাবারটুকু শান্তিতে খাক না!!তোর বাবাও তো প্রচুর ক্লান্ত। " - " ধ্যাত..." তিথির এক বান্ধবী নাম জুঁই।যথেষ্ট সুন্দরী সে।পড়ালেখাও ভালো।মা-বাবা নেই।মা-মামীর সাথেই থাকে।কিন্তু গত কয়েকদিন থেকে সে স্কুলে আসছে না তাই তিথি একটু চিন্তায় পড়ে গেলো।যে মেয়ে একদিন না গেলেই নয় সে মেয়ে নাকি এক মাস ধরে স্কুল বন্ধ করলো!!কিছুই মাথায় ঢুকছে না তিথির।অর্পিকে বলতে হবে এই ঘটনাটা।অর্পিটাও যে কোথায় থাকে পাওয়াই যায় না..কত কাজ যে করে।এদিকে মা সাথে বাবা প্রতিদিনই ঝগড়া শুরু করলেন।রাতে বাবা মাতাল হয়ে ফিরে মাকে মারামারি করতেন।যাচ্ছে তাই গালি দিতেন।মা চোখ বুজে সহ্য করতেন। অর্পি আর তিথি পাশের ঘরে বসেই শুনতো কথার বলার মতো সাহস তাদের নেই।বাবাটাও যেন ইদানিং কেন এমন করে?? তিথি অর্পিকে জুঁইয়ের ব্যাপারে বললো। অর্পি কোনো সাজেশন দিতে পারলো না। তবে তিথিকে জুঁইয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বললো।সেইরাত বাবার চিল্লাচিল্লি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লো দুইবোন সকালে উঠতেই মা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন।অর্পি ঝাড়ু হাতে উঠান পরিষ্কার করতে লাগলো।তিথি স্কুলের জন্য রেডি হচ্ছে। - " আপ্পি?এই আপ্পি?আমার বাংলা বইটা কোথায়?? দেখেছিস? " - " তোর বই আমি জানবো ক্যামনে?" - " ধুরর...রফিক স্যরা আজ আমাকে মেরেই ফেলবে।ক্লাসে বই না নিলে সেইরকম পিটুনি দেয়।কি যে করি? " অর্পি ঝাড়ু দেওয়া বাদ দিয়ে তিথিকে বই খুজতে সাহায্য করতে লাগলো।কই যে রাখে মেয়েটা বই?নিজেরই খেয়াল রাখতে পারে হা বইয়ের কি খেয়াল রাখবে? - " নে তোর বই!এবার সামলিয়ে রাখিস।" - " এত্তগুলা ভালোবাসা আপ্পি।" - " যা যা!! " তিথি স্কুল দিকে রওনা দিলো।পথে রাজিয়া,সিমা,ইমা তাদের সাথে দেখা।যাক,গল্প করে করেই স্কুলে যাওয়া যাবে। - " এই সবাই শুন..কয়দিন ধরে জুইঁকে আসতে দেখিনা। " - " কি জানি রে?" - " যে মেয়ে একদিনও মিছ দেয়নি সে কি না..এত্ত দিন??" -"শুন..আজ আমরা সবাই জু্ঁইয়ের বাড়ি যাবো..কেন যে স্কুলে আসে না!! " . . চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now