বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"অপরুপ সৌন্দর্যের ভুুটান"
- তামিম হাসান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার জয়গাঁয়ে কারুকার্যময় গেট অতিক্রম করে যখন অন্য প্রান্তে রুদ্র প্রবেশ করল তখন ২১ শে আগস্ট রাত সাড়ে নয়টা বাজে। সুনিল আকাশ ছোঁয়া অভিন্ন ধরনের পাহাড়ের গাঁ ঘেষাঁ হোটেলবাড়ি গুলো দেখতে পেয়ে রুদ্র অবাক হয়েছিলো। ক্যালেন্ডারের ছবির চেয়েও সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ইমিগ্রেশন এর ঝামেলা ছাড়াই অচিরেই সুখি মানুষের আবাস ভূমি ভুটানে পৌছে গেল রুদ্র। বিভিন্ন বয়সের মোট ৪৩ সদস্যের এই ভ্রমণ টিমের সবাই খুব উওেজিত ছিলেন ভুটানে প্রবেশ করে। ভুটানের সীমান্ত শহর ফুয়েণ্টশোলিং থেকেই সবার মুগ্ধতার শুরু। সসপ্তাহব্যাপী ভুটানের রাজধানী থিম্পু সহ চারটি শহর ঘুড়েও এই মুগ্ধতা ফুরায় না। মাএ আট লক্ষ মানুষের দেশ ভুটান পুরোটাই পাহাড় পরিবেষ্টিত। ভুটানের রাজধানী থিম্পু , শীতকালীন রাজধানী এবং পুনাখা ও অন্য শহর ঘুড়ে রুদ্রর মনে হলো সর্বত্র সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্যের মায়াজাল ছড়িয়ে আছে। ভুটানিরা তাদের দেশের পাহাড়, নদী, সবুজ উপত্যকা এবং পুরো দেশের পরিবেশ সংরক্ষন করছেন কঠোরভাবে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভুটানের আদিবাসীরা তাদের সুখের কেন্দ্র রয়েছে গৌতম বুদ্ধ। গৌতম বুদ্ধের জন্ম নেপালে হলেও অহিংস বাণী ও শান্তিচর্চায় ভুটানের আদিবাসীরাই নিবিষ্ট। তার নিদর্শন হিসেবে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দেশের সবচেয়ে উচুঁ পাহাড়ে বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। থিম্পু শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে বুদ্ধমূর্তি দেখা যায়।
পরের দিন.....
রুদ্র সকালের খাবার খেয়ে রওনা করল, কুয়েসেলফোদরং পাহাড়ে। এই বিশাল পাহাড়ে গৌতম বুদ্ধের সবচেয়ে বড় উপবিষ্ট মূর্তি স্থাপিত আছে। ১৬৯ ফুট প্রায় ১৭ তলা ভবনের সমান। খোলা আঙিনার চারপাশে নারী ভাস্কর্য গুলোও বেশ নান্দনিক। এটি ভুটানের প্রথম বুদ্ধ বিহার। বিহারে ভক্তরা সবসময় এিপিটক আবৃওি করেন। ভুটান এশিয়ার মাঝে এক সুন্দরের প্রতীক। ভুটানের বাড়িগুলো ভিন্ন ও বিচিএ ধরনের তাই পর্যটকদের আকর্ষন বৃদ্ধি পায়। ভুটানের তিনটা শহর ভ্রমণকারিদের জন্য খুব জনপ্রিয় এগুলো হলো,,পারো,থিম্পু , পুনাখা। ছোট শহর ফুয়েণ্টশলিং কম নয়। ভুটানে বাহন হিসেবে "কোস্টার " খুব পরিচিত।
পরের দিন রুদ্র ও তার ভ্রমণ টিমরা পুনাখায় রওনা করলো। পুনাখা হলো অপরুপ সুন্দরের এক মায়া ভূমি । পুনাখা যাওয়ার জন্য সবাই থিম্পু অফিস থেকে একটা পারমিট নিলো। পুনাখা প্রাকৃতিক ভাবে খুব সুন্দর শহর। যাবার পথেই পড়ল দোচালা পাস, এটি ভূমি থেকে ১০১৭১ ফুট উচুঁ। দোচালা পাস দেখে রওনা করলাম পুনাখা জং দেখতে। পুনাখা জং এটি একটি সরকারি অফিস। প্রাচীনে এটি একটি দূর্গ ছিলো। জং দেখে রুদ্র নদীতে রাফটিং করে, সাসপেনশন ব্রিজ দুলিয়ে রুদ্র অনেক আনন্দিত। ভুটানের পারোতে দুদিন থাকলেও অনেককিছু দেখতে পেরেছে রুদ্র। পারোতে পাহাড়ের কোল ঘেষাঁ পাদদেশের নিচে ধান চাষ করা হয়।
শেষ দিনে রুদ্র ১০২৪০ ফুট উচুঁ" টাইগার নেষ্টে"উঠেছিল। ভ্রমণ দলের সবাই পাহাড় জয়ের অধরা সপ্নের জাল বুনেছে। অবারিত সৌন্দর্যের মায়া ভূমি ভুটানকে বলা হয় প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। তবে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকার বাসিন্দারাই ভুটানে আলাদা সম্মান পায়। এশিয়া মহাদেশের ভুটানে এসে রুদ্রর অনেক নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। রুদ্র ভুটানের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আনন্দিত।
"সমাপ্ত "
০৪/০২/২০১৯।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now