বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরদিন
আজ স্কুল ছুটি।কিন্তু আব্বু আম্মুর স্কুল খোলা।তাই আমি বাসায় একা একা।বিকেলে আম্মু এসে বললেন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।আব্বু আর আম্মু ডাক্তারের কাছে গেলেন।এখনো একা।শুয়ে আছি।ঘুম ঘুম ভাব।উঠতে ইচ্ছা করছে না।চোখ খুলতে ইচ্ছা করছে না।তখনই কে যেন কনিং বেল চাপলো।আমার ঘুমের ঘোর কেটে গেলো।বিছানা থেকে উঠে গেটের কাছে যেয়ে বললাম,"কে?"
"আমি বুবলি।"
আমি গেট খুললাম না।কারণ প্ৰথম ডাকে সাড়া দিতে নেই।কারণ জিন-পরীরা সবসময় একটা ডাক দেয়।আমি আবারো বললাম,"কে?"
"আমি বুবলি,বুবলি,বুবলি।"
"ও আচ্ছা।গেট খুলি।"
এবার আমার আর সংশয় নেই।কারণ সে একসাথে তিনবার তার নাম বলেছে।তার আগে একবার।গেট খুলে দিলাম।
"আই।ভেতরে আই।"
বুবলি ভেতরে এলো।আমার রুমে নিয়ে এলাম।আমার এটা স্বভাব।আমার বান্ধবী বা এখানকার কোনো বোন আসলে ড্রয়িং রুমে না নিয়ে যেয়ে আমার রুমে নিয়ে যাই।এখানে বলতে আমার সমবয়সী একটাই বোন।আমার খালাতো বোন নোশিন।
"ইভা,তোদের বাড়ি তো অনেক সুন্দর।বাগানটা অনেক সুন্দর।"
"তুই বাগানে গিয়েছিলি"
"হুম।কালকে সুমিংপুল বাইরে থেকে দেখেছিলাম।আজকে সুমিংপুলে দাঁড়াতেই দেখলাম একটা বাগান তাই গেলাম।সবচেয়ে ভালো হইছে ওখানে একটা দোলনা দিয়ে।"
"ছাদেও আছে।"
"চল বাইরে যাই।"
আমি আর বুবলি বাইরে গেলাম।
একটা রাস্তা দিয়ে হাটছি। জনমানবহীন একটা রাস্তা।খুব ভালো লাগে এই রাস্তা।আমাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে না।আমি বললাম,নে বসি।"
"কোথায়?"
"রাস্তার ধারে।সমস্যা নাই।ঘাস আছে।ঘাসের উপর বসি।"
বুবলি আর আমি বসে পড়লাম।
"ইভা,কোনো ছেলে যদি তার বউকে ডিভোর্স দেয়ার পর আবার বউয়ের কাছে যেতে যায় কেন?মানে কোনো বাবা।"
"ওই ছেলেটি তার বউয়ের কাছে নয় তার সন্তানের কাছে।একটা বাবার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস তার সন্তান।কিন্তু মাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর অনেক সন্তান সেটা বুঝে না।অনেকে তার বাবার নামই শুনতে চাইনা।এটা কিন্তু ঠিক না।কারণ বাবা তার মাকে না বাসলেও তাকে ভালোবাসে।এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেরা মেনে নিতে চাইনা।মেয়েরা বাবার সেই কষ্ট বুঝে।কারণ একটা মেয়ে তার মার চেয়ে তার বাবাকে ভালোবাসে বেশি।"
"ও।"
"তুই একটা জিনিস খিয়াল করিছ।ডিভোর্স দেওয়ার কয়েক বছর না হয় চার পাঁচ বছর পরে একটা ছেলে তার স্ত্রীর কাছে যাবে।স্ত্রী এটা বলবে, কেন এখানে এসেছ না হয় অন্য কিছু।তখন সেই ছেলেটি বলবে,"আমি আমার সন্তানকে দেখতে এসেছি।তাকে শুধুমাত্র একবার দেখতে চাই।"এ অবস্থায় কোনো সন্তান যদি তার বাবাকে অস্বীকার করে তাহলে তার বাবা যা কষ্ট পাবেন তা খুবই গুরুতর।অথবা তার বাবা যখন তার জন্য পাগল তখন যদি সন্তান এমন করে তাহলে বাবা খুব কষ্ট পান।তার বাবার হয়তো ভুল হয়ে গেছে।তার মার প্রতি এতই দরদ পড়ছে অথচ তার বাবা তার জন্য যে পাগল সেটা বুঝে না।সে কষ্ট শুধু বাবাই বুঝে।"
"একদম ঠিক বলেছিস।"
"কিন্তু আমি এটা বলে দিলাম এমন একদিন আসবে যেদিন তার বাবা ছাড়া তার বাঁচানোর মতো কেউ থাকবে না।সবাই কোনো না কোনো কাজে বিজি।সেই জন্য সেই সন্তানকে সাহায্য করতে পারবে না।"
"তোর কথা শুনে ভালোই লাগলো।আচ্ছা তুই কেমনে গল্প লেখিছ?আমিও লিখতে চাই।কিন্তু ভালো হয় না।"
"তার আগে বল তুই মাসে কয়টা গল্প পরিছ?"
"গল্প তেমনটা পড়ি না।মাসে দুই একদিন।"
"তাহলে তুই গল্প লেখবি কেমনে?গল্প লেখার প্রথম স্বত্ত্ব বেশি বেশি গল্প পড়া।তুই বেশি বেশি গল্প পড়বি।তালেই গল্প লিখতে পারবি।মানে তোর একটা ধারণা এসে যাবে।প্রতিদিন গল্প পড়বি।"
"ও।ইভা"
"হুম,বল।তোর প্রিয় খাবার কি?"
"চা।আর প্রিয় এইকারণে যে একদিন না খাইলে মাথা খারাপ হয়।"
"হাহাহাহা।চাখোর।"
"চপ।চল উঠি।অনেক্ষন ধরে বসে আছি।"
আমরা উঠে রাস্তা দিয়ে হাটতে থাকলাম
"ইভা তুই যে জিনিস বেশি পারস সেই জিনিস অন্যজনকেও শেখাস।তোর কি হিংসা হয় না?"
"এটা শুধু আমার না।একজন মানুষ যে বিষয়ে বেশি পারদর্শী সে সেই বিষয়ে অন্যকেও পরামর্শ দেয়।তুই গান পারস অন্যকেও গান শিখাতে চাছ তখন তোর কি হিংসা হয়?"
"নাতো।খুবই আচার্য ব্যাপার।সে পারে ইচ্ছা করলে সে আরো সম্মানী হতে পারে কিন্তু তা করে না।"
"সে কিন্তু সে বিষয়ে গর্ববোধ করে না।এমনি এমনি গর্ব পেয়ে যায়।"
"বুঝেছি।তোর কাছে থাকলে অনেক কিছু শিখা যাবে।তুই এত কিছু কেমনে জানলি?"
"এসব জানা লাগে না।জেনে নিতে হয়।"
"মনে আমি বুঝলাম না।"
"মানে।এসব কারো থেকে জানি নি।নিজে নিজে জেনে নিয়েছি।"
"ও।"
"আর যে জিনিসের প্রতি আগ্রহ বেশি যে জিনিস এমনিতেই চোখের সামনে ধরা দিবে।আর কিছু বলবি ?যদি পারি বুঝে দিমানি।"
"না আজকে অনেক কিছু বুঝেছি।বাড়ি যেতে হবে। তাহলে যাই।"
"আচ্ছা।"
আমি বাসায় এলাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now