বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

#তিন_গোয়েন্দা #পুরোনো_ভূত #পর্ব_একুশ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #তিন_গোয়েন্দা #পুরোনো_ভূত #পর্ব_একুশ শুনতে পেলো দু'জনেই। দোতলা কাঠের বাড়িটার পেছনে কয়েকটা বাক্সের পেছনে ঘাপটি মেরে রয়েছে রবিন আর মুসা। একটা লোককে দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেখেছে। তারপর কানে এসেছে পরিচিত কণ্ঠস্বর। কিশোর! বলে উঠলো মুসা। আমার ওয়াকিটকি! পকেটে হাত দিলো রবিন। বের করে আনলো খুদে যন্ত্রটা। বোতাম টিপলো ম্যাসেজ পাঠানোর জন্যে। ফার্স্ট, কোথায় তুমি? ভালো আছো? কিশোরের কণ্ঠ শুনে মনে হলো, ভীষণ অসুস্থ সে। নথি! বন্দরের কমার্শিয়াল পিয়ারের কাছে কোনো একটা বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে আমাকে। সেই দুটো লোক যারা ছবি চুরি করেছে, তারাই মিসেস বোরিন্সের বাড়ি থেকে ধরে এনেছে আমাকে। তোমরা কোথায়? বাইরে..। জবাব দিলো মুসা। তোমার চিহ্ন ধরে ধরেই এসেছি। আমি পিছু নিয়েছিলাম.....বলতে গিয়ে বাধা পেয়ে থেমে গেলো রবিন। কিশোর বললো, জলদি আমাকে বের করো এখান থেকে। আমি একা। একটা লোকের সাথে কথা বলতে গেছে ওরা। জলদি করো। তুমি কোথায়? জানতে চাইলো রবিন। পিয়ারের শেষ মাথায় বাড়িটার দোতলায়। চেয়ারে বাঁধা। একটা মাত্র জানালা রয়েছে, ইঞ্চিখানেক ফাঁক। অনেক ওপরে। আমার পক্ষে ওঠা সম্ভব নয় ওখানে। জানালা দিয়ে কিছু দেখতে পাচ্ছ? আকাশ ছাড়া আর কিছু না। কিছু শুনছো? ঢেউয়ের শব্দ। ভারি কোনো বোট-টোট ঘষা লাগছে বোধহয় দেয়ালের সঙ্গে। পরস্পরের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকালো রবিন আর মুসা। পিয়ারে বাঁধা ফিশিং বোট যেটা ঘষা খাচ্ছে, সেটা দেখিয়ে ইশারা করলো রবিন। জানালা দিয়ে কি আর কিছুই দেখতে পাচ্ছ না, ফার্স্ট? জিজ্ঞেস করলো রবিন। এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে জবাব দিলো কিশোর, মেঘ। ছোট্ট একটুকরো গোল মেঘ। পশ্চিম দিকে তাকিয়ে মেঘটা দেখতে পেলো দু'জনে। তাড়াতাড়ি ঘুরে পিয়ারের পশ্চিম দিকে চলে এলো। ওপরে তাকাতেই দেখতে পেলো বাড়িটার অনেক উঁচুতে ছোট একটা জানালা, পশ্চিম ধারের দেয়ালে। পানির দিকে মুখ করা। পানি আর বাড়িটার মাঝে ফাঁক খুবই সামান্য, তবে ওখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায়। কিশোর, মুসা জানালো, তোমার জানালাটা বোধহয় পেলাম। তুমি কিছু করতে পারবে? চেয়ারের সাথে বাঁধা বললাম না, জবাব এলো। কিছুতেই বাঁধন খুলতে পারছি না। বাড়িটার দেয়াল ঘেঁষে বসে ভাবতে শুরু করলো রবিন আর মুসা। পিয়ারের গায়ে ঘষা লাগছে ট্রলারটা। পিয়ারের কাছ থেকে দূরে খোলা সাগরে সার্ফিং করছে কিছু লোক। কিশোর যদি বেরোতে না পারে, মুসা বললো, আমাদেরকেই যেতে হবে। মুখ তুলে জানালাটার দিকে তাকালো রবিন। কিভাবে? ভেবে দেখলো মুসা। দোতলা বাড়িটার ধার দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। একবার তাকালো জানালাটার দিকে, তারপর পিয়ারে বাঁধা ট্রলারটার দিকে। এই, রবিন, ট্রলারে দড়ি আছে! ভাবছি, জানালার কাছে বুমটাকে নেয়া যায় কিনা? তাহলে চড়তে পারবো ওখানে। ট্রলারের বুমের দিকে তাকালো রবিন। মুখ তুললো আবার জানালার দিকে। কে চড়বে? তুমি? আজকের দিনটা তোমার, হেসে বললো মুসা। তোমার স্বপক্ষে। তুমি ছোট, হালকা। ওই জানালা দিয়ে তোমার জন্যে ঢোকাই সহজ। বুমটা এতোটা ভার রাখতে পারবে কিনা জানিনা। তবু চেষ্টা করে দেখতে হবে। ট্রলারের ডেকে এসে উঠলো দু'জনে। লম্বা দড়িটা তুলে নিলো মুসা। রবিনের কোমরে একটা মাথা বেঁধে দিতে দিতে তার পরিকল্পনার কথা বললো, বুমের মাথায় চড়ে বসবে তুমি। আমি বুম ঘুরিয়ে তোমাকে জানালার কাছে নিয়ে যাবো। তুমি জানালার ভেতরে ঢুকবে। আমি এখান থেকে দড়ি টেনে ধরে রাখবো, আস্তে আস্তে ঢিল দেবো, তুমি মেঝেতে নামবে। কিশোরের বাঁধন কেটে দেবে। তারপর আবার জানালায় টেনে তুলবো তোমাকে। জানালা দিয়ে বেরিয়ে বুমে চড়বে। দড়িটা খুলে ছুঁড়ে দেবে জানালার ভেতরে। কিশোর তখন ওটা কোমরে বাঁধবে। ওকেও একই ভাবে বের করে আনবো। তারপর বুম থেকে মাস্তুল বেয়ে নিজেরাই নেমে আসতে পারবে। সন্দেহ জাগছে রবিনের চোখে। আমার পছন্দ হচ্ছে না, মুসা। অনেক কিছুই গোলমাল হয়ে যেতে পারে। গোলমাল একটাই হতে পারে, সাহস জোগালো মুসা, ওই লোকগুলোর হাতে পড়তে পারো। তাড়াতাড়ি করো, কিছুই হবে না। এই যে, এটা নিয়ে যাও, পকেট নাইফটা বাড়িয়ে দিলো সে। তোমরা বেরোতে চাও এটা আমাকে বোঝাতে হলে তিনবার দড়ি ধরে টানবে। কোমরে দড়ি বাঁধা। সার্কাসের দড়ি-বাজিকরের যেমনটা থাকে। তেমনি ভাবেই মাস্তুল বেয়ে উঠতে শুরু করলো রবিন। দেখে যতোটা কঠিন মনে হয়েছিলো, চড়তে গিয়ে দেখে ততোটা নয়। জাল জড়ানো রয়েছে মাস্তুলের গায়ে। মইয়ের কাজ করছে খোপগুলো। মাথায় উঠে গেলো সে। মাস্তুলের মাথা থেকে ইংরেজি টি অক্ষরের এক মাথার মতো বেরিয়ে রয়েছে বুমটা। তার মাথায় দড়ি বাঁধা, টেনে যেদিকে খুশি ঘোরানোর জন্যে। ওটা ঘোরাতে শুরু করলো মুসা। নিয়ে গেলো জানালার কাছে। সহজেই হাত বাড়িয়ে জানালার চৌকাঠ ধরে ফেলতে পারলো রবিন। শক্ত করে দড়িটা ধরে রাখলো মুসা, যাতে বুমটা একটুও না নড়ে। চৌকাঠ ধরে উঠে গেলো রবিন। ঢুকে গেলো ভেতরে। আস্তে করে রবিনের কোমরে বাঁধা দড়ির আরেক মাথা মাস্তুলের গা থেকে খুলে নিয়ে ছাড়তে থাকলো সে। জানালা গলে রবিনকে নেমে আসতে দেখে হাসলো কিশোর। নিচে পা দিয়েই কোমরের দড়ি খুলে ফেলে তার বাঁধন কাটতে এগোলো রবিন। জলদি করো! তাগাদা দিলো কিশোর। ব্যাটারা এসে পড়বে। ছুরির কয়েক পোঁচেই বাঁধন মুক্ত হয়ে গেল কিশোর। প্রায় দৌঁড়ে এলো দু'জন জানালার কাছে। চেয়ারটা নিয়ে আসা হলো। দড়ি কোমরে বেঁধে ওঠার চেয়ে চেয়ারে উঠে হাত বাড়িয়ে চৌকাঠ ধরে শরীরটা টেনে তোলা সহজ। প্রথমে উঠলো রবিন। বেরিয়ে গেলো বাইরে। তারপর কিশোর। ওঠার চেয়ে নামাটা সহজ মনে হলো রবিনের। মাস্তুল বেয়ে ডেকে নেমে এলো সে। কিশোর মাঝপথে থাকতেই একটা চিৎকার শোনা গেলো। ফিরে তাকিয়ে তিনিজনেই দেখতে পেলো, সেই মুখোশধারী দু'জন। ছুটে আসছে। একটা মুহূর্ত দেরি করলো না মুসা। কিশোর আর রবিনকে আসতে বলেই ট্রলারের রেলিং টোপকে ঝাঁপ দিয়ে পড়লো পানিতে। প্রাণপণে সাঁতরে চললো তিনজনে। লোকজন যেদিকে রয়েছে সেদিক দিয়ে উঠবে। নির্জন কোথাও উঠলে আবার ধরা পড়তে হবে চোরগুলোর হাতে। বেশ কিছুদূর এসে ফিরে তাকালো মুসা। লোকগুলোকে দেখা যাচ্ছে না। বললো, এখানে আমাদের পিছু নেয়ার সাহস করবে না ওরা। অন্তত ওই মুখোশ পরে তো নয়ই। লোকের চোখে পড়ে যাবে। চলো, বাস ধরে চলে যাই। কিশোর বললো। আমার সাইকেল? পরে এসে নিয়ে যাওয়া যাবে। সারা শরীর ভেজা। টপটপ করে পানি পড়ছে। কাজেই বাসের একেবারে পেছনের সীটে যেখানে আর কোনো যাত্রী নেই সেখানে বসতে হলো তিনজনকে। যাত্রীদের বিস্মিত দৃষ্টি উপেক্ষা করে আলোচনা করতে লাগলো ওরা। ছোট স্টোররুমে কি কি দেখতে পেয়েছে, কিশোরকে জানালো রবিন আর মুসা। অবশ্যই কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে, যাতে আর কেউ শুনতে না পায়। রবিন জানালো, কিভাবে ডনকে অনুসরণ করে বন্দরে এসেছে। ডন কি করেছে এখানে এসে। ওই ডন ব্যাটাই ক্যাপ্টেন কুল্টারের ভূত সেজেছিলো, বললো রবিন। ডুবে মরা নাবিকের ভূতও তারই কান্ড। সম্ভবত, মায়ানেকড়ের ডাকের জন্যেও সে-ই দায়ী। কেন করছে এসব জানো? রেকার'স রকে গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে সে। আর মুখোশ পরা লোকগুলো তার সহকারী, যোগ করলো মুসা। আমার মনে হয় ওদের সাথে দেখা করার জন্যেই বন্দরে এসেছে ডন, রবিন বললো। বাজি রেখে বলতে পারি, কাল রাতে ভূতুড়ে জাহাজটায় ওদের কেউ একজন ছিলো। আরেকজন খাঁড়ির পাড়ে দাঁড়িয়ে টর্চের সাহায্যে সংকেত দিচ্ছিলো। আর ক্যাপ্টেন কুল্টারের পোশাক পরে আমাদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়েছে ডন। জাহাজটা এসেছিলো গুপ্তধনগুলো তুলে নিতে। হয়তো, বিড়বিড় করলো কিশোর। কিন্তু একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না, সোনাগুলো নিয়ে যেতে ওদের দরকার পড়বে কেন ডনের? তাহলে আর কি কারণ? মুসার প্রশ্ন। পিয়ারে ওদের সাথে কথা বলতে আসবেই বা কেন ডন? দেখেশুনে মনে হয়, ডনের সাথেই কাজ করছে ওরা, কিশোর বললো। মিসেস বোরিন্সের বাড়িতে আমাকে যেতে দেখে আমাকে ধরার জন্যেই পাঠিয়েছিলো দুই দোস্তকে। বোরিন্সদের বাড়িতে গিয়েছিলো? অবাক হলো রবিন। গিয়েছিলো। বাপের মুখে হয়তো শুনেছিলো আমি ওখানে গিয়েছি। তাড়াহুড়ো করে গিয়েছে দেখার জন্যে, আমি সত্যই গিয়েছি কিনা। অবাক হলো মুসা। কেন, সেখানে যাওয়ার কষ্টটা করতে গেলো কেন? শ্রাগ করলো কিশোর। কে জানে! হয়তো সারাক্ষণ আমাদের ওপর নজর রাখা মনে করেছে সে। মিসেস বোরিন্সকে জিজ্ঞেস করেছি, ডনের সঙ্গে দেখা হয়েছে কিনা, কথা বলেছেন কিনা। অস্বীকার করলেন। মহিলা এবং তার দেবর, দু'জনেই। কিন্তু, রান্নাঘরের দরজার নিচে তার মোটরসাইকেলের চাকার দাগ দেখেছি। ওরকম একটা জায়গায় ছিলো ও, কিন্তু কেউ দেখতে পায়নি, এটা হতে পারে না.... থেমে গেলো কিশোর। দ্বিধান্বিত। সব কিছু খাপে খাপে মিলছে না। চলো, হেডকোয়ারর্টারে যাই, বললো সে। ওখানে বসেই অলোচনা করে জটগুলো ছাড়ানোর চেষ্টা করবো। (চলবে.....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now