বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হযরত মানছুর ইবনে আম্মার ( র.) দোয়ায় এক মদ্যপের মাগফিরাত-
এক মদ্যপের বাড়ীতে সর্বদা মদের আসর বসত। সে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সর্বদা মদের আসরে পড়ে থাকত। একবার মদের আসরে তার বহু বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত হলো আর শরাও প্রস্তুত ছিল। মদের পূর্বে আহারের জন্য সে কিছু ফল ক্রয়ের জন্য নিজের গোলামকে চারটি দিরহাম দিয়ে বাজারে পাঠালো। গোলাম বাজারে যাওয়ার পথে দেখতে পেল হযরত মানছুর ইবনে আম্মার বসরী( র.) এর নিকট এক ফকির ভিক্ষা চাচ্ছে। হযরত মানছুর ইবনে আম্মার( র.) বলছেন, যে এই ফকিরকে চারটি দিরহাম দান করবে আমি তার জন্য চারটি দু’আ করব। গোলাম হযরত মানছুরের ( র.)এ কথায় প্রভাবিত হয়ে ঐ চারটি দিরহাম ফকিরকে দান করে দিল। এবার হযরত মানছুর ( র.) গোলাম জিজ্ঞাসা করলেন-বল, তুমি কি কি দোয়া চাও। গোলাম বিনীতভাবে আরজ করল-
১. আমার মনিব যেন আমাকে আযাদ করে দেয়।
২. আমি যেন এ চারটি দিনারের প্রতিদান পাই।
৩. আল্লাহপাক যেন আমার মনিবকে তওবা করার তওফিক দেন।
৪. আল্লাহপাক যেন আমাকে, আমার মনিবকে, আপনাকে এবং এ মাহফিলে উপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দেন।
হযরত মানছুর ইবনে আম্মার বসরী ( র.) গোলামের উপরোক্ত মাকসুদগুলো কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করলেন। এবার গোলাম খালি হাতে বাড়ী ফিরে গেল, আর ভাবতে লাগলো মনিব হয়তো তাকে প্রহার করবে। মনিব তার বিলম্বের কারন জিজ্ঞেস করলে সে সব ঘটনা খুলে বললো। তখন মনিব ক্ষিপ্ত না হয়ে জানতে চাইলেন তুমি কি কি দোয়া করিয়েছে ? উত্তরে গোলাম বলল, আমার ১ম দোয়া ছিল-আপনি যেন আমাকে মুক্ত করে দেন। মনিব সাথে সাথে বললেন-এই মুহূর্তে আমি তোমাকে আযাদ করে দিলাম। তোমার ২য় দোয়া কি ছিল বল।সে বলল, আমি যেন ঐ চার দিরহামের প্রতিদান পাই। মনিব বললেন, আমার পক্ষ থেকে তোমাকে ঐ চার দিরহাম হাদিয়া দিলাম। তোমার ২য় দোয়া কি ছিল বল।সে বলল, আল্লাহপাক যেন আপনাকে তওবা করার তওফিক দান করেন। সঙ্গে সঙ্গে মনিব যাবতীয় পাপকাজ হতে খাঁটি মনে তওবা করলেন। সবশেষে গোলাম তার ৪র্থ দোয়ার কথা উল্লেখ করে বলল, আল্লাহপাক যেন, আমাকে, আপনাকে, ঐ বুযুর্গকে এবং মজলিসে উপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দেন। শেষোক্ত দোয়ার উত্তরে মনিব বললেন, এটা আমার সাধ্যের বাইরে (এটা আল্লাহর কাজ)।
রাতে মনিব স্বপ্নে দেখলেন, কে যেন তাকে বলছেন-তুমি যখন তোমার এখতিয়ারভুক্ত ৩টি কাজ করেছো, তবে কি তুমি মনে করেছো, যা আমার এখতিয়ারভুক্ত তা আমি করবো না? আমি তোমাকে, তোমার গোলামকে, মানছুর বিন আম্মারকে, ঐ মজলিসে উপস্থিত সকলকে ক্ষমা করে দিলাম।সংগৃহীত-ফাজায়েলে সাদাকাত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now