বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফ্লোরিডা বিচ।
চারপাশে তাকাল গোয়েন্দাপ্রধান কিশোর পাশা। নির্জন সাদা সৈকতের সীমানায় ঝালর তৈরি করছে যেন পামগাছের সারি।
ঘামে ভেজা চুলগুলো কপালের ওপর থেকে সরিয়ে দিল মুসা আমান। কড়া রোদ লাগছে মুখে।
সকালে হোটেল থেকে পরে আসা সোয়েট শার্ট আর জিনসের প্যান্ট সিদ্ধ করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এখন তাকে। কিন্তু তখন আবহাওয়া ছিল অন্য রকম। পথে এক জায়গায় তো তুষারঝড়ই পেরোতে হয়েছে।
মুসার পরনেও একই পোশাক, শুধু তার সোয়েট শার্টের বুকে ছাপা একজন চীনা কুংফুস্টারের ছবি। এ জামাটা পরতে সে গর্বই বোধ করে। কারাতে ব্রাউন বেল্ট পেয়েছে সে। আশা আছে, একদিন না একদিন ব্ল্যাক বেল্টআসবেই।
‘কেসটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে না পারলে,’ কিশোর বলল, ‘এবারের ছুটিটা মাঠে মারা যাবে। বেড়াতে আর যেতে পারব না।’ দরদর করে ঘামছে সেও। সাঁতারু আর সূর্যস্নানার্থীরা এখনও এসে পৌঁছায়নি এই সৈকতে। ওদের আগে আসার জন্যই তো এই পরিশ্রম, পাঁচ মাইল পথ প্রায় দৌড়ে পেরিয়েছে।
‘সুইমসুট পরে এলেও হতো, অন্তত পানিতে তো নামতে পারতাম,’ মুসা বলল। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের ঝকঝকে পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকিয়ে দুহাত ছড়াল সে, টানটান করে শক্ত হয়ে যাওয়া পেশিগুলোকে ঢিল করতে চাইল, প্লেনে বসে থেকে কাটানো জমাট বেঁধে গেছে যেন। ‘‘কিশোর, তুমি শিওর, সাঁতারের সময় পাব না আমরা?’
‘না, পাব না।’
‘একেই বলে কপাল। যেখানেই যাই, ঝামেলায় জড়াই। শান্তিতে ছুটি কাটানোআর হয় না।’ কপাল ডলল সে। ‘তবে ইচ্ছে করলে কিছুটা আনন্দ করে নিতে পারি আমরা। একটা বিচ হাউস ভাড়া নিতে পারি সহজেই,’ কিশোরের দিকে তাকিয়ে হাসল, ‘যদি খালি তোমার হাতের সুটকেসটা একটু ঝাড়া দাও...’
‘হবে না,’ গম্ভীর হয়ে বলল কিশোর। ‘এ টাকা খরচ করার জন্য নয়...’
‘তোমাকে নিয়ে এই এক সমস্যা। এতটা কড়া না হলেও চলে...’
‘চলে না। তাহলে গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে অনেক আগেই মারা পড়তাম। তুমি যে রকম খামখেয়ালিপনা করো, সিরিয়াস না হয়ে উপায় আছে আমার?’‘না, নেই। প্লেন থেকে নামার পর ব্যাগটাকে যেভাবে আঁকড়ে ধরে ছুটে এসেছ এখানে, যে কেউ দেখলে ভাববে ওটাতেই তোমার জীবন-মরণ।’ নিজেদের কাপড়ের ব্যাগগুলোর পাশে সৈকতে পড়ে থাকা চামড়ার দামি অ্যাট্যাশেকেসটার দিকে তাকাল মুসা। ‘কাকে ভয় তোমার, আমাকে? ভেবেছ গোল্ড কোস্টে পৌঁছেই ব্যাগটা কেড়ে নিয়ে রেস্টুরেন্টে ছুটব খরচ করার জন্য?’
‘তোমাকে বিশ্বাস নেই,’ কিশোর হাসল। ‘খাবার দেখলে তো আর হুঁশ থাকে না।’
‘এত গাড়োল মনে করো নাকি আমাকে,’ বন্ধুর হাসিটা ফিরিয়ে দিল মুসা। ‘আচ্ছা, ঠিক আছে, খরচ না হয় না-ই করতে দিলে, আরেকবার চোখের সাধ তো মেটাতে দেবে?দ্বিধা করল কিশোর। তারপর বলল, ‘বেশ, তবে এক সেকেন্ডের বেশি না।’ বলতে বলতে কেসটার কাছে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল সে। তালা খুলে ডালা তুলল।
প্রথমবার যেমন তাকিয়েছিল, এবারেও স্তব্ধ হয়ে থরে থরে সাজানো কেসবোঝাই নোটের বান্ডিলের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল দুজনে।
‘হয়েছে,’ বলেই কেসের ডালা নামিয়েদিল কিশোর। কট করে লেগে গেল তালা।
এত তাড়াতাড়ি বন্ধ করায় প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল মুসা, এ সময় কানে এলো গাড়ির হর্ন। পাম গাছগুলোর ওপাশে : একবার... দুবার... তিনবার।
ঘড়ি দেখল কিশোর। ‘একেবারে কাঁটায় কাঁটায় হাজির হয়েছে।’ সতর্ক হয়ে উঠেছে তার চোখের তারা। পকেট থেকে একটা হুইসেল বের করে তিনবার বাজাল।
অপেক্ষার পালা। সব নীরব। যেন স্তব্ধ হয়ে গেছেমিনিটখানেক পর পামের সারি থেকে বেরিয়ে এলো শোফারের পোশাক পরা একজন ছোটখাটো মানুষ। কিশোর ও মুসাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য হাত নেড়ে ইশারা করল। আদেশ না মেনে উপায় নেই ওদের। লোকটার আরেক হাতে বিশাল একটা নিকেল প্লেটেড অটোম্যাটিক পিস্তল, বিকেলের উজ্জ্বল রোদে ঝকঝক করছে, নলের মুখ স্থিরহয়ে আছে ওদের দিকে।
লোকটার কাছে পৌঁছল ওরা।
‘নিশ্চয় কিশোর আর মুসা,’ রুক্ষকণ্ঠে লোকটা বলল। কথায় ব্রিটিশ টান।
‘হ্যাঁ,’ জবাব দিল কিশোর। ‘আপনার কী নাম?’ কিশোরও ভদ্রতা দেখাল না।
কঠিন এক চিলতে হাসি ফুটল লোকটার ঠোঁটে। ‘আমাকে নোভা বলে ডাকতে পারো।’ বোঝা গেল, আসল নাম বলেনি। পিস্তলের ইশারায় আরও কাছে ডাকল দুজনকে। ‘দেখি, এবার টিকিট দেখাও। তারপর যাচ্ছি আমরা।’
‘টিকিট?’অ্যাট্যাশে কেসটার দিকে ইশারা করল লোকটার হাতের পিস্তল।
‘ও, বুঝেছি।’ কেসটা খুলল কিশোর।
ভেতরে তাকাল একবার নোভা, মাথা ঝাঁকাল। ‘ভেরি গুড,’ বদলে গেল কণ্ঠস্বর। রুক্ষকণ্ঠ মুহূর্তে কোমল হয়ে গেছে। ‘এসো তাহলে, এবার আমরাযেতে পারি।’
লোকটার এসব যান্ত্রিক কথাবার্তা একটুও পছন্দ হলো না মুসার। বলল, ‘একটা কৌতূহল মেটাবেন?’ পিস্তলটার দিক থেকে নজর সরিয়ে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। ‘যদি টিকিট না থাকত আমাদের, কী হতো তাহলে? ট্রেন আমাদের ফেলে রেখেই চলে যেত?’
‘না। তবে যেভাবে নিত, সেটা পছন্দ হতো না তোমাদের।’
‘বুঝতে পেরেছি,’ হাসি ফোটানোর চেষ্টা করল মুসা। ‘ওয়ান ওয়ে লাইন নিশ্চয়।গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে, কিন্তু ফেরত আর আসা যাবে না।’
‘ভালোই বলেছ।’ পিস্তল নেড়ে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিল নোভা পামগাছগুলোর দিকে হেঁটে যেতে হবে ওদের।
গাছের সারির ওপাশে একটা রাস্তা। পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মস্ত একটা ধূসর রঙের লিমোসিন। চকচকে পালিশ করা শরীর, জানালায় গাঢ় রঙের কাচ।‘ওঠো তোমরা,’ নোভা বলল। এক হাতে খুলে ধরেছে পেছনের দরজা, আরেক হাতে উদ্যতই রয়েছে রুপালি অটোম্যাটিক। ওদের খুব কাছেই ওটার মুখ।
ওরা দেখল, গাড়ির ভেতরে অনেক জায়গা। চামড়ায় মোড়া নরম গদিওয়ালা সিট, একটা টেলিভিশন সেট, এমনকি একটা বিল্ট-ইন বারও রয়েছে।
‘খদ্দেরের টাকার মূল্য দেন আপনারা, বোঝা যাচ্ছে,’ মুসা বলল। ‘মূল্যবান লোকের জন্যই তৈরি হয়েছে নিশ্চয় এই চলমান বার?’‘দয়া করে গাড়িতে ওঠো এখন,’ অধৈর্য হয়ে উঠেছে নোভা।
‘নিশ্চয় নিশ্চয়,’ গাড়ির ভেতরে পেছনে নিজের ব্যাগটা ছুড়ে ফেলল মুসা। পেছনের সিটে বসল। কিশোর উঠে বসার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল দরজা, লেগে গেল অটোম্যাটিক তালা। আলো জ্বলে উঠল।দুপাশের আর পেছনের জানালায় কালো কাচ তো আছেই, ওদের সামনেও প্লাস্টিকের বেড়া, ড্রাইভারের সিট থেকে আলাদা করে দিয়েছে পেছনের সিটটা।
‘কী জানালা, হাহ্,’ মুসা বলল। ‘বাইরের কেউ ভেতরটা দেখতে পাবে না, অথচ ভেতরের ওরা সহজেই বাইরেরটা দেখতে পাবে। কিছু কিছু বড়লোকের কাণ্ডকারখানা দেখলে পিত্তি জ্বলে যায়।’
‘তবে এটা দিয়ে বাইরেও দেখতে পাবে না।’ জানালার কাচে নাক ঠেকিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করছে কিশোর। ‘কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে কাস্টমাররা দেখতে না পারে।’‘হুঁ, শুধু খামখেয়ালি বড়লোকরাই এ গাড়ি ব্যবহার করে না, অন্যরাও করে।’
‘যেমন?’
‘যাদের মরার সাধ জাগে।’
হাসি চলে গেল কিশোরের মুখ থেকে। মুসা কী বলতে চায় বুঝে ফেলেছে। নিচু গলায় বলল, ‘রাজকীয় গাড়িতে চড়িয়ে এখন আমাদের দাফন করতে না নিয়ে গেলেই বাঁচি!’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now