বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
নীল পদ্মরাগ (শার্লক হোমসের বাংলা গোয়ন্দা গল্প) শেষ পর্ব
X
মিস্টার বেকার উঠে দাঁড়ালেন। সদ্য-পাওয়া
হাঁসটা বগলদাবা করে বললেন, “অবশ্যই, মশাই।
আমরা দিনের বেলা মিউজিয়ামে কাজ করি।
মিউজিয়ামের কাছে আলফা ইন হল আমাদের
প্রিয় আড্ডা। তার মালিকের নাম উইন্ডিগেট।
ভারী ভাল লোক। তিনি একটা হাঁস ক্লাব স্থাপন
করেছেন। প্রতি সপ্তাহে কয়েক পেনি করে চাঁদা
দিলে আমরা বড়োদিনের সময় একটা হাঁস পাই।
আমি আমার চাঁদা সময়মতো দিয়ে এসেছিলাম।
বাকি সবটাই তো আপনার জানা। আপনার কাছে
আমি ঋণী থেকে গেলাম, মশাই। আমার বয়স বা
সম্মানের কথা ভাবলে, এই স্কচ বনেট জাতীয় টুপি
আর এই আমাকে মানায় না।” যাওয়ার সময় তিনি
মাথা ঝুঁকিয়ে বেশ কেতাবি কায়দায় একটা
অভিবাদন জানিয়ে গেলেন। বেশ মজা লাগল
দেখে।
তিনি চলে গেলে হোমস দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে
বলল, “এই হল মিস্টার হেনরি বেকারের গল্প।
বোঝাই যাচ্ছে, তিনি ঘটনার কিছুই জানেন না।
ওয়াটসন, তোমার কি খিদে পেয়েছে?”
“না, কেন?”
“তাহলে চলো, সন্ধ্যের খাবারটা একেবারে
রাতেই খাওয়া যাবে; এইবেলা এই টাটকা সূত্রটার
পিছু নেওয়া যাক।”
“বেশ, তাই চলো।”
বেশ শীত পড়েছিল সে রাতে। আমরা গলায় ভাল
করে আলস্টার [‡‡] পরে মাফলার জড়িয়ে বের
হলাম। মেঘহীন আকাশে তারা ঝিলমিল করছিল।
পথের লোকেদের মুখ থেকে পিস্তলের গুলির মতো
ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ডকটর’স কোয়ার্টার, উইমপোল
স্ট্রিট, হার্লে স্ট্রিট, উইগমোর স্ট্রিট পেরিয়ে
অক্সফোর্ড স্ট্রিটে এসে পড়লাম। আমাদের
পায়ের শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। আধঘণ্টার
মধ্যে ব্লুমসবেরির আলফা ইনে এসে পড়লাম।
হলবোর্নের দিকে যে রাস্তাটা গেছে তারই এক
কোণে একটা ছোটো পাবলিক হাউস। হোমস
প্রাইভেট বারের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে লাল-
মুখো, সাদা অ্যাপ্রন-পরিহিত মালিকের কাছে দুই
গ্লাস বিয়ার অর্ডার করল।
বলল, “তোমার বিয়ার নিশ্চয় তোমার হাঁসের মতোই
ভাল।”
লোকটা অবাক হয়ে বলল, “আমার হাঁস!”
“হ্যাঁ, আধঘণ্টা আগেই তোমার হাঁস ক্লাবের সদস্য
মিস্টার হেনরি বেকারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল।”
“ও, হ্যাঁ! এবার বুঝেছি। তবে কিনা, মশাই, ওই হাঁস
ঠিক আমার নয়।”
“তাই নাকি! তাহলে কার?”
“কভেন্ট গার্ডেনের এক হাঁসওয়ালার কাছ থেকে
ডজন দুয়েক আনিয়েছিলাম।”
“বটে! ওখানকার কয়েকজনকে চিনি। ওগুলো ঠিক
কার থেকে আনিয়েছিলে?”
“লোকটার নাম ব্রেকিনরিজ।”
“ও! তাকে চিনি না। আচ্ছা, এই নাও তোমার
বিয়ারের দাম। তোমার ব্যবসার উন্নতি হোক।
শুভরাত্রি।”
বাইরের হিমেল হাওয়ায় আবার বেরিয়ে এসে সে
কোটের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল, “এবার
গন্তব্য মিস্টার ব্রেকিনরিজের দোকান। বুঝে
দ্যাখো, ওয়াটসন, আমরা যে লক্ষ্যে চলেছি, তার
এক দিকে একটা সামান্য হাঁস। কিন্তু অন্যদিকে
একটি নিরপরাধ লোক যাকে আমরা নির্দোষ
প্রমাণ করতে না পারলে তাকে সাত বছর বিনা
অপরাধেই জেল খাটতে হবে। এমনও হতে পারে যে,
আমরা দেখব আসলে চুরিটা সেই করেছে। কিন্তু
ভাগ্যক্রমেই হোক, আর যেভাবেই হোক, আমাদের
হাতে এমন একটা সূত্র এসে গেছে যা পুলিশের
হাতেও আসেনি। এর শেষ দেখেই ছাড়ব। চলো
দক্ষিণ দিকে। তাড়াতাড়ি।”
হলবোর্ন পেরিয়ে এনডেল স্ট্রিটে এসে পড়লাম।
বসতি এলাকার আঁকাবাঁকা পথ ধরে কভেন্ট
গার্ডেন মার্কেটে পৌঁছালাম। সেখানে সবচেয়ে
বড়ো দোকানগুলোর একটার নাম ব্রেকিনরিজের
নামে। মালিকের মুখটা ঠিক ঘোড়ার মতো
লম্বাটে। দু-পাশে ছাঁটা জুলপি। একটা ছেলেকে
দোকানের শাটার ফেলতে সাহায্য করছিল।
হোমস বললে, “শুভ সন্ধ্যা। বেশ শীত পড়েছে আজ
রাতে।”
বিক্রেতা মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানাল।
তারপর আমার সঙ্গীর দিকে প্রশ্নালু চোখে
তাকাল।
মার্বেলের শূন্য স্ল্যাবগুলোর দিকে আঙুল
দেখিয়ে হোম জিজ্ঞাসা করলে, “সব হাঁস বিক্রি
হয়ে গেছে দেখছি।”
“কাল সকালে আসুন। পাঁচশো হাঁস চাইলেও দিতে
পারবো।”
“সে আমার কোনো কাজে লাগবে না।”
“তবে ওই যে দোকানটায় গ্যাস জ্বলছে, ওটায়
যান।”
“কিন্তু আমাকে যে তোমার দোকানের কথাই বলা
হয়েছে।”
“কে বলেছে?”
“আলফার মালিক।”
“ও, হ্যাঁ। আমি তাকে ডজন দুয়েক পাঠিয়েছিলাম।”
“হাঁসগুলো বেশ ছিল। তা ওগুলো পেয়েছিলে
কোত্থাকে?”
অবাক কাণ্ড। প্রশ্নটা শুনেই বিক্রেতা রাগে
ফেটে পড়ল। সে এবার ঘাড় ঘুরিয়ে কোমরে হাত
দিয়ে যুদ্ধং দেহি ভূমিকায় দাঁড়াল। বলল, “পথে
আসুন মশায়! কি চাইছেন বলুন দেখি! ঝেড়ে
কাশুন।”
“বাঁকা কথা তো কিছুই বলিনি। আমি শুধু জানতে
চেয়েছি যে হাঁসগুলো তুমি আলফায় বিক্রি
করেছিল, সেই হাঁসগুলো তুমি কার কাছ থেকে
কিনেছিলে?”
“অ! আর যদি না বলি, তাহলে কী করবে?”
“কিছুই না। মামুলি ব্যাপার। কিন্তু আমি আশ্চর্য
হচ্ছি, এই সামান্য কথায় তুমি এতটা উত্তেজিত হচ্ছ
কেন?”
“উত্তেজিত হব না! এমন কথা শুনলে কার মাথার
ঠিক থাকে? ভাল দামে ভাল মাল বেছবো, ব্যস,
লেনদেন খতম। ‘হাঁস কোথায়?’ ‘কার থেকে হাঁস
কিনেছো?’ ‘ওই হাঁসের কত দাম?’ হাঁস তো নয়, যেন
আর কিছু। সামান্য হাঁস নিয়ে কত কথা!”
হোমস গা-ছাড়া ভাব দেখিয়ে বলল, “কি করে
জানবো বলো যে, আরও পাঁচ জন ওই হাঁসের খোঁজ
করছে। তবে তুমি না বললে, বাজিটা হেরে যাবো।
হাঁস-মুরগির ব্যাপারে আমি নিজেকে একরকম
বিশেষজ্ঞই মনে করি। আর একজনের সঙ্গে বাজি
ধরেছি যে, যে হাঁসটা আজ খেলাম সেটা
পাড়াগেঁয়ে হাঁস।”
হাঁসওয়ালা খুব সংক্ষেপে রাগত গলা বলল, “অ!
তবে আপনি বাজি হেরেছেন। ওটা শহুরে হাঁস।”
“আমার দেখে তা মনে হল না।”
“আমি বলছি তাই।”
“মানি না।”
“ল্যাংটোবেলা থেকে হাঁস বেচছি, মশাই। আপনি
আমাকে হাঁস চেনাচ্ছেন? আমি বলছি, আলফায়
যে হাঁসগুলো বেচেছি, সেগুলো শহুরে হাঁস।”
“তুমি বললেই আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?”
“তাহলে বাজি রাখুন।”
“মিছিমিছি অর্থব্যয় করবেন। আমি জানি আমি যা
বলছি তা ঠিক। এক সভারেন [§§] বাজি রইল; শুধু ওই
বাজে তক্কো করার জন্য আপনাকে শিক্ষে
দেওয়ার জন্যে।” তারপর ব্যঙ্গের হাসি হেসে
দোকানদার বলল, “বিল, বইগুলো আমাকে এনে দে
তো রে।”
ছোটো ছেলেটা একটা ছোটো মোটা বই আর
একটা বেশ বড়ো চকচকে মলাটের বই আনল। দুটো
বইই একসঙ্গে ঝুলন্ত বাতির নিচে রাখা হল।
হাঁসওয়ালা বলল, “এই যে হাঁসবিশেষজ্ঞ মশাই।
ভেবেছিলাম আমার সব হাঁস বিক্রি হয়ে গেছে।
কিন্তু না, এখনও একটা আছে। এই ছোটো খাতাটা
দেখুন।”
“দেখলাম। তাতে হলটা কী?”
“এটা হল আমি যাদের থেকে হাঁস কিনি তাদের
নামের তালিকা। দেখেছেন? আচ্ছা, এবার দেখুন,
এই পাতাটা পাড়াগেঁয়ে হাঁসের মালিকদের
তালিকা। নামের পাশে যে নম্বর দেখছেন
সেগুলো বড়ো লেজার বইয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট
নম্বর। এবার দেখুন। অন্য পাতায় লাল কালিতে কী
লেখা আছে? এই হল আমার শহরের
সরবরাহকারীদের তালিকা। এবার, তিন নম্বর
নামটা পড়ুন। পড়ুন পড়ুন, আমাকে পড়ে শোনান।”হোমস পড়ল, “মিসেস ওকশট, ১১৭, ব্রিক্সটন রোড–
২৪৯।”
“হ্যাঁ, ঠিক। এবার লেজারের পাতায় যান।”
হোমস নির্দিষ্ট পাতাটি খুলল, “এই যে এখানে,
‘মিসেস ওকশট, ১১৭ ব্রিক্সটন রোড, ডিম ও
পোলট্রি সরবরাহকারী।”
“শেষ লাইনটায় কী লেখা আছে?”
“‘২২শে ডিসেম্বর। সাত শিলিং ছয় পেন্স দরে
২৪টি হাঁস।’”
“ঠিক। এবার, নিচে দেখুন। কী লেখা আছে?”
“‘আলফার মিস্টার উইন্ডিগেটের নিকট ১২ শিলিং
দরে বিক্রীত হইয়াছে।’”
“এবার কী বলবেন?”
শার্লক হোমস মুখখানি ব্যাজার করল। তারপর
পকেট থেকে এক সভারেন বের করে স্ল্যাবের
উপর ছুঁড়ে দিয়ে মহাবিরক্তির ভাব দেখিয়ে
পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। কয়েক ইয়ার্ড দূরে এসে একটা
ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে সে তার
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মুখে কোনো শব্দ না করে
হেসে উঠল।
বলল, “এই রকম গোঁফ আর পকেট থেকে গোলাপি
খাতা উঁকি দিচ্ছে দেখলেই বুঝবে, একে বাজি
দিয়েই টোপ গেলাতে পারবে। ওকে একশো
পাউন্ড দিলেও এত কিছু বলত কিনা সন্দেহ। কিন্তু
দ্যাখো, একটা বাজির টোপ ফেলে কত সহজেই ওর
পেট থেকে সব বের করে নেওয়া গেল। যাই হোক,
ওয়াটসন, মনে হচ্ছে আমরা আমাদের অনুসন্ধানের
শেষ পর্বে এসে পৌঁছে গেছি। এখন ভাবতে হবে,
মিসেস ওকশটের কাছে আজ রাতেই যাওয়া উচিত
না কাল যাবো। নিঃসন্দেহে যা বুঝলাম, এই
ব্যাপারটা নিয়ে আমরা ছাড়াও আরও কেউ
উৎসাহিত। আমার উচিত…”
তার কথা চাপা দিয়ে হঠাৎ দূরে একটা উচ্চ
কোলাহল উঠল। যে দোকানটা থেকে এক্ষুনি
বেরিয়ে এলাম সেই দোকানটার থেকেই। পিছন
ফিরে দেখি একটা বেঁটেখাটো ইঁদুরমুখো লোক
ঝুলন্ত আলোর বৃত্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, আর ওই
হাঁসওয়ালা ব্রেকিনরিজ রাগতমুখে দোকানের
দরজা ধরে দাঁড়িয়ে ঘুষি বাগিয়ে লোকটাকে কী
সব বলছে।
তার চিৎকার কানে আসছিল, “যথেষ্ট হয়েছে
তোমার আর তোমার হাঁস। চুলোর দোরে যাও গে।
ফের যদি ফালতু বকতে আসো তবে তোমার পিছনে
কুকুর লেলিয়ে দেবো। মিসেস ওকশটকে এখানে
নিয়ে এসো, যা বলার তাঁকেই বলব। তোমার কাছে
কেন জবাবদিহি করব হে? তোমার থেকে হাঁস
কিনেছিলাম নাকি?”
লোকটা কুঁই কুঁই করতে করতে বলল, “না, কিন্তু
ওগুলোর একটা যে আমার ছিল।”
“তাহলে মিসেস ওকশটকে জিজ্ঞাসা করো গে
যাও।”
“উনি আমাকে বললেন তোমাকে জিজ্ঞাসা
করতে।”
“তাহলে প্রুশিয়ার রাজাকে জিজ্ঞাসা করো গে
যাও। যত্তো সব! যথেষ্ট হয়েছে। এবার বেরোও
এখান থেকে।” এই বলে দোকানি রীতিমতো
ঘাড়ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে বের করে দিল।
লোকটাও অন্ধকারে মিশে গেল।
হোমস ফিসফিসিয়ে বলল, “মনে হচ্ছে, আর
ব্রিক্সটন রোডে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ওয়াটসন,
আমার সঙ্গে এসো। এই লোকটার পিছু নেওয়া
যাক।” বাজারের লোকজনের ভিড় ঠেকে হোমস
এগিয়ে গেল। খানিকক্ষণের মধ্যে লোকটাকে
ধরেও ফেলল। কাঁধে হাত রাখতেই লোকটা পিছন
ফিরে তাকালো। গ্যাসের আলোয় দেখলাম, ভয়ে
লোকটার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।
সে কাঁপা-কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করল, “কে
আপনারা? কী চান?”
হোমস মৃদুস্বরে বলল, “মাপ করবেন, কিন্তু আপনার
সঙ্গে ওই দোকানির বাক্যালাপ আমার কানে
এসেছে। মনে হচ্ছে, এই ব্যাপারে আপনাকে কিছু
সাহায্য করতে পারি।”
“আপনি? আপনি কে? এই ব্যাপারে আপনি কী
জানেন?”
“আমার নাম শার্লক হোমস। আমার কাজই হল
অন্যেরা যে খবর রাখে না, সেই খবরটি রাখা।”
“কিন্তু আপনি তো এই ব্যাপারে কিছুই জানেন
না।”
“আজ্ঞে না, আমি সবই জানি। ব্রিক্সটন রোডের
মিসেস ওকশট ব্রেকিনরিজ নামে এক দোকানিকে
কয়েকটা হাঁস বেচেছিলেন। সেই হাঁসগুলি
ব্রেকেনরিজ বেচে দেয় আলফার মিস্টার
উইন্ডিগেটের কাছে। উইন্ডিগেট তার ক্লাব সদস্য
মিস্টার হেনরি বেকারকে সেই হাঁস বিক্রি করে।
এই হাঁসটাকেই তো তুমি খুঁজছ?”লোকটা তার দুই হাত আর কাঁপতে থাকা আঙুলগুলো
বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “মশাই, আপনার মতো
একজনকেই তো খুঁজছিলাম। আপনি ভাবতেও
পারবেন না, এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমার
জীবনমরণ সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।”
একটা চার-চাকার গাড়ি যাচ্ছিল পাশ দিয়ে।
সেটাকে দাঁড় করিয়ে হোমস বলল, “তাহলে চলুন
কোথাও একটা গিয়ে আরামসে আলোচনা করা
যাক। এই বাজারে বড্ড চিৎকার চ্যাঁচামেচি।
কিন্তু সবার আগে–আপনার নামটা তো জানা হল
না।”
লোকটা খানিক ইতস্তত করে শেষে অন্য দিকে মুখ
করে বলল, “আমার নাম জন রবিনসন।”
হোমস মিষ্টি গলায় বলল, “না না, আপনার আসল
নামটা বলুন। বেনামিদের সঙ্গে কাজ করা বড়ো
অসুবিধাজনক।”
লোকটা সাদা গালদুটো লাল হয়ে এল। সে বলল,
“আচ্ছা, ঠিক আছে। আমার আসল নাম হল জেমস
রাইডার।”
“ভাল! তার মানে আপনিই হোটেল কসমোপলিটনের
প্রধান পরিচারক। দয়া করে এই ক্যাবটিতে [***]
উঠুন। যা জানতে চাইছেন, তার সবই আমার কাছে
শুনবেন।”
লোকটা একবার আমার দিকে একবার হোমসের
দিকে আধা-ভয় আধা-আশা ভরা দৃষ্টি নিয়ে
তাকাল। সে বুঝতে পারছিল না যে, তার কপালে
লাভ না লোকসান লেখা আছে। দোনোমোনো
করতে করতেই সে ক্যাবে উঠল। আধঘণ্টায় আমরা
পৌঁছে গেলাম আমাদের বেকার স্ট্রিটের
বৈঠকখানায়। লোকটা গাড়িতে কিছুই বলল না।
তবে তার ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস আর হাত কচলানি
থেকে বুঝতে পারছিলাম যে, সে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে
আছে।
ঘরে ঢুকে হোমস হাসিমুখে বলল, “হ্যাঁ, এসে গেছি
বাড়ি। বেশ সুন্দর আগুন জ্বলছে। মিস্টার রাইডার,
আপনি দেখি শীতে কাঁপছেন। আসুন, এই বেতের
চেয়ারটায় বসুন। আমি ঘরের জুতোটা পরে আসি।
তারপর আপনার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করব।
হ্যাঁ, এইবার! আপনি জানতে চাইছিলেন না, ওই
হাঁসগুলোর কী হয়েছে?”
“হ্যাঁ, মশায়।”
“অথবা, আমার যতদূর ধারণা, তার মধ্যে একটি হাঁস
সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন। ওই যে হাঁসটার
লেজের দিকে কালো ডোরা দাগ আর বাকিটা
পুরো সাদা, সেইটা।”
রাইডার উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল, “হ্যাঁ, মশায়! বলতে
পারেন ওটা কোথায় গেছে?”
“ওটা এখানে এসেছিল।”
“এখানে?”
“হ্যাঁ, আশ্চর্য সেই হাঁস, বুঝলেন মশাই। সত্যিই
আপনি ওটার প্রতি আগ্রহ না দেখালেই অবাক
হতুম। সেই মরা হাঁস একটা ডিমও পেরেছিল। ছোট্ট
একটা উজ্জ্বল নীল রঙের ডিম। এমন ডিম কখনও
দেখিনি। সেটা আমি আমার মিউজিয়ামে রেখে
দিয়েছি।”
লোকটা পড়ে যাচ্ছিল। কোনো রকমে ডান হাত
দিয়ে ম্যান্টলপিসটা [†††] ধরে সামলে নিল।
হোমস তার স্ট্রংবক্সের ডালা খুলল। তারপর নীল
পদ্মরাগটা বের করে ধরল। জিনিসটা একটা তারার
মতো চকচক করছিল। একটা অদ্ভুত সুন্দর শীতল
বহুকোণী আলো ঠিকরে পড়ছিল ওটা থেকে।
রাইডার শুকনো মুখে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল।
সে বুঝতে পারছিল না, ওটা দাবি করাটা ঠিক
হবে কিনা।
হোমস শান্তভাবে বলল, “তোমার খেলা শেষ,
রাইডার। না না, ধরে দাঁড়াও। নইলে পিছনের
আগুনে পড়ে যাবে। ওয়াটসন, ওকে চেয়ারটায়
বসিয়ে দাও। অপরাধ করতে যেরকম কলজের জোর
লাগে তা ওর নেই। আর এক গ্লাস ব্র্যান্ডি খাইয়ে
দাও। হ্যাঁ! এবার ওকে মানুষের মতো দেখাচ্ছে
বটে। একেবারে ইঁদুরের মতো হয়ে গিয়েছিল!”
সে খানিকক্ষণ টলতে লাগল। যেন পড়ে যাবে।
ব্র্যান্ডি খেয়ে গালের রংটা একটু ফিরল। তারপর
বসে হোমসের দিকে সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে
রইল।
“আমার কাছে প্রায় সব তথ্য আর প্রমাণই আছে।
তাই তোমাকে বেশি কিছু বলতে হবে না। শুধু
কয়েকটা কথা জানলেই আমার সব জানা পূর্ণ হবে।
রাইডার, তুমি কী এই নীল পাথরটার কথা কাউন্টেস
অফ মোরকারের কাছ থেকে শুনেছিলে?”
লোকটা কাঁপা-কাঁপা গলায় বলল, “ক্যাথরিন
কসাক আমাকে ওটার কথা বলে।”
“ও! মাননীয়া কাউন্টেসের খাস-পরিচারিকা। আর
শুনেই হঠাৎ-বড়োলোক হবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে
গেলে। যাক, এমন লোভ অনেক ভাল মানুষও
সামলাতে পারে না, তুমি তো কোন ছার। তবে,
রাইডার, তুমিও ভালমানুষ নও। যাকে বলে একখানি
ছিঁচকে চোর। তুমি জানতে, হরনার নামে ওই কলের
মিস্ত্রিটার নামে আগেও একটা কেলেঙ্কারি
আছে। আই তার দিকেই সবার সন্দেহ টানতে কষ্ট
হবে না। তারপর কী করলে? তুমি আর তোমার এই
সহচরীটি মিলে কাউন্টেসের ঘরে গ্যাঁড়াকল করে
রাখলে যাতে লোকটাকে ডাকতে হয়। তারপর সে
চলে গেলে, তুমি গয়নার বাক্স থেকে গয়নাটা
সরালে। তারপর অ্যালার্ম বেল বাজালে আর ওই
বেচারাকে গ্রেফতার হতে হল। তারপর তুমি…”
হঠাৎ রাইডার চেয়ার ছেড়ে মেঝেতে নেমে
গেল। তারপর হোমসের পা জড়িয়ে ধরল, কাঁদো
কাঁদো গলায় বলে উঠল, “ভগবানের দোহাই, দয়া
করুন! আমার বাবা-মার কথা ভাবুন। ওঁরা জানতে
পারলে একেবারে ভেঙে পড়বে। আমি আগে
কখনও এমন কাজ করিনি। কোনোদিন করব না।
প্রতিজ্ঞা করছি। বাইবেলের দিব্যি। দয়া করে
আমাকে আদালতে নিয়ে যাবেন না। খ্রিস্টের
দোহাই, নিয়ে যাবেন না।”হোমস কড়া ভাষায় বলল, “চেয়ারে গিয়ে বোসো।
খুব তো নাকে কাঁদছ এখন। ওই বেচারি নির্দোষ
করনারকে ফাঁসাবার আগে মনে ছিল না এসব
কথা!”
“আমি পালিয়ে যাবো, মিস্টার হোমস। এই দেশ
ছেড়েই পালিয়ে যাবো মশাই। তাহলে ওর বিরুদ্ধে
মামলাটা আর টিকবে না।”
“আচ্ছা! সেকথা পরে ভাবব। আগে বলো দেখি,
তারপর ঠিক কী কী করলে। পাথরটা হাঁসের পেটে
গেল কী করে? আর সেই হাঁসই বা খোলা বাজারে
এলো কী করে? যদি বাঁচতে চাও তো সব খুলে
বলো।”
রাইডার একবার জিভ দিয়ে তার শুকনো ঠোঁটদুটো
চেটে নিল। তারপর বলল, “যেমন যা ঘটেছে সবই
বলছি, মশাই। হরনার গ্রেফতার হওয়ার পর মনে হল,
পাথরটা নিজের কাছে রাখা আর নিরাপদ হবে
না। যে কোনো মুহুর্তে পুলিশ আমার ঘরে
খানাতল্লাশি করতে পারে। হোটেলেও এমন
কোনো নিরাপদ জায়গা নেই যেখানে ওটা রাখা
যেতে পারে। তাই আমার বোনের বাড়ি চলে
গেলাম। আমার বোন ওকশট নামে একজনকে বিয়ে
করে ব্রিক্সটন রোডে থাকে। সেখানেই সে
বাজারে বিক্রির জন্য হাঁস পালন করে। মনে
হচ্ছিল, সারা রাস্তায় পুলিশ আর গোয়েন্দারা
আমার পিছু নিয়েছে। ওই শীতের রাতেও ব্রিক্সটন
রোডে যেতে ঘেমেনেয়ে গেলাম। বোন
জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে, আমাকে এত
ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে কেন। আমি শুধু বললাম,
হোটেলে একটা দামি রত্ন চুরি গেছে। তাই মন
খারাপ। তারপর বাড়ির পিছনের উঠোনে গিয়ে কী
করা যায় ভাবতে লাগলাম।”
“মডসলি নামে আমার এক বন্ধু আছে। স্বভাব ভাল
না। পেন্টনভিলে জেল খেটে সদ্য ছাড়া
পেয়েছিল। তার সঙ্গে একদিন দেখা হল। সে
আমাকে চোরেদের কাজকারবারের কথা বলল।
চোরাই মাল কিভাবে কোথায় বেচা যায়, সেও
বলল। লোকটার কিছু গোপন কথা আমি জানি, তাই
জানতাম ও আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে
না। ও থাকে কিলবার্নে। সেখানেও যাওয়া স্থির
করলাম। ওই ভাল দামে মাল বিক্রির ব্যবস্থা করে
দিত। কিন্তু নিরাপদে ওর কাছে যাবো কি করে?
অনেক কষ্টে হোটেল থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম।
যেকোনো মুহুর্তে আমার দেহতল্লাশ করলেই তো
আমার ওয়েস্টকোটের পকেট থেকে পাথরটা
বেরিয়ে পড়বে। দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে
আছি। এমন সময় দেখলাম, আমার পায়ের কাছে
হাঁসগুলো ঘুরছে। হঠাৎ মাথায় একটা মতলব খেলে
গেল। ভাবলাম, এটাকে কাজে লাগিয়ে দুনিয়ার
সেরা গোয়েন্দাকেও বোকা বানিয়ে ছাড়ব।
“কয়েক সপ্তাহ আগে আমার বোন আমাকে
বলেছিল যে আমি বড়োদিনের উপহার হিসেবে
একখানা হাঁস নিতে পারি। আমার বোন কথার
খেলাপ করে না। ভাবলাম, এই মওকায় একখানা
হাঁস বেছে নিই, সেটাই আমার সঙ্গে কিলবার্নে
পাথরটা বয়ে নিয়ে যাবে। উঠোনে একটা ছোটো
ছাউনি মতন ছিল। আমি তার পিছনে একখানা
হাঁসকে তাড়িয়ে নিয়ে গেলাম। বেশ বড়োসড়ো
একটা হাঁস। সাদা। কালো দাগওয়ালা লেজ।
ধরলাম হাঁসটাকে। ওটার মুখ হাঁ করে যতখানি আঙুল
যায় ঢুকিয়ে পাথরটা পুরে দিলাম। হাঁসটা পাথরটা
গিলে নিল। কিন্তু হাঁসটা খুব ডানা ঝাপটাতে
লাগল। আমার বোন ব্যাপারটা কি দেখার জন্য
বেরিয়ে এল। আমি যখন তার সঙ্গে কথা বলার জন্য
পিছন ফিরেছি ওমনি হাঁসটা আমার হাত ছাড়িয়ে
দৌড়ে দলের সঙ্গে মিশে গেল।
“আমার বোন জিজ্ঞেস করল, ‘হাঁসটা নিয়ে কী
করছিস্, দাদা?’
“আমি বললাম, ‘কিছু না। তুই বলেছিলি বড়োদিনে
আমাকে একখানা হাঁস দিবি। আমি দেখছিলাম,
কোনটা সবচেয়ে মোটা।’
“বোন বলল, ‘ও, ওই যে তোর জন্য আলাদা করে
রেখেছি। আমরা ওটাকে বলি ‘দাদার হাঁস’। ওই যে
বড়ো সাদা হাঁসটা। মোট ছাব্বিশটা আছে। একটা
তোর, একটা আমাদের, বাকি দু-ডজন বাজারে
যাবে।’
“আমি বললাম, ‘ধন্যবাদ, ম্যাগি। তবে তোর কাছে
সবগুলোই একরকম হয় তো আমি যেটা ধরেছিলাম,
সেটাই নিই।’
“বোন বলল, ‘কিন্তু অন্যটার ওজন অন্তত তিন পাউন্ড
বেশি। তোর জন্যই ওটাকে খাইয়ে দাইয়ে মোটা
করেছি।’
“আমি বললাম, ‘আমার ওটাই বেশি পছন্দ। ওটাই
নেবো। এখনই নিয়ে যাই?’
“আমার বোন একটু অসন্তুষ্ট হল। কিন্তু মুখে বলল,
“আচ্ছা, তুই যা ভাল বুঝিস্! কোনটা নিবি?
“‘ওই যে কালো ডোরা লেজওয়ালা সাদা হাঁসটা।
পালের মধ্যে ঘুরছে।’
“‘ঠিক আছে, মেরে নিয়ে যা।’
“তারপর, মিস্টার হোমস, আমার বোন যেমনটা বলল,
তেমনটাই করলাম। একটা হাঁস নিয়ে গেলাম
কিলবার্নে। আমার বন্ধুকে আমার ফন্দির কথা
বললাম। ওই লোকটাকেই একমাত্র সব কথা খুলে
বলা যেত। আমরা খুব হাসলাম। তারপর একটা ছুরি
নিয়ে হাঁসটা কাটলাম। কিন্তু পাথরটা সেখানে
ছিল না। আমার তো মাথায় বজ্রাঘাত। নিশ্চয়
কোনো ভুল হয়েছে। হাঁসটা ফেলে বোনের বাড়ি
ছুটে এলাম। পিছনের উঠোনে গেলাম। কিন্তু
সেখানে একটা হাঁসও ছিল না।
“বোনকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হাঁসগুলো কোথায়
গেল, ম্যাগি?’
“‘দোকানে গেছে, দাদা।’
“‘কোন দোকানে?’
“‘কভেন্ট গার্ডেনের ব্রেকিনরিজের দোকানে।’
“আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আচ্ছা আমি যে
হাঁসটা নিয়েছি, ওই রকম দেখতে আরও একটা হাঁস
আছে কী?’
“‘হ্যাঁ, দাদা। ওই রকম লেজওয়ালা দুটো হাঁস আছে।
একই রকম দেখতে। আমি দুটোকে আলাদা করে
চিনতে পারতাম না।’
“তখনই ব্যাপারটা জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গেল।
দৌড়ে গেলাম ওই ব্রেকিনরিজ লোকটার কাছে।
কিন্তু ততক্ষণে সে সব হাঁস বেচে দিয়েছে।
আমাকে বললও না, কার কাছে বেচেছে।
আপনারা তার কথাই শুনেছেন আজ রাতে। সবসময়
ওইরকমভাবেই আমার সঙ্গে কথা বলেছে ও। আমার
বোন ভাবছে, আমি বোধহয় পাগল হয়ে গেছি।
আমার নিজেরই মনে হচ্ছে, আমি পাগল হয়ে
গেছি। আর এখন… এখন আমি দাগি চোর! যেটা চুরি
করে চোর হলাম, সেটাই হারালাম। ভগবান
আমাকে রক্ষা করুন! ভগবান আমাকে রক্ষা করুন।’
লোকটা দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলল।
অনেকক্ষণ কারো মুখে কোনো কথা ফুটল না। শুধু
দীর্ঘশ্বাসের শব্দ। আর টেবিলের কানায় হোমসের
আঙুল চালানোর টিপ টিপ শব্দ। তারপর হোমস উঠে
দরজাটা খুলল।
বলল, “বেরিয়ে যাও!”
“অ্যাঁ, মশায়? ও! ঈশ্বর আপনার ভাল করুন!”
“একটাও কথা নয়। বেরিয়ে যাও!”
কোনো কথার দরকারও পড়ল না। লোকটা ছুটে
বেরিয়ে গেল। দুড়দাড় করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে
দড়াম করে দরজাটা বন্ধ করে রাস্তায় গিয়ে পড়ল।
তারপর শুনলাম রাস্তা দিয়ে তার ছুটে পালানোর
পায়ের শব্দ।
পাইপটা টেনে নিয়ে হোমস বলল, “কথা হল,
ওয়াটসন, পুলিশ আমাকে তাদের খামতি ধরিয়ে
দেওয়ার জন্য রাখেনি। হরনারের বিপদ থাকলে সে
ব্যাপার আলাদা। তবে এই লোকটা তার বিরুদ্ধে
সাক্ষ্য দেবে না। মামলাটাও আর টিকবে না।
আমি যেটা করলাম, সেটা বেআইনি। কিন্তু এতে
একটা লোককে বাঁচানো গেল। লোকটা আর
চুরিচামারি করবে না। সাংঘাতিক ভয় পেয়েছে।
এই লোকটাকে জেলে পাঠালে এ শেষটায় দাগি
অপরাধীতে পরিণত হত। তাছাড়া এই উৎসব ক্ষমার
উৎসব। কাকতালীয়ভাবে আমাদের দরজায় একটা
রহস্য এসে পড়েছিল। সেটার সমাধান করতে
পারাটাই আমার পুরস্কার। খাবার ঘণ্টাটা বাজাও,
ডাক্তার, এবার অন্য একটা রহস্যের সমাধান করি।
অবশ্য সেটাও এক পক্ষীরহস্য।”
–
রচনা-পরিচিতি
অনূদিত নাম: নীল পদ্মরাগ
মূল নাম: ‘দি অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য ব্লু
কারবাঙ্কল’
মূল রচনা: স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
অনুবাদ: অর্ণব দত্ত
অলংকরণ: সিডনি পেজেট
‘দি অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য ব্লু কারবাঙ্কল’
ব্রিটিশ লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের
শার্লক হোমস গল্প-সংকলন দি অ্যাডভেঞ্চার অফ
শার্লক হোমস-এর বারোটি গল্পের মধ্যে সপ্তম
গল্প। এটি ১৮৯২ সালের জানুয়ারি সংখ্যায় প্রথম
প্রকাশিত হয় স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিন-এ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now