বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- মেয়েটা দেখছো আব্বু!কত কিউট।
- হলুদ কুইনের কথা বলছিস?
- হুম।
- প্রেম করবি?
- আম্মু বকা দিবে।
- আম্মুর কথা চিন্তা করে আর কতকাল সিঙ্গেল থাকবি?প্রেমের বয়স পার হয়ে বিয়ের বয়স তো এসে পড়লো।
- তাহলে চলো।
- কোথায়?
- গিয়ে কথা বলি।
- ধুর পাগল।এখন কথা বললে লস।যা খাওয়াদাওয়া করছে সব বিল পে করা লাগতে পারে।সো অপেক্ষা কর।বের হোক আগে।
- ওকে,কিন্তু আম্মু কিছু বললে তোমার দোষ।
- রোম্যান্স করবি তুই ঝাড়ি খাবো আমি!
- তুমি রোম্যান্স করলে আমি কখনো বাধা দিয়েছি?
- আমার বিয়ে করা বউ।রোম্যান্স করতেই পারি।তুই বাধা দেওয়ার কে?
- তাও ঠিক।আচ্ছা আব্বু বিয়ে করে ফেললে কেমন হয়?
- চুপ!মেয়ে কেমন,সিঙ্গেল কি না,বাবা কি করে,কিসে পড়ে কোনো খোঁজ নাই।আসছো বিয়ে করতে।তাছাড়া পটবে এর কি গ্যারান্টি আছে?
- হিহিহি।
- হেসে লাভ নাই।আমি হেল্প করতে পারবো না।
- হেল্প করতে বললাম কোথায়?আমার তো পুড়ানো একটা কথা মনে পড়ে গেলো।
- কি কথা?
- ছোটো খালারে একবার বলছিলা "তোমার কাজ কালো চোখে ডুবতে রাজি শতবার।যদি তুমি জড়িয়ে নাও,ভালবাসো বারম্বার।"আহা!এতো রোমান্টিক কেন আব্বু তুমি।
- ব্লাকমেইল করছিস?
- যা ইচ্ছা ভাবতে পারো।
- সর্বোচ্চ নাম্বার এনে দিবো।বাকিটা তোর ব্যাপার।
- এড্রেসের জন্য কি লুনা আন্টির কথা বলতে হবে?
- লুনা আন্টি কোথা থেকে আসলো?
- ওইযে স্নিগ্ধার আম্মু।
- স্নিগ্ধা আবার কে?
- সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ধাক্কা খাওয়ার কথা বলছি।এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলে?
- ওহ্ হো।আর কিছু লাগলে বল।
- থাক,বাকিটা ডিসকাউন্ট দিলাম।আপাতত কাজে লেগে পড়ো।ওরা বের হয়ে গেছে।
সফিক সাহেব হতভম্ব।এই মুহূর্তে ছেলের প্যাচে পড়ে গেছেন।প্যাচটা সাধারণ হলে ছুটা যেতো।কিন্তু যে বাধন দ্বারা আটক করা হয়েছে তাতে ছাড়া পাওয়া বেজায় মুশকিল।
বাধ্য হয়ে সফিক সাহেব রেস্টুরেন্ট থেকে দৌড়ে বেরিয়ে হলুদ ড্রেস পড়া মেয়ের উদ্দেশ্য করে ডাক দিলেন,'এই ইয়োলো কুইন।লিসেন্ট,স্টপ প্লিজ।'
মেয়েরা সচরাচর এধরণের বাক্য শুনে থাকে।কিন্তু সেটা যদি হয় কোনো বাবা বয়সী লোকের মুখে,তাহলে ভাববার বিষয়।
রুহির বেলাতেও তাই ঘটলো।
রুহি পেছন ঘুরে চোখ বড় বড় করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো,'আমায় বলছেন?'
- হুম,তোমার নাম কি যেন মামনি?
- রুহি।
- তুমি রাশেদের মেয়ে না?
- জ্বি না।আমার আব্বুর নাম হাকিম।
- ও আচ্ছা।তোমার নাম্বারটা দাও তো।
- কেন?তাছাড়া আপনি কে?
- আমায় চিনবা না।
- আপনি আমায় চিনেন?
- না।
- তাহলে এসবের মানে কি?
- সত্যি বলবো।
- জ্বি।
- তোমায় আমার বৌমা হিসাবে পছন্দ হয়েছে।
- কিহ্!হাউ ডেয়ার ইউ?আপনি কি বলছেন জানেন?
- তুমি এতো বেশি রিয়েক্ট করছো কেন?
- আপনায় সম্মান দিয়ে কথা বলছি এটা আপনার ভাগ্য।চলে যান সামনে থেকে।
- নাম্বার!
- বেহায়া লোক।
রুহি হন হন করে হেঁটে চলে গেলো।
এবং সফিক সাহেব মুখ গম্ভীর করে সেখানে দাঁড়িয়ে রইলেন।অর্ক দূর থেকে কর্মকাণ্ড দেখে হাসতে হাসতে কাছে এগিয়ে এলো।
সফিক সাহেব অর্কর চোখ চোখ রাখতে নাজেহাল বোধ করছেন।তিনি মাথা নিচু করে বললেন,'বর্তমান মেয়েরা দেশি মরিচের চেয়েও ঝাল।'
অর্ক বুকে আঘাত অনুভব করলো।সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো,'আর ছেলেরা মধুর চেয়েও মিষ্টি।'
.
ঘাস ভেজা স্নিগ্ধ সকাল।
ঘন কুয়াশায় ঢাকা।
অর্ক সে কুয়াশার মাঝে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে।কিছুক্ষণ বাদে গেট দিয়ে রুহি বের হলো।
বালিকার দর্শন পেয়ে অর্ক মুগ্ধ।সে পেছন থেকে বললো,'হেই ইয়োলো কুইন!'
রুহি অবাক হয়ে পেছন ফিরে তাকালো।আজ সে কালো টপস পড়েছে।তাহলে ইয়োলো কুইন বলার মানে কি?'
উত্তর জানতে রুহি রাগি স্বরে জিজ্ঞাসা করলো,'আপনি আমায় বললেন?'
- নাহ্!কোন এক সুন্দরীকে বলেছি।তুমি সুন্দরী?
- যত্তসব।
রুহির মেজাজ বিগড়ে গেছে।সে রাগি লুক দিয়ে হাঁটা দিলো।
ঠিক তখন অর্ক পেছন থেকে হাতে গোলাপ ধরিয়ে দিয়ে বললো,' I Love You.'
বাক্যটা সুন্দরী মেয়েদের কাছে কমন।কিছু সুন্দরী মেয়ে এ বাক্য শুনতে শুনতে কানে তাক লাগিয়ে ফেলেছে।
রুহির বেলায় ভিন্ন নয়।সেও শুনেছে হাজারবার।দুভাগ্য জনক ভাবে কেউই মন জয় করতে পারেনি।
দেখার বিষয় অর্ক কতটা পারে।
রুহি গোলাপ নেড়েচেড়ে অর্কর মুখের দিকে তাকালো।গোলগাল ইনোসেন্ট ফেস।এ ফেসে গোলাপটা ছুড়ে মাড়লে মন্দ হয় না।
কিন্তু সুযোগ পাবে কোথায়?এর আগে অর্ক ভো-দৌড়।
তারপর!!!
অর্ক এক অদ্ভুত রুটিন তৈরী করলো।প্রতিদিন ভোরে রুহির বাড়ির সামনে এসে অপেক্ষা করা।অপেক্ষা কেটে রুহির দেখা পেলে গোলাপ দিয়ে "I Love you" বলা।রুহি গোলাপ হাতে পেয়ে যেই নেড়েচেড়ে দেখবে তখনই দৌড় দেওয়া।
এভাবে পার হয়ে গেলো দুটি মাস।এই দুই মাসে ৬০টা গোলাপের সাথে ৬০বার প্রপোজ করা হয়েছে।এর বাহিরে কিছু নয়।
কিন্তু আজ অর্কর প্রিপারেশন ভিন্ন।রুহির বার্থডে তে চমক না দিলেই নয়।
যেভাবে হোক বালিকার মন জয় করতে হবে।
.
পূর্ণিমা রাত।
আকাশ পুরো পরিষ্কার।উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে আছে চারিপাশে।কড়া শীত পড়ায় লোকালয় ঘুমন্ত নিশ্চুপ।পশুপাখিও টু শিব্দ করছে না।
এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মই বেয়ে ছাদে উঠলো অর্ক।সাথে মোম এবং চকলেট কেক।
মনে তাঁর অস্থির ভাব।একটু এদিকওদিক হলে গণপিটুনি মিস নেই।
অর্ক ছাদে উঠে দেখে পরী ন্যায় এক কন্যা চাঁদের দিকে তাকিয়ে।খুব মনযোগ সহকারে দেখছে চাঁদ তারা'র খেল।পড়নে প্রথম দিনের সেই হলুদ ড্রেস।মাশকারার স্পর্শে চোখে গভীরতা প্রকাশ পাচ্ছে।হাতে রেশমি চুড়ি।খোলা লম্বা চুল।মুগ্ধতা!এখানে মুগ্ধতা এক হ্রাস।
রুহি আচমকা সামনে তাকালো।সামনে তাকিয়ে সে হতভম্ব।ভূত বলে চিৎকার দেওয়া ভুল হবে না।কিন্তু সুযোগ না দিয়ে অর্ক আগেই পকেট থেকে লাল,নীল,হলুদ গোলাপ বের করে দিয়ে বললো,'Happy Birthday To You.'
রুহি কাঁপা হাতে গোলাপ নিলো।কিছু বলার ভাষা তাঁর কাছে নেই।
- অবাক হচ্ছো?
- হুম।
- অবাক হওয়ার কিছু নেই।
- আপনি কে?আপনার পরিচয় কি?কোথায় থাকেন?কি করেন?প্রতিদিন আসেন।গোলাপ দিয়ে প্রপোজ করেন।চলে যান।আজ পর্যন্ত আপনার সাথে দু'মিনিট কথা বলেছি কি না সন্দেহ।আপনি আমার কাছে একটা রহস্য।
- হাহাহা,আজ সব রহস্যের উদঘাটন হবে।কিন্তু এর আগে একটা কথা বলো।
- কি কথা?
- আমায় ভালবাসো?
- জানিনা।
- আমি জানি।আচ্ছা এখন শুনো।আমার নাম অর্ক।অনার্স শেষ করে এখন বাবার কোম্পানিতে কাজ করি।বাজারের পাশে আমাদের বাসা।এক রেস্টুরেন্টে তোমায় দেখেছিলাম।দেখার পর ভালোলেগে যায়।আমি আব্বুর সাথে খুব ফ্রি।তাই তোমায় আব্বুকেও দেখাই।আব্বুরও ভালোলাগে।তারপর আব্বুকে তোমার কাছে পাঠাই কথা বলতে।আফসোস তুমি উল্টোটা বুঝে আব্বুর অপমান করে চলে যাও।এতে আব্বু খুব আঘাত পায়।আঘাত গুরুতর না হলেও আমার খারাপ লাগে।মনে জেদ তৈরী হয়।সেই জেদে পড়ে তোমায় পটাতে ব্যাকুল হয়ে পড়ি।কিন্তু মাথা ঠিক ঠাণ্ডা থাকে।যার জন্য প্রথম মাসে গোলাপ দিয়ে পটিয়ে ফেলি।তবুও একমাস আরো অপেক্ষা করি।কেন জানো?এই দিনটার আশায়।আজ তোমার জন্মদিন।এই দিনে তুমি সর্বোচ্চ খুশি থাকতে চাও।কিন্তু সেটা হবে না।কিছু মুহূর্তের জন্য তোমায় খুশি দিয়ে সারাজীবনের জন্য হাসি কেড়ে নিবো।বিনীময়ে হবে আব্বুর পাওয়া কষ্টের প্রতিশোধ।
- কীসব যা তা বলছেন?
- ভয় পাচ্ছো?ভয় পেওনা।জাস্ট মজা করলাম।চলো কেক কাটি।
- কেক!
- হুম।
এই বলে অর্ক কেক বের করলো।
কেক দেখে রুহি সারপ্রাইজড।
- ওয়াও চকলেট কেক?
- হুম।
- আপনি জানেন চকলেট কেক আমার কতটা ফেভারিট!
- জানি।সেদিন রেস্টুরেন্টে চকলেট কেক খেতে তো গিয়েছিলে।
- ওয়েট ওয়েট।দু'মাস আগে বিকেলের দিকে রেনবো রেস্টুরেন্টের নিচে একটা লোক নাম্বার চাইতে এসেছিলো।উনি কি আপনার আব্বু।
- কিছুটা।
- হোয়াট?আমি সত্যি সরি সেদিনের জন্য।ওনার সাথে ওমন ব্যবহারের পর বাসায় এসে খুব মন খারাপ হয়েছিলো।কিন্তু কিছু করার ছিলো না।পরে অবশ্য খুঁজেছি ওনাকে।ভাগ্যক্রমে পাইনি।
- আমি সব জানি ম্যাডাম।তুমি সবকিছু তো ডায়েরিতে লিখো।
- হ্যা,কিন্তু আপনি জানেন কিভাবে?
- যেভাবে তোমার পছন্দ অপছন্দ প্রিয় অপ্রিয় সব জেনেছি।
- এই আমার ডায়েরি আপনি চুরি করেননি তো?
- আরে নাহ্।ওটা তোমার ফ্রেন্ড অর্পা চুরি করে দিয়েছে।
- অর্পাকে চিনেন কিভাবে?
- সে অনেক গল্প।১২.৩০ কিন্তু বেজে গেছে।চলো কেক কেটে ফেলি।
- I Love You.
- I Love You Too.
অতঃপর দুজন হাসিমুখে কেক কেটে এক নতুন পথচলা শুরু করলো।
যেখানে আছে কষ্ট বেদনা চাওয়া-পাওয়া এবং একে অপরের ওপর নির্ভর করে ভাল থাকা।বাকি রইলো সুখ!
এটা ক্ষণিকের সম্পদ।সবার জীবনে আসে আবার চলে যায়।
ধরে রাখা ভাগ্যের ব্যপার।
বি: দ্র:- নারী সরল এক সমীকরণ।
বিষয় শুধু সহজ ভাবে নেওয়ার।
লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now