বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মরণবান
আবুল ফাতাহ মুন্না
(শেষ)
পরবর্তী কথাগুলো মাথায় গেল না
বেনের। থমাস উত্তেজিত হয়ে
পড়েছে। নিষ্কম্প হাতের অস্ত্রে
সামান্য কম্পন। সতর্কতায়
শিথিলতা।
বিদ্যুৎ খেলে গেল বেনের সারাদেহে।
একই সাথে কয়েকটা ঘটনা ঘটল।
পায়ের ধাক্কায় সোফাসহ পেছন
দিকে উল্টে গেল বেন।
বেনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে
সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে গুলি
চালাল থমাস। সোফা উল্টে যাওয়ায়
তলার পাটাতনে মুখ গুজল বুলেট।
স্প্রীং এবং পুরু গদি ভেদ করা
সম্ভব হল না সীসার টুকরোটার
পক্ষে।
এবং সবশেষে সোফার আড়াল থেকে
কী একটা যেন বাতাস কেটে তীব্র
বেগে রওনা হল থমাসের উদ্দেশ্যে।
দ্বিতীয়বার গুলি ছুড়তে চেয়েও বুকের
বামপাশটায় আমূল গেঁথে যাওয়া
ছুরিটার কারণে ব্যর্থ হল থমাস।
চোখে অবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে
ছুরিটার দিকে। হাত থেকে খসে পড়ল
অস্ত্র।
থমাসের পিস্তল মাটিতে পড়ে শব্দ
তুলতেই সোফার আড়াল থেকে
বেরিয়ে এল বেঞ্জামিন রাইট।
নিষ্পৃহ চেহারায় সুক্ষ্ম
আত্মতৃপ্তির ছাপ।
থমাস ওর ব্যাপারে অনেক তথ্য
জানলেও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ
তথ্যটা জানত না। বেন একটা নয়,
সবসময় দুটো থ্রোয়িং নাইফ
ব্যবহার করে!
আচমকা ব্যাপারটা লক্ষ্য করে
বেনের বুকের মধ্যে ভয়ানকভাবে
রক্ত ছলকে উঠল।
থমাসে প্রাণহীন দেহটা ঠিক পেছনেই
রাখা টেবিলের উপরে গিয়ে পড়েছে।
ধাক্কা লেগে 'আনেমোই'র
অ্যাম্পুলটা গড়াতে শুরু করেছে
টেবিলের কিনারা লক্ষ্য করে।
দ্বিতীয়বার কিছু ভাবতে গেল না বেন।
ক্ষীপ্র চিতার মত ডাইভ দিল
পতনোন্মুখ ক্ষুদে শিশিটার দিকে।
শূন্যে থাকা অবস্থায়ই বেন উপলব্ধি
করল,বড্ড দেরি হয়ে গেছে।
ওর হাতের চারইঞ্চি দুর দিয়ে মাটি
ছুঁল কাচের ভঙ্গুর অ্যাম্পুলটা।
বেনের বিস্ফারিত দৃষ্টির সামনেই
চুরচুর হল সেটা। ভাঙা কাচের ফাঁক
দিয়ে মৃদু হিসহিস শব্দ করে মেঝেতে
গড়িয়ে যাচ্ছে রঙহীন তরল....
পরিশিষ্ট
ঝপাৎ করে বইটা বন্ধ করল তুষার।
খানিকটা বিরক্ত। রাতে খাবার পর
একটা থ্রিলার নিয়ে বসেছিল,
এইমাত্র শেষ করল। থ্রিলার পড়তে
মন্দ লাগে না তুষারের। শুধু একটা
ব্যাপার সত্যিই বিরক্তিকর।
এই লেখকগুলোর মাথায় শুধু দুনিয়া
ধ্বংসের চিন্তা। কতবার যে এই
থ্রিলার লিখিয়েরা দুনিয়া ধ্বংস
করেছে আল্লাহই জানে!
নামের কী বাহার 'আনেমোই'! দুনিয়া
একঘন্টার মধ্যে সাফা! যত্তসব
গাঁজাখুরি!
অনেক রাত হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়তে
হবে। বইটা অবহেলায় বিছানা ছুড়ে
ফেলে বাথরুমের দিকে হাঁটা ধরল
তুষার। কিন্তু কয়েক পা এগোতে না
এগোতেই হাঁটু ভেঙে পড়ে গেল
তুষার। কিছুই ভাবতে পারছে না। শুধু
বুঝতে পারল ...তার প্রচন্ড কষ্ট
হচ্ছে। শ্বাস আটকে আটকে যাচ্ছে।
বুক ভরে শ্বাস টানতে গেলেই তীব্র
যন্ত্রণায় খচ করে উঠছে। যেন
জলন্ত একটা পেরেক কেউ আচমকা
বসিয়ে দিচ্ছে হৃদয় বরাবর।
হঠাৎ করেই এবার শুরু হল খিঁচুনি।
শুরুটা হল হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত
রোগীদের মত মারাত্মক মাত্রার
কাঁপুনি দিয়ে, এরপরই শুরু হল চূড়ান্ত
আক্রমণ। হাত-পায়ের রগগুলো টান-
টান হয়ে উঠছে। চামড়া ফুঁড়ে জেগে
উঠছে নীলচে শিরা, উপশিরা। বুকের
গভীর থেকে কাশির সাথে উঠে এল
এক ঝলক তাজা রক্ত। দমকে দমকে
বের হতে লাগল লাল টকটকে ধারা।
এরপরের ধাপে রক্তপাত শুরু হল
দেহের প্রতিটা ছিদ্র দিয়ে। চোখ
ফেটে রক্তপাত শুরু হতেই অন্ধ হয়ে
গেল সে। কর্নিয়া ফেটে গিয়েছে।
নিজের উপর এক বিন্দু নিয়ন্ত্রণ
নেই তার। দেহের একটা পেশির
উপরেও না। যেন কেউ রিমোর্ট
কন্ট্রোলের মাধ্যমে তার দেহটা
নিয়ে খেলছে।
এমন সময় জীবনের সবচাইতে বড়
উপলব্ধি তাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল।
সীমাহীন বিস্ময় নিয়ে সে উপলব্ধি
করতে পারল, ভয়ংকর ভাইরাসটা
তাকে আক্রমণ করে বসেছে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now