বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মরণবান—০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মরণবান আবুল ফাতাহ মুন্না এক ...তার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। শ্বাস আটকে আটকে যাচ্ছে। বুক ভরে শ্বাস টানতে গেলেই তীব্র যন্ত্রণায় খচ করে উঠছে। যেন জলন্ত একটা পেরেক কেউ আচমকা বসিয়ে দিচ্ছে হৃদয় বরাবর। হঠাৎ করেই এবার শুরু হল খিঁচুনি। শুরুটা হল হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মত মারাত্মক মাত্রার কাঁপুনি দিয়ে, এরপরই শুরু হল চূড়ান্ত আক্রমণ। হাত-পায়ের রগগুলো টান- টান হয়ে উঠছে। চামড়া ফুঁড়ে জেগে উঠছে নীলচে শিরা, উপশিরা। বুকের গভীর থেকে কাশির সাথে উঠে এল এক ঝলক তাজা রক্ত। দমকে দমকে বের হতে লাগল লাল টকটকে ধারা। এরপরের ধাপে রক্তপাত শুরু হল দেহের প্রতিটা ছিদ্র দিয়ে। চোখ ফেটে রক্তপাত শুরু হতেই অন্ধ হয়ে গেল সে। কর্নিয়া ফেটে গিয়েছে। নিজের উপর এক বিন্দু নিয়ন্ত্রণ নেই তার। দেহের একটা পেশির উপরেও না। যেন কেউ রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে তার দেহটা নিয়ে খেলছে। এমন সময় জীবনের সবচাইতে বড় উপলব্ধি তাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। সীমাহীন বিস্ময় নিয়ে সে উপলব্ধি করতে পারল, ভয়ংকর ভাইরাসটা তাকে আক্রমণ করে বসেছে! এক পরিত্যাক্ত এক ওয়ারহাউসের সামনে এসে দাঁড়াল সিআইএ এজেন্ট বেঞ্জামিন রাইট। কাছের মানুষরা অবশ্য শুধু বেন বলেই ডাকে ওকে। সিআইএ'র টপ এজেন্টদের মধ্যে অন্যতম বেঞ্জামিন। অবশ্য যে কাজে গত একটা সপ্তাহ ধরে লেগে আছে বেন সেটা যেন-তেন মানুষের কাজও না। সিআইএ'র মাথারা সেটা জানেনও। বেন সামান্য হাঁপাচ্ছে। কয়েক ব্লক দূরে নিজের বেন্টলিটা রেখে এটুকু পথ হেঁটে এসেছে। গাড়ি নিয়ে এপর্যন্ত আসা যথেষ্ট বোকামি হত। এটুকু পথ প্রায় দৌড়েই এসেছে ও। তবে যতটা না পরিশ্রমে তার চাইতে ঢের বেশি উত্তেজনায় হাঁপাচ্ছে বেন। দীর্ঘ এক সপ্তাহ উন্মাদের মত খোঁজ করার পর অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে এখানেই আছে থমাস। থমাস পাওয়েল। যে মানুষটা গত এক সপ্তাহ যাবত ঘুম হারাম করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসনসহ পৃথিবীর সমস্ত পরাশক্তিগুলোর। অথচ আমেরিকা থেকে মাত্র কয়েকশো মাইল দুরে,কানাডার এই ওয়াটসন লেকে এসে দিব্যি বসে আছে লোকটা। জায়গাটা বেছে নেবার পেছনে জোরালো কারণ আছে সম্ভবত। এমনিতে শহরটা পর্যটন শহর হলেও বছরের এসময়টাতে মানুষ তেমন একটা আসে না। শীতের সময় যখন পুরো লেক বরফ হয়ে যায় তখন স্কেটিং করতে আসে লোকে। জায়গাটা টুরিস্ট স্পট হওয়ায় কারো মনে সন্দেহ না জাগিয়েই নিজের কাজ করে যেতে পারবে শয়তানটা। আবার তাকে যারা হন্যে হয়ে খুঁজছে তারাও কল্পনা করতে পারবে না থমাস এই জায়গায় আস্তানা গাড়তে পারে। পরিশ্রমের ফলে উৎপন্ন তাপ কমে গেল লেক থেকে ধেয়ে আসা শীতল বাতাসে। কামড় বসাচ্ছে দেহের উন্মুক্ত জায়গাগুলোতে। ওভারকোটের কলার তুলে পকেটে হাত ঢোকাল বেন। লেকের পাশেই ওয়ারহাউসটা। এখান থেকে পরিষ্কার দেখা যেত লেকের নীল জলরাশি, এখন যাচ্ছে না। এখন রাত। লেকের পানিকে মনে হচ্ছে তরল আলকাতরা। থমাস কি এখানে সত্যিই আছে? ওর কন্ট্রাক্ট তো সেরকমই বলল।বতবে থমাসের মত ধূর্ত লোকের বেলায় শেষ কথা বলে কিছু নেই। ছিল, তারমানে এখনো আছে, তা নাও হতে পারে। না থাকলে কী ঘটবে আর ভাবতে চাইল না বেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now