বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পিরামিড।।
লেখক - রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু
ব্যাচেলার মানুষ একটু অগোছালো
হয়,
যেমন উদাহারণ স্বরূপ আমি
নিজে।
ছোট বেলা থেকে আমি একটু ভবঘুরে টাইপের!
কোন নির্দিষ্ট জায়গায় বেশিদিন টিকতে পারি না।
অচেনা কিছু সব সময় আমাকে টানে!
তাই লেখাপড়া শেষ করে
একটি চাকরিও নেই আমার মত!
আমার মত বলতে চাকরি করতে আমাকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কোন অফিসে যেতে হয় না।
মানুষ কীভাবে পারে একটি অফিসে প্রতিদিন যেতে আমার তা বোধগম্য হয় না!
আমার চাকরিটা একটা এনজিওর।
বেতন যদিও কম,
তবু দেশের কোণায় কোণায় ঘুরে বেড়ানো সুযোগ পাচ্ছি চাকরির কল্যাণে।
এর থেকে বেশি কী চায়?
আমার মত ভবঘুরে মানুষ তার জীবনে!
আমি ত সম্পূর্ণ স্বাধীন মুক্ত পাখির মত চারিদিকে উড়ে বেড়াচ্ছি!
আজ বিশেষ একটি প্রয়োজনে আমাদের এনজিওর কর্মকর্তাদের একটি
রেস্টুরেন্টের মিটিং হচ্ছে।
যদিও এই বিশেষ প্রয়োজনটা আমার সৃষ্টি!
বস আসবে আজকে
তাই সবাই একটু সজাগ।
বস আসল সালাম দিলাম
বস বলল কেমন আছ
আমান?
ভালো
আপনি?
আছি আর কী।
মিটিং শুরু হল
আমাদের এনজিওর পরবর্তী কাজ হচ্ছে মিশরে।
নামটি শুনার পর মনটা ব্যাকুল হয়ে ওঠলো
যে দেশের কথা সভ্যতার কথা বইয়ে পড়ছি
কল্পনায় বার বার সে দেশে ঘুরে আসার চেষ্টা করে সফল হতে পারি নি।
সে দেশে যাওয়ার সুযোগ!!!
মিটিং শেষে মিশর সফরের জন্য আমাদের দল ঘোষণা করা হল।
ভাগ্যক্রমে ৩ জনের দলে আমি একজন।
সঙ্গী আর দুইজন রাকিব সাহেব এবং আমার ক্রাস পিহু!
আসলে মেয়েদের সাথে আমার কেন জানি না, হয় না!
পটাতে পারি না।
আর ভবঘুরে ছেলেকে কোন মেয়ে পছন্দ করে বলুন?
কিন্তু পিহু মেয়েটি স্পেল
সে আমাকে বুঝে ভালো।
কিন্তু সম্পর্কটা এখনো বন্ধু পর্যায়ে
বলতে ত এখনো পারিনি ভয়ে এবং লজ্জায়!
উপদেশ দিবে তেমন বন্ধুও ত আমার নেই !
নিঃসঙ্গ জীব আমি এই পৃথিবীতে!
আর তিনদিন পর মিশরে যাবার ফ্লাইট।
এর মধ্যে আরেকটি চিন্তা যুক্ত হল
আমার আরেক সঙ্গী রাকিব সাহেব কেন জানি না
মনে হয় আমাকে একটুও পছন্দ করে না!
আমাকে সব সময় বসের সামনে খাট করতে চায়,
আর ফাদে ফেলতে চায়!
কে যেন বলেছিল
এরকম কয়েকজন ব্যক্তি নাকি প্রত্যেক অফিসে থাকে।
তাই তাকে নিয়ে এতদিন তেমন চিন্তা করতাম না।
কিন্তু এখন তো চিন্তায় ফেল দিল!
বিদেশে যদি কোন বিপদে ফেলে!
তবু আমি সে চিন্তা মাথা থেকে জোর করে বাদ দিতে চাইলাম।
আমি ভ্রমণের রোমাষ্ণের কথা ভাবতে লাগলাম!
যথাসময় আমরা মিশর পৌছালাম।
মিশরে মাটিতে আমার পা পড়ল মন
আমার এখনি ওড়াল দিতে চাইছে।
বিমানবন্দর থেকে হোটেলে গেলাম।
আমাদের কাজ কাল থেকে শুরু।
ভ্রমণেরর ফলে শরীল একটু ক্লান্ত লাগছে তাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে একটি নারী কন্ঠের ডাকে ঘুম ভাঙলো কোন মেয়ে দরজার বাইরে থেকে ডাকছে।
পরে বুঝলাম পিহু ডাকছে,
আমাদের তো বেরুনোর সময় হয়ে গেছে
আর আমি বোকা এখনো ঘুমোচ্ছি।
আমি একটু ঘুমকাতুরে।
গত রাতে একটি স্বপ্ন দেখছিলাম
কিন্তু স্বপ্নের ঘটনাগুলো ভূলে গেছি প্রায়!
আজ নিশ্চয় রাকিব সাহেব এর কাছে দেরির জন্য অনেক কথা শুনতে হবে।
তৈরি হচ্ছি আর ভাবছি।
দ্রুত তৈরি হয়ে নিচে গেলাম।
দেখি গাড়ি দাড়িয়ে আছে।
আর রাকিব সাহেব বিরক্তি সুরে বললেন এতক্ষণ?
আর বক বক শুরু করলেন
তার বক বক সহ্য করতে না পেরে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে লাগলাম।
গাড়িতে আমরা পাঁচজন আমি, পিহু, রাকিব সাহেব, গাড়ির ড্রাইভার, আর অন্য আরেকজন যাকে চিনলাম না পোশাক দেখে মনে হল স্থানীয়,
আন্দাজ করলাম গাইড হবে হয়তো।
আমরা গন্তব্যস্থানে পৌছালাম।
আমার আন্দাজ সত্য লোকটি আমাদের গাইড।
মিশরীয় হলেও দিব্যি বাংলা ভাষা বলতে পারে যা আমাকে অবাক করল।
আমাদের কাজ শেষ করে আমরা হোটেলে ফিরে আসলাম।
আজকে একটি খারাপ ঘটনা ঘটেছে।
রাকিব সাহেব এর সাথে আমার ঝগড়ার এক পর্যায়ে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল।
শেষে পিহু আর খালেদ আমাদের ঝগড়া থামান,
খালেদ আমাদের সেই গাইডের নাম।
হোটেলে পৌছানোর পর সন্ধ্যার দিকে ফোন দিয়ে খালেদকে ডাকলাম তাকে বললাম চল পিরামিড দেখতে যাবো।
সে বলল রাতে পিরামিড দেখতে যাবেন?
হ্যাঁ, যাবো আমাকে কে যেন বলেছিল রাতের বেলা পিরামিড বেশি সুন্দর দেখায় ।
সে বিরক্তির সুরে বলল কে বলছে
আমি বললাম ভূলে গেছি।
খালেদ বলল রাতের বেলা ঐ জায়গাগুলো অনিরাপদ তাই সে আমাকে নিয়ে যেতে অস্বীকৃত জানাল।
সে বলল কাল সকালে নিয়ে যাবে।
কিন্তু আমার তো আজ রাতেই যেতে হবে।
কত বছর ধরে অপেক্ষা করছি আজকের এই রাতের জন্য!
আমি তাকে জোর করায় সে শেষ পর্যন্ত রাজি হল।
যদিও আমি একাকী যেতে পারতাম
কিন্তু তাকে নেওয়ার পিছনে আমার আরেকটি উদ্দেশ্য আছে।
আমার লক্ষ অর্জন সফল করতে হলে তাকে খুব প্রয়োজন আমার।
রাতের অন্ধকার
একটু চাঁদের আলো আছে আকাশে
কিন্তু তাতে তেমন আলো দিচ্ছে না।
আমরা দুইজন একটি পিরামিড লক্ষ করে এগিয়ে যাচ্ছি।
কাছে যেতেই আরো দুইজনকে দেখতে পেলাম।
আমি তাদের দেখে মোটেও অবাক হয় নি।
কারণ তাদের আমি আগেই আমার বশ করে এখানে আগেই নিয়ে এসেছি।
পিহু আর রাকিব সাহেব।
খালেদকেও আমি আমার বশ করে ফেলি।
আর সাথে সাথে আমার কালো বিদ্যাবল দিয়ে পিহুর হৃদপিন্ডটি দেহের বাইরে নিয়ে আসি।
বেচারি পিহু আর বেঁচে নেয়।
সে যদিও আমার প্লানে
ছিল না।
তবে যখন জানতে পারি সে রাকিব সাহেবকে ভালোবাসে তখনি তাকে এই প্লানে যোগ করে ফেলি।
রাকিব সাহেব আগে থেকে আমার এই প্লানে ছিল।
আজ রাকিব আর পিহু শয়তানের কাছে আমার বলি।
তাদের বলির মাধ্যমে গুপ্তধনের সন্ধান পাব
এবং অঢেল সম্পদেরর মালিক হয়ে পৃথিবীতে রাজ করব।
মিশরে আসার সব প্লান আমার করা।
বসকে আমার কালোজাদুর বশীভূত করে এই ট্রিপের আয়োজন করি আর ট্রিপ মেম্বার ও আমার পছন্দমত।
এবার রাকিবকে বলি দেওয়ার পালা।
তার মগজগুলো আর পিহুর হৃদপিন্ডটির মিশ্রণ করে আগুনে নিক্ষেপ করি সাথে সাথে একটি অদৃশ্য পিরামিড ধীরেধীরে দৃশ্যত হতে লাগলো
পিরামিডের ভিতর ফেরাউনদের অজস্র সোনা, হীরা, মনি, সব আজ আমার
আমি পৃথিবীর বাদশাতে পরিণিত হব। আমার কালো জাদু দিয়ে সব সম্পদ
গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলি।
আর পিহুর হৃদপিন্ডে আরেকটি হৃদপিন্ড প্রতিস্থাপন করে দি।
আর রাকিবের মগজ ও প্রতিস্থাপন করে
দি,
যাতে পোস্টমর্টেম এ ধরা না পরে আর তাদের গলা কেটে দেই যাতে মনে হয় খুন করা হয়েছে।
আর আমি হোটেলে ফিরে যাই।
প্লান অনুযায়ী খালেদকে থানায় পাঠিয়ে দিই সে আমার বশে সে থানায় গিয়ে মিশরি পুলিশের কাছে স্বীকার করে সে ঐ দুই পর্যটককে তাদের দামি জিনিস হাতিয়ে নেওয়ার জন্য খুন করে।
পরে সে অনুতপ্ত হয়ে আত্নসমর্পণ করতে এসেছে।
আমার কাজ শেষ সব কাজ মিটেগেছে
পরিশেষে আমি এখন অনেক ধনী এবং এখন অমরত্বেরর সন্ধানে আছি।
(সমাপ্ত
কাল্পনিক
ভূল মার্জনীয়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now