বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- কাল আসেননি যে!
- খেয়াল করেছো তুমি?
- অনেকদিন ধরে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া একটা ঘটনা হঠাৎ করে আড়াল হলে চোখে পড়ে বেশ।
- আমিও এজন্য আসিনি। ভাবলাম, ব্যাপারটা তুমি খেয়াল করো কিনা দেখি!
- চোখজোড়া এত লাল হয়ে আছে কেন আপনার? শরীর খারাপ?
- তেমন কিছু না। জ্বর জ্বর ভাব কাল থেকে, কে জানে হয়তো আসবে!
- আসবেই তো। এত পাতলা একটা চাদর গায়ে এমন শীতের রাতে কেউ বের হয় নাকি?
- চাদর গায়ে হাঁটতে ভালো লাগে ভীষণ,
- হয়েছে আর মিথ্যে বলতে হবেনা। আপনার অন্যকিছু নেই বলে এই পাতলা চাদর জড়িয়ে ঘুরে বেড়ান।
- কি করে বুঝলে?
- একটা পুরোনো মলিন চাদর গায়ে জড়িয়ে কেউ পছন্দের মানুষের সামনে আসে?
- কি বলবো বুঝতে পারছি না
- কিছু বলতে হবেনা। আচ্ছা, আমি চলে যাওয়ার পরেও রাস্তার ওপাশের শিমুল গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন রোজ?
- তুমি এটাও জানো?
- হু। আর আমি এও জানি, আমার ঘরের বাতি না নিভে যাওয়া পর্যন্ত আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন জারুল গাছটার নিচে। এতে আমার কতটা ক্ষতি হয় আপনি জানেন?
- কিভাবে?
- রোজ আমাকেই আগে শুয়ে পরতে হয়। গত পরীক্ষায় রাতজেগে পড়তেও পারিনি।
- তোমার কথাগুলো এমন কেন? উত্তর দিতে পারিনা
- উত্তর লাগবে না। এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে একটা টিউশন ওতো করতে পারেন।
- তাহলে কি হবে?
- তাহলে এভাবে আর মলিন চাদর গায়ে জড়িয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না। আচ্ছা, আপনি কি জানেন? ভালোবাসায় কারণ থাকতে হয়,
- না তো! কারণ লাগবে কেন?
- কারণ ছাড়া ভালোবাসা কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। অথচ আপনিই বলুন তো, শিমুল গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে কি সংসার করা যায়? নিশ্চয়ই যায়না। আর ঠিক তখন এই বাড়ন্ত ভালোবাসাটা শুধু চোখের জলই দিবে, আর কিছুনা।
- একদিনে কি একটু বেশিই মুগ্ধ করা হয়ে যাচ্ছেনা?
- হোক একটু বেশি। রাত অনেকটা বেড়ে গেছে, আজ আর দেরী করবেন না। বাসায় চলে যান। আর শুনেন, আগামী দুদিন আসার দরকার নেই।
- না এসে কি পারা যাবে?
- পারতে হবে। কারো কারো অনুপস্থিতি দুদিন পর্যন্ত সহ্য করা যায় কিন্তু এর বেশি যায়না।
- মানে?
- কিছুনা। আমার চাদরটা ধরুন, এটা ভেতরে রেখে তার উপরে আপনারটা জড়িয়ে দিন।
- কেন?
- এটা মেয়ের চাদর। মেয়ের চাদর গায়ে জড়িয়ে হাটছেন দেখলে মানুষজন হাসাহাসি করবে আপনাকে নিয়ে।
- করুক না একটু,
- আমি আপনাকে চাদর দিয়েছি কুয়াশা থেকে আড়াল করার জন্য। মানুষের কাছে হাসির পাত্র বানানোর জন্যে না,
কথাগুলো বলেই হাঁটা ধরলাম। ঠান্ডা লাগছে বেশ, বাসায় পৌঁছুতে আমার বড়জোড় দুই মিনিট লাগবে। আসতে ইচ্ছে করছিলো না, কিন্তু এভাবে চলে না আসলে যে উনি সারারাত পাহারা দিবেন।
ঘরের বাতি অফ করার পর জানালা দিয়ে উঁকি দিলাম। উনি ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন। মিনিট পাঁচেক পর, চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নিয়ে পিঁছু ফিরে একবার তাকিয়ে উল্টো পথে হাটা ধরলেন উনি। একটু একটু করে আমার চোখের আড়াল হয়ে কুয়াশার সাথে মিলিয়ে যাচ্ছেন।
টুং করে ফোনে একটা মেসেজ এলো- " তুমি বরং আজ কুয়াশাকে জড়িয়ে নাও, চাদরটা আমি নিয়ে গেলাম। ভালোবাসার চাদর।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now