বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“রুমি”
তানিয়া সুলতানা
============
পারুল চোখ বড়বড় করে জানালার বাইরে ডালিম
গাছের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেও
ঘুম ভাঙ্গার পর, তন্দ্রার ভেতর মনে হচ্ছিল,
ওখানে হ্যাংলা মতন একটি লোক দাঁড়িয়ে হাসছে।
দুলেদুলে হেসে পারুলের দিকে একটি হাত
বাড়িয়ে দিয়েছে। বাতাসে তখন ফিসফিস শব্দ
ভেসে আসছিল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরে
তাকায় পারুল। দুঃস্বপ্ন দেখেছে, আর কিছু না।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায়,
আবছা রহস্যময় অন্ধকার গেঁড়ে বসেছে
সবকিছুতে। হাত বাড়িয়ে তালপাতার পাখাটা নিল। গরমে
ঘেমে জবজবে হয়ে গেছে। এর মধ্যে
উত্ত্যক্ত হিসেবে আছে ছারপোকার জ্বালাতন।
প্রচুর ছারপোকা হয়েছে ঘরে। বিছানায় শুয়ে
চোখ বুঝলেই হল, দলবল নিয়ে বদগুলো এসে
কুটুস কুটুস কামড়ানো শুরু করে দেয়। হাঁসফাঁস
করতে করতে বাতাস করতে থাকে পারুল। ঘামে
ভেজা শরীরে সেই বাতাস লাগতেই মনে
হচ্ছে, বরফ ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবুও অস্থিরতা কমছে
না। আলতো স্বরে নয়নকে ডেকেও সাড়া
পেল না। নয়ন তার ছেলে। সবে পাঁচে পা দিল।
সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়ানোই এই
ছেলের প্রধান কর্ম। ক্লান্ত দেহখানা টেনে
নিয়ে উঠে দাঁড়ায় পারুল। অগোছালো চুল খোপার
ভাজে বেঁধে নিয়ে, ক্যালেন্ডারে চোখ বুলায়।
১৩ই নভেম্বর, ১৯৭৪। আর ৩ দিন পর ওর আর
ফারুকের বিয়ের ৭ বছর পূর্তি হবে। আপন মনে
মৃদু হেসে ছোট্ট চারকোণে আয়না চোখের
সামনে তুলে ধরে। ওই তো, গোলাকার
মুখশ্রী ভেঙ্গে লম্বাটে হয়ে আসা অবয়ব।
চোখের কোঠা ঘিরে কালো রেখা গাঢ় হয়ে
লেপটে বসেছে। নিজেকে বড্ড অচেনা
লাগে পারুলের। বহুবছর আগের পারুলের সাথে
কোন মিল নেই। আগের মতন হাসতে পারে কি
সে? যাচাই করতেই যেন ঠোট দুটো বাঁকাল।
কিন্তু নাহ, ওই হাসিতে আগের সেই প্রাঞ্জলতা
নেই। ওর মতন হাসিটাও ক্লান্ত হয়ে উঠছে।
ইদানীং সেই ক্লান্তি আরও প্রকট রূপ ধারন
করেছে। একটি সমস্যা হয়েছে পারুলের। যদিও
সেই সমস্যা চেপে রেখে, কিছু হয়নি, এমন ভাব
করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। তবুও, মাঝরাতে
ঠিকই তীব্র ব্যাথায় ছটফট করে মেয়েটা।
পরীক্ষিত না হলেও, সমস্যাটা সম্ভবত কিডনি জনিত।
ব্যাথার নমুনা তাই বলে। ফারুককে কিছু জানায়নি। নিম্ন
আয়ের চাকুরী দিয়ে, বহু কষ্টে সংসারটা টেনে
নিচ্ছে বেচারা। তাদের একমাত্র সন্তান, নয়নের
ভবিষ্যতের কথা ভেবে, নাই এর মাঝেই, তিল তিল
করে জমিয়ে রাখছে কিছু পয়সা-কড়ি। মাসের
শেষে যখন সংসারে পেঁয়াজ কিনতে নুন বাদ
পড়ে যায়, সেখানেও জমানো পয়সায় হাত দেয় না
ওরা। এমনও দিন যায়, সাদা ভাতে নুন ছিটিয়ে, শুকনো
মরিচ ডলে খেতে হচ্ছে। একটা চাপা নিশ্বাস
ফেলে পারুল। তবুও তো খেতে পারছে!
দেশে যেমন আকাল পড়েছে, মানুষ না খেয়ে
মারা পড়ছে! চারপাশে শুধু কঙ্কালসার মানুষের
আহাজারি। ওদের যদি বলা হয়, জীবনের মহামূল্যবান
ইচ্ছেটুকু জানাও। ওরা শুধুই বলবে,
‘ভাত দাও। এক মুঠো ভাত খেয়ে আবার বেঁচে
উঠি!’।
সেই তুলনায় রাজ্যের রানী হয়ে বেঁচে আছে
পারুল। শহরের এক কোণে, জ্বলে যাওয়া
লালচে টিন শেডের বাড়িতে বসবাস ওদের। সেই
টিনের চালার জ্বলে যাওয়া অংশ অবশ্য দেখা যায় না
তেমন। সিম গাছের লতাপাতা দিয়ে সিংহ ভাগ ঢেকে
আছে। সিজন কালে, হাসের মতন দেখতে,
বেগুনী-সাদা রঙা ফুলে চোখ জুরিয়ে উঠে।
বাড়ির চারপাশে আধ ভাঙ্গা দেয়াল। উঠোনের এক
ধারে মিষ্টি পানির একটি টিউবওয়েল আছে।
তুলনামূলক ভাবে ভাড়া কম হওয়াতে এত দূরে আসা।
যদিও ফারুককে প্রতিদিন বেশ কিছুটা পথ হেটেই
পারি দিতে হয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে। তবুও, ওই
যে, সংসারের কথা ভেবে সব সয়ে যাওয়া। মাঝে
মাঝে পারুলের ভীষণ ইচ্ছে করে, মানুষটাকে
বলে, বাস স্টপ থেকে হেটে না এসে একটা
রিকশা নিলেই তো পারো। কিন্তু দারিদ্রতার চাদর ওর
কণ্ঠনালী পেঁচিয়ে ধরে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে
উঠোনে পা বাড়ায় পারুল। দুপুরে রোদে
শুকোতে দেয়া কাপড়গুলো ঘরে আনতে
হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now