বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাজি, অতঃপর.......

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mazharul Islam Sazol (০ পয়েন্ট)

X ...দোস্ত আজ কিন্তু সাত দিন শেষ।(রিমি) _সব মনে আছে তো শ্রেয়া?(রাজ) এই রে,ভুলেই তো গেছিলাম।কিন্তু বজ্জাতগুলো ঠিকই মনে রেখেছে।কেন যে আবেগের বশে ওদের সাথে বাজি ধরতে গেলাম?এখন বয়ফ্রেন্ড পাবো কই?শয়তানগুলো এতদিন কিছুই বলেনি একবারের জন্যও কিন্তু আজকের কথা ঠিকই মনে রেখেছে।এখন যে কী করি?না ও বলা যাবে না তাইলে আমার পার্টস থেকে পাঁচ হাজার টাকা উধাও হয়ে যাবে।(মনে মনে ভাবল শ্রেয়া)কিন্তু মুখে যথেষ্ট স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বলল-হ্যা,থাকবে না কেন? শ্রেয়া আবার ভাবতে লাগলো সে এখন কি করবে।হটাৎ কাউকে দেখে ওর দুচোখ শিকার খুঁজে পাওয়া শিকারি বাঘের মতো জ্বলজ্বল হয়ে উঠল।ওর শিকারটির নাম স্বাভাব।ভার্সিটির সবচেয়ে শান্ত আার পড়ুয়া ছেলে স্বাভাব।মোট বিশ্ববিদ্যালয়ে ওর সর্বোচ্চ হলেও গোটা তিনেক বন্ধু আছে।ও মেয়েদেরকে যমতুল্য ভয় করে।মেয়েদের সামনে গেলেই ওর ধড় থেকে যেন আত্মা চলে যায়,মুখ থেকে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত বের হয় না।শ্রেয়া রাজকে টাকাগুলো রেডি করতে বলে স্বাভাবের উদ্দ্যেশে বের হয়ে গেল।স্বাভাব বাসা থেকে পড়ে আসা পড়াগুলো মনে মনে আওড়াতে আওড়াতে কলেজে ডুকছিল।হটাৎ সে অনুভব করল সে আর এগোতে পারছে না, কেউ তার শার্টের কলার মুঠোবন্ধ করে রেখেছে।পিছনে তাকাতেই সে ঠিক এতটাই চমকে উঠল,যা দেখে শ্রেয়া নিজেই ভড়কে গেল।স্বাভাব থতমত খেয়ে দাড়িয়ে রইল।এবার শ্রেয়া বলে উঠল -আমার কথামতো কাজ করো আর আমি যা করব এখন, তাতে আমাকে সাপোর্ট দিবে, তা না হলে তোমার খবর আছে।মনে থাকবে?(হুমকির ভঙ্গিতে) ........(নিরুত্তর) -আমার সাথে এসো। স্বাভাব কিছু না বলে ওর সাথে হাঁটতে থাকল।কারণ মেয়েটাকে ও ভালোভাবেই চেনে।ওদের ক্লাসের সবচেয়ে ড্যান্জারাস আর সুন্দরি মেয়ে ও।আসলে সুন্দরি বললে কম হয় একটু,ভয়ঙ্কার সুন্দরি বলা চলে।একটু পর শ্রেয়া স্বাভাবের হাত ধরে ওর বন্ধুদের সামনে দাড়াল।ওরা সামনে যাওয়া মাত্রই সেখানে একটা উচ্চ হাসির রোল পড়ে গেল।শিমি কোনোমতে হাসি থামিয়ে বলল ও তোর বয়ফ্রেন্ড?ওই বলদটা?আবারও একটা হাসির ঝঙ্কার উঠল সেখানে।স্বাভাব লজ্জা,অপমান অথবা ভয়ে কেবল মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল।এবার শ্রেয়া বলে উঠল -দ্যাখ,ও আমার বয়ফ্রেন্ড।আর ওর অপমান মানে কিন্তু আমার অপমান।আর আমি কিন্তু তা সহ্য করব না বলে দিচ্ছি। এবার সবাই চুপ হয়ে গেল।কারণ শ্রেয়ার রাগ হলে ও কী করতে পারে তা সবারই জানা।এবার রিমি বলল _তা ও-ই যে তোর বয়ফ্রেন্ড আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব?প্রমাণ আছে কোনো? প্রমাণ চাস?ওকে।কথাটি বলে শ্রেয়া যা করল তার জন্য স্বাভাব একদমই প্রস্তুত ছিল না। অনেকটা অপ্রস্তুতভাবেই ও স্বাভাবকে কিস করে বসল।এরপরই ওকে জড়িয়ে ধরল।আর এদিকে স্বাভাব লজ্জায় কেবল মাথা নিচু করে রইল।ওর সাথে আজ কী ঘটছে,কেন ঘটছে আর সামনেই বা কী ঘটতে চলেছে কিছুই বুঝতে পারছে না। _ওকে বুঝলাম,কিন্তু তোদের রিলেশনটা কিভাবে হলো সেটাই তো বুঝলাম না।(রিমি) -শোন তাহলে।(শ্রেয়া) ...এই,এক মিনিট।এখানে না, সবাই রেস্টুরেন্টে চল।খুব ক্ষুধা লেগেছে।ওখানে গিয়েই না হয় শুনি?আর হ্যা, আজকের বিলটা কিন্তু স্বাভাব,ও.ও..সরি সরি দুলাভাই দিবে।(রাজ) -ওকে চল তাহলে(শ্রেয়া) সবাই রেস্টুরেন্টের উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করল।এদিকে স্বাভাবের মনে চলছে অন্য কথা।ও ভাবছে ওর কাছে আছে মাত্র একশ তেতাল্লিশ টাকা।দুইটা পঞ্চাশ টাকার নোট,একটা বিশ টাকার,একটা দশ টাকার,দুইটা পাঁচ টাকার, দুই টাকার একটা নোট আর একটা এক টাকার কয়েন।রেস্টুরেন্টে গিয়ে রাজ অর্ডার দিল।এবার শ্রেয়া বলতে শুরু করল-প্রথমে তোদেরকে একটা সারপ্রাইজ দিয়ে নেয়।কি বলিস?কাচ্চির সঙ্গে সারপ্রাইজ ভালোই লাগবে খেতে।(হাসতে হাসতে)স্বাভাবের সাথে আমার রিলেশন প্রায় এক বছরের। সবাই একসাথে বলে উঠল-এক বছরের!!!(সবাই সবার মুখের দিকে অবাক চোখে তাকাচ্ছে)স্বাভাবও কম অবাক হয় নি।ও ভাবছে আরে এই মেয়ে আমার সাথে তো আজই প্রথম কথা বলল।আর ও বলে নাকি আমাদের রিলেশন আছে।তাও এক বছরের!!! শ্রেয়া মৃদু হেসে আবার বলতে শুরু করল-হ্যা,এক বছরের। আর ওকে আমি আরও আগে থেকেই চিনি।ওর সাথে আমার প্রথম দেখা লোকাল বাসে।ও আমার পাশের ছিটে বসেছিল।সেদিন আমাদের গাড়িতে অসুবিধা হয়েছিল তাই বাসে করেই কলেজে যাচ্ছিলাম।বাসে বসে একটা ম্যাথ করছিলাম অনেক্ষণ ধরে কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না। স্বাভাব অনেকক্ষণ ধরেই আড়ে আড়ে দেখছিল ব্যাপারটা।হটাৎ ও বলল >হ্যালো আপু,কিছু মনে না করলে আমি কি একটু সাহায্য করতে পারি? অনেকটা বিরক্তি নিয়েই বললাম-হ্যা সিওর। আমি ভেবেছিলাম ও পারবে না,কিন্তু ও মাত্র এক মিনিটেই সমাধান করে দিয়েছিল।আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম সেদিন।তারপর আমিই ওর সাথে পরিচিত হই।সেদিন রাতে শুধু ওর ছবিই আমার চোখে ভাসছিল।মনে মনে নিজেকে বোকা মনে হচ্ছিল আর আফসোস করছিলাম এই ভেবে ইস ফোন নাম্বারটা নিতে মনে নেই আমার।আমি প্রথম দেখাতেই ওর প্রেমে পড়ে গেছিলাম,যাকে বলে Love at first sight.আমি কিছুতেই ওকে মন থেকে মুছতে পারছিলাম না।আর এজন্যই হয়ত সৃষ্টিকর্তা আমার দিকে মুখ তুলে চেয়েছিল।সেদিন কলেজ থেকে বাসায় ফিরে শুনলাম আব্বুর কোনো এক বন্ধু ও তার ছেলে বেড়াতে এসেছে।আব্বুর ডাকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আমি কয়েক মুহুর্তের জন্য যেন হতভম্ব হয়ে গেলাম।হ্যা ওটা স্বাভাবই ছিল।আনন্দে আমার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেছিল,কোন কথায় বেরুচ্ছিল না মুখ থেকে।শুধু বলেছিলাম-তুমি?স্বাভাবও শুধু ঐ একই কথায় বলেছিল> তুমি?এরপর থেকে ওর সাথে প্রতিদিনই কথা হতো আমার।আস্তে আস্তে আমরা দুজনেই দুজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি এবং আমিই প্রথম ওকে জানাই।স্বাভাবও না করেনি সেদিন কারণ আমাকেও স্বাভাব নিজের করে পেতে চাইত,কেবল একটা শর্ত দিয়েছিল ও। ...শর্ত??(সবাই অবাক হয়ে বলল) -হ্যা,শর্ত।সেটা অনেকটা এরকম ছিল যে আমি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন ওর সাথে কোনো যোগাযোগ না করি।কিন্তু আজ তোদের জন্য আমি আমার শর্ত ভঙ্গ করলাম। I am really sorry স্বাভাব।স্বাভাব এতক্ষণ সব শুনছিল আর ভাবছিল মেয়েটি সত্যিই কী অদ্ভুত!কত সূক্ষ্মভাবে একের পর এক মিথ্যার বিনুনি গেঁথে চলেছে।যেন সব কিছুই সত্যি মনে হচ্ছে।সত্যি মেয়েটার সৃজনশীল মেধা অনেক নিঁখুত।স্বাভাব কিছুটা মুচকি হাসল এবার।রাজ বলল তাহলে এবার উঠা যাক।আর দুলাভাই এখন তো আর কোনো বাঁধা নেই,তাহলে কাল থেকে আমাদের আড্ডায় যোগ দেন,নাকি?আর হ্যা বিলটা আমরাই দিচ্ছি আজ।স্বাভাব প্রত্যুত্তরে কেবল মুচকি হাসল।সবাই চলে গেলে শ্রেয়া কিছুটা অপরাধীর মতো স্বাভাবের সামনে মাথা নিচু করে বলল-আসলে ঐ সব কিছুর জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। I am sorry.আমার হাতে তখন আর কোনো অপশন ছিল না।তাই ওদের হাত হাত থেকে বাঁচতেই..... স্বাভাব আবারও নতুন এক রুপে শ্রেয়াকে আবিষ্কার করল।শ্রেয়ার এই রুপ ও আগে কখনোই দেখেনি,সব সময় রাগত চেহারাটায় দেখে অভ্যস্ত ছিল।ও বলল >না না,সমস্যা নেই। -আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি না? >......(নিরুত্তর) সত্যিকার অর্থে স্বাভাবও চাচ্ছিল এটাই কিন্তু কোন এক লজ্জায় ও কিছুই বলল না।মেয়েটা যেন কোনো এক অচিন মায়ায় ওকে চুম্বকের মতো টানছে। -কি হল কিছু বলছ না কেন?(রাগত স্বরে) আবার ও ভয় পেয়ে গেল।একটু আগের শ্রেয়া আর এখনকার শ্রেয়া যেন আকাশ-পাতাল ব্যবধান।ও বলল >হ্যা,কেন নয়। -ঠিক আছে আাজ থেকে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড।তোমার ফোন নাম্বারটা দাও। >০১৭********। -ওকে,বাই।আর হ্যা কালও কিন্তু তোমার হেল্পটা লাগবে।ওদেরকে সত্যিটা এতো তাড়াতাড়ি জানানো যাবে না।ভালো থেকো। স্বাভাবের আজকের রাতটা যেন কাটছেই না।সত্যিই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না,যেন অপেক্ষার সঙ্গে সময় আড়ি পেতেছে।মেয়েটাকে দেখতে কেন জানি খুব মনে চাচ্ছে ওর।কোন এক অচেনা আবেগ আজ স্বাভাবের মনে চিরস্থায়ী অনুভূতির জন্ম দিতে চলেছে।চলেছে কোন এক অধিকারের জন্ম দিতে।আবেগটা যেন আজ দৃঢ় প্রত্যয়ী।আবেগের কাছে অবশেষে নিজেকে শপে দিল স্বাভাব।হ্যা শ্রেয়া ওর মনের সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গাটা দখল করে নিয়েছে।স্বাভাব ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।অন্যদিকে শ্রেয়ারও মনটা যেন স্বাভাবকে দেখতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।সকালের ঘটনাটা মনে পড়তেই কিছুটা লজ্জায় হাত দিয়ে মুখ ঢাকল ও।এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমের অতলে তলিয়ে গেল টেরই পেল না ও।সকালে কী একটা ভেবে স্বাভাবকে ফোন করল ও। -গুড মর্নিং >গুড মর্নিং -কেমন আছ? >ভাল,তুমি? -জানিনা,আচ্ছা ভার্সিটিতে আজ আসছ তো? >হুম -আচ্ছা বাই। ফোনটা কেটে দিল শ্রেয়া। অবশ্য আরও অনেক কিছুই বলার ইচ্ছা ছিল ওর।কিন্তু কোনো একক সংকোচ ওকে তা বলা থেকে বিরত রাখল।অন্যদিকে স্বাভাবের হাসি মুখটা কালো হয়ে গেল।ও মনে মনে বলল এটুকু কথা বলতে ফোন করতে হল কেন?আর একটু কথা বললে কিইবা ক্ষতি হত?দুজনেই ভার্সিটিতে যাচ্ছে এখন ওরা।গেটের কাছেই দেখা হল ওদের।শ্রেয়াকে দেখেই স্বাভাব কেবল হা করে তাকিয়ে রইল।অতীতের নারীভীতি যেন আজ ওর মন থেকে উধাও।স্বাভাবের এমন অবস্থা দেখে শ্রেয়া কিছুটা লজ্জা পেল।অবশ্য ওতো এটাই চেয়েছিল।আর সেজন্যই তো ওর আজকের এই সাজ।নীল রঙের শাড়ি পরেছে ও।হালকা মেকাপ।আগে কখনো অবশ্য ও শাড়ি পরে ভার্সিটিতে আসেনি।আজই প্রথম।অন্যদিকে স্বাভাবও আজ একটা নীল রঙের শার্ট পরেছে।কোন একটা দৈব ভাবেই তাদের পোশাকের রং মিলে গেছে।হয়ত লেখক এটাই চাই।ক্যাম্পাসে ঢুকতেই রাজ বলে উঠল ....বাহ!রোমিও-জুলিয়েট যে আজ একসাথে?বাই দ্যা ওয়ে দারুণ মানিয়েছে কিন্তু দজনকে।ঠিক যেন খাঁটি দুধে ফজলি আম।(সবাই হেসে উঠল)ওকে তোরা থাক,আমরা একটু ওদিকটাই যায়। সবাই চলে গেলে শ্রেয়া বলল-চলো ওদিকটায় একটু হাঁটি।স্বাভাব মনে মনে ভাবছে শ্রেয়াকে কি ও ওর অনুভূতিটা জানানো উচিৎ?স্বাভাবের মনের কথাটা বোধহয় বুঝতে পারল। -কিছু বলবে? >না,মানে কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম।(একটু অপ্রস্তুতভাবে) -না না,ঠিক আছে।আমি কিছু মনে কররব না তুমি বলো। >না মানে বলছিলাম যে এই অভিনয়টাকে বাস্তবতায় রুপ দিলে কি কোনো ক্ষতি হবে?(কিছুটা ভয়ার্ত কন্ঠে) -হুমম,সমস্যা তো একটু হবেই।তবে তা মানিয়ে নিতে পারি যদি কেউ এখন প্রপোজ করে।(মুচকি হেঁসে) >সত্যিকার ভাকবাসায় কি প্রপোজ খুব প্রয়োজন?আমাদের ভালবাসা না হয় প্রপোজ বিহিন-ই হোক।তবে তুমি যদি হাতটা ধরার অধিকারটুকু দাও তবে অজানা গন্তব্যেও হাঁটতে রাজি আছি।(অনুরাগের স্বরে) অতঃপর দুজনে হাত ধরে নতুন এক স্বপ্নের আশায় চলতে শুরু করল অজানার উদ্দ্যেশে।আস্তে আস্তে তারা চলে গেল লেখকের দৃষ্টিসীমার অন্তরালে।♥ধন্যবাদ।♥ Written By_"MIS"..দোস্ত আজ কিন্তু সাত দিন শেষ।(রিমি) _সব মনে আছে তো শ্রেয়া?(রাজ) এই রে,ভুলেই তো গেছিলাম।কিন্তু বজ্জাতগুলো ঠিকই মনে রেখেছে।কেন যে আবেগের বশে ওদের সাথে বাজি ধরতে গেলাম?এখন বয়ফ্রেন্ড পাবো কই?শয়তানগুলো এতদিন কিছুই বলেনি একবারের জন্যও কিন্তু আজকের কথা ঠিকই মনে রেখেছে।এখন যে কী করি?না ও বলা যাবে না তাইলে আমার পার্টস থেকে পাঁচ হাজার টাকা উধাও হয়ে যাবে।(মনে মনে ভাবল শ্রেয়া)কিন্তু মুখে যথেষ্ট স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বলল-হ্যা,থাকবে না কেন? শ্রেয়া আবার ভাবতে লাগলো সে এখন কি করবে।হটাৎ কাউকে দেখে ওর দুচোখ শিকার খুঁজে পাওয়া শিকারি বাঘের মতো জ্বলজ্বল হয়ে উঠল।ওর শিকারটির নাম স্বাভাব।ভার্সিটির সবচেয়ে শান্ত আার পড়ুয়া ছেলে স্বাভাব।মোট বিশ্ববিদ্যালয়ে ওর সর্বোচ্চ হলেও গোটা তিনেক বন্ধু আছে।ও মেয়েদেরকে যমতুল্য ভয় করে।মেয়েদের সামনে গেলেই ওর ধড় থেকে যেন আত্মা চলে যায়,মুখ থেকে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত বের হয় না।শ্রেয়া রাজকে টাকাগুলো রেডি করতে বলে স্বাভাবের উদ্দ্যেশে বের হয়ে গেল।স্বাভাব বাসা থেকে পড়ে আসা পড়াগুলো মনে মনে আওড়াতে আওড়াতে কলেজে ডুকছিল।হটাৎ সে অনুভব করল সে আর এগোতে পারছে না, কেউ তার শার্টের কলার মুঠোবন্ধ করে রেখেছে।পিছনে তাকাতেই সে ঠিক এতটাই চমকে উঠল,যা দেখে শ্রেয়া নিজেই ভড়কে গেল।স্বাভাব থতমত খেয়ে দাড়িয়ে রইল।এবার শ্রেয়া বলে উঠল -আমার কথামতো কাজ করো আর আমি যা করব এখন, তাতে আমাকে সাপোর্ট দিবে, তা না হলে তোমার খবর আছে।মনে থাকবে?(হুমকির ভঙ্গিতে) ........(নিরুত্তর) -আমার সাথে এসো। স্বাভাব কিছু না বলে ওর সাথে হাঁটতে থাকল।কারণ মেয়েটাকে ও ভালোভাবেই চেনে।ওদের ক্লাসের সবচেয়ে ড্যান্জারাস আর সুন্দরি মেয়ে ও।আসলে সুন্দরি বললে কম হয় একটু,ভয়ঙ্কার সুন্দরি বলা চলে।একটু পর শ্রেয়া স্বাভাবের হাত ধরে ওর বন্ধুদের সামনে দাড়াল।ওরা সামনে যাওয়া মাত্রই সেখানে একটা উচ্চ হাসির রোল পড়ে গেল।শিমি কোনোমতে হাসি থামিয়ে বলল ও তোর বয়ফ্রেন্ড?ওই বলদটা?আবারও একটা হাসির ঝঙ্কার উঠল সেখানে।স্বাভাব লজ্জা,অপমান অথবা ভয়ে কেবল মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল।এবার শ্রেয়া বলে উঠল -দ্যাখ,ও আমার বয়ফ্রেন্ড।আর ওর অপমান মানে কিন্তু আমার অপমান।আর আমি কিন্তু তা সহ্য করব না বলে দিচ্ছি। এবার সবাই চুপ হয়ে গেল।কারণ শ্রেয়ার রাগ হলে ও কী করতে পারে তা সবারই জানা।এবার রিমি বলল _তা ও-ই যে তোর বয়ফ্রেন্ড আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব?প্রমাণ আছে কোনো? প্রমাণ চাস?ওকে।কথাটি বলে শ্রেয়া যা করল তার জন্য স্বাভাব একদমই প্রস্তুত ছিল না। অনেকটা অপ্রস্তুতভাবেই ও স্বাভাবকে কিস করে বসল।এরপরই ওকে জড়িয়ে ধরল।আর এদিকে স্বাভাব লজ্জায় কেবল মাথা নিচু করে রইল।ওর সাথে আজ কী ঘটছে,কেন ঘটছে আর সামনেই বা কী ঘটতে চলেছে কিছুই বুঝতে পারছে না। _ওকে বুঝলাম,কিন্তু তোদের রিলেশনটা কিভাবে হলো সেটাই তো বুঝলাম না।(রিমি) -শোন তাহলে।(শ্রেয়া) ...এই,এক মিনিট।এখানে না, সবাই রেস্টুরেন্টে চল।খুব ক্ষুধা লেগেছে।ওখানে গিয়েই না হয় শুনি?আর হ্যা, আজকের বিলটা কিন্তু স্বাভাব,ও.ও..সরি সরি দুলাভাই দিবে।(রাজ) -ওকে চল তাহলে(শ্রেয়া) সবাই রেস্টুরেন্টের উদ্দ্যেশে যাত্রা শুরু করল।এদিকে স্বাভাবের মনে চলছে অন্য কথা।ও ভাবছে ওর কাছে আছে মাত্র একশ তেতাল্লিশ টাকা।দুইটা পঞ্চাশ টাকার নোট,একটা বিশ টাকার,একটা দশ টাকার,দুইটা পাঁচ টাকার, দুই টাকার একটা নোট আর একটা এক টাকার কয়েন।রেস্টুরেন্টে গিয়ে রাজ অর্ডার দিল।এবার শ্রেয়া বলতে শুরু করল-প্রথমে তোদেরকে একটা সারপ্রাইজ দিয়ে নেয়।কি বলিস?কাচ্চির সঙ্গে সারপ্রাইজ ভালোই লাগবে খেতে।(হাসতে হাসতে)স্বাভাবের সাথে আমার রিলেশন প্রায় এক বছরের। সবাই একসাথে বলে উঠল-এক বছরের!!!(সবাই সবার মুখের দিকে অবাক চোখে তাকাচ্ছে)স্বাভাবও কম অবাক হয় নি।ও ভাবছে আরে এই মেয়ে আমার সাথে তো আজই প্রথম কথা বলল।আর ও বলে নাকি আমাদের রিলেশন আছে।তাও এক বছরের!!! শ্রেয়া মৃদু হেসে আবার বলতে শুরু করল-হ্যা,এক বছরের। আর ওকে আমি আরও আগে থেকেই চিনি।ওর সাথে আমার প্রথম দেখা লোকাল বাসে।ও আমার পাশের ছিটে বসেছিল।সেদিন আমাদের গাড়িতে অসুবিধা হয়েছিল তাই বাসে করেই কলেজে যাচ্ছিলাম।বাসে বসে একটা ম্যাথ করছিলাম অনেক্ষণ ধরে কিন্তু কিছুতেই মিলছিল না। স্বাভাব অনেকক্ষণ ধরেই আড়ে আড়ে দেখছিল ব্যাপারটা।হটাৎ ও বলল >হ্যালো আপু,কিছু মনে না করলে আমি কি একটু সাহায্য করতে পারি? অনেকটা বিরক্তি নিয়েই বললাম-হ্যা সিওর। আমি ভেবেছিলাম ও পারবে না,কিন্তু ও মাত্র এক মিনিটেই সমাধান করে দিয়েছিল।আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম সেদিন।তারপর আমিই ওর সাথে পরিচিত হই।সেদিন রাতে শুধু ওর ছবিই আমার চোখে ভাসছিল।মনে মনে নিজেকে বোকা মনে হচ্ছিল আর আফসোস করছিলাম এই ভেবে ইস ফোন নাম্বারটা নিতে মনে নেই আমার।আমি প্রথম দেখাতেই ওর প্রেমে পড়ে গেছিলাম,যাকে বলে Love at first sight.আমি কিছুতেই ওকে মন থেকে মুছতে পারছিলাম না।আর এজন্যই হয়ত সৃষ্টিকর্তা আমার দিকে মুখ তুলে চেয়েছিল।সেদিন কলেজ থেকে বাসায় ফিরে শুনলাম আব্বুর কোনো এক বন্ধু ও তার ছেলে বেড়াতে এসেছে।আব্বুর ডাকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আমি কয়েক মুহুর্তের জন্য যেন হতভম্ব হয়ে গেলাম।হ্যা ওটা স্বাভাবই ছিল।আনন্দে আমার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেছিল,কোন কথায় বেরুচ্ছিল না মুখ থেকে।শুধু বলেছিলাম-তুমি?স্বাভাবও শুধু ঐ একই কথায় বলেছিল> তুমি?এরপর থেকে ওর সাথে প্রতিদিনই কথা হতো আমার।আস্তে আস্তে আমরা দুজনেই দুজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি এবং আমিই প্রথম ওকে জানাই।স্বাভাবও না করেনি সেদিন কারণ আমাকেও স্বাভাব নিজের করে পেতে চাইত,কেবল একটা শর্ত দিয়েছিল ও। ...শর্ত??(সবাই অবাক হয়ে বলল) -হ্যা,শর্ত।সেটা অনেকটা এরকম ছিল যে আমি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন ওর সাথে কোনো যোগাযোগ না করি।কিন্তু আজ তোদের জন্য আমি আমার শর্ত ভঙ্গ করলাম। I am really sorry স্বাভাব।স্বাভাব এতক্ষণ সব শুনছিল আর ভাবছিল মেয়েটি সত্যিই কী অদ্ভুত!কত সূক্ষ্মভাবে একের পর এক মিথ্যার বিনুনি গেঁথে চলেছে।যেন সব কিছুই সত্যি মনে হচ্ছে।সত্যি মেয়েটার সৃজনশীল মেধা অনেক নিঁখুত।স্বাভাব কিছুটা মুচকি হাসল এবার।রাজ বলল তাহলে এবার উঠা যাক।আর দুলাভাই এখন তো আর কোনো বাঁধা নেই,তাহলে কাল থেকে আমাদের আড্ডায় যোগ দেন,নাকি?আর হ্যা বিলটা আমরাই দিচ্ছি আজ।স্বাভাব প্রত্যুত্তরে কেবল মুচকি হাসল।সবাই চলে গেলে শ্রেয়া কিছুটা অপরাধীর মতো স্বাভাবের সামনে মাথা নিচু করে বলল-আসলে ঐ সব কিছুর জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। I am sorry.আমার হাতে তখন আর কোনো অপশন ছিল না।তাই ওদের হাত হাত থেকে বাঁচতেই..... স্বাভাব আবারও নতুন এক রুপে শ্রেয়াকে আবিষ্কার করল।শ্রেয়ার এই রুপ ও আগে কখনোই দেখেনি,সব সময় রাগত চেহারাটায় দেখে অভ্যস্ত ছিল।ও বলল >না না,সমস্যা নেই। -আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি না? >......(নিরুত্তর) সত্যিকার অর্থে স্বাভাবও চাচ্ছিল এটাই কিন্তু কোন এক লজ্জায় ও কিছুই বলল না।মেয়েটা যেন কোনো এক অচিন মায়ায় ওকে চুম্বকের মতো টানছে। -কি হল কিছু বলছ না কেন?(রাগত স্বরে) আবার ও ভয় পেয়ে গেল।একটু আগের শ্রেয়া আর এখনকার শ্রেয়া যেন আকাশ-পাতাল ব্যবধান।ও বলল >হ্যা,কেন নয়। -ঠিক আছে আাজ থেকে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড।তোমার ফোন নাম্বারটা দাও। >০১৭********। -ওকে,বাই।আর হ্যা কালও কিন্তু তোমার হেল্পটা লাগবে।ওদেরকে সত্যিটা এতো তাড়াতাড়ি জানানো যাবে না।ভালো থেকো। স্বাভাবের আজকের রাতটা যেন কাটছেই না।সত্যিই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না,যেন অপেক্ষার সঙ্গে সময় আড়ি পেতেছে।মেয়েটাকে দেখতে কেন জানি খুব মনে চাচ্ছে ওর।কোন এক অচেনা আবেগ আজ স্বাভাবের মনে চিরস্থায়ী অনুভূতির জন্ম দিতে চলেছে।চলেছে কোন এক অধিকারের জন্ম দিতে।আবেগটা যেন আজ দৃঢ় প্রত্যয়ী।আবেগের কাছে অবশেষে নিজেকে শপে দিল স্বাভাব।হ্যা শ্রেয়া ওর মনের সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গাটা দখল করে নিয়েছে।স্বাভাব ওকে ভালোবেসে ফেলেছে।অন্যদিকে শ্রেয়ারও মনটা যেন স্বাভাবকে দেখতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।সকালের ঘটনাটা মনে পড়তেই কিছুটা লজ্জায় হাত দিয়ে মুখ ঢাকল ও।এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমের অতলে তলিয়ে গেল টেরই পেল না ও।সকালে কী একটা ভেবে স্বাভাবকে ফোন করল ও। -গুড মর্নিং >গুড মর্নিং -কেমন আছ? >ভাল,তুমি? -জানিনা,আচ্ছা ভার্সিটিতে আজ আসছ তো? >হুম -আচ্ছা বাই। ফোনটা কেটে দিল শ্রেয়া। অবশ্য আরও অনেক কিছুই বলার ইচ্ছা ছিল ওর।কিন্তু কোনো একক সংকোচ ওকে তা বলা থেকে বিরত রাখল।অন্যদিকে স্বাভাবের হাসি মুখটা কালো হয়ে গেল।ও মনে মনে বলল এটুকু কথা বলতে ফোন করতে হল কেন?আর একটু কথা বললে কিইবা ক্ষতি হত?দুজনেই ভার্সিটিতে যাচ্ছে এখন ওরা।গেটের কাছেই দেখা হল ওদের।শ্রেয়াকে দেখেই স্বাভাব কেবল হা করে তাকিয়ে রইল।অতীতের নারীভীতি যেন আজ ওর মন থেকে উধাও।স্বাভাবের এমন অবস্থা দেখে শ্রেয়া কিছুটা লজ্জা পেল।অবশ্য ওতো এটাই চেয়েছিল।আর সেজন্যই তো ওর আজকের এই সাজ।নীল রঙের শাড়ি পরেছে ও।হালকা মেকাপ।আগে কখনো অবশ্য ও শাড়ি পরে ভার্সিটিতে আসেনি।আজই প্রথম।অন্যদিকে স্বাভাবও আজ একটা নীল রঙের শার্ট পরেছে।কোন একটা দৈব ভাবেই তাদের পোশাকের রং মিলে গেছে।হয়ত লেখক এটাই চাই।ক্যাম্পাসে ঢুকতেই রাজ বলে উঠল ....বাহ!রোমিও-জুলিয়েট যে আজ একসাথে?বাই দ্যা ওয়ে দারুণ মানিয়েছে কিন্তু দজনকে।ঠিক যেন খাঁটি দুধে ফজলি আম।(সবাই হেসে উঠল)ওকে তোরা থাক,আমরা একটু ওদিকটাই যায়। সবাই চলে গেলে শ্রেয়া বলল-চলো ওদিকটায় একটু হাঁটি।স্বাভাব মনে মনে ভাবছে শ্রেয়াকে কি ও ওর অনুভূতিটা জানানো উচিৎ?স্বাভাবের মনের কথাটা বোধহয় বুঝতে পারল। -কিছু বলবে? >না,মানে কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম।(একটু অপ্রস্তুতভাবে) -না না,ঠিক আছে।আমি কিছু মনে কররব না তুমি বলো। >না মানে বলছিলাম যে এই অভিনয়টাকে বাস্তবতায় রুপ দিলে কি কোনো ক্ষতি হবে?(কিছুটা ভয়ার্ত কন্ঠে) -হুমম,সমস্যা তো একটু হবেই।তবে তা মানিয়ে নিতে পারি যদি কেউ এখন প্রপোজ করে।(মুচকি হেঁসে) >সত্যিকার ভালবাসায় কি প্রপোজ খুব প্রয়োজন?আমাদের ভালবাসা না হয় প্রপোজ বিহিন-ই হোক।তবে তুমি যদি হাতটা ধরার অধিকারটুকু দাও তবে অজানা গন্তব্যেও হাঁটতে রাজি আছি।(অনুরাগের স্বরে) অতঃপর দুজনে হাত ধরে নতুন এক স্বপ্নের আশায় চলতে শুরু করল অজানার উদ্দ্যেশে।আস্তে আস্তে তারা চলে গেল লেখকের দৃষ্টিসীমার অন্তরালে।♥ধন্যবাদ।♥ Written By_"MIS"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now