বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমান্টিক গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Hasibul (০ পয়েন্ট)

X . মিরা অফিস থেকে এসেছে মাত্র। গায়ে একটা লং ড্রেস জড়ানো। ওড়নাটা ফেলে দিল সোফায়। তখনই কাব্য এসে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল। মিরা কেপে উঠল, – উম, তোমার দুষ্টুমি আরম্ভ হয়ে গেলো। [ কাব্যকে উদ্দেশ্য করে বলল ] কাব্য স্মেলট নিতে লাগল মিরা শরীর থেকে। ভ্রু কুঁচকে বলল, – তোমার শরীর থেকে জেন্টস পারফিউম এর গন্ধ আসছে কেনো? মিরা অজানা ভয়ে কেপে উঠল। বুক ধুকপুক ধুকপুক করতে লাগল। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। কাব্য কিছু টের পেলো না তো? – কি কি বলছ এ এসব? জেন্টস পারফিউম আসবে কোথা থেকে? [ তুতলিয়ে বলল ] – সেটা তো আমিও ভাবছি…। মিরা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রয়েছে। কাব্য যদি জেনে যায় তাহলে…। না না জানতে দেওয়া যাবে না। মিরা ঘুরে কাব্যের কাধে হাত রাখল। কাব্যের হাত মিরার কোমড়ের উপর। মিরা ওর মুখ এগিয়ে নিল কাব্যের নাকে নাক ঘসল। কপালে কপাল টেকিয়ে বলল, – খুব ক্লান্ত লাগছে। আজ অফিসে কাজের খুব চাপ ছিল। আর তুমি এখন শুরু করলে ফাইজলামু। – ওকে, ওকে যাও ফ্রেস হয়ে নাও। কাব্য মিরাকে ছেড়ে দিচ্ছিল। মিরা টান মেরে কাব্যকে আবার কাছে আনল। – ভালো লাগছে না। [মুখ গোমড়া করে বলল ] – কি? – তোমাকে ছাড়তে আর ফ্রেস হতেও…। – উহু, এতো সময় তো ছাড়ানোর জন্য কতকিছু করছিলে। এখন কি হল? – ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ছাড়তে হবে বুঝি? কিছু বুঝনা নাকি? [ অভিমান করে বলল ] – ওকে ওকে, আজ আর ছাড়ছি না। কাব্য ওর মুখ মিরার কাধে নিয়ে গেল। ঘাড়ে মুখ ঘসতে লাগল। মিরা চোখ বন্ধ করে নিল। কাব্যের সন্দেহ কিছুটা দূর হয়েছে বোধ হয়। – উফফ, আবার আরম্ভ। ছাড়ো তো ফ্রেস হতে হবে তো। [ কাব্যকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল ] – এই না বললে, তোমাকে যেন না ছাড়ি। আর এই আবার বলছ ছেড়ে দিতে। আজব তো… [ নিজের মাথা হাত বুলাতে বুলাতে বলল ] – তো…গাধা.. বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল কাব্যের কাছে থেকে। ওয়াসরুমের দিকে গেল। কাপড়-চোপড় নিয়ে গেলো শাওয়ার নেয়ার জন্য। কাব্য কিছুই বুঝতে পারল না। এই বলে এক কথা পরক্ষনে বলে আরেক কথা। আর গাধা বলল কেনো? কি জানি। কাব্য বারান্ধায় যেতে যেতে গান ধরল, ” মেয়েদের মন বোঝা নয়রে নয় সোজা, মেয়েদের মন বোঝা নয়রে নয় সোজা। ” আসলেই.. মেয়েদের মন বোঝা ওতোটাও সোজা না। ওয়াসরুম থেকে মিরা কাব্যের গান শুনছে আর হাসছে। – পাগল একটা…। [ মুচকি হেসে বলল ] তবুও মিরার মন খচখচ করছে। কাব্য যদি টের পেয়ে যায় যে, ওর আকাশের সাথে…। তাহলে, কাব্য তুলকালাম বাধিয়ে দিবে। কাব্য বারান্ধায় চেয়ারে বসে মোবাইল টিপছে। আর মিরাকে নিয়ে ভাবছে। মিরা ইদানীং কেমন যেন হয়ে গেছে? মনে হয় আমার কাছে আসলে অপরাধবোধে ভোগে। এরকম করে কেনো? আগে তো এরকম করত না। মিরা আমার কিছু লুকুচ্ছে। – কি ভাবছ? মিরা চুলে টাওয়াল ঠিক করতে করতে বলল, – ভাবছি, তোমাকে এখনি জরিয়ে ধরি। – জরিয়ে ধরাধরি পরে। আগে খেতে চল। – হুম, চল। টেবিলে খেতে বসল কাব্য আর মিরা। মিরা কি যেন ভাবছে? – মিরা। – হুম। [ অন্যমনস্ক হয়ে ] – কি ব্যাপার? খাচ্ছো না কেনো? কি ভাবছো? [ ভ্রু কুচকে বলল ] – না কই কি কিছু না তো। [ তুতলাতে তুতলাতে বলল ] – তাহলে খাচ্ছো না যে? – হ্যা, হ্যা খাচ্ছি তো। [ নিচের দিকে তাকিয়ে বলল ] মিরার হাবভাব কাব্যের ভালো ঠেকছে না। কি হয়েছে মিরার? – তোমার কি হয়েছে বলো তো? [ প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল মিরার দিকে ] মিরা চোখ তুলে তাকাল কাব্যের দিকে। মিরা ভাবে, কাব্য বুঝে নেয় কি করে আমাকে? এতোটাই ভালোবাসে ও আমাকে। কাব্য গিয়ে মিরার পাশে বসল। – Any Problem? বল আমাকে। – না, কিছু না। আসলে শরীর খারাপ লাগছে। ভালো লাগছে না। – ওও, আগে বলবে তো। দেখি জ্বর আসল নাকি? কপালে হাত দিয়ে দেখল। সামান্য জ্বর জ্বর লাগছে। – এই জন্যই তো খারাপ লাগছে। জ্বর বাধিয়ে ফেলেছো। [ রাগী কন্ঠে বলল ] খাবারের প্লেটটা হাতে নিল, – দেখি হা করো। মিরা হা করল। কাব্য খাইয়ে দিতে লাগল। মিরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্যের দিকে। খাওয়া শেষ মিরার হাত ধুইয়ে নিজে হাত ধুলো। মুখ মুছে দিল মিরার। মিরা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্যের দিকে। প্রার্থনা করছে এই সময়টা যেন এখানেই স্তব্ধ হয়ে যায়। এখানেই যেন থেমে যায়। – এভাবে কি দেখছ? [কাব্য] – কিছু না। – তাহলে। জরিয়ে ধরল কাব্যকে। কাব্য বুঝে উঠতে পারল না। কাব্যও জরিয়ে ধরে মিরার মাথায় হাত বুলাতে লাগল। মিরার কান্না পাচ্ছে। কিন্তু, পারছে না। কেনো যে সেদিন ভুলটা করল। এখন নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, আমি ওকে ঠকাচ্ছি।কাব্য মিরাকে কোলে তুলে নিলো, – রুমে চলো। ডাক্তার আঙ্কেল কে ফোন করে আসতে বলি। মিরা কাব্যের গলা জরিয়ে ধরতে ধরতে বলল, – সামান্য জ্বরই তো। কমে যাবে। – চুপ চলো। কাব্য মিরাকে নিয়ে বেডরুমে গেলো। শুইয়ে দিয়ে ডাক্তার আঙ্কেলকে ফোন করল। উনি এসে চেক করে ঔষধ দিয়ে চলে গেলেন। কাব্য মিরাকে ঐষধ খাইয়ে শুইয়ে দিল। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল, – ঘুমিয়ে পড়ো এখন। মিরা চোখ বুজে নিল। কাব্য এতোটা ভালোবাসে আমাকে। কেনো? কি আছে আমার মাঝে? কাব্য তো আমাকে চাকরি করতে মানা করেছিল। তবুও আমি চাকরিটা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলাম। যার জন্য কাব্য চাকরি করার অনুমুতি দিয়েছিল। ফল স্বরুপ এখন সেটা ভোগ করতে হচ্ছে। – না ঘুমিয়ে কি চিন্তা করছো? [কাব্য] উফফ, কাব্যও না। চোখ বুজে ভাবছি তবুও বুঝে গেছে যে, ঘুমুই নি। – উম, ঘুমাচ্ছি তো। কাব্য মিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। মিরার চোখে ঘুম এসে পড়েছে। ঘুমিয়েও পড়ল। কাব্যেরও চোখ লেগে আসছিল। ঘুম ভেঙে গেল ফোনের আওয়াজে। মিরার ফোন এসেছে। কাব্য ভাবল, মিরাকে ডাকবে। কিন্তু, ডাকল না। ফোন হাতে নিয়ে দেখল মিরার বস আকাশের ফোন। ফোন রিসিভ করল, – হ্যালো। – হ্যালো, কে বলছেন? – আমি মিরার হাসব্যান্ড কাব্য। – ওও, কেমন আছেন? – ভালো। – আচ্ছা, মিরা কোথায়? – ওও তো ঘুমিয়ে আছে। কোনো জরুরী দরকার নাকি? – নাহ, ঘুম থেকে উঠলে বলবেন আমি ফোন করেছি। – ওকে। ফোন কেটে দিল। কাব্য ফ্রেস হয়ে আসল। মিরার মোবাইলে একটা মেসেজের উপর চোখ পড়ল। মিরা তখনও ঘুমিয়েই আছে। ফোন হাতে নিয়ে দেখল আকাশের মেসেজ। ওপেন করে দেখল, ” কাল বিকেলে লেকের পাড়ে এসে দেখা করো। ” কাব্য ভ্রু কুচকালো। কাল তো ছুটির দিন। তাহলে আকাশ মিরাকে লেকের পাড়ে কেনো ডাকছে? ” কাল বিকেলে লেকের পাড়ে এসে দেখা করো। ” কাব্য ভ্রু কুচকালো। কাল তো ছুটির দিন। তাহলে আকাশ মিরাকে লেকের পাড়ে কেনো ডাকছে? কাব্য ভাবছে কোনো ভাবে ধোকা খাচ্ছি না তো আমি? নাহ, কি ভাবছি এসব? মিরা ধোকা দিবে আমাকে!! অসম্ভব। এটা ভাবলাম কি করে আমি? আসলে মিরাকে একটু বেশীই ভালোবাসিতো তাই হারানোর ভয়টাও বেশী। – কি ভাবছো? [ মিরা ঘুম থেকে উঠে দেখল কাব্য ভাবনার জগতে ডুবে আছে ] কাব্য তাকিয়ে দেখল মিরা জেগে গেছে। তাকিয়ে আছে ওর দিকে, – কিছু না। তোমার ঘুম হয়ে গেলো? – হুম। [উঠতে উঠতে বলল] – আরে আরে উঠছো কেনো? শুয়ে থাকো। তোমার জ্বর এখনোতো কমেনি। [ কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি না দেখল ] – কাব্যওও, আমার শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। তাছাড়া রান্না করবে কে? – আমি আছি না। তোমার বর। – তুমি রান্না করবে? হা হা। – কেনো? আমি পারি না নাকি? [ মুখ গোমড়া করে বলল] – না, সেটা বলিনিতো। রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে-টুড়িয়ে ফেলবে। তার চেয়ে আমিই রান্নাটা সেরে নিই। [উঠতে গেলে কাব্য শুইয়ে দেয়] – বললাম তো তুমি পারবে না। চুপটি করে শুয়ে থাকো। – উফফ! তুমি না আমাকে নিয়ে একটু বেশীই ভাবো। এতো বেশী বিশ্বাস করা আর অন্যকে নিয়ে ভাবাটা কিন্তু ঠিক না। [ লাষ্ট কথাটা বলতে গিয়ে মিরা আনমনা হয়ে গেল] – মানেটা কি? তুমি কি বলতে চাইছো বুঝিয়ে বলো। [একটু রেগে গেল কাব্য ] -আরে রেগে যাচ্ছো কেনো? আচ্ছা চলো তুমিই রান্না করবে আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব। [ মুচকি হাসি দিয়ে বলল ] – ওক্কে????। ( কিচেনে….. ) কাব্য ভাবছে কি তৈরি করবে? আসলে কিছুই তো পারে না। তবুও দেখি কিছু করতে পারি কি না? একটা ডিম হাতে নিলো। ভেঙে সেটা তেলে ভাজতে লাগল। মিরা মিট মিট করে হাসছে। একটা ডিমবাজি করতে গিয়েই কাব্য ঘেমে একাকার। – কি জনাব সাধ মিটছে তো রান্না করার? এখন সরো আমি রান্না করে নিই। – না, আজ আমিই রান্না করব। তুমি শুধু দাঁড়িয়ে দেখবে। – কাব্যওও। [কোমড়ে হাত দিয়ে বলল] – কোনো কথা হবে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকো। মিরা আর কথা বলল না। ডিমবাজি করে আর কি রান্না করবে ভাবছে? ময়দার প্যাকেট হাতে নিলো। পরোটা তৈরি করবে। ময়দাগুলো ধলাইমলাই করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর পর হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছছে। মিরা হেসেই যাচ্ছে। কাব্য তাকিয়ে দেখল মিরা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। – এই তুমি হাসছো কেনো? [ বিরক্তি চোখে বলল ] – নাহ, এমনি। [মুখ টিপে হাসছে ] – আচ্ছা দাড়াও। পরোটা তৈরীর ময়দা হাতে মিরার দিকে এগিয়ে গেলো। – এই তু তুমি কিক কি করতে চাইছো? [তুতলাতে তুতলাতে বলল] – দেখো না কি করি? মিরা দৌড়ার আগে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল। গালে ময়দাগুলো মাখিয়ে দিল। – কাব্য, ভালো হচ্ছে না কিন্তু…। – উহু, কি করবে তুমি? [ভেংচি কেটে বলল] – দেখবে কি করতে পারি? – দেখি, দেখি। [ টাট্রার স্বরে বলল ] মিরা ঘুরে কাব্যর পায়ে পা তুলল। কাব্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিরার দিকে। কি করতে চাইছে মিরা? কাব্য দুইহাত দিয়ে মিরার কোমড় জরিয়ে ধরল। মিরার ওর মুখ এগিয়ে নিল কাব্যের মুখের দিকে। গালে গাল ঘসল। ওর গালের ময়দা কাব্যের গালে লাগিয়ে দিল। কাব্য ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল, তাহলে এই দুষ্টুমি বুদ্ধি ঘুরছিল মিরার মাথায়। এভাবেই দুষ্টুমি করছিল কাব্য আর মিরা। আর কাব্য এদিকে পরোটা করছিল। মিরার মোবাইল বেজে উঠল। কেউ কল করেছে। মিরা হাত নিয়ে তাকাতেই মিরার মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। কাব্য সেটা লক্ষ করল। – ফোনে কথা বলে আসি। তুমি তৈরি করো। দেখো হাত টাত না পুড়িয়ে ফেলো। মিরা চলে গেলো রান্নাঘর থেকে। কাব্য পরোটা তৈরি করতে লাগল। প্রায় ৭/৮ মিনিট হলো মিরা ফোনে কথা বলতে গেলো এখনো এলো না। কাব্যের পরোটা তৈরি করা শেষ। কয়েকটা আলু সিদ্ধ করে বর্তা করে নিল। কাজ শেষ মিরাকে খুঁজতে খুজতে রুমে গেলো। মিরা বারান্দায় কথা বলছে। – স্টপ ইট। তোমার সাথে আমার মাত্র ১ মাসের সম্পর্ক। তার জন্য তুমি কি ভেবেছো যে এই একমাসে আমি সম্পুর্ন তোমার হয়ে যাবো। [মিরা] অপরপাশ থেকে কথা ভেসে আসল তবে শোনা গেলো না। – শুনে রাখো। এই একমাস আমি কোনরকমেই তোমার কথা মতে চলতে পারব না। আর জেনে রাখো, কাব্যকে আমি আমার জীবনের থেকেও বেশী ভালোবাসি। ওকে ধোকা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। , কাব্য মিরাকে বারান্দায় দেখে মিরার কাধে হাত রাখল। মিরা কেপে উঠল। পিছনে তাকিয়ে কাব্যকে দেখে ভয় পেয়ে গেলো। কাব্য কিছু শুনেনি তো? – কথা শেষ হয়নি এখনো। খাবার খাবে চলো। মিরা স্বস্তির নিশ্বাস নিলো। যাক কাব্য তাহলে কিছু শুনেনি। ফোন রেখে দিল মিরা। – হুম শেষ চলো। আসলে আর্জেন্ট ফোন ছিলো তো। তাই দেরী হলো। [ মিথ্যা কথা বলতে গলা ধরে যাচ্ছিল মিরার ] – অফিসের? – হুম। – একটু আগে আকাশ ফোন করেছিল। আকাশের কথা শুনেই মিরা আৎকে উঠল। আকাশ কাব্যকে কিছু বলেনি তো। – ক কখন? [ ভয়ে তুতলিয়ে বলল ] – এইতো একটু আগে তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তখন। ( কাব্য) – ওও। – তোমাকে খুজছিলো…।কোনো কাজ হবে হয়তো। মিরা কোনো কথা বলল না। – আচ্ছা, চলো এখন খাবার খাবে চলো। [ মিরাকে তারা করল কাব্য ] মিরা মাথা নাড়াল। কাব্য তাহলে কিছু বুঝতে পারেনি। কাব্যকে মিরাকে টেবিলে বসিয়ে দিল। খাবার প্লেটে তুলে ধরল। মিরা মুখে দিতেই হেচকি দিয়ে উঠল, – কি হলো মিরা? পানি খাও। [ পানি এগিয়ে দিলো ] আসলে খাবারে অতিরিক্ত লবন দিয়ে ফেলেছে কাব্য। যার কারনে তেতো হয়ে গেছে। মিরা খেতে শুরু যতই হোক কাব্য বানিয়েছে তো। মিরার খাওয়া দেখে কাব্য খুশি হলো। – কেমন হলো? বললে না তো। – উম, খুব ভালো হয়েছে। কাব্য নিজে নিয়ে মুখে দিতেই মুখটা কালো হয়ে গেলো। মিরার সামনে থেকে প্লেট ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো, – কি করছিলে এটা তুমি? [ কাব্যর রাগ হচ্ছে ] – কই? কি করলাম? [ না জানার ভান করল ] – খাবারটা তো ভালো হয়নি। অতিরিক্ত লবন হয়ে গেছে। তাহলে খাচ্ছিলে কেনো তুমি? – তুমি এতো কষ্ট করে তৈরি করলে আমি…. মিরাকে থামিয়ে দিল, – আমি তৈরি করলেই খেতে হবে। তোমার কমন সেন্স নেই। স্টুপিড.. [ টেবিলে পাঞ্চ করল হাত দিয়ে ] মিরা ভয়ে চোখ বুঝে নিলো। – এখানেই বসে থাকো আসছি আমি। আর যদি এই খাবারে হাত দিয়েছো তো খবর আছে তোমার… মিরা মাথা নাড়াল। জানে এখন কিছু বলে লাভ হবে না। কাব্য অতিরিক্ত রেগে গেছে। কাব্য বাইরে গেলো রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার কেনার জন্য। মিরা আনমনা হয়ে ভাবতে লাগল, এতোটা ভালোবাসো কেনো তুমি আমাকে? যদি তুমি আমার আর আকাশের এই সাময়িক রিলেশনের কথা জানতে পারো তাহলে…. ভয় হচ্ছে খুব। তোমাকে ঠকাচ্ছি আমি কাব্য। যদি এটা জাষ্ট একটা বাজি। তবুও তোমাকে অবহেলা করতে হচ্ছে আমাকে। সত্যিটা বলতে পারছি না তোমাকে। , কাব্য রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনল। খাবার খেয়ে নিলো দুজনে। ( রাতে ) আকাশ বারবার ফোন করছে মিরাকে। মিরা বারবার কেটে দিচ্ছে। কেনো বিরক্ত করছে আমাকে? মিরা আকাশের সাথে নয় কাব্যর সাথে সময় কাটাতে চায়। কাব্য গোসল করে বেরিয়ে এলো ওয়াসরুম থেকে। এসেই মিরার কোলে মাথা রেখে ধুপ করে শুয়ে পড়ল। মিরা চমকে উঠল। কাব্যকে দেখে একটা হাসি দিলো। পিচ্ছিদের মতো কাণ্ডকারখানা। – তোমার জ্বর কমেনি এখনো? মিরা একটু ঝুকে বলল, – নিজেই হাত দিয়ে দেখে নাও। কাব্য কপালে হাত দিয়ে দেখল কমে গেছে অনেকটাই। – আচ্ছা, চলো খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। – হুম। খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ল মিরা আর কাব্য। মিরা আনমনা হয়ে ভাবছে কি যেনো? খুব ভয় করছে ওর। কাব্য যদিও কখনো জেনে যায় আকাশ আর ওর রিলেশনের কথা তাহলে ভেঙে পড়বে। ভুল বুঝবে আমাকে। কাব্য যদি সত্যিটা জানতে না চায় তাহলে…। বুকটা কেপে উঠল মিরার। পিছন থেকে কাব্য জরিয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। মিরা ঘুরে কাব্যর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। ( পরদিন বিকেলে ) – তুমি কোথাও যাচ্ছো? [কাব্য ] – হুম, একটু দরকার আছে। – কি? – শপিংয়ে যাচ্ছি। – আচ্ছা, চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি তোমাকে। মিরা কানের দুল পড়ছিল। থেমে গেলো, – না,না আমিতো শ্রেয়ার সঙে যাচ্ছি। তুমি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। – রিয়েলি… – হুম। মিরা চলে গেলে কাব্যর হঠাৎ মনে পড়ল আকাশের মেসেজের কথা। আজ বিকেলে দেখা করতে বলেছিল আকাশ। তাহলে মিরা কি আকাশের সাথে দেখে করতে যাচ্ছে? নাকি সত্যিই শপিং করতে যাচ্ছে। কাব্য এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো। গাড়ি নিয়ে বেরিয় পড়ল আকাশের দেয়া লোকেশনে যেতে হবে। আকাশ লেকের পাড়ে দেখা করতে বলেছিল। , সেখানে গিয়ে যা দেখল সেটার জন্য প্রস্তুত ছিল না কাব্য। মিরা আকাশের সাথে বসে আছে। কি যেন কথা হচ্ছে দুজনের মাঝে? কিন্তু, মিরা তো বলেছিল শপিংয়ে যাচ্ছে। তাহলে এখানে… কাব্য ধপ করে বসে পড়ল। মিরা মিথ্যা বলল আমাকে। মেনে নিতে পারছে না কাব্য। এদিকে মিরা আকাশের সাথে বসে কথা বলছে, – দেখো আকাশ এভাবে যখন তখন আমাকে ডেকে নিতে পারো না তুমি। আমার স্বামীও আছে ভুলে যেয়ো না। – আরে ডার্লিং তোমার স্বামীর ব্যাপারে ভাবা বাদ দাও। আমাকে আর আমাদের সম্পর্কের কথা ভাবো… – ওয়াট ডার্লিং! [ রেগে গেলো মিরা ] – হেই ওয়েট ওয়েট। মনে আছে তো কি কথা ছিল আমাদের মাঝে? [ মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল আকাশ ] – আমি এখনই তোমার সাথে ব্রেকা… মিরাকে থামিয়ে দিল আকাশ। – করতে পারো। কিন্তু, কাব্যর সাথে তোমার সংসার খুব বেশীদিন ঠিকবে না। [ শয়তানী হাসি দিয়] – মানে! [ আৎকে উঠল মিরা ] – মানে, কাব্যর মনে বিষ ডেলে দিতে সময় লাগবে না আমার। – ইউ… – কুল বেবি, কুল। বাড়াবাড়ি বেশী হয়ে যাচ্ছে না… মিরা থেমে গেলো। জানে আকাশ খুব লুচ্চা আর শয়তান । কি করবে কখন কে জানে? যদি কাব্যর মনে ভুল কিছু ডুকিয়ে তাহলে…. কাব্য বাসায় ফিরে আসার পর থেকে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। মিরা আকাশের সাথে দেখা করবে সেটা তো ওকে বলে যেতে পারতো। মিথ্যা কথা বলার কি ছিল? হয়তো অফিসের কোনো কাজের কথা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু, মিথ্যা বলার কারনটা কি ছিল? নাকি মিরা…। মিরা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরল। সাথে শপিং ব্যাগ। কাব্যকে খুঁজতে খুঁজতে রুমে গেলো। দেখল কাব্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। মিরা গিয়ে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল, – এসো গেছো..। অনেক শপিং করেছো তাই না। – হুম। – আচ্ছা, আমাকে মিথ্যা বলার খুব প্রয়োজন ছিল কি? মিরা চমকে গেলো, – মানে! – মানে, আমি দেখেছি তুমি শপিংয়ে নয় বরং তোমার বসের সাথে দেখে করতে গিয়েছিলে…মানে! – মানে, আমি দেখেছি তুমি শপিংয়ে নয় বরং তোমার বসের সাথে দেখে করতে গিয়েছিলে… কাব্যর কথা মিরার আত্মা কেঁপে উঠল। কাব্য জানল কি করে আমি আকাশের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম? – তুমি মিথ্যা বললে আমাকে মিরা!। দেখা করতে গেলে কি আমি মানা করতাম? তোমার কাজ থাকলে আমি কি যেতে মানা করতাম? – কাব্য, আসলে আমি…. – হুম বলো। – তোমাকে আমি বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু,,, – হ্যা, বলো। কিন্তু… – কিন্তু তুমি যদি আমাকে সন্দেহ করো তাই বলিনি। আমি জানি সন্দেহ করাটা স্বাভাবিক। কারন আজ তো ছুটির দিন তাহলে আমি বসের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি কেনো? প্রশ্নটা তোমার মনে জাগতো। তাই আমি… – তাই তুমি আমাকে বলে যাওনি। মিরা মাথা নাড়াল। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। যদি কাব্য কিছু টের পেয়ে যায় তাহলে…। যাই হোক কাব্যকে ছাড়াতো আমার বেচেঁ থাকা অসম্ভব। – কাব্য, বিশ্বাস করো আমাকে। আমি সত্যি বলছি। হাউমাউ করে কেঁদে উঠল মিরা। কাব্যকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে। – হ্যা, বিশ্বাস করি আমি তোমাকে। কিন্তু, আমাকে মিথ্যা বলে ঠিক করোনি তুমি । – আর কখনো তোমাকে মিথ্যা বলব না। – তবে শাস্তি তো পেতেই হবে..। মিরা কাব্যকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল, – তুমি যা শাস্তি দিবে আমি তা মাথা পেতে নিবো। – ওকে, তাহলে সেটাই হবে। কাব্য মিরাকে ছেড়ে দিল। মিরা চোখ বুঝে আছে। কি করবে কাব্য? – গিভ মি এ কিস? মিরা চোখ খুলে পিটপিট করে তাকাল কাব্যর দিকে, – মানে!!! – মানে, তুমি এখন আমাকে কিস করবে। এটাই তোমার শাস্তি। – কাব্য আমি… মিরা কিছু বলার আগে কাব্য মিরার ঠোঁটগুলো দখল করে নিলো। মিরা চোখ বুঝে কাব্যর ঠোঁটের পরশ অনুভব করতে লাগল। কাব্য নেশাগ্রস্তের মতো মিরার ঠোঁট চুষতে লাগল। হঠাৎ কাব্যের ফোন আসাতে দুজনেরই ধ্যান ভাঙল। বাস্তবে ফিরে আসল। কাব্য ছেড়ে দিল মিরাকে। মিরা হাপাতে লাগল। কাব্য ফোন হাতে নিয়ে দেখল রাহি ফোন করেছে, – হ্যালো, হ্যা বল। – কোথায় আছিস তুই? কতদিন ধরে দেখা নেই। [রাহি] – ভাই, তুই জানিস না কাজের কি চাপ? ব্যস্ত আছি। – এখন ফ্রি আছিস? – হ্যা। – তাহলে ক্লাবে চলে আয়। সবাই আছি ওখানে… – এখন। আর ক্লাবে কেনো এমনি কোথাও দেখা করি চল। – কেনো রে? ভাবী বকবে নাকি। আরে এখানে জাষ্ট আড্ডা দিবো আমরা আর কিছুইতো না…. – ওকে, আসছি। বাই। – বাই। তাড়াতাড়ি আয়। ফোন কেটে দিল রাহি। কাব্য ফোন কাটতেই মনে পড়ল একটু আগের কথা। কি জাদু আছে তোমার কাছে মিরা? নিজেকে দূরে রাখতে পারিনা তোমার কাচ থেকে। আর দূরেই রাখব কেনো তুমি তো আমার একমাত্র বউই। মিরার ঘোর কেটে গেলে বারান্দা থেকে রুমে এলো, – কে ফোন করেছিলো? আর কোথায় যেতে বলছে তোমাকে? [ মিরা ভ্রু কুঁচকে বলল ] – রাহি, আমার ফ্রেন্ড। ওদের সাথে দেখা করতে বলেছে। সব হারামিরা এখানে এসে জড়ো হয়েছে তো তাই…. – ওও। কাব্য একটা শার্ট পড়ল। যাবে কি না ভাবছে? – আচ্ছা যাই…। – হুম যাও। আর এদিকে আসো। কাব্য এগিয়ে গেলো। মিরা কাব্যর চুল ঠিক করে দিল, – এখন যাও। সাবধানে যেও। – কিছু দিবে না… – কি? – চুমু- টুমু.. – শয়তান। বলে তাড়া করল কাব্যকে। কাব্য বেরিয়ে গেলো। নাইট ক্লাবে গিয়ে সবকয়টির সাথে আড্ডায় মেতে উঠল, – আরে দেখ শালা এসেই লুচ্চামি শুরু করে দিয়েছে। [রিহানকে দেখিয়ে বলল ] রিহান একটা মেয়ের সাথে বেশ অন্তরঙ্গ হয়ে নাচছিল। সেটাই দেখিয়ে বলল রাহি। এক পর্যায় সবাই হালকা ড্রিংক করল। কাব্য ড্রিংক করতে চাইছিল না। সবাই জোর করায় হালকা ড্রিংক করল। সবাই আড্ডার পাশাপাশি মেয়েদের সাথে ফ্লার্টিং করছিল। – মামা, দেখ মেয়েটা কিন্তু বেশ জোস। [ কাব্যকে দেখিয়ে বলল রাহি ] – লুচ্চামি শুরু করে দিয়েছিস। তুই কিন্তু এসব করবি না বলেছিলি। – আরে মামা জাষ্ট কিডিং। আসলে লুচ্চামি না। ক্রাশ খাইছিতো… , রাহি, রিহান, আরহান, রাফি, সবকয়টি তখন ডান্স আর মেয়েদের সাথে ফ্লার্টিং এ ব্যস্ত। কাব্য টেবিলে বসে ছিল। মাথাটা কেমন জানি করছে। হালকা নেশা নেশা লাগছে। যদিও অল্পই খেয়েছে। কাব্যকে একা একা বসে থাকতে দেখে রিহান একটা ইশারা করে কাব্যর কাছে যেতে বলল। মেয়েটাকে টাকা দেখাতেই মেয়েটা কাব্যর দিকে এগিয়ে গেলো। গিয়ে কাব্যের পিছনে মাথা কাছে দাঁড়াল। পিছন থেকে হাত কাব্যর বুকের উপর রাখল। শার্টের ভিতরে হাত ডুকাতে লাগল আস্তে আস্তে। বুকে হাত বুলাতে লাগল। কাব্য পিছনে তাকিয়ে দেখল একটা মেয়ে। কাব্য তাকাতেই একটা হাসি দিল। কাব্য নেশার মতো তাকিয়ে রইল। কাব্য মেয়েটার হাত হাত বুলাতে লাগল। মেয়েটা নিচু হয়ে কাব্যর গলার পাশে একটা চুমু খেলো। কাব্য কিছুটা কেপে উঠল। আস্তে আস্তে হেটে সামনে গেলো। দুই পা দুই দিকে দিয়ে কাব্যর কোকে চড়ে বসল। কাধে হাত রেখে আর কাব্য পিছনে হাত দিয়ে ধরে রাখল মেয়েটিকে। – মামা, দেখ মেয়েটা ভালোই জব্ধ করেছে কাব্যটা। [রিহান] – আরে মেয়েটা নিয়ে আয়। কাব্য এসব লাইক করে না জানিস তো। ওর ওয়াইফও আছে…[ আরহান ] – আরে দূর, এসব ছোটখাটো মাস্তি তো এই বয়সেই করবে..ইউ লেট ইনজয়। সবাই ব্যস্ত হয়ে গেলো। মেয়েটা কাব্যর কোলে বসে শার্টের দুইটা বোতাম খুলে বুকের কাছে চুমু দিল। কাব্যর চোখের দিকে তাকাল। কাব্য হাত পা থেকে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে লাগল। হাটুর কিছু উপরে নিয়ে এলো। হঠাৎ মিরার কথা মনে পড়ল। কাব্য একি ঝটকায় মেয়েটাকে সরিয়ে দিল, – টেক ডিসটেন্স ফ্রম মি..। মেয়েটা আবারও জরিয়ে ধরল কাব্যকে, – প্লিজ, কাম বেবি। ইউ লুকিং সো হ্যান্ডসাম অলসো হট… – আই সে, ইউ টেক ডিসটেন্স ফ্রম মি। – এনি প্রবলেম? – ইয়াহ.. – ওয়াট ইজ ইট? – আমার স্ত্রী আছে বাসায়। আমার অন্য কোনো নারী সঙ চাই না। – বেবি, ইউ জোকিং উইত মি। এখানকার যোগে বাসায় বউ থাকতেও লোকেরা অন্য নারীর সঙ ভোগ করতে চায়। আর ইউ.. – প্লিজ, লিভ মি। – ওকে, ওকে। বাই দ্যা ওয়ে, তোমার নাম কি? মিঃ হ্যান্ডসাম। – কাব্য। – সো নাইস। ওক্কে বাই.. – বাই। কাব্য নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে, কি করতে যাচ্ছিলি তুই? তোর ঘরে বউ আছে ভুলে গেছিস। যাকে তুই মন প্রান দিয়ে ভালোবাসিস। আর মিরাও তকে ভালোবাসে। কাব্য আরোও ড্রিংকস করল। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে ওর। নাহ, এখানে আর থাকা যাবে না। কাব্য বেরিয়ে যেতে চাইলে রাহি এগিয়ে আসে, – কাব্য, আর ইউ ওকে। বাসায় যাবি? – হুম। – চল তোকে ড্রপ করে দিই। রাহির ড্রিংকস করার অভ্যাস আছে। কাব্যকে নিয়ে বাড়ি পৌছে দিল। কাব্য ঘরে ডুকল দরজা খুলাই ছিল। মিরা কাব্যের অপেক্ষা করছিল। কাব্য ঘরে ডুকতেই মিরা এগিয়ে এলো। কাব্য পড়ে যেতেই ধরে নিল। বুঝতে পারল কাব্য ড্রিংকস করেছে, – কাব্য, তুমি ড্রিংকস করেছো? – মিরা, আই লাভ ইউ। লাভ ইউ মিরা। আই জাষ্ট লাভ ইউ… [মদ্যস্থ অবস্থায় বলতে লাগল ] মিরা খেয়াল করে দেখল কাব্যর শরীর থেকে ফিমেল পারফিউমের সুগন্ধ আসছে। আর ঘাড়ের কাছে লিপ্সটিকের দাগ বুকেও। মিরা কেঁদে দিবে এমন অবস্থা। কাব্য অন্য নারীর সাথে..। নাহ,কাব্য এমন করতে পারে না। – আমি কাউকে চাই না। আমি কারো সঙ চাই না। আই ওয়ান মিরা। আই ওয়ান্ট জাষ্ট মিরা। মিরা একটু অবাকই হলো। কাব্য মধ্যপান করা অবস্থায়ও ওর নাম নিচ্ছে। তাহলে কাব্য কি অন্য নারী সান্নিধ্য লাভ করেনি। তাহলে এই লিপ্সটিক আসল কোথা থেকে। নাকি আমাকে ভেবে অন্য নারীর সাথে…। মিরা কাব্যকে নিয়ে রুমে গেলো। বিছানায় শুইয়ে দিল কাব্যকে। কাব্য আবোল তাবোল বকেই যাচ্ছে। মিরা লেবুর শরবর নিয়ে এলো জোর করে কাব্যকে খাইয়ে দিল। কাব্য শুয়ে আছে অচেতন হয়ে। মিরার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। এতোটা ভালোবাসো তুমি আমাকে? কিন্তু, তুমি অন্য নারীর সঙে…।সেটা মেনে নিতে পারছি না। মানব কি করে বড্ড ভালোবাসি যে তোমায়। কাব্যের আস্তে আস্তে হুশ এলো। তাকিয়ে দেখল মিরা কাঁদছে। বুঝতে পারল মদ্যপান করায় মিরা দুঃখ পেয়েছে। – মিরা, আসলে আমি…। কাব্যকে কিছু বলতে না দিয়ে উঠে চলে গেলো বারান্দায়। কাব্যও পিছু পিছু গেলো। – মিরা, আমি সত্যিই ড্রিংক করতে চাইনি। ওরা জোর করে হালকা খাইয়েছিল। মিরা কোনো কথা না বলে কাঁদতে লাগল। কাব্য মিরাকে নিজের দিকে ঘুরাল, – আই এম রিয়েলি সরি। আমি আর কখনো ড্রিংকস করব না। প্রমিস… মিরা তবুও কাঁদছে। – বললাম তো সরি। কাব্যের একটু মাথা ঘুরে গেলো। একটু হেলে যেতেই মিরা কাব্যকে জাপটে ধরল, – আমি সরি তো.. – আমি পুরনো হয়ে গেছি তাই না। আমাকে আর ভালো লাগে না। [ ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে লাগল ] – মানে, কি বলছো এসব? – বুঝতে পারছো না। তুমি একটু আগেইতো অন্য একটা মেয়ের কাছে ছিল। – কি বলছো এসব? – হ্যা, তোমার শরীরে তো লিপস্টিক দাগ রয়েছে। দেখিয়ে দিল দাগগুলো…। কাব্য মনে করার চেষ্টা করল কি হয়েছিল? – বিশ্বাস করো। কিছু হয়নি মেয়েটা আর আমার মাঝে। মেয়েটা আমাকে জোর করে চুমু দিয়েছিলাম। কিন্তু, পরক্ষণে আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলাম। মিরা কেঁদেইই চলছে… বিশ্বাস করো। কিছু হয়নি মেয়েটা আর আমার মাঝে। মেয়েটা আমাকে জোর করে চুমু দিয়েছিলাম। কিন্তু, পরক্ষণে আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলাম। মিরা কেঁদেইই চলছে… – প্লিজ, বিশ্বাস করো আমাকে। বন্ধুরা ফাইজলামি করে মেয়েটাকে আমার সাথে ঘেসে দিয়েছিল। [ ছল ছল চোখে বলল ] মিরা কাব্যর চোখে পানি দেখে জরিয়ে ধরল কাব্যকে। আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। – আমাকে খুব ভয় করে কাব্য। [ কাঁদতে কাঁদতে বলল ] – কেনো? – কখনো আমরা দুজন আলাদা না হয়ে যাই। আমার খুব ভয় করে। তুমি না আমাকে ছেড়ে… – চুপ, একদম চুপ। কে বলেছে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো? পাগলি কোথাকার। মিরা বুকের সাথে চেপে ধরল। মিরা মুখ গুজে পড়ে থাকল। এটাই যেন ওর শান্তির স্থান। – তুমি এখনো খাওনি তাই না? – হুম। – হুম, কি? – খাইনি, তোমাকে ছাড়া কি কখনো খেয়েছি? – পাগলি চলো খাবে… খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ল মিরা। কাব্য লেপটপে কাজ করছিল। হঠাৎ একটা ইমেইল এম,এম,এস আসল। কাব্য ওপেন করল সেটা। একটা ছবিতে একটা মেয়ে একটা ছেলের হাত ধরে বসে আছে। ভালো করে Zoom করে দেখল ছবিটা। আকাশ ভেঙে পড়ল মাথায়। ছবিটা আর কারো না ওর মিরা আর মিরার বস আকাশ। হাত ধরে আছে একে অপরের। কাব্য কি করবে বুঝতে পারছে না। মিরার দিকে তাকাল চুপটি করে বাচ্চা মেয়েদের মতো ঘুমিয়ে আছে। ছবিটা ভালো করে দেখল কাব্য। নাহ, এটাতো মিরাই। কিন্তু…।মিরা আর আকাশ। কি সম্পর্ক ওদের মাঝে? মিরা কি তাহলে…? কাব্যর ফোন বেজে উঠল। কাব্য রিসিভ করল কলটা.. – হ্যালো, কে বলছেন? [ কাব্য ] – দেখলে তো। আপনার স্বতী স্ত্রী মিরার স্বতীপনা। [ একটা মেয়ের কন্ঠে ] – কে আপনি? হো আর ইউ? – তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী..। – শুভাকাঙ্ক্ষী মাই ফুট । পরিচয় দিন। [রেগে গেলো] – কুল, কুল মিঃ কাব্য। আপনার ভালোই তো চাই আমি। দেখে নিন আপনার মিরার কেলোকীর্তি। – হেই, আমার বউয়ের সম্পর্কে বলার আপনি কে? আমাকে রাগানো চেষ্টা করবেন না। ফোন রাখুন নয়তো… কাব্যকে আঠকে দিল মেয়েটা। – ওয়েট,ওয়েট। আমিতো এমনি এমনি বলছি না প্রুভ হিসেবে ফটো দিয়েছি। আর মেয়েটাকে বাইরে যতটা সরল মনে হয় ভিতরে ততটাও না। – ফটোই সব কিছুর প্রমান করে না। এটাতো অন্য প্রসঙের ফটো হতে পারে। ওরা হয়তো কোন কাজের কথা বলছিল.. – ওহ, রিয়েলি। হাতে হাত রেখে কাজের কথা। স্ট্রেঞ্জ মনে হচ্ছে আপনার মিঃ কাব্য। বউকে এতোটাও বিশ্বাস করা ঠিক না। – সেটা আমার বিষয় আপনি সেটায় নাক না গলালেও চলবে। – হুম। কিন্তু, আমি কিন্তু আপনাকে হেল্প করছি। আর প্রমান স্বরুপ এখনো অনেক কিছু দেখানোর বাকি রয়েছে আপনাকে। জাষ্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ..। – আপনি একটা মেয়ে হওয়ায় এতক্ষণ ভালো ভাবে কথা বলেছি। না হয়… [ দাতে দাত চেপে কল কেটে দিল ] হাতের মোবাইল শক্ত করে ধরে রেখেছে। কি বলছে এসব মেয়েটা? কিন্তু মিথ্যাতো কিছু বলেনি। ছবিটা আবার দেখল। একটা পার্কের ব্রেঞ্চে বসে আছে দুজন। দেখে মনে হচ্ছে না কাজের কথা বলছে তারা। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আকাশ মিরার হাত ধরে বসে আছে। কাব্য ঘামতে শুরু করল রাগে। লেপটপ রেখে ঘুরতেই মিরার মুখ চোখের সামনে পড়ল। কেনো এতো মায়া এই মেয়েটার মুখে? মিরাকে কিছু করবে বা বলবে সেটাও পারছে না কাব্য। এগিয়ে গেলো মিরার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। চুলগুলো বারবার মুখের সামনে আসছে। খুব সুন্দর দৃশ্য সেটা? চুলগুলোতে হাত দিতেই মিরা নড়েচড়ে উঠল। কাব্য ভাবছে, সত্যিই কি তোমার এই সরল মুখের পিছনে অন্য কিছু আছে? মিরা জেগে গেল। তাকাতেই দেখল কাব্য একেবারে ওর মুখের সামনে মুখ রেখে তাকিয়ে আছে। মুখ একটু উঁচু করে কাব্যর ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়াল। কাব্যর ঘোর কাটল। মিরার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। – এভাবে তাকিয়ে ছিলে কেনো? – নাহ, এমনি? [ মিরাকে সত্যি কথা বললে তো মিরা জেনে যাবে যে ওকে আমি সন্দেহ করছি। এতে মিরা কষ্ট পাবে। একটা অপরিচিত মেয়ের পাঠানো একটা ছবি দেখে তো আর আমি মিরাকে সন্দেহ করতে পারি না। ] – কি ভাবছো? [ভ্রু কুঁচকে বলল] – কিছু না। – তুমি এখনো ঘুমাওনি কেনো? জেগে থেকে কি করছিলে? – কিছু না। – কি, কিছু না কিছু না করছো। ভালো করে বলো কিছু। আর এভাবে তাকিয়ে না থেকে শুয়ে পড়ো…। কাব্য লাইট নিভিয়ে এসে মিরার পাশে শুয়ে পড়ল। ভাবতে লাগল মিরা কি সত্যিই ওকে ধোকা দিচ্ছে। নাকি ঐ মেয়েটা মিথ্যা বলছে। কিন্তু, মেয়েটার কথা, দেয়া ছবি। আর মিরার আমাকে মিথ্যা বলে আকাশের সাথে দেখা করা সব কিছু যেন কেমন জানি মনে হচ্ছে। কাব্য লম্বা হয়ে শুয়ে কি যেন ভাবছে। মিরা গিয়ে কাব্যর বুকে মাথা রাখল। কাব্য তাকিয়ে দেখল মিরা ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। – তোমার হৃদস্পন্দন গুলো শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। কেনো বলোতো? তুমি কি অভিনয় করছো নাকি সত্যি সত্যি আমার হৃদস্পন্দন গুলো শুনতে তোমার ভালো লাগে। – আমি কি করে জানব? – তাহলে তোমার হৃদস্পন্দন গুলো থানিয়ে দেও। [ না বুঝেই বলে দিল মিরা] – মেরে ফেলো আমাকে। তবেই থেমে যাবে। [শান্ত কন্ঠে বলল মিরা] – কুত্তা, খরগোশ… [ কাব্যকে মারতে লাগল। ] – আরে কাঁদছ কেনো? তুমি নিজেই তো বললে আমার হৃদস্পন্দন গুলো থামিয়ে দিতে। মিরা কাঁদতে কাঁদতে বলল, – আমি কি এতোকিছু বুঝে বলেছি। আমার তো মন চায় তোমার বুকে মাথা রেখে সারাজীবন তোমার হৃদস্পন্দনগুলো শুনতে। – সত্যিই বলছো.. – কেনো? সন্দেহ হচ্ছে। কাব্য কোনো কথা বলল না। মিরা কাব্যর বুকে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়ল। কাব্য হারিয়ে গেল মিরার মায়াবী মুখে। বাচ্চাদের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে ঘুমুচ্ছে। বারবার ফোনের মেয়েটার কথা মাথায় ঘুরছে। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ( পরদিন ) সকালে কাব্য রেডি হচ্ছে অফিসের জন্য। মিরাও রেডি হচ্ছে। কাব্য রেডি হয়ে বসে রইল সোফায়। – কি হলো বসে রইলে কেনো? – তুমি রেডি হয়ে নাও। একসাথে চলে যাবো। – নাহ, আমি যেতে পারব। তুমি চলে যাও। আমার দরকার আছে। – ওকে, তুমি যেমনটা চাও। কাব্য বেরিয়ে পড়ল। অফিসে গিয়ে ডুকতেই আগামীকালকের মেয়েটার ফোন। ফোন রিসিভ করল কাব্য। – কি চান আপনি? প্লিজ ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। – রিলেক্স মিঃ কাব্য। আপনাকে কিছু দেখানোর আছে। আপনার মোবাইলে একটা ফটো এম,এম,এস করছি। চেক করুন… ফোন কেটে দিল। একটা মেসেজ আসল। কাব্য মেসেজ ওপেন করে দেখল, আকাশ আর মিরা গাড়িতে বসে আছে। কিন্তু…।কাব্য এখন খুঁজে পেলো, মিরার ওর সাথে না আসার কারনটা। আবার ফোন করল মেয়েটা। কাব্য রিসিভ করল। – কি দেখলেন? অবশ্য বেশ ভালো মানিয়েছে দুজনকে। কাব্য ঠায় বসে আছে। কোনো কথা বলছে না। – কি মিঃ কাব্য। কোথায় হারিয়ে গেলেন? – কি চাই তোমার? [ কাব্য] – আপনার ভালোটাই চাই আমি। – কেনো? – ঐ যে,আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী। অবশ্য আপনার মনে হয় বিশ্বাস হচ্ছে না মিরা এমন করতে পারে। এটাতো স্বাভাবিক। আপনি যে মিরাকে নিজের থেকেও বেশী ভালোবাসি। ওকে বাই… ফোন কেটে দিল মেয়েটা। কাব্য ঠিকমতো কিছু দেখতেও পারছে না। চোখগুলো ঘোলাটে হয়ে আসছে। তাহলে মিরা কি সত্যিই আকাশের সাথে অবৈধ সম্পর্কে মেতে উঠেছে। পরক্ষণেই মিরার মায়াবী মুখটা ভেসে আসল কাব্যর সামনে। নাহ কি ভাবছি এসব? এটা অসম্ভব। মিরা কখনো আমাকে ধোকা দিতে পারে না। কিন্তু, ফটোটাতো মিথ্যা না। মেয়েটা কি তাহলে আমাকে বোকা বানাচ্ছে? সারাদিন এভাবেই কেটে গেলো। অফিস থেকে ফেরার সময় আবার ফোন করল মেয়েটা। কাব্য বিরক্তি নিয়ে ফোন ধরল। ফোন ধরতেই মেয়েটা বলতে শুরু করল – জানি বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু, কি করব বলুন তো? সত্যিটা তো আপনাকে জানতে হবে। – সমস্যাটা কি আপনার? – সমস্যা আমার না আপনার। বাসায় যান গেলেই দেখতে পাবেন। – মানে! – আগে বাসায় যান… ফোন কেটে দিল মেয়েটা। কাব্য তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে বাসায় গেলো। বাসার সামনে যেতেই দেখল একটা ব্লু কার বাসার ভেতর থেকে বেরিয়ে বাম পাশের রাস্তা দিয়ে চলে গেল। কে হতে পারে? কাব্য বাসায় ডুকল। মিরা অফিস থেকে এসে পড়েছে। কাব্যকে দেখে চমকে উঠল। – আজ এতো তাড়াতাড়ি? – কেনো তোমার সমস্যা হলো বুঝি? – কাব্য, কি বলছো? – কিছু না। কে এসেছিলো? – কই.. – এই মাত্র দেখলাম একটা ব্লু কার বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো। মিরার বুকটা ধক করে উঠল। কাব্য তাহলে দেখে নিয়েছে আকাশকে। – আ আমার বস আমাকে ড্রপ করে দিয়েছিলন। – ওও, বাসায় এসেছিলেন। নাকি বাইরে থেকেই চলে গেছেন। মিরা কাব্যর দিকে তাকাল। কাব্য তাহলে সন্দেহ করছে ওকে। – নাহ, আমাকে নামিয়েই চলে গেছেন। – ওও, সকালেও আকাশ তোমাকে ড্রপ করেছিল। এম আই রাইট। মিরা অবাক হয়ে তাকাল কাব্যের দিকে। কাব্য জানল কি করে? মাথা নাড়াল মিরা। – আমার সাথে তো যেতে মানে করলে। – রাস্তায় উনি জোর করছিলেন। তাই গাড়িতে উঠে পড়েছি। – ওও, আমিও তো তোমাকে কম জোর করিনি। – কাব্য, কি বোঝাতে চাইছো তুমি? – এটাই যে, তুমি ইদানীং বাইরের পুরুষদের সাথে বেশ মেলামেশা করছো। মিরা কেঁদে ফেলল। বুক ফেটে কান্না আসছে। শেষ পর্যন্ত কাব্য ওকে সন্দেহ করল। – কাব্য, তুমি কি বলছো এটা? – কেনো ভুল কিছু বললাম নাকি? মিরা কেঁদেই চলছে। – কি বলেছি তুমি মনে আছে? বিশ্বাস করো আমাকে খুব তাই না। কিন্তু, এখন কোথায় গেল তোমার বিশ্বাস? – আচ্ছা, তুমি তাহলে বিশ্বাসের জোর নিয়েই এসব করছিলে.. – কাব্য.. ঠাস করে একটা চড় মারল মিরা। কাব্য গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। – এই কি আমার সেই কাব্য যে আমার চোখের পানি সহ্য করতে পারত না। এই কি আমার সেই কাব্য যে আমাকে ওর নিজের থেকে বেশী বিশ্বাস করত। এই কি আমার সেই কাব্য যে আমাকে তার নিজের চেয়েও বেশী ভালোবাসতো। হ্যা, আমি তোমার সাথে যাইনি কারন তুমি গাড়ি ড্রাইভ করার সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকো। এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারো। হ্যা, আমি আকাশ আমায় বাসায় ড্রপ করে দিয়েছে। কারন আমি চাইছিলাম বাসায় তাড়াতাড়ি এসে তোমার জন্য স্পেশাল কিছু তৈরি করব। আর তুমি… মিরা কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেলো। মিরা দৌড়ে চলে গেলো। কাব্য ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। তাহলে কি আমি মিরাকে মিথ্যে সন্দেহ করলাম? আমি মিরাকে কষ্ট দিলাম। কি করলাম এটা? কি করলাম এটা আমি? কাব্য দেয়ালে সজোরে ঘুসি মারল। হাত ফেটে রক্ত পড়তে লাগল। কিন্তু, কাব্য সেদিকে খেয়ালই রাখছে না। দৌড়ে মিরার পিছনে পিছনে গেলো। মিরা উপুড় হয়ে বিছানায় শুয়ে কাঁদছে। – মিরা, আ’ম সরি। আমি সত্যি তোমাকে সন্দেহ করতে চাই না। আসলে ঐ মেয়েটা তোমার প্রতি আমার ভেতরে সন্দেহ জাগিয়ে দিয়েছে। মিরা কোনো কথা বলছে না। কেঁদেইই চলছে। কাব্য শেষ পর্যন্ত ওকে সন্দেহ করেই ফেলল। কাব্যকে সব সত্যি বলে দিতে হবে কাব্যর মনে অতিরিক্ত সন্দেহ জাগার আগে। – মিরা, আমি সত্যি সরি। আমি সত্যি ভুল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দাও আমায়। মিরা এখনো কোনো কথা বলছে না । কেঁদেইই চলছে। – মিরা, প্লিজ ক্ষমা করে দেও আমাকে। মিরা কাব্যকে কিছু বলবে বলে ঘুরতেই দেখল। কাব্য হাত জোর করে বসে আছে। হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। মিরা চিৎকার দিয়ে উঠল, – কাব্যওওও। কি করেছো এটা? পাগল হয়ে গেছো নাকি। বলে লাফ দিয়ে উঠে কাব্যর হাতে গিয়ে ধরল। – আমাকে ক্ষমা করে দাও মিরা। – কাব্য, তোমার হাত থেকে রক্ত পড়ছে। দাড়াও আমি ফাষ্ট এইড বক্স নিয়ে আসি। কাব্য মিরার হাত ধরে নিল। – তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ। আমার ভুল হয়ে গেছে মিরা। – কাব্য হাত ছাড়ো। তোমার হাত দিয়ে রক্ত পড়ছে ব্যান্ডেজ করতে হবে। কাব্য মিরার হাত ছাড়ল না। – আগে আমাকে ক্ষমা করো। – কি করছো এটা তুমি? তুমি স্বামী হোও আমার। তোমার পায়ের নিচে আমার স্থান। আমার পায়ের নিচে তোমার না। উঠো.. কাব্যকে জোর করে উঠালো। কাব্য কেঁদেই চলছে। মিরাও কাঁদছে। – এখন হাত ছাড়ো। তোমার হাত থেকে রক্ত পড়ছে। ঔষধ লাগাতে হবে। – আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে ক্ষমা করে দাও মিরা। [ কাঁদতে কাঁদতে বলল ] – কাব্য, পাগলামো করো না। স্বামী স্ত্রীর কাছে কখনো ক্ষমা চাইতে পারে না। আর আমি কখনো তোমাকে ক্ষমা করতে পারি না। তুমি স্বামী হোও আমার। তোমার উপর তো আমি রাগ করতেই পারি না। কাব্য জরিয়ে ধরল মিরাকে। – সত্যি ক্ষমা করে দিয়েছো আমাকে? মিরা এতক্ষণ রাগ আর অভিমান থাকলেও কাব্যর হাত থেকে রক্ত পড়ছে দেখে সব রাগ আর অভিমান পানি হয়ে গেলো। – হুম, এখন ছাড়ো প্লিজ। আমি ফাষ্ট এইড বক্সটা নিয়ে আসি। কাব্য ছেড়ে দিল মিরাকে। মিরা কাদতে কাঁদতে পাশের রুম থেকে ফাষ্ট এইড বক্স নিয়ে আসল। একদিকে কাঁদছে অন্যদিকে কাব্যের হাতে ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। – হাত কাটল কি করে? [কাঁদতে কাঁদতে বলল] – দেয়ালে ঘুসি মেরেছিলাম। – কেনো? – তোমাকে কষ্ট দিয়েছি তাই.. – এর জন্য নিজেকে কষ্ট দিতে হবে। আর তুমি আমাকে কষ্ট দিতে চাও না তাই তো। সেই আবার কষ্ট দিলে আমাকে। তুমি জানো তো তোমার কষ্ট আমি সইতে পারি না। – আআওও…। – এখন কষ্ট পাচ্ছো তো। তাহলে নিজেকে কষ্ট দেয়ার কি আছে? কাঁদতে কাঁদতে বলল। কাব্য অপলক চোখে মিরার দিকে তাকিয়ে আছে। এমন একটা মেয়েকে সন্দেহ করেছিল ও। ভাবতেই নিজেকে ঘৃনা লাগছে। – ক্ষুধা লাগছে.. – তো.. – খাবো। – কিন্তু, আমি তো রান্না করিনি এখনো। – তাহলে চলো দুজনে রান্না করে নেই। – লাগবে না। তুমি শুয়ে থাকো আমি রান্না করে আনছি। মিরা উঠে যেতে চাইলে কাব্য জরিয়ে ধরে পিছন থেকে। – আমি তোমায় রান্নায় সাহায্য করব। আমিও আসি না। আবদারের স্বরে বলল। – হুহ। বলে গেল মিরা। কিন্তু, মনে প্রানে চাইছিল যেন কাব্য ওর সাথে আসুক। কাব্য পিছু পিছু রান্না ঘরে গেলো। পিছন থেকে মিরাকে জরিয়ে ধরে কাধে মাথা রাখল। – আমার বউ এখন কি করছে? – ঘোড়ার আন্ডা রাধছে। – তাই। তাহলে ঘোড়ার আন্ডাটা কার জন্য রাঁধছে। – অন্য একটা ঘোড়ার জন্য। – কি আমি ঘোড়া? – এমা আমি সেটা বললাম কখন। – মানে! – মানে কিছু ছাড়োতো। না চাইতেও কাব্য হাতে ছাড়িয়ে নিল। – আহহহ.. – এই এই কি হলো? কাব্যর হাত ছাড়ানোর সময় কাব্য হাতে ব্যাথা পেলো। মিরা ধড়ফড় করে ঘুরল। উড়াল দিয়ে যেন কাব্যর কাছে গেলো। – একটু সাবধানে থাকতে পারো না। হাতে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল। – আমি কি করলাম? আমি তো শুধু তোমাকে জরিয়ে ধরেছিলাম। তুমিইতো… – সরি.. মন খারাপ করে বলল। – আচ্ছা এই নাও ধরো। বলে কাব্যর দুই হাত নিজের পেটের উপর রাখল। কাব্য মিরাকে পিছন দিক থেকে জরিয়ে ধরে থাকল। আর মিরা রান্না করতে লাগল। মিরা কাব্যর দুষ্টুমি গুলো খুব কষ্টে হজম করছে। কাব্য মাঝে মাঝে খালি পেটে হাত স্লাইড করছে। তো আবার গাড়ে নাক ঘসছে। রান্না শেষে মিরা টেবিলে খাবার সাজালো। কাব্যের সামনে প্লেট রেখে খাবার বেড়ে দিল। – কি হলো না খেয়ে বসে আছো কেনো? – খাবো কি করে হাত তো ব্যান্ডেজ করা। মুখ গোমড়া করে বলল। – তো। আমি কি জানি? তুমি কি করে খাবে সেটা তুমিই জানো? – আচ্ছা, খাচ্ছি। কাব্য খাওয়ার জন্য হাত ধুবে এমন সময়, – এই স্টপ, যেখানে আছে সেখানেই রাখো হাত। পাগল নাকি তুমি? হাত কাটা তাও তুমি হাত ধুতে যাচ্ছিলে… – তুমি তো বললে.. – তো, বললেই করতে হবে সেটা। হা করো… আদেশের স্বরে বলল। মিরা কাব্যকে খাইয়ে দিতে লাগল। নিজেও খেতে লাগল।খাওয়া শেষে কাব্যকে ব্যাথার ঔষধ খাইয়ে দিল দিল মিরা। ( ৭ দিন পর) কাব্যর হাত এখন পুরোপুরি ভালো। অফিসে বসে আছে কাব্য। সেই মেয়েটা আর কল করেনি। ভাবতেই ভাবতেই ফোন বেজে উঠল। নাম্বারটা দেখেই কাব্য প্রচন্ড রেগে গেলো। ফোন রিসিভ করেই বলতে শুরু করল, – এই মেয়ে কি চাস তুই? কিসের শত্রুটা তোর আমার আর মিরার সাথে? [প্রচন্ড রেগে] – মিঃ কাব্য, রিল্যাক্স। আপনি তো দেখছি অতিরিক্ত বউ পাগলা। – মাইন্ড ইওর লেঙুয়েজ। – ওকে, ওকে। বাট সেটা বলতেই হচ্ছে। মিরা আপনাকে ওর ভালোবাসার আর ভুলভাল বুঝিয়ে বোকা বানিয়ে দিলো। হাহাহা.. – মিরা সম্পর্কে একটা কথাও বললে.. – রিলেক্স, রিলেক্স। আপনি কিন্তু, সত্যিই বউ পাগলা। আরে মিঃ বউ একটা আরেকটা পাবেন। একটা নষ্টা মেয়ের সাথে সংসার করে কি পাবেন? – হেই, আই সে মাইন্ড ইওর লেঙুয়েজ। মিরাকে নষ্টা বলার তুই কে? হ্যা। তুই নিজেও তো একটা হিংসুটে। আমাদের ভালোবাসার মাঝে কেনো আসছিস তুই? [অতিরিক্ত রেগে গেল কাব্য] – ভালোবাসা? হাসালেন। আমারতো মনে হয় এটা একতরফা ভালোবাসা। শুধু আপনিই ভালোবাসেন মিরাকে। মিরা না। আর আপনার এই অন্ধ ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে মিরা অন্য লোকের সাথে মজা নিয়ে বেড়াচ্ছে। – আই কিল ইউ। – ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। বিশ্বাস না হলে মিরার অফিসে এসে দেখে নিন আপনার ভালোবাসা মিরাকে। টুত.টুত..টু.. কাব্য কিছু বলার আগেই ফোন কেটে দিল মেয়েটার। কাব্যর মেজাজ বিগড়ে গেলো। কি চায় এই মেয়েটা? এতো খারাপ মেয়েও হতে পারে। আর কি বলল? মিরাকে দেখতে যেতে। মানে মিরার কোন বিপদ হয়নি তো। অসম্ভব.. মিরা কিছু হতেই পারে না। কাব্য গাড়ি নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ল। উদ্দেশ্য মিরার অফিস। কিন্তু, পথ যেনো ফুরাচ্ছেই না। তখনই আবার ফোন করল মেয়েটা। কাব্য রাগে ফোন কেটে দিল। একের পর এক ফোন করেই যাচ্ছে মেয়েটা। বিরক্ত হয়ে ফোন রিসিভ করল কাব্য, – দেখ মিরার কিছু হলে ছাড়ব না তোকে। ছেড়ে দে মিরাকে.. – ছেড়ে দিবো মানে। – মানে, তুই নিশ্চয়ই মিরাকে আঠকে রেখেছিস। – হা হা হা, হাসালেন। মিরা তো এখন সুখের সাগরে ভাসছে। আকাশের অফিসে এসে সোজা আকাশের রুমে চলে যান। দেখতে পাবেন মিরা সেই সুখ। ফোন কেটে দিল। – হ্যলো হ্যালো। কাব্য বুঝতে পারল ফোন কেটে দিয়েছে মেয়েটা। কাব্য যতপারে স্পিডে গাড়ি ড্রাইভ করছে । কাব্য অফিসের সামনে এসে দৌড়ে অফিসে ডুকল। সিকিউরিটি চাইলেও আঠকাতে পারল না। কাব্য একটা ছেলেকে জিজ্ঞেস করল, – আকাশের রুম কোনটা? ছেলেটা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। রুমের সামনে গিয়ে দরজা পুস করে ডুকতেই আকাশ ভেঙে পড়ল মাথায়। কি দেখছে এটা? ধপ করে পড়ে গেলো। মিরা আর আকাশ তখন লিপ কিস করায় ব্যস্ত। – মিরাআআ… সজোরে চিৎকার করল


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২২০১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোমান্টিক গল্প
→ অসাধারণ একটি রোমান্টিক প্রমের গল্প
→ গল্পটা একটু রোমান্টিক
→ সচেতন মূলক রোমান্টিক গল্প
→ গল্পটা একটু রোমান্টিক
→ গল্পটা একটু রোমান্টিক
→ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
→ রোমান্টিক ভালবাসার গল্প
→ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
→ রোমান্টিক গল্প
→ রোমান্টিক গল্প
→ একটি রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
→ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now