বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"ছায়াশহর"
লেখক : রাকিব হাসান
পর্ব ৭
এখুনি বেরিয়ে যেতে হবে, এই ঘর
ছেড়ে', নিজের মনে মনে বললাম, '
এই ঘরটা আমায় মনে হচ্ছে পাগল
করে দেবে।'
সবকিছুরই একটা যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা
থাকে।
' শান্ত হও, রেজা, শান্ত হও', নিজের
মনকে নিজেই শাসন করলাম।
জামাকাপড় পরে ঘরের বাইরে
বেরিয়ে দেখি, সুজাও
জামাকাপড় পরে রেডি।
ওর পেছন পেছন বারান্দা ধরে
এগোলাম। সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ের
কাছে এসে সেই কাপড়ের স্তুপগুলো
দেখে মেয়েটার কথা মনে পড়ল।
মনে পড়ল, প্রথম দিন জানলার ধারে
দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছেলেটার
কথা। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয়
যে আমরা কেউই এই নতুন
জায়গাটাকে মেনে নিতে
পারছি না। মা আর বাবার কথাই হয়ত
ঠিক। আমরা অতিকল্পনা করে
ফেলছি।
হ্যাঁ, এগুলো কল্পনা ছাড়া আর কি?
বাইরে বেরিয়ে কিটুকে নিয়ে
পেছনের আঙিনায় চলে এলাম
দুজনে। সবসময়েই যা করে, এখনো তাই
করল। কাদা লাগা পা নিয়ে
গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া, দুজনকে
ঘিরে নেচে নেচে ঘোরা,
আনন্দে ঘেউঘেউ করা এইরকম কত কি।
ওর আচরণে সামান্য হালকা হল মন।
বাইরে আঠা আঠা গরম, মেঘলা
আকাশ। একটুও বাতাস নেই, ভারী।
গাছগুলো মূর্তির মত স্থির।
খোয়া বিছনো ড্রাইভওয়ে ধরে
রাস্তার দিকে এগোলাম।
মাটিতে বিছিয়ে রয়েছে
বাদামী ঝরা পাতা। আমাদের
জুতোর নীচে পড়ছে সেগুলো।
আমাদের পাশে এঁকেবেঁকে
দৌড়ে চলেছে কিটু। কখনো আমার
পাশেপাশে, কখনো সুজার
পাশেপাশে, কখনো সামনে, কখনো
পেছনে দৌড়ে চলেছে।
আমি বললাম, " আমার মনে হয়, ওর
অবস্থাও আমাদের মতই। পুরনো
জায়গার স্মৃতি ভুলতে পারছে না।"
মুখ বাঁকাল সুজা। মোড়ের কাছে
দাঁড়িয়ে আমরা ঘাড় ঘুরিয়ে
আমাদের বাড়িটাকে দেখলাম।
বাড়ির দোতলার বড় বড় ঐ জানলা
দুটোকে মনে হচ্ছে বাড়িটার দুটো
চোখ। আমাদের দিকে চেয়ে
ব্যঙ্গভরে হাসছে যেন। এই প্রথম লক্ষ্য
করলাম, আমাদের পাশের বাড়িটাও
আমাদের বাড়িটার সমান । পার্থক্য
একটাই, আমাদের বাড়িটা ইঁটের
তৈরি, পাশেরটা পাথরের ।
লিভিং রুমের পর্দা টানা। ওপর
তলার কয়েকটা জানলা বন্ধ। বড় বড়
গাছ ঐ বাড়িটাকেও অন্ধকার করে
রেখেছে। " কোনদিকে যাব
আমরা?", বলতে বলতে সুজা একটা
ছোট ডাল কুড়িয়ে নিয়ে ছুঁড়ে দিল,
কিটুকে দিয়ে কুড়িয়ে আনার জন্য।
রাস্তার দিকে দেখালাম। বললাম,
" চল, স্কুলটা তো ঐদিকে, দেখি
ওখানে কাউকে পাওয়া যায়
কিনা।" পাহাড়ের ঢাল বেয়ে
উঠে গেছে রাস্তাটা। পথের পাশ
থেকে একটা ডাল কুড়িয়ে নিয়ে
সুজা হাঁটার লাঠির মতো ব্যবহার
করল। ওটাতে ভর দিয়ে ওপরে উঠতে
লাগল ও আর কিটু ওটা বারবার
কামড়াবার চেষ্টা করতে লাগল।
রাস্তায় কিংবা কোনও বাড়ির
আঙিনায় একজন মানুষকেও দেখলাম
না। এমনকি একটা গাড়িও গেল না
রাস্তা দিয়ে।
পুরো শহরটাই যখন জনহীন ভাবতে শুরু
করেছি ঠিক সেই সময় পাশের
পাতাবাহার গাছটার বেড়ার
ওপাশ থেকে বেরিয়ে এল একটা
ছেলে। এমন হঠাৎ করে বেরোল যে
আমি আর সুজা দুজনেই থমকে
গেলাম।
" হাই" বলে লাজুক ভঙ্গিতে
আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত
নাড়ল ছেলেটা। " হাই", আমরাও
পালটা সম্ভাষণ করলাম। আমরা
বাধা দেবার আগেই ছেলেটার
দিকে দৌড়ে গেল কিটু, ওর জুতো
শুঁকল, তারপর ওর দিকে তাকিয়ে
কেমন একরকম ভাবে ঘেউ ঘেউ শুরু
করল। পিছিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষার
ভঙ্গিতে হাত তুলল ছেলেটা।
" কিটু থামবি!", চেঁচিয়ে বললাম।
সুজা এগিয়ে গিয়ে কিটুকে দুই
হাতে তুলে নিল।
" কামড়াবে না",ছেলেটাকে
আশ্বস্ত করতে চাইলাম।
" না, না, ঠিক আছে", কিটুর দিকে
তাকিয়ে জবাব দিল ছেলেটা।
শরীর মুচড়ে সুজার কোল থেকে
নেমে যেতে চাইছে কিটু।
ছেলেটা বলল, " আমার গায়ে
বোধহয় কোনও কিছুর গন্ধ পেয়েছে।"
" কিটু থাম, বলছি", কড়া গলায় ধমক
দিলাম কুকুরটাকে। কিন্তু কিটু
কোনও বাধাই মানছে না। নামবার
জন্য শরীরটাকে মুচড়েই চলেছে।
আমি বললাম, " এমন করতে থাকলে
শেকল পরিয়ে দেব কিন্তু। "
ছেলেটার দিকে তাকালাম।
মাথায় ঢেউ খেলানো সোনালী
চুল, ফ্যাকাসে মুখটা, নীল দুটি চোখ,
গম্ভীর মুখে নাকটা কেমন
বেমানান। গায়ে গরম কাপড়ের
লম্বা হাতাওয়ালা জামা, কালো
জিনসের প্যান্ট। এই প্রচণ্ড গরমে
শীতকালের পোশাক কেন পরেছে
ছেলেটা, বুঝতে পারলাম না। নীল
একটা বেসবল ক্যাপ গুঁজে রেখেছে
প্যান্টের পেছনের পকেটে। " আমি
রেজা মুরাদ", আমার পরিচয় দিতে
গিয়ে বললাম, " ও আমার ভাই সুজা।"
দ্বিধাগ্রস্তভাবে কিটুকে
মাটিতে নামাল সুজা। আরেকবার
ছেলেটার দিকে ঘাউ করে ডেকে
উঠল কিটু, মৃদুস্বরে গোঙাল, তারপর
রাস্তার পাশে বসে গা চুলকোতে
লাগল।
" আমি হ্যারি ব্যানার", দুই হাত
জিনসের পকেটে ঢোকাল
ছেলেটা। কিটু চেঁচামেচি
থামাতে একটু যেন স্বস্তি
ফিরেছে ওর, তবে এখনো সতর্ক
চোখে কিটুর দিকে তাকিয়ে
রয়েছে। হঠাৎ করেই আমার মনে হল,
আমি যেন এই ছেলেটাকে মানে
হ্যারি ব্যানারকে কোথায়
দেখেছি। খুব পরিচিত লাগছে
ওকে। কিন্তু ঠিক কোথায় দেখেছি,
মনে করতে পারলাম না; আর এটাই
আমার অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল। আমি
ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে
রইলাম, যতক্ষণ না চিনতে পারলাম।
আচমকা একটা ভয় আমায় চেপে ধরল।
হাঁ করে চেয়ে রইলাম ওর দিকে।
এইবার মনে পড়েছে। এই
ছেলেটাকেই তো আমার ঘরে
দু'বার দেখেছিলাম আমি। একবার
বাড়ি দেখতে এসে, আর একবার
গতকাল নতুন বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে
ওপরের ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে
ছিল। হ্যাঁ....এ তো ঐ ছেলেটাই! "
তুমি!", রুক্ষকন্ঠে বলে উঠলাম, " তুমি
আমাদের বাড়িতে ঢুকেছিলে?"
দ্বিধান্বিত মনে হল ছেলেটাকে।
অবাক হয়ে বলল, " কোথায়? "
" আমাদের বাড়িতে। আমার ঘরে।
ঠিক?"
হেসে উঠল হ্যারি।
কিটু এতক্ষণ গা চুলকোচ্ছিল, ওর
ঐভাবে হেসে ওঠায় ওর দিকে
তাকিয়ে আবার চাপা গর্জন করে
উঠল।
" মনে হচ্ছে, আমি তোমায় আমাদের
বাড়িতে দেখেছি", মুখে কথাটা
বললেও নিজের দৃষ্টিশক্তির ওপর
সন্দেহ জাগতে শুরু করেছে আমার।
" বহুকাল আমি তোমাদের বাড়িতে
যাইনি", কিটুর দিকে সতর্ক চোখে
তাকিয়ে বলল হ্যারি।
" বহুকাল? "
" হ্যাঁ। আমি আগে ওখানেই
থাকতাম।" " তাই?", আমি আর সুজা
অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম হ্যারির
দিকে। মাথা ঝাঁকাল হ্যারি। "
হ্যাঁ, প্রথমে এসে ওখানেই
উঠেছিলাম আমরা। ছোট একটা
চ্যাপটা পাথর কুড়িয়ে নিয়ে
রাস্তার দিকে ছুঁড়ে মারল হ্যারি।
ভারী মেঘের স্তর আকাশের
অনেকটা নীচে নেমে এসেছে।
কালো হচ্ছে ক্রমশ। " এখন কোথায়
থাক?", ছেলেটাকে জিজ্ঞেস
করলাম। আরেকটা পাথর ছুঁড়ে দিয়ে
রাস্তার দিকে দেখাল ও। " আমাদের বাড়িটা কি
তোমার
পছন্দ?" সুজা জিজ্ঞেস করল।
" হ্যাঁ", জবাব দিল হ্যারি, " খুব ভাল।
প্রচুর গাছপালা, ছায়ায় ঢাকা...."
কিটুকে আজ যেন বেঁধে রাখা
যাচ্ছে না কিছুতেই। সমানে
তেড়ে তেড়ে যেতে চাইছে
হ্যারির দিকে। " না, আর তোকে
না বেঁধে পারলাম না", সুজা
বিরক্ত হয়ে বলল।
আমি চেপে ধরলাম কিটুকে, সুজা
শেকল আটকে দিল ওর গলায়।
" সত্যি বলছি, আগে কখনো এরকম
করেনি ও", কৈফিয়তের সুরে বললাম
হ্যারিকে। " তোমাদের বাড়ি
কোথায়? ", সুজা জিজ্ঞেস করল
হ্যারিকে, " চলো, তোমাদের
বাড়িতে যাই।"
মাথা নাড়ল হ্যারি। " না, এখন যাব
না।"
" গেল কোথায় সব এ শহরের সব
লোকজন "?, রাস্তার এমাথা থেকে
ওমাথা পর্যন্ত তাকালাম আমি। "
একেবারে মৃত শহর মনে হচ্ছে।"
" হ্যাঁ। মৃতই, " আমায় চমকে দিয়ে বলে
উঠল হ্যারি। তারপরেই যেন প্রসঙ্গ
বদলানোর জন্য বলল, " স্কুলের পেছনে
প্লে গ্রাউন্ড আছে। যাবে
ওখানে?" " যাব", রাজি হয়ে গিয়ে
বললাম। এগিয়ে চললাম আমরা।
হ্যারির কয়েক ফুট পেছনে আমি।
আমার পেছনে, একহাতে ছড়ি আর
অন্যহাতে কুকুরের শেকল ধরে
এগিয়ে আসছে সুজা। বড় যন্ত্রণা
দিচ্ছে কিটু আজ সুজাকে। শেকল
বাঁধা অবস্থায় একবার এদিক,
আরেকবার ওদিক করছে।
মোড় ঘুরতেই নজরে পড়ল
ছেলেমেয়েগুলোকে। সংখ্যায় দশ
বারোজন হবে। সব আমাদেরই বয়সী ;
দলটায় ছেলেই বেশী, মেয়ে কম।
পরস্পরে হাসাহাসি, ঢলাঢলি
করছে। পরনে ওদের গাঢ় রঙের টি
শার্ট আর জিনস। একটা মেয়েকে ঝট
করে চোখে পড়ে; কারণ ওর
মাথাভর্তি সোনালী চুল আর পরনে
গাঢ় সবুজ ফ্রক।
" আরে দেখো!", ওদের মধ্যে কালো
লম্বা চুলওয়ালা একজন আমাদের
দিকে আঙুল তুলে দেখাল।
হ্যারির সঙ্গে আমাদের দেখে
ওরা একটু শান্ত হলো, কিন্তু এগোন
বন্ধ করল না। কেউ কেউ দেখা
যাচ্ছে অকারণে হাসছে, কেউ
কেউ মনে হচ্ছে কোনও হাসির স্মৃতি
মনে পড়ায় হাসছে। বিচিত্র!
আশ্চর্য! ওদের দেখে কিটুর তর্জন
গর্জন যেন আরো বেড়ে গেল।
" কেমন চলছে হ্যারি?", দলের মধ্যে
থেকে ছোট করে ছাঁটা চুলওয়ালা
একটা মেয়ে হ্যারিকে জিজ্ঞেস
করল। মেয়েটাকে দেখে আবার
চমকে উঠলাম। এই মেয়েটাকেও
কোথায় যেন দেখেছি মনে হচ্ছে!
" খারাপ না",হ্যারি জবাব দিল।
তারপর আমাদের দেখিয়ে বলল, "
এরা আমাদের নতুন বন্ধু। এই জায়গায়
নতুন এসেছে।"
ওদের মধ্যে থেকে কালো
চুলওয়ালা একটা ছেলে ' হাই'
বলতেই বাকিরা সবাই হেসে উঠল।
যেন দারুণ একটা মজার কথা বলে
ফেলেছে ও।
আমরাও ' হাই' বললাম বটে, কিন্তু
কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল। তার ওপর
কিটুর ঘেউঘেউ আর তীব্র ছটফটানি
অস্বস্তিটা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ওকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে
সুজা। " ওর নাম টমাস হার্ডি", লাল
চুলওয়ালা ছেলেটাকে দেখিয়ে
বলল হ্যারি। মাথা ঝাঁকাল
ছেলেটা। হ্যারি পরিচয়পর্ব দিতে
লাগল " ও জিম বাটলার....ও এরিকা
গার্ডনার....ও টনি এরিকসন...." একে
একে প্রতিটা ছেলেমেয়েকে
দেখিয়ে নাম বলে গেল হ্যারি।
নামগুলো যথাসম্ভব মনে রাখার
চেষ্টা করলাম।
" গ্রীন ভ্যালি কেমন লাগছে
তোমাদের?",ভিড়ের মধ্যে থেকে
একটা মেয়ে জিজ্ঞেস করল।
" এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না", জবাব
দিলাম, " তবে ভাল লাগানোর
চেষ্টা করছি। এখানে আজ আমাদের
প্রথম দিন।" আবার হেসে উঠল ওরা।
একথাটায় মজাটা কোথায় বুঝতে
পারলাম না। নাকি অকারনেই
হাঁদার মতো হাসে এরা?
" কি জাতের কুকুর ওটা?" সুজাকে
জিজ্ঞেস করল টমাস হার্ডি নামের
ছেলেটা।
" টেরিয়ার", কিটুর শেকলটা ধরে
রেখে ছোট্ট উত্তর দিল সুজা। কঠিন
দৃষ্টিতে কিটুর দিকে তাকিয়ে
আছে ওরা। বুঝতে পারছি, কুকুরটাকে
পছন্দ করতে পারছে না ও। এরিকা
গার্ডনার নামের মেয়েটা বেশ
সুন্দরী আর লম্বা। এগিয়ে এসে
আমায় বলল, " তোমাদের ঐ বাড়িতে
আগে আমরা থাকতাম।"
কি? ভুল শুনলাম নাকি?
ঐ একই বাড়িতে হ্যারি থেকেছে,
এরিকাও থেকেছে! এর মানে!
এরিকা কি সত্যি বলছে না
রসিকতা করছে আমার সাথে?
আমি কিছু প্রশ্ন করার আগেই এরিকা
দলের কাছে ফিরে গেল।
তারপর? হ্যাঁ, চক্র। ওরা আমাদের
ঘিরে একটা চক্র তৈরি করল।
ব্যাপারটা ভাল লাগল না আমার।
মনে হতে লাগল, অদ্ভুত কিছু ঘটতে
যাচ্ছে আমাদের সাথে। হ্যাঁ,
মারাত্মক কিছু। এটাও কি আমি
অতিকল্পনা করে ফেলছি?
হঠাৎ ছেলেমেয়েগুলোকে কেমন
অন্যরকম মনে হল আমার। সবাই কেমন
চুপচাপ হয়ে গেছে। কেমন বদলে
গেছে ওদের চোখ মুখ, হাবভাব।
বিপদের আশঙ্কা করছি। দুটো
ছেলের হাতে বেসবল ব্যাট। সবুজ
পোশাক পরা, ছোট করে ছাঁটা
চুলের মেয়েটা আমাদের
আপাদমস্তক দেখে কি যেন বোঝার
চেষ্টা করছে।
পুরো জায়গাটা কেমন নির্জন হয়ে
গেছে হঠাৎ। কেউ কোনও কথা
বলছে না। কোথাও আর কোনও শব্দ
নেই, একমাত্র কিটুর মোলায়েম
গোঙানি ছাড়া।
এবার আমি সত্যিই ভয় পেলাম।
এভাবে এরা আমাদের দিকে স্থির
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কেন?
হ্যারির দিকে তাকালাম। ওর
চোখেমুখে কোনও ভাবান্তর
দেখলাম না। তবে আমার দিকে
তাকাচ্ছে না। " এই শোন", এবার
আমি বলে উঠলাম, " কি হচ্ছে এসব? ",
কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা
করেও পারলাম না। কেঁপে উঠল
গলার স্বর অজান্তেই।
সুজার দিকে তাকালাম। ও কিটুকে
সামলাতেই ব্যস্ত। চারপাশে কি
ঘটছে না ঘটছে, হুঁশই নেই ওর।
আমাদের আরেকটু কাছে এসে
বেসবল ব্যাট উঁচু করল ছেলেদুটো।
আমাদের ঘিরে থাকা
ছেলেমেয়েদুটোর দিকে
তাকালাম আমি। ভয় যেন গলা
টিপে ধরেছে আমার।
ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে চক্রটা।
আমাদের কিছু একটা করবে
ছেলেমেয়েগুলো। ওদের উদ্দেশ্য
ভাল নয়।
মাথার ওপর কালো মেঘ আরও নীচে
নামল। বাতাস ভেজা ভেজা,
ভারী। আরও ছোট হল চক্রটা। লক্ষ্য
করলাম, ছেলেমেয়েগুলোর
চোখেমুখে কেমন একটা ক্ষুধার্ত বন্য
পশুর মতো ভাব ফুটে উঠেছে।
দম আটকে আসছে আমার। লম্বা দম
নিয়ে মুখ ফাঁক করলাম চিৎকার করার
জন্য।
(চলবে....)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now