বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিলিন্ডারের আত্নকথন

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান কুড়েঁর বাদশা (০ পয়েন্ট)

X পরিচয়কাহন। ভাই দাড়ান! আমাকে আর রিফাইনারিতে নিয়েন না। আমাকে দিয়ে আর হবে না। আর কত মানুষের আমি বিপদ দেখবো? আমার এই জীবনে যা ঘটছে আমি আর তার রিপিট চাই না। আমার জীবনে কি ঘটছে তা তা কেবল আমিই জানি। তবে আপনার কি এই অধমের কাহিনি জানতে ইচ্ছা করছে? জানতে ইচ্ছা হইলে এবার শুনেন তাইলে। প্রথমেই আমার পরিচয় জানান দেই। আমি একটা নগন্য গ্যাস সিলিন্ডার। আমার নামডা বলতেছিনা (তবে একটা ক্লু দেই, আমি হইলাম বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান সেলার গ্যাস সিলিন্ডার। এখন আপনে এড দেইখা বুইজা লন আমি কেডা )। আমার বয়স নয় বছর হতে চলল। তবে রং আর বার্নিশের আশির্বাদে আমি এখনো টুকটুকা যুবতি। বাইরে চকচক করলেও ভেতরে আমার অবস্থা অনেক খারাপ। বডির ভেতরে সব নস্ট হয়া গেছে। যেকোনো সময়ে আমি ব্লাস্ট হইয়া দুর্ঘটনা ঘটাইতে পারি। সেই পাওয়ার আমার আছে। যাইহোক, এমনি প্রতিদিনের মতো একদিন সকালে রোইদের আলোয় দোকানের বাইরে দাড়ায়া আছি। এমন সময় একজন লোক দৌড়াইয়া দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার নিতে আসলো। বাড়িতে রান্না চড়তেছে এমন সময় তার গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। দোকানের মালিক বলল আপনের যেডা ভাল্লাগে সেটা নিয়া চইলা যান। পরে টাকা দিয়েন। লোকটা সিলিন্ডার দেখতে লাগলো। সবগুলা সিলিন্ডার দেইখা আমার দিকে তাকায়া বলল, এইটা তো একটু নতুন নতুন লাগে, এইটাই নিয়া যাই। আমি তখন মনে মনে বলতেছি আরে বলদ আমার তলায় দেখ আমার মেয়াদ উত্তির্নের তারিখ কত দেওয়া আছে। দেখলে টাসকি খায়া পড়ে যাবি। তবে লোকটা আমার কোনো কথা শুনতে পেল না। সে শুনলো দোকানদারের কথা। দোকানদার তাকে বলল, হ হ ভাই, এইটাই নিয়া যান, এক্কেবারে ইনটেক মাল। লোকটা হেসে উঠলো, মনে হয় ইনটেক মাল কেনার আনন্দ হচ্ছে। লোকটা একটা রিকশা ডাকলো। আমি মনে মনে ভাবতেছি, আরে শালা আমারে নিস না। আমাকে নিলে রিকশাতেই তোর ভবলীলা সাঙ্গ হয়া যাবে। যাইহোক শেষপর্যন্ত কোনো লিলাই হলো না। সহি সালামতে আমরা বাড়িতে গিয়া পৌছালাম। কিন্তু বাড়িতে গিয়া ঘটলো বিপদ , রিকশা থেকে নামাতে গিয়া আমাকে দিলো ফেলে। এমনিতেই আমার ফিটনেছের যেই অবস্থা। আমার তো কলকব্জা সব ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি ফাটলাম না। আমাকে অন্দরমহলে ঢুকানো হলো। বাড়ির ভেতরে যাওয়ার পর দেখি অবস্থা খারাপ। বাড়ির বাইরের বাতাস ঢোকার কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি ধোঁয়া যাওয়ারও তেমন জায়গা নেই। তার উপর আবার আমাকে রাখা হলো কাত করে। এরপরে রান্নার চুলার সাথে আমাকে কানেক্টেড করা হলো। যেই পাইপ দিয়া চুলার সাথে আমারে লাগানো হলো মনে হয় তার বয়স আমার থেকেও বেশী। আমার তো জানে আস্তে আস্তে ভয় ঢুকতে শুরু করলো। এরকম পরিবেশে সুস্থ সিলিন্ডারও ব্লাস্ট হতে পারে। আর আমার তো কলকব্জারই ঠিক নাই। আমি খালি আল্লার কাছে প্রার্থনা করতে লাগলাম, হে আল্লাহ! যেন আবার বাস্ট না হয়ে যাই! সেইদিন। আজ আমার এই বাড়িতে থাকার বিশতম দিন। এতদিনে বাড়ির সবার সাথেই আমার মোটামুটি পরিচয় হয়ে গেছে। লোকটার একছেলে একমেয়ে। ছেলেটা দেশের বাইরে থাকে আর মেয়েটার বিয়ে গেছে। মনে হয় এতদিন এই বাসায় কম কম রান্না হয়েছে আজকের দিনে তা উশুল হবে বলে। আজকে লোকটা আর তার বউয়ের মনে খুব আনন্দ। লোকটার বউকে আমি আবার বেগম সাহেবা বলে ডাকি। আজকে লোকটার বড়মেয়ে জামাই নিয়া আসতেছে। বাড়িতে চরম রান্নাবাড়ির আয়োজন হবে। খাওয়াদাওয়া হবে। তাই আজকে আমার উপর চাপ অনেক বেশি। কিন্তু আজ সকাল থেকেই আমার শরীরটা খারাপ লাগছে। কেন যানি না মনে খালি কুকু করছে কোনো বিপদ না জানি ঘটবে। বেগম সাহেবা একের পর এক আইটেম বসিয়েই যাচ্ছে আর আমার একটা একটা করে হাড্ডি খুলে পড়ছে। ভেতরে খালি চাপ বেড়েই চলেছে। আমি আর আমার শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলাম না। এতো চাপ সহ্য না করতে পেরে শেষপর্যন্ত আমি গ্যাস ছাড়া শুরু করলাম। এটা হলো ফার্স্ট ওয়ার্নিং। এর অর্থ হলো এখন রান্না বন্ধ কর আর বাঁচতে চাইলে আমার কাছ থেকে পালা, আগে জীবন পরে রান্না। কিন্তু আমার দেয়া ওয়ার্নিং কেউ শুনলো না। একজন অবশ্য বললো সে কিসের যেন গন্ধ পাচ্ছে। তার কথা অবশ্য কেউ দাম দিলো না। আরেকজন আবার বললো, বাড়াক গন্ধ কোনো সমস্যা নেই। গন্ধ শুকতে শুকতে রান্না হবে। ওনারা একদিকে গন্ধ শুকতে শুকতে রান্না করছে আর এদিকে আমার অবস্থা আরো খারাপ হতে চললো। আমার ভেতরে আগুনে জ্বলে যাচ্ছে। আমার শরীরে তীব্র ব্যাথা হতে শুরু করলো। সারাঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লো। আমি পটপট শব্দ করতে লাগলাম। এদিকে রান্না সবেমাত্র শেষ হয়েছে। এইমুহূর্তে আমার সামনে আছে কেবল বেগম সাহেবা আর দুইটা ছোট ছোট মেয়ে। দুইজনের বয়স মোটামুটি তিন-চার বছর। মনে হয় এরা লোকটার বড়মেয়ের কন্যাগন। আমি তাদেরকে জোরে জোরে বললাম তোমরা তাড়াতাড়ি চলে যাও। আমি যখন তখন বাস্ট হয়ে যেতে পারি। তোমরা তাড়াতাড়ি রান্নাঘর থেকে বের হও। এদিকে এমন সময়ে বেগম সাহেবা মনে হয় বুঝতে পারছেন যে আমার ভিতরে কিছু একটা হচ্ছে। তিনি সমস্যাটা বোঝার জন্য কৌতুহলের সাথে আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমি তাকে মানা করতেছি কিন্তু তিনি তা শুনতে পাচ্ছে না। এদিকে আমি ব্লাস্ট হয়ে যাব যাব অবস্থা। এখন আমার কি করার আমি কিছুই বুঝতে পারতেছিনা। শেষপর্যন্ত কেউ আমার কথা শুনলো না। একসময় আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে আমি ব্লাস্ট হয়ে গেলাম। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলো দুইটা বাচ্চা আর বেগম সাহেবা। পরেরদিন বাংলাদেশের নিউজপেপারগুলোতে শিরোনাম হলাম আমরা। "রাজধানীর বাড়িধারায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু।" পাদটিকা। আমি যে ব্লাস্ট হবো তার আগে আমি কিছু লক্ষণ প্রকাশ করি। আমি তো আর মুখে কথা বলতে পারি না, তাই এগুলা দিয়া মানুষকে বোঝাই আমি ব্লাস্ট হতে চলেছি, তোমরা পালাও.... ১. ব্লাস্ট হওয়ার আগে সাধারনত আমি অনেক বিচ্ছিরি গন্ধ ছাড়ি। অতএব ঘরে গ্যাসের তীব্র গন্ধ পেলেই বুঝে যান যে আমি এবার যাবো! ২. আমি ফাটতে যাচ্ছি ( বা ফাটতে পারি) আপনার মনে এধরনের সন্দেহ হলে তাড়াতাড়ি সাবানের ফেনা তৈরি করে ফোলাতে থাকুন, যদি বাবলগুলো অনেক বেশী বড় হতে থাকে তাহলে বুঝবেন যে আমার ভবলীলা সাঙ্গ হতে চলেছে। ৩. কখনই আমাকে আছাড় বা গড়িয়ে নিবেন না, এতে আমি ফেটে যেতে পারি। ৪. আমাকে ঠিকমতো রাখার সাথে সাথে যেন আমার সাথে সংযুক্ত পাইপটিও যাতে ভালো (ত্রুটিমুক্ত) থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন ৫. সবশেষে, ভাত খাওয়ার আগে যেমন হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে ভুলবেন না, তেমনি আমাকে কেনার আগে অবশ্যই আমার ডেট দেখতে ভুলবেন না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now