বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বুড়ো ৫

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মো রাকিবুল হাসিব (০ পয়েন্ট)

X ক্যাফে পাতিসেরিতে বসে বন্ধু বদরুদোজ্জাকে বলছিলেন আহমেদ শরীফ। " বিষয়টা আমার কাছে সেদিনই আশ্চর্যের বলে ঠেকেছিলো বন্ধু। খেয়াল করো, প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকা একজন মানুষ কখনোই সেই কাজটি করবে না- যা তার কাছে অনিশ্চিত, যা সে আগে কখনোই করেনি। ধরো, তুমি যদি প্রচন্ড মানসিক চাপে থাকো, তুমি হয়তো তোমার পায়জামা পরেই এই ক্যাফেতে খেতে চলে আসতে পারো- মনের ভুলে। কিন্তু তুমি কখনোই অন্যের পায়জামা পরে বের হবে না বন্ধু। ... লক্ষ করো। যে মানুষ আজীবন ঘন টমেটোর স্যুপ, ব্ল্যাকবেরি টার্ট খায় নি; সে কী করে অস্থিরতার মুহুর্তে ঠিক সেই খাবারের ফরমায়েশ দেয় ?? ... তুমি বললে, সে মানসিক অশান্তিতে ছিলো। আমি বলবো, মানসিক অশান্তির সময় সে সেই খাবারই আনতে দেবে- যা সে সচরাচর খেয়ে থাকে। ঐদিনের কথা শুনেই আমার মন বুঝতে পারলো, কোথাও কোন গড়বড় রয়েছে- যেটা আমি ঠিক ধরতে পারছিলাম না। পরে তুমি আমাকে জানালে, সিদ্দিকুর রহমান, দাঁড়িওয়ালা বুড়ো আর এই ক্যাফেতে আসছে না। আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। বুঝলাম, যদি আমার আশঙ্কা সত্য হয়ে থাকে, তবে নিশ্চয়ই বুড়োর খারাপ কিছু হয়েছে। ধারণা করলাম, সে মৃত। জানা গেলো, সে রাত আটটায় খাবার খেতে এসেছিলো এই ক্যাফেতে। মৃত্যুর দুইঘন্টা পূর্বে সে খাবার খায়, রাত সাড়ে দশটা কি এগারোটার দিকে তার মৃত্যু হয়। সব কিছু মিলে যাচ্ছে। পাকস্থলির পোস্টমর্টেম, স্লিপিং গাউনের পকেটে চিঠি। সবকিছু বড় বেশি নিখুঁত, মাছ ঢাকতে শাকের পরিমাণ যেন একটু বেশিই... ভাগ্নে আশরাফ পোস্টকার্ড পাঠিয়েছে, ভাগ্নে আশরাফের নিখুঁত এলিবাই-ও রয়েছে। অথচ সেই কিন্তু সিদ্দিকুর রহমানের একমাত্র উত্তরাধিকারী। সিদ্দিকুর রহমানের রেখে যাওয়া সম্পত্তি খুব বেশি কিছু নয়। তাহলে তাকে খুন করে ডাঃ আশরাফের লাভটা কী হতে পারে ?? ... উত্তর পাওয়া যায় একটু উলটো দিকে চিন্তা করলে। রাজ্জাকুর রহমান সাহেব বিয়ে করেছিলেন বিত্তশালী বাবার মেয়েকে। অতএব, স্ত্রীর মৃত্যুর পর কিপ্টে জীবনযাপন করা রাজ্জাক সাহেব পেলেন তার সমুদয় সম্পত্তি। রাজ্জাক সাহেবের মৃত্যুর পর এই সম্পত্তির মালিক হবেন সিদ্দিক সাহেব, সিদ্দিক সাহেবের মরণের পর ডাঃ আশরাফ। এই শেকলটা মেলানোর পর বাকি সব সহজেই আন্দাজ করা গেলো। " - "কিন্তু এই সবই তো তোমার অনুমান মাত্র দোস্তো, " বদরুদোজ্জা সাহেব বললেন, " প্রমাণটা পেলে কীভাবে ?? " -" বলছি। নিজেকে ডাঃ আশরাফের জায়গায় কল্পনা কর। সে দ্রুত তার উভয় মামার মরণ কামনা করছে। দুই তারিখ দুপুরে সে রাজ্জাক সাহেবকে দেখে সে ডাক্তারি বিদ্যায় বুঝতে পারে, তিনি বড়জোর রাতটা টিকবেন। চতুর ডাঃ আশরাফ তখনি নিজের অন্য মামা সিদ্দিকুর রহমানকেও সরিয়ে দেবার নকশা আঁটে। দুই তারিখেই আশরাফ হোসেন একটা চিঠি পাঠায় নিশ্চিন্তপুর থেকে, তারিখের স্থলে দুই এর জায়গায় তিন লিখে রাখে। পরদিন দুপুরে রাজ্জাক সাহেবের মৃত্যুর খবর পেয়েই সে গাড়ি ছুটিয়ে সিদ্দিক সাহেবের বাসায় আসে। এরপর সিঁড়ির উপর থেকে ধাক্কা, সিদ্দিক সাহেবের হত্যা- রুটিনমাফিক হয়ে যায় সব। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আছে মৃত্যুর দুই ঘন্টা পূর্বে ভরপেট খেয়েছিলেন সিদ্দিক সাহেব। ঠিক, কিন্তু রাতের খাবার নয়, ওটা ছিলো দুপুরের খাবার দোস্তো !! এরপরের কাজ খুব আরো সহজ। সিদ্দিক সাহেব সেজে রাত আটটায় খেয়েদেয়ে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে যাওয়া আর নকল দাঁড়ি খুলে ফেলে জোরে গাড়ি চালিয়ে সাড়ে আটটার সময় তাসের আড্ডায় উপস্থিত হওয়া- খুব কঠিন কোন কাজ নয়, কী বলো ?? " -" কিন্তু ডাকবিভাগের খামের তারিখ ?? " বদরুদোজ্জা সাহেবের প্রশ্ন। -" সহজ ব্যাপার বন্ধু। হাত ঘুরিয়ে 02কে 03 করে দেয়া কী আর এমন কাজ। কেউ তো আর খামটা খুঁটিয়ে লক্ষও করে নি, আমি ছাড়া। ...তবে এইসব কিছু নয়, যে জিনিসটা আসলে আমার মনে প্রথম সন্দেহ জাগিয়ে তোলে, সেটা ছিলো তার দেয়া খাবারের ফরমায়েশ। আশরাফ হোসেন তার মামার সাজ, হাঁটাচলা, কথাবলা রপ্ত করেছিলো ঠিকই- কিন্তু খাদ্যভ্যাসটা নকল করতে পারেনি। আশরাফ হোসেন এই ক্যাফেতে সিদ্দিক সাহেবের বেশে খেতে এসেছিলো আসলে দুইবার। একবার খুনের রাতে, আরেকবার হচ্ছে সেই সোমবার, যে সপ্তায় আমরা খেতে এসেছিলাম। সেই সোমবারে আসবার কারণ ছিলো নিজের ছদ্মবেশ যাচাই করে নেয়া- আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়া। লক্ষ করলে দেখে থাকবে, এই দুইবারেই মানসিক ভাবে অস্থিতিশীল থাকায় সে একই রকম খাবার আনতে নির্দেশ দেয়। ডাঃ ইউনুসের দেয়া সাক্ষ্য থেকে জানা যায় সিদ্দিক সাহেবের দাঁতজোড়া ছিলো ঝকঝকে সাদা, কিন্তু আলোচ্য দুইদিনেই 'সিদ্দিক সাহেব' ক্যাফেতে এসে খেয়েছিলেন ব্ল্যাকবেরি টার্ট। হিসেবটা মেলে না কিন্তু। আর আজ দুপুরে আশরাফ হোসেনের খাওয়ার পরেই সেখানে উপস্থিত থেকে বুঝতে পারলাম, আমার সন্দেহ একদম ঠিক। পুলিশের বড়কর্তাদের সাথে খাতির থাকায় পুলিশ প্রস্তুতই ছিলো, আশরাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে তাই বেগ পেতে হলো না। ... " গোয়েন্দা আহমেদ শরীফের বক্তব্য শেষ হবার খানিক পরেই মিস ইশিতা তাঁদের টেবিলে এনে রাখলেন স্টাফ করা টার্কি আর ... আর একপাত্র ব্ল্যাকবেরি টার্ট। -"এগুলো আজ আর আমার মুখে রুচবে না। " উদাস স্বরে বললেন বদরুদ্দোজা সাহেব। " মিস ইশিতা, অনুগ্রহ করে আমায় আজকে সাদামাটা একপাত্র খিচুড়িই দিন বরং..." *******★সমাপ্ত★*******


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খানদানি আইবুড়োর কীর্তিকাহিনি [দি অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য নোবল ব্যাচেলার]
→ বুড়ো ৪
→ বুড়ো ৩
→ বুড়ো ২
→ বুড়ো ১
→ বুড়োর লম্বা দাঁড়ির কাহিনী,,,
→ ৩৭বছরের বুড়ো আর টুকটুকির মা
→ একটি অকর্মণ্য বুড়োর গল্প
→ বুড়ো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now