বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বুড়ো ৪

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মো রাকিবুল হাসিব (০ পয়েন্ট)

X পরদিন বেলা চড়বার পূর্বেই আহমেদ শরীফ গিয়ে পৌঁছলেন নতুনবাজার। রাজ্জাকুর রহমান সাহেব মৃত্যুর সময় এ বাড়িতেই ছিলেন। বাড়ির দেখাশোনা করেন রহিমা আক্তার, মোটামুটি মাঝবয়স পেরিয়ে আসা এক মহিলা। প্রয়াত রাজ্জাক সাহেবের দেখাশোনা আর রান্নার কাজটাও তিনিই করতেন। আহমেদ শরীফকে দেখে মহিলা প্রথমে বেশ আড়ষ্ট হয়ে ছিলেন। অভিজ্ঞ গোয়েন্দা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মিষ্টি কথায় খানিক পরেই গলিয়ে ফেললেন মহিলাকে। একজন 'সহানুভূতিশীল শ্রোতা' পেয়ে মহিলাও নিজের যাবতীয় কথা উগড়ে দিতে লাগলো পেটের ভেতর থেকে। গত চৌদ্দটা বছর ধরে সে রাজ্জাক সাহেবের সেবা করে আসছে। কাজটা অনেক কঠিন- সে ছাড়া অন্য কেউ হলে কবেই এই কাজের মুখে লাথি মেরে চলে যেতো !! প্রয়াত রাজ্জাক সাহেব ছিলেন খুবই নিঃসঙ্গ এবং ... লোকমুখে শোনা যায় ভদ্রলোকের প্রচুর টাকা ছিলো, কিন্তু সত্যি বলতে কী, উনি লোকটা ছিলেন একদম 'কিপ্টুস'। এই যে তিনি, রহিমা আক্তার, কত যত্ন করে এই চৌদ্দটা বছর তাকে দেখে শুনে রাখলো, বিনিময়ে তার জন্যে কি তিনি কিছু রেখে যেতে পারতেন না ?? ... অথচ তার ভাগ্যে কিছুই জুটলো না। বহু বছর আগে নাকি রাজ্জাক সাহেব এক উইল করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর সমস্ত টাকাপয়সা/জায়গাজমি পাবে তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান। সেই উইল নাকি এখনো বলবৎ আছে। সত্যিই, কী হৃদয়হীন আচরণ !! - গোয়েন্দা আহমেদ শরীফ একমত পোষণ করলেন। কিন্তু তার ভাই সিদ্দিক সাহেব নাকি সম্প্রতি এই কিপ্টে লোকটিকে- মানে, রাজ্জাক সাহেবকে- অর্থ সাহায্য করতে চেয়েছিলেন ?? ... ...এই কথায় রহিমা আক্তার অবাক হলেন। হ্যাঁ, তিনি জানতেন বটে সিদ্দিক সাহেবের কাছ হতে ডাঃ আশরাফ নামের এক লোক আজকাল আসতো রাজ্জাক সাহেবের কাছে। কিন্তু তিনি তো ভেবেছিলেন- এর আসল কারণ হচ্ছে দুই ভাই ঝগড়া ভুলে আবার একত্রিত হতে চায়। -" এই বিষয়ে রাজ্জাক সাহেবকে কিছু বলতে শোনেন নি ?? " আহমেদ শরীফ আসল প্রশ্নটি করলেন। -" উহু, তারে তো ত্যামন কিসু কইতে হুনি নাই। খালি একবার য্যান কইসিলো, 'সিদ্দিক্যা ? অমন ঝগড়াইট্যা ভাইয়ের দরকার নাই আমার '। তা এমন কতা তো মাইনষে কতই কয়... বোঝলেন, একবার ... " ... গোয়েন্দা মহাশয় প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গিয়েছিলেন। দ্রুত প্রস্থান করলেন তিনি, সৌজন্যের ধার না ধেরেই...। অতএব, দুপুরের পর গোয়েন্দা আহমেদ শরীফকে দেখা গেলো নিশ্চিন্তপুরতে, ডাঃ আশরাফের বাসা কাম চেম্বারের সামনে। দুপুরের খাওয়া শেষ করে ডাক্তার এলেন। -"আমি কিন্তু রোগী নই ডাক্তার। " বললেন আহমেদ শরীফ। " তবে হ্যাঁ, যেহেতু বয়েস হয়েছে, তাই আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। উকিল না পাঠিয়ে তাই আমি সশরীরেই এলাম। " হাবেভাবে বোঝা গেলো ডাক্তারের মাঝে কৌতূহল জাগ্রত হয়েছে। ডাঃ আশরাফ হোসেন দেখতে সাধারণ, ক্লিন শেভড- মাঝারি উচ্চতার মানুষ। " আহ, উকিল !! " ভদ্রলোকের গলার স্বরে কৌতুক, " ও ব্যাটাদের আমিও দেখতে পারি না। যা হোক, আপনার কথা আমার মাঝে আগ্রহ জাগিয়েছে মিস্টার..." -" আহমেদ শরীফ। আমি একজন বেসরকারী গোয়েন্দা। " আহমেদ শরীফ তার কার্ড এগিয়ে দিলেন। ডাঃ আশরাফ চোখ মিটমিট করলেন। -" আমার মক্কেলদের মাঝে অনেকেই মহিলা। " বললেন আহমেদ শরীফ। -" খুব স্বাভাবিক। কিন্তু তার সাথে আমার সম্পর্কটা কোথায় তা ঠিক..." -" বলছি। কয়েকদিন আমার কাছে এক ভদ্রমহিলা আসেন। তিনি বলেন, বহু বছর আগে তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তিনি আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। এই স্বামী ভদ্রলোক আর কেউ নন, আপনার প্রয়াত মামা ডাঃ আশরাফ। " -" কী যা তা বলছেন, আমার মামী- মিসেস রহমান তো বহু আগেই দেহত্যাগ করেছেন। " -" আমি মিঃ রাজ্জাকুর রহমানের কথা বলছি না ডাঃ আশরাফ, আমি বলছি মিঃ সিদ্দিকুর রহমানের কথা।" -" কী বললেন, সিদ্দিক মামা ?? কিন্তু উনি তো বিয়েই করেন নি !! " -" করেছেন ডাঃ আশরাফ, করেছেন। " চোখের পলক না ফেলে মিথ্যে বললেন আহমেদ শরীফ। "সে বিয়ের রেজিস্ট্রি করা কাগজ আমি নিজের চোখেই দেখেছি।" -" না না, এ যে অবিশ্বাস্য !! " কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন ডাঃ আশরাফ। " আপনি মিথ্যে বলছেন, সিদ্দিক মামা বিয়ে করেন নি !! " -" খুব খারাপ হলো বিষয়টা, তাই না ?? মিছেমিছি আপনি একটা খুন করলেন। " -" খুন... আমি ?? কাকে ?? " ভগ্ন স্বরে বললেন ডাঃ আশরাফ। -" সিদ্দিকুর রহমানকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করবার জন্যে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ডাঃ আশরাফ। " জানালার কাছে গিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ পুলিশের উদ্দেশ্যে হাত নাড়লেন আহমেদ শরীফ। " আর ভালো কথা, দেখতে পাচ্ছি আপনি দুপুরের খাবারেও ব্ল্যাকবেরি টার্ট খাচ্ছিলেন। এটা ঠিক যে, কালোজামে ভিটামিন আছে। কিন্তু, ডাঃ আশরাফ- জেনে নিন - কখনো কখনো এটা অব্যর্থ মারণাস্ত্র হিসেবেও কাজ করে। যেমন আপনার গলায় ফাঁসির দড়ি সেটাই পড়িয়েছে। " (please wait for next part)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খানদানি আইবুড়োর কীর্তিকাহিনি [দি অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য নোবল ব্যাচেলার]
→ বুড়ো ৫
→ বুড়ো ৩
→ বুড়ো ২
→ বুড়ো ১
→ বুড়োর লম্বা দাঁড়ির কাহিনী,,,
→ ৩৭বছরের বুড়ো আর টুকটুকির মা
→ একটি অকর্মণ্য বুড়োর গল্প
→ বুড়ো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now