বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রোনথপি ফ্যাক্ট

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান কুড়েঁর বাদশা (০ পয়েন্ট)

X • মুহিব বসে আছে। তার হাতে একটা কলম। কলমে সে কিছু লেখছে না তবে লেখছে,হাবিজাবি। গত কয়েকদিন থেকে সে এরকম করছে। ২৩ তারিখের পর থেকে তার জীবন পাল্টে গেছে। সেই সপ্নটি আজো তার মাথাটা ওলটপালট করে দিচ্ছে। ওহ্ মাথায় কিরকম চমৎকার সুক্ষ ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। মুহিবের চোখমুখ ব্যথায় কাতর হয়ে যাচ্ছে। নাহ্ আজ মুহিবের আর লেখাফেখা যাবে না। বাথরুমে ঢুকে পরলো মুহিব। ঢুকেই দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো মুহিবের। না কোথাও কোনো ক্যামেরা নেই। তবে এদের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই। এরা যা খুশি তা করতে পারে। এদের প্রতি মুহিবের আর কোনো ভরসা নেই। এই তো কিছুদিন আগেই নানার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল মুহিবের ফ্যামিলি। তখন একরাতে একটু দেরি করেই অন্য কারনে বাসায় ফিরতে হয়েছিল। বাসায় ফিরে এসে বাবা তাকে বলল সে নাকি নেশা করেছে। তার নাকি চোখ মুখ ফুলে আছে। আরে ব্যাটা নেশা করা কি এতই সোজা। চোখ মুখ তো অন্য যে কোনো কারনেই ফুলতে পারে। মুহিব বিরক্ত হয়ে পড়ল। মুহিব ভাবতে লাগলো যদি সে নেশাই করতো তাহলে কি সে রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে বসে নেশা ভান করতো। এত কম সাহস মুহিবের? না, মুহিবের বুক ভরা সাহস। মুহিবের মনে হয়ে গেলো একবার সে তার স্কুলের সমাজ স্যারকে চড় বসিয়েছিল। কারনটা খুবই সোজা। তার ব্যাগ থেকে স্যার সার্চ করে ফোন পেয়েছিলো। ফোন পেয়ে স্যার সরাসরি মুহিবের আব্বাকে ডেকে আনে স্কুলে। আব্বা খুবই রাগী মানুষ। বাসায় যেয়ে মুহিবের অবস্থা যে কি হয়েছিল তা সহজেই অনুমেয়। আরে মুহিবের ব্যাগ তাকে কে সার্চ করার অনুমতি দিলো? আচ্ছা যদিও সে সার্চ করে মোবাইল পেয়েও থাকে তাতে দোষ কি। ইউরোপ আমেরিকার প্রাইমারি স্কুলেও হাটুর সমান বাচ্চারাও ট্যাব নিয়ে যায়। মোবাইল দিয়া কি খালি রংঢং করে? মোবাইল যে একটা এডুকেশনাল টুল এটাও ব্যাটা মুর্খ যানে না। অবশ্য যানবেই বা কিভাবে ব্যাটা তো সমাজ পড়ায়। যারা সমাজ পড়ায় তারা আসলে একটু গবেট টাইপের ভরভর করা লোক হয়। এটা চিরন্তন সত্য। যাইহোক স্যার কিন্তু আসল সিক্রেটাই জানতো না। হা হা হা। মুহিব যে কতো বড় চালাক সেটা জানতে সারা দুনিয়ার মানুষের শতবর্ষ লেগে যাবে। • মুহিবের চোখ ছোটো ছোট হয়ে গেছে। তার আবার প্রচন্ড মাথাব্যথা করছে। কতদিন মুহিব বলেছে চন্দনাকে নাস্তার আগে চা দিয়ে যেতে। অবশ্য মুহিবের চা খেতে ভালো লাগে না। কফি ইজ বেটার দেন্ চা। মুহিব মনে করে চা হলো চায়নাদের খাবার। চায়নাদের খাবার বাঙালিরা খাবে কেন? বাঙালিরা খাবে বাঙাল খাবার। অবশ্য সে এবং তার চার সদস্যের পরিবারে সবাই চা খায়। না খেয়ে উপায়ও নেই। মানুষের আদিম পানের ইচ্ছা পূরনের মাধ্যম চা ও কফি। প্রতিজন সকাল বিকাল পাঁচ টাকা প্যাকেট খরচ করে কফি খাওয়া অসম্ভব। ভাইজান নাস্তা করতে আসেন। চা দিছে। আসি। দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে নেয় মুহিব। চোখ মুখ তো তার সত্যি ফোলা ফোলা। লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে থাকে মুহিব। হঠাৎ গ্লাসে দেখতে পেল একটা ক্যামেরা। পেছন ফিরলো মুহিব। নাহ্ বাড়িটা মুহিবের থাকার অনুপযুক্ত হয়ে গেছে। এই বাড়িতে মানুষ থাকে? তার আব্বা মুহিবকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাথরুমেও ক্যামেরা বসিয়েছে। এভাবে আর কত অত্যাচার সহ্য করবে মুহিব। বেটারা মনে করেছে সে বাথরুমে বসে নেশা ভান করে। কে এই কাজ করেছে মুহিব ভালো করেই জানে। এটা চন্দনা বদলীর কাজ ছাড়া আর কিছু না। সেই বাবাকে কুমন্ত্রণা দেয়। ওটাকে আজ কোনো কায়দা করে বাড়ি ছাড়া করতে হবে। মুচকি হাসলো মুহিব। চন্দনাকে বাসা থেকে হটানো মুহিবের পক্ষে কোনো ব্যাপারই না। কিরে তোকে কি তেল মাইখা আনতে হবে? যওসব বাপ ছেলে ঢং শুরু করছে। আসি। ওয়েট। মুহিব নিচে নেমে আসলো। তার চোখ মুখ তীক্ষ্ণ। ঠোট কাঁপছে তার। • আবদুল জব্বার সাহেব বসে আছে বেঞ্চিতে। ইদানিং সে নরম চেয়ার বাদ দিয়ে কাঠের আসনে বসা শুরু করেছে। এটা নাকি হাড়ের জন্য ভালো। তিনি বুঝে পান না যে জিনিসে দশ মিনিট বসে থাকলে মাজা ব্যাথা হয়ে যায় সেটা কিভাবে হাড়ের জন্য ভালো হতে পারে। তবে তিনি কখনো এসব নিয়ে মাথা ঘামান না তবে এবার মাথা ঘামাতে হচ্ছে কারন তার হাড় নাকি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। গত রবিবার ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। ডাক্তার বলেছে তার অস্টিওপরোসিস হয়েছে। হাড়ের রোগ। এতে করে রোগীর হাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা হয়। তবে অবশ্যি জব্বার সাহেবের ব্যাথা মৃদু। আবদুল জব্বার সাহেবের সামনে একটা চায়ের কাপ। লেবু চা। চায়ের কাপ থেকে ধোয়া উঠছে। ধোয়া এসে তার চোখের চশমাতে লেগে গ্লাসটিকে ঘোলা করে দিচ্ছে। তিনি চশমাটা খুলে কাপড় দিয়ে মুছলেন। তুমি কি শুরু করেছো বলতো? কি? আমার বাথরুমে ক্যামেরা সেট করেছো কেন? আমি নেশা টেশা করি নাকি দেখবে এজন্য? হ্যা আমি নেশা করি। সব নেশা করি। মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, আফিম, বাবা, চরক, ভান, ইয়াবা স্টপ। নো স্টপ। আসলে প্রকৃত নেশা করো তুমি। You are a king of smoke. মানে তুমি নেশার রাজ্যের রাজা। কি? ছেলের আকস্মিক কথার আক্রমণে তিনি কি বলবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। ছেলেটা তার কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন থেকে সে অদ্ভুত আচরন করছে। তাকে যতই নজরে নজরে রাখা হচ্ছে সে ততই বাধনহারা হয়ে যাচ্ছে। তিনি ছেলের চিন্তার ভার নিয়ে ভারে পর্যদুস্ত। রান্নাঘর থেকে মুহিবের মা আসলেন। বললেন, কি শুরু করেছিস এসব। আরে ওইটা তো ওয়েবক্যাম। ওয়েবক্যাম দিয়া বাথরুমে কি? আরে অননা কালকে আসছিলো ওইটা নিয়া। কিন্তু ওয়েবক্যাম নিয়া বাথরুমে থুইলো কেন সেটা তো আমি জানি না। সব তোমরাই জান। খালি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছ। তোমরা হচ্ছ ঘরের শত্রু বিভিষন। মুহিব আর কথা বলতে পারলো না। কথা বন্ধ হয়ে গেছে তার। মুহিবের চোখ জোড়া লাল হয়ে এসেছে। যেন এখুনি কোটর থেকে বেরিয়ে পড়বে। মাথার তীব্র যন্ত্রনা মনে হচ্ছে পায়ের গোড়ালিতে চলে গেছে। না আর দাড়ানো যাচ্ছে না। মুহিবের চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। তার চোখের সামনে এখন শুধু সাদা আর সাদা। মুহিব ভাবতে লাগলো আচ্ছা ব্যাথা কি শরীরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার হতে পারে ? মুহিব নাস্তা না খেয়েই তড়িৎবেগে উপর তলায় চলে গেল। এই হলো মুহিবের মা আনিসা বেগম। নাম তার যেমন তেমনি মানুষটাও তেমন। সহজসরল,ভোলাভালা ধরনের। সারাক্ষণ তিনি মুহিবের ব্যাপারে চিন্তিত থাকেন কিন্তু কিসের চিন্তা তারও কোনো ঠিকঠাক নাই। যে চিন্তার কোনো ঠিকঠিকানা নাই তা চিন্তা না করাই ভালো। তবে তিনি তা বুঝেন না। একবার হলো কি একরাতে মুহিবের প্রচন্ড জ্বর। সেদিন আবার মুহিবের আব্বা গেছেন কাকলীদের বাড়ি। মুহিবের ফুফুর বাসায়। তার মাথায় বাজ ভাঙ্গার মতো আওয়াজ হলো। তিনি কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। তিনি বারান্দায় চলে এলেন। ছেলের কস্ট এভাবে দেখার চাইতে তার মরে যাওয়া ভালো। এত রাতে কোনো ডাক্তারও নেই। এমন সময় ভিতরের ঘর থেকে চন্দনা চিল্লান দিলো আম্মাগো ভাইজানের মুখ দিয়া রক্ত পড়তাছে। আনিসা বেগম বেলকনিতে ছিলেন। তিনি ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।শেষরাতে তার জ্ঞান ফিরল। জ্ঞান ফিরে দেখেন মুহিবের কিছুই হয়নি। যা হওয়ার তার হয়েছে। মাটিতে পড়ার সময়ে মাথায় আঘাত লেগে জখম হয়েছে। বিভৎস অবস্থা তার মুখের। সেইরাতের কথা তার আজও মনে হয় কি বিপদটাই না তাদের গিয়েছিলো। তিনি মনে করেন আসলে এগুলা আল্লারই লীলাখেলা। তিনিই মানুষকে ফাঁড়া দেন। এক ফাড়ার পর আসে দুই ফাড়া। দানে দানে তিন ফাঁড়া। • মুহিব এখন ছাদে দাড়িয়ে। ছাদের কার্নিশে একটা পাখি বসে আছে। এটা কি পাখি মুহিব মনে করার চেষ্টা করছে। মনে করতে পারছে না মুহিব। যাক পাখির নাম মনে করে কোনো কাজ নেই। মুহিব ছাদের ধারে গেলো। কিরে কি করিস ? কিউ কিউ। তোর মন খারাপ নাকি ? চিউ চিউ। পাখিটার চোখজোড়া জ্বল জ্বল করছে। বেশ ভয়ানক ব্যাপার। মুহিবের মনে হতে লাগলো পাখিটা যেন তার সাথে কথা বলছে। পাখিটা বলছে কি স্যার ঘাস খাইবেন। প্রোটিন যুক্ত ঘাস। ঘাসে রয়েছে অনেক ডিএইচএ এবং প্রোটিন। মুহিব বলল, এসব ছাগল-পাগলের মতো কি বলিস। থাপ্পর খাবি। পাখি বলল, স্যার পাখি বলে কি আমার কোনো মানসম্মান নেই। আমাকে আপনে ছাগল পাগল বলবেন? যাইহোক স্যার এগুলা নিয়া আসলে আমি মাথা রাগাই না। মনে রাইখেন রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। মুহিব বলল, চুপ থাক। আহাম্মক। পাখি বলল, স্যার রাগ কইরেন না। থামেন আপনাকে মাথা ঠান্ডা করার একটা গল্প শুনাই। শুনেন তাইলে এক দোকানে ছিলো এক তোতা পাখি। তোতা পাখির ইংরেজি কি জানেন স্যার? মুহিব চুপ করে আছে। কোনো কথা বলছে না। পাখি বলল, তোতাপাখির ইংরেজি হলো কেকা। এখন শুনেন তাইলে, একদিন পাশের বাড়ির টিনা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে পাখির দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় একটা খাঁচার তোতাপাখি তাকে দেখে বললো, “অ্যাই আপু, আপনি দেখতে খুব কুৎসিৎ। টিনা চটে গেলেও কিছু বলল না। পরদিন সেই দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময়ও একই ঘটনা ঘটলো, পাখিটা বলে উঠলো, ‘অ্যাই আপু, আপনি দেখতে খুবই কুৎসিত!’ টিনা দাঁতে দাঁত চেপে হজম করে গেল। তার পরদিন সেই দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময়ও পাখিটা বলে উঠলো, ‘অ্যাই আপু, আপনি দেখতে খুবই কুচ্ছিত!’ এবার টিনা মহা চটে দেকানের ম্যানেজারকে হুমকি দিলো, সে মাস্তান লেলিয়ে এই দোকানের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। ম্যানেজার মাফ চেয়ে বললো, সে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, পাখিটা আর এমন করবে না। তার পরদিন সেই দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় পাখিটা বলে উঠলো, ‘অ্যাই আপু!’ টিনা থমকে দাঁড়িয়ে পাখির মুখোমুখি হলো,’কী?’ পাখিটা বলল, ‘বুঝতেই তো পারছেন।’ হা হা হি হি হু হু। মজার না স্যার? লন ঘাস খান। সার কি বুঝতে পারছেন এটা কোন তোতাপাখি। এইটা হইলো আমি নিজে। তুই তাইলে এইখানে এভাবে ঘুরস কেমনে। তোর তো এখন তাইলে দোকানে থাকার কথা। সেই স্যার আরেক কাহিনী। শুনেন তাইলে... মুহিব চলে আসলো ওখান থেকে। তার এখন একটু ঘুমানো দরকার। মুহিব বিছানায় শুয়ে পড়ল। তার এখন ঘুম আসছে না। তবে ঘুম না আসলেও ঘুম নিয়ে কিছু একটা করা দরকার। এই মুহূর্তে ঘুম নিয়ে মুহিবের যতরকম উক্তি মনে হতে লাগলো। ছাত্র নং নিদ্রানং তপঃ আলস্য নং নিদ্রা নং মাস্তি। ঘুমই জীবন, ঘুমই সর্বজনীন। ঘুম হলো সফলতার চাবিকাঠি। মুহিবের চোখ ছোট ছোট হয়ে যাচ্ছে। তার এখন ঘুম আসছে। মুহিব আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ল। তবে সেই ঘুম হালকা ঘুম। ঘুমের মাঝে সে সপ্ন দেখল। স্বপ্নে দেখল একটি মাঠের চারিদিকে শুধু শাক আর শাক। না আসলে ঘাস আর ঘাস। একটি লাল গরু ঘাস খাচ্ছে। মুহিব গরুটিকে খুব কাছ থেকে দেখছে। একসময় তার মনে হতে লাগলো আসলে গরু ঘাস খাচ্ছে না। ঘাস খাচ্ছে মুহিব। তার সামনে এখন একটা পাখি। পাখিটাকে কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। পাখিটার চোখ কটা। পাখিটা তাকে বলছে কি স্যার ঘাস খাইবেন। ঘাস। প্রোটিন যুক্ত ঘাস। ঘাসে রয়েছে অনেক ডিএইচএ এবং প্রোটিন। মুহিবের চোখ মুখ ফুলতে লাগলো। হঠাৎ তার মনে হতে লাগলো সে যেন গরু হয়ে গেছে। সে ডাকছে হাম্বা হাম্বা। কিন্তু তার এমন মনে হচ্ছে কেন? সেকি সত্যি সত্যি গরু হয়ে গেল। মুহিবের মনে হতে লাগলো সে একা তো গরু না তার পাশে আছে চন্দনা। চন্দনা গরু। মুহিব ভাবতে লাগলো আচ্ছা মেয়ে গরুকে কি বলে? মহিলা গরু নাকি গরুয়িনী ? • সারারাত ভালো ঘুম হলো না মুহিবের। মুহিব ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছে। এখন সকাল সাতটা। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এতো সকালে মুহিব মেইন দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। তার থেকেও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এইসময়ে বাড়ির সদর দরজা খুলা। মুহিব ব্যাপারটা বুঝতে পারলো না। সে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল। রাস্তায় নেমে অনেকদূর যাওয়ার পর মুহিবের যে জিনিসটা খেয়াল হলো তা হলো মুহিবের পা খালি। কোনো ব্যাপার না। খালি পায়ে হাটলে কারও কোনো মান সম্মান যায় না। এইদেশে অনেক মানুষ আছে যারা দুবেলা খেতে পারে না। আর তার তো শুধু জুতা নেই। মুহিব হাটছে জুতা ছাড়াই। আপাতত তার গন্তব্যস্থল চা স্টল। হঠাৎ তার খেয়াল হলো তাকে যেন কে ফোলো করছে। মুহিব পেছনে তাকালো। না কেউ নেই। আবার হাটতে লাগল মুহিব। এবারের হাটা আরও জোরে। হাটতে হাটতে নিঃশ্বাস ভারি হয়ে এলো মুহিবের। এবার মনে হচ্ছে লোকটা তার ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছে। মুহিব আবার পেছন ফিরলৃ। একটা লম্বা চশমাপড়া লোক তার ঠিক এক মিটার দূরে আছে। লোকটির বয়স কত হবে। বড়জোর পঁয়ত্রিশ। পড়নে তার ফুল হাতা গোলাপি শার্ট। মনে হয় তার বাম চোখ টেরা। মুহিবের দৃঢ় সন্দেহ এই লোক অবশ্যই একটা স্পাই। মুহিব বুঝতে পারল যে এটা তার বাবার ভাড়াটে লোক। মনে হয় তার উপরে নজর রাখছে। কিন্তু এখন কি করবে মুহিব বুঝতে পারল না। বলবে হাই ব্রো, আপনাকে আমার বাবা আমার কাজকর্ম দেখার জন্য ফিট করেছে? আসেন আমরা একটা সেলফি তুলি। নাকি অন্য কিছু বলে লোকটাকে চমকে দেবে? অন্যকে ঘাবড়ে দেওয়ার মাঝে মুহিবের আলাদা আনন্দ কাজ করে। মুহিবের কিছু বলা হলো না। সে একটা চা স্টলে ঢুকলো। মুহিবের পা যেন এখন মনে হচ্ছে ফেটে যাচ্ছে। সে একটা চা অর্ডার করল। মুহিব সামনে তাকালো। এখন লোকটা ঠিক মুহিবের সামনে দাড়িয়ে আছে। না, মুহিব ভুল ভেবেছিলো। লোকটার চোখ টেরা না তার দুই চোখই সুস্থ। মুহিব একদৃষ্টে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটাকে দেখে বেশ সরলসোজা লাগছে। আসলে সরলসোজা লোকেরাই মারাত্মক সব কাজ করে বেড়ায়। জার্মানির এক লোক প্রায় একশ লোক মেরে নিজে নিজে পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছিলো। বেচারার চেহারা এমন সহজ সরল যে পুলিশের মাঝও সন্দেহ ছিলো লোকটাকে ধরতে। তারা মনে করেছিলো কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের এমন পরিস্থিতিতে তারা কি করে তা দেখার জন্য তাদের সাথে অভিনয় করছে। একপর্যায়ে তাদের ভুল ভাঙ্গে। খুনি খুনের কিছু প্রমান দেখানোর পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মুহিবের চোখ ঝিম ঝিম করছে। আজ রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। কোনো এক অজানা চিন্তা তার মনে বাসা বেঁধে আছে। তবে সেই বাসা মোটেও সরলসোজা না। জটিল এক বাসা। যে একবার সেই অন্ধকার ঘরে ঢুকে আর সে আর বেড়াতে পারবে না। মুহিব সেই অন্ধকার ঘরে ঢুকে গেছে। এখান থেকে তার আর কোনো মুক্তি নেই। তার কোনো মুক্তি নেই। ভাইজানের চা দিছি। চা লন। হু। আজ কি বার জানেন ? আইজ মনে হয় শুক্কুরবার। ও। ছোট্ট নিশ্বাস নিলো মুহিব। মুহিবের সামনে এখন একটা চায়ের কাপ। চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে থেমে থেমে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো মুহিবের এখন চা খেতে ইচ্ছা করছে না। তার ইচ্ছা করছে এখন স্টলের সামনে রাখা ঘাসের বস্তায় রাখা ঘাসগুলো খেতে। মুহিব টেবিলে চায়ের গ্লাসটা থুয়ে সামনে এগিয়ে গেলো। না আসলে এগুলা ঘাস না। আসলেই মুহিবের মাথায় সমস্যা আছে বলে মনে হয়। ডেচকি ভর্তি পালংশাক কে মুহিব ঘাস মনে করেছিলো। কিন্তু চা স্টলে তরকারি রান্না করা হয় নাকি। মুহিব বুঝে উঠতে পারল না। তবে তার এখন ডেচকিভর্তি পালংশাক খেতে ইচ্ছা করছে। খুব ইচ্ছা করছে। মুহিব মনে মনে আওড়াতে লাগলো, পালং শাকনং খেতে মজানঙঃ এতেং আছে ভিটামিনঙ এবং পুস্টিঃ মুহিব হঠাৎ করে পালংশাক খেতে শুরু করল। খালি হাতে সে পালংশাক খাচ্ছে। আহ্ কি মজা। এমন মজা মনে হয় সে কোনো খাবারেই জীবনে পায় নি। মুহিব খেয়েই যাচ্ছে অনবরত। আয় হায়!ভাইজান, আপনে সমানে ঘাস খাচ্ছেন কেন? . . . . . মুহিব কোনো কথা বলছে না। সে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে। কোনো কথা তার কানে পৌছাচ্ছে না। একি। মুহিব ঘাস খাচ্ছে কেন ? মুহিবের কি হলো ? মুহিব আসলে কি করছে ? এসব প্রশ্ন মাথার মাঝে ঘুরছে মুহিবের। মুহিবের চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। তার প্রচন্ড মাথাঘোরা শুরু করেছে। সে মাথাঘুরে পড়ে গেলো ঘাসের বস্তায়। এদিকে দোকানে হুলস্থূল পড়ে গেল। লোকজন মুহিবের চোখে পানি দিতে লাগলো। একজন বলল আরে এতো জব্বার সাহেবের ছেলে। পাগল নাকি, ঘাস খাচ্ছিল কেন? চা ওয়ালা বলল, বাপের পাপের ফল ভোগ করতাছে পোলা। মাথার তার মনে হয় লুজ আছে। ওর বাপ হলো এক নাম্বার বৎজাত। শালা হারামি ঘুষখর। হাসিব সাহেব বললেন, আপনারা এইকম না কইরা ছেলেটাকে হাসপাতালে বা বাড়িতে নিয়া যান। হ হ হ। জনগনের উত্তর। • একদিকে দোকানে হুলস্থূল অন্যদিকে বাসায় আরেক হুলস্থূল শুরু হয়ে গেছে। চন্দনা মুহিবের রুমে ঢুকে ঝাড় দিতে। গিয়ে দেখে মুহিবের টেবিলে ছেড়া ছেড়া খাতা। কোনো কোনো টাকে আবার মনে হচ্ছে চাবানো। ছোটসাহেব কি খাতা চাবান নাকি? কি ঘিন্নাঘাটির কথা। এমনসময় চন্দনার চোখে পড়ল খাতায় লেখাঃ ২৩ তারিখের পর থেকে আমি গরু হয়ে গিয়েছি। ২৩ তারিখের পর থেকে আমি গরু হয়ে গিয়েছি। ২৩ তারিখের পর থেকে আমি গরু হয়ে গিয়েছি। ২৩ তারিখের পর থেকে আমি গরু হয়ে গিয়েছি। চন্দনা নিচের আনিসা বেগমকে ডেকে নিয়ে এসেছে। ছেলের কর্মকান্ড দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়লেন। তিনি বোধ করতে লাগলেন তিনি যা ভাবছিলেন তাই কি ঠিক? চন্দনা বলল, মামীর ছেলের মনে হয় পাগলা রোগ। তাড়াতাড়ি মেনটাল ডাক্তার দেখান। বলে সে আনিসা বেগমের দিকে বিকৃত মজার দৃষ্টিতে তাকাল। তিনি মুহিবের ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। কাজের মেয়ের সাথে কথা বলার কোনো মানে হয় না। এ ধরনের মেয়েরা ফালতু টাইপের। এই ঘটনাকে সে তিল থেকে তাল করবে। পাশের বাড়ির ভাবিকে বলবে, শুনছেন আপা খবর কি। তখন ভাবি বলবে কি হয়েছে গো (গদগদ হয়ে) । কেন শুনেন নাই আমাদের বাড়িওয়ালার ছেলের কাজ। সেতো পুরা পাগল। আপনি জানেন না তো তার মুখের ভাষা কত......... আনিসা বেগম নিচতলায় চলে এলেন। এমন সময় বাইরে চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শোনা গেল। জানালা খোলার চেস্টা করলেন আনিসা বেগম কিন্তু পারলেন না। এমন সময় তার দরজায় নক পড়তে লাগল। একি লোকজন কি সবাই তার বাড়িতে আসছে? দরজার সামনে এত ভির কেন ? দরজা খুললেন আনিসা বেগম। মুহিবকে নিয়ে টানাটানি করে কয়েকজন লোক ধরাধরি করে রেখেছে। মুহিবের চোখ মুখ ফুলে আছে। চেহারার বিভৎস অবস্থা। লোকজন মুহিবের মাথায় পানি দিতে লাগলো। এমন সময় আনিসা বেগম দেখলেন লোকজন দের পেছনে জব্বার সাহেব। তিনি কাকলিদের বাসায় গিয়েছিলেন। এখানে কি হচ্ছে তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। আনিসা বেগমের চোখে পানি। তার কি করা উচিত তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। লোকজন চিল্লাচিল্লির সর্বোচ্চ সীমায় চলে গেছে। একসময় মুহিবের জ্ঞান ফিরে এলো। সে পশুর মতো আচরন করছে। লোকজনকে ছাড়ানোর চেস্টা করছে। কিন্তু লোকজন তাকে ছাড়ছে না। তার চোখ একবারে লাল। তার গায়ে যেন অসুরের শক্তি চলে এসেছে। কয়েকজন বলতে লাগল তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। অবস্থা খুবই খারাপ। জব্বার সাহেব প্রথমে হাসপাতালে নিতে রাজি হলেন না। তবে সবার জবরদস্তিতে ছেলেকে নিয়ে একসময় হাসপাতালের পথে রওনা হলেন। • আপনার ছেলে একধরনের জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত। এই রোগটির নাম হলো বোনথ্রপি। প্রথম অবস্থায় এ রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিরা তেমন সমস্যায় পড়ে না । এসময় তারা সাধারণত পরিবারের সদস্য বা অন্যের ওপর সন্দেহ করতে থাকে। তারা মনে করে কেউ তাদের উপর নজর রাখছে কিংবা তার বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। তাকে বিদ্রুপ করছে। পরবর্তীতে অবস্থা খারাপ হতে হতে একসময় রোগী নিজেকে গবাদিপশু মনে করতে থাকে। সাধারন মানুষের খাবার বাদ দিয়ে সে ঘাস, লতা-পাতা খাওয়া শুরু করে। গরু মহিষের মতো আচরন করা শুরু করে। পশুপাখির সাথে কথা বলা শুরু করে। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন ডাক্তার সাহেব। মুহিবের এক ভয়ংকর মানসিক সমস্যা বিদ্যমান। যে রোগে মানুষ গরু হয়ে যায়। গরুর মতো খায়,গরুর মতো চলে।হাম্বা হাম্বা করতে করতে ঘাস খায়। আনিসা বেগম চেম্বার থেকে বেড়িয়ে আসলেন। জব্বার সাহেব বল্লেন, স্যার, আমার ছেলের এখন কি হবে? তাকে এখন আপাতত প্রথমিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আপনি আবার কালকে ছেলেকে নিয়ে আসবেন। জব্বার সাহেব ছেলের দিকে তাকালেন। মুহিব এখনো পশুর মতো গোংগাচ্ছে। তার চোখে পানি চলে এলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now