বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কখনো ভাবিনি এমন কিছুর সম্মুখীন হবো। বুঝতে পারছিনা মেয়েটিকে কি বলব। কি বলা প্রয়োজন। বেগ থেকে চিরকুটগুলো আর কলমটা বের করলাম। "দেখো আমার সাথে তোমার হয় না। যে ছেলে মুখে বলতে পারে না তার সাথে কিভাবে তুমি প্রেম করবে? লেখাটা লিখে অধরার হাতে একটা চিরকুট দেয়। অধরা তার বেগ থেকে কিছু কাগজ বের করে তাতে কিছু লিখে একটা চিরকুট আমার হাতে দেয়। "লাগবেনা কথা বলা। লিখতে তো পারো? লিখে না হয় বললে? আমি আবার লিখি "দেখো অধরা তুমি আবেগের বশে কথা গুলো বলছো। কথাটা লিখে তার হাতে আরও একটা চিরিকুট দিলাম। সে আবার একটা চিরিকুট লিখে আমাকে দেয়,"না ফারাবি আমি আবেগের বশে কথাগুলা বলছি না আমি যা বলছি ভেবে চিন্তে বলছি।
না এই মেয়েটির সাথে আর কথা বলা যাবে না। "আমার বাসায় যেতে হবে লিখে অধরার হাতে গুজে দিয়ে আমি হাটতে শুরু করলাম।
আমি যেটা করলাম এটা কি ঠিক করলাম? বুঝতে পারছিনা কি করবো। কেন জেনে তাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। তাই পিছনে ফিরে তার দিকে আবার তাকালাম। তার চোখে পানি। মেয়েটা কি সত্যি আমাকে ভালোবাসে?হয়তো বাসে তা না হলে সে কি আর কান্না করতো। জানিনা কিছুই বুঝতে পারছিনা। নিজের মনকে কিছুই বুঝাতে পারছিনা।
বাসায় এসে মার কাছে গেলাম। মা আমার ইশারা কথা বুঝতে পারেন তাই মার সাথে আমি ইশারাই কথা বলি।
"মা দুকাপ কফি নিয়ে বারান্দায় আসবা?
"দু কাফ কেন?
"এক কাপ আমার জন্য আর এক কাপ তোমার জন্য।
"কিন্তু বাবা আমার যে অনেক কাজ।
"কাজ গুলো কি খুব জরুরি?
"না। তেমনটা না। আচ্ছা তুই যা আমি কফি নিয়ে আসছি।
"হুম।
আমি বারান্দায় যায় চোখ ভুজে বসে তাকি। আজ কেন যেনো অধরার কথা খুব মনে পড়ছে তার চলচল করা চোখগুলো কথা মনে পড়ছে। তার চোখের পানির সাথে তার কাজলগুলো ল্যাপ্টে গিয়েছিল। খুব ইচ্ছে করছিল বলতে "মেয়ে তোমার চোখে পানি নয় শুধু কাজল টাই রাজত্ব করবে। কিন্তু সেই শক্তিটুকু আমার নেই।
"এই নে তর কফি।
"দাও।
"বল কি হয়ছে।
"আমাকে একটু সময় দিবা?
"কেন কোনো জটিল কিছু?
"হুম অনেক জটিল।
"আচ্ছা।
"মা বুঝতে পারছি না কোথা থেকে শুরু করবো।
"তুই এক কাজ কর প্রথম থেকে বল।
আমি মার দিকে তাকালাম, "সময় অনেক লাগবে। তুমি কি আমার সব কথা বুঝবা?
"ছোট থেকে তকে বড় করেছি। আমি তোর ইশারায় সব কথা না বুঝলেও তুর মনের সব কথা তো আমি বুঝব? তুই বল।
আসলে মা রা এমনি হয়। মা'দের কিছু বলতে হয় না। আমি বলি? "হুম।
সেদিন ভার্সিটির প্রথমদিন ছিল। স্যার আমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেও আমার একটা কথা সেদিন বলে নি স্যার। আমি বাকপ্রতিবন্ধী এটা স্যার বলে নি। স্যার চলে যাওয়ার পর যখন সবাই মা আড্ডা দিচ্ছিলো তখন আমি চুপ করে বসে ছিলাম। অনেকে আমাকে খারাপ বল ছিল। কেউ কেউ বলছিল, "দেখ ছেলেটার কি অহংকার কারো সাথে কথা বলছে না। পরিচিতও হচ্ছে না। আবার কেউ কেউ মা কেমন করে তাকাচ্ছিল। তখন খুব ইচ্ছে করছিল তাদের বলতে আমি অহংকারী না। আমিও সবার সাথে পরিচিতি হতে চাই, কিন্তু মা আমার তো সেই শক্তি নেই। জানো মা অনেক খারাপ লাগছিল। আচ্ছা মা কেন আমি এমন হলাম? কেন আমি সবার মত সাধারন ভাবে চলাফেরা করতে পারি না? আমার ও তো খুব ইচ্ছা করে সবার মত হাসতে সবার মত কথা বলতে বলতে আড্ডা দিতে।
"দেখ বাবা আল্লাহ যেটা করেন নিশ্চয় তার বান্দার ভালোর জন্যই করে।
"কই আমার তো কোনো ভালো হচ্ছে না সব তো খারাপই হচ্ছে।
"চল তকে আজ একটা গল্প শুনাবো।
"ছোট থেকে একটা গল্পই তো শুনছি মা।
"হুম। কারন গল্পটা তর ভালো লাগে তর কষ্ট কমে তাই তকে বার বার গল্প টা বলি। তাহলে শুন,
অনেক বছর আগের কথা, একদা একটা মাঠে কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়ে খেলা করছিল তাদের পাশে একটা ছেলে উদাস হয়ে বসে আছে। তো তখন সেই পথ দিয়ে একজন নবী হেঁটে যাচ্ছিলো। তখন সে দেখতে পায় সবাই খেলা করছে মাঠে শুধু ছেলেটা ছাড়া। পরে সে নবী জানতে পারে ছেলেটা অন্ধ তখন নবীজি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেন যেনো ছেলেটিকে ভালো করে দেয়। আল্লাহ ও তার নবীর কথা অমান্য করলেন না। তাকে দৃষ্টি ভঙ্গি ফিরিয়ে দিলেন। তো নবীজি কিছুদিন পর আবার সেই একই রাস্তা দিয়ে আসছিলেন আজকে সবাই খেলা করছে কিন্তু অন্ধ ছেলেটা কিছু কাঁচ ভাঙ্গা নিয়ে যে ছেলে গুলো খেলছিল সে জায়গায় ছিটিয়ে পেলছিল। এটা দেখে তখন নবী বলেন আল্লাহ যা করেন মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন।
"হুম।
"এখন তুই বল তারপর কি হল।
"পরে যখন সবাই জানতে পারে তখন আরো বেশি খারাপ লাগে। কারন তারা শিক্ষিত হয়েও অশিক্ষিত দের মত একটা কথা বলতো। কি বলতো জানো মা? বোবা। আমি নাকি বোবা। খারাপ লেগেছিল অনেক খারাপ লেগেছিল। তারা আমাকে নিয়ে মজা করে এতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু শব্দটা কেমন যেনো বিশ্রী একটা শব্দ তাই না মা?
"হুম। তারপর?
"তার মধ্যে একটা মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে তাকতো। আমাকে ফলো করতো সব সময় আমার আশেপাশে তাকতো।
"বাহ্
"কিছুদিন আগে হঠাৎ সে মেয়েটি আমাকে প্রপোজ করে।কিন্তু আমি তাকে এড়িয়ে যাই। কারন আমি মনে করছিলাম সে আমার সাথে মজা করছে। কিন্তু না মেয়েটি লাস্ট কয়েকদিন ধরে আমাকে প্রপোজ করতেই তাকে।
"কি নাম মেয়েটার?
"রাখোতো নাম আগে আমার কথা শুনো।
"আচ্ছা বল।
"আজকেও মেয়েটা আমাকে প্রপোজ করছিলো। আমি না করে দেই। কিন্তু মা,, আসার সময় মেয়েটার চোখে পানিছিল।
"কি?
"হুম মা আমার অনেক খারাপ লেগেছিল তার চোখে পানি দেখে। অন্যরকম অনুভূতি হয়েছিল। মনে হয় কেউ যেন আমার বুকে অনেক জুড়ে আঘাত করে ছিল। জানো মা সে আমাকে সত্যি ভালোবাসে কিনা জানিনা। কিন্তু আমি যে তাকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছি এটা আমি বুঝতে পারছি।
"তুই এক কাজ কর।
"কি?
"তুই মেয়েটিকে আমাদের বাসায় নিয়ে আয়।
"কেন মা?
"আমি বলছি তাই। তুই কালকে মেয়েটিকে নিয়ে আসবি।
আমি মাথাটা নেড়ে সম্মতি দিলাম।
ক্লাস করে মাত্র বেরহলাম। বটগাছের সামনে আসতেই কিছুটা অবাক হলাম। আজ প্রাই দেড় মাস পর অধরাকে দেখলাম। সেদিনের পর থেকে আর আমি অধরাকে দেখিনি। আমি আস্তে আস্তে তার দিকে পা বাড়িয়ে তার সমানে যেয়ে বসলাম। আমাকে দেখে অধরা একটু হাসল।
"কেমন আছো?
বুঝতে পারছিলাম না কি বলব চিরকুট গুলো আর কলম টা বের করতে যাবো,
"লাগবে না এগুলো?
আমি কিছুটা অবাক হলাম। আর সেই অবাক চোখে তার দিকে তাকালাম। অধরা আমার চোখ দেখে হালকা ঠোট কানি বাঁকা করে "আজ থেকে আর এগুলো লাগবেনা। এবার আমার মনে অনেক গুলো প্রশ্ন জমাট বাঁদে। মিলাতে পারছিলাম না প্রশ্ন গুলো। বুঝতে পারছিনা কোন প্রশ্নটা আগে করব।অনেক গুলো প্রশ্নের ভিড়ে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম হাতের ইশারায়। "মানে? আমার প্রশ্নে অধরা আবার একটু হাঁসে। "আজ থেকে আমি আর মুখে কথা বলব না। আমি আবার তার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম। আমি হাত নেডে তাকে বললাম "কি বলছো এসব। "আজ থেকে আমিও তোমার মত করে কথা বলবো। আমি অধরা ইশারায় কথা বলা আমার কথা বুঝা কোনো কিছুই মিলাতে পারছিলাম না গুলিয়ে যাচ্ছে সব কিছু। "আমি এতদিন কোথায় ছিলাম জানো? সাইন লেন্গুয়েজ শিখছিলাম যেনো বিয়ের পর তোমার কথা বুঝতে আমার কষ্ট না হয় তাই আমি এতদিন ক্লাসে আসতে পারিনি। জানো অনেক কষ্ট হয়েছে। তারপরও শিখলাম। অধরা কথাগুলো বলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। না আজ আমার মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন টা আর কাজ করছে না। আজ আমার মনের গভীর থেকে একটা শব্দ আসছে যা আমি উপলব্ধি করতে পারছি। আজ আর আমার কোনো কনফিউশন নেই। আমি অধরার হাত ধরে হাটতে লাগলাম। অধরা কিছু বলছে না। হয়তো ভালোবেসে বিশ্বাস করে আমাকে কিছু বলছে না। মোবাইল টা হাতে নিয়ে মাকে মেসেজ দিলাম। মা তোমার বউমাকে নিয়ে বাসায় আসছি। মেসেজ সেন্ড করে পকেটে মোবাইলটা রেখে আরো শক্ত করে নিলাম তার হাতট। অধরা মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আবার হাঁটছে। আর একটু একটু করে হাঁসছে।
লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now