বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ বাইরে ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছে ।কিছুকক্ষণ অপেক্ষা করে বাধ্য
হয়েই বেরিয়ে পড়ে নীলা ।
ভর্তি ফরম আনতে কলেজে যেতেই হবে আজ ।আজকেই শেষ দিন ।
একটা রিক্সা ও যেতে রাজি হয়না এই বৃষ্টিতে ।
কলেজটা বেশি দূরেনা ,হেঁটেই যাওয়া যায় ।তাও
কিছুক্ষণ রিক্সার জন্য অপেক্ষা করে হাঁটা শুরু
করে নীলা ।কলেজের গেট পার হতেই হঠাত্
দমকা হাওয়া এসে ওর ছাতাটা উল্টে অনেক দূর
নিয়ে ফেলে ।ও হতভম্বের মত
তাকিয়ে থাকে ,বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যায় ।
আকাশ দুর থেকে দেখে নীলার অসহায় রূপ !ও
এমনিতে খুব একটা কারো সাথে মিশেনা কিন্তু
নীলাকে দেখলেই কেন যেন ওর
পৃথিবীটা থমকে যায় !ভাষারাও তার গতি হারায় ।আজ
পর্যন্ত ওর মুখোমুখি হয়নি কোনদিন জানেনা ঠিক
কি কারণে। দুর থেকে দেখে আনমনে কল্পনায় তার
সাথে রাজ্যের কথা বলে সে ।আজ আর
না এসে পারলোনা ও।
আকাশ নিজের ছাতাটা ওর দিকে বাড়িয়ে দেয়
বলে নিন ,ভিজেতো একাকার হয়ে যাচ্ছেন ।জ্বর
বাঁধিয়ে শেষে আর পরীক্ষাও দেয়া হবেনা ।
নীলা অবাক
হয়ে তাকিয়ে থাকে ,বুঝে উঠতে পারেনা ওর
কি করা উচিত ।আকাশকে ও বেশ কিছুদিন ওর
দিকে হেবলার মত তাকিয়ে থাকতে দেখেছে ।খুব
একটা পাত্তা দেয়নি সে ।পরে বান্ধবীদের
কাছে শুনেছে ও এই কলেজের একটা রত্ন ।সারদিন
পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে ।কারো সাথে খুব
একটা কথাও বলেনা ।
ওরা ওকে অহংকারী ভেবে এড়িয়ে চলে । নীলা এসব
ভাবতে ভাবতে হঠাত্ লক্ষ করে ওর হাতে আকাশের ছাতা ।আর আকাশ ওর ছাতাটা নিয়ে ঠিক করার আপ্রাণ
চেষ্টা চালাচ্ছে ।
সেই থেকে ওরা আরো কিছুটা কাছাকাছি এসে যায়।
নীলা একসময় বুঝতে পারে ও
আকাশকে ভালবেসে ফেলেছে। একদিন
ওকে না দেখলে যেন ওর পৃথিবীটা আঁধার হয়ে যায়।
মনের গহীনের ছোট্ট
কুটিরে ওকে কি নিশ্চিন্তে বসিয়ে রেখেছে ও!
একি করছে ও ? আকাশ যদি ওকে ফিরিয়ে দেয় ?
কি করে সহ্য করবে ও ?এমনিতে ওরা খুব ভালো বন্ধু।
ওর সবকিছুর প্রতিই কি যে যত্ন তার ।যদিও ও বেশ
বুঝতে পারে আকাশ ও তাকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু
কেন বলছেনা ও আজো? ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে যায়
নীলা ।মনে অনেক বকা দেয় ওর বাবুই পাখিটাকে।
রিংটোনের শব্দে নীলার ধ্যান ভাঙ্গে ,আকাশের
নাম দেখে কেন যেন ওর মনটায় অদ্ভুত
অনুভতি দোলা দেয়।
হ্যালো নীলু ! কি করছো ?
আকাশের কন্ঠে আজ হঠাত্ নীলু ডাক শুনে নীলার
মনটা শিরশির করে উঠে !কোন কথাই
বলতে পারেনা সে।
কি হলো ?শরীর খারাপ নাকি ?কথা বলছোনা কেন
নীলু ?
অস্থির হয়ে বলে আকাশ ।
না আমি ঠিক আছি। এইতো জানালার
পাশে বসে বৃষ্টি দেখছিলাম।
তুমি কি করছো ?
আমি ?আমি তোমার সাথে এতক্ষণ
মনে মনে কথা বলছিলাম ,ভাবলাম কল
করে দেখি তুমি কি করছো। এই !নীলু ডাকলাম
বলে রাগ করোনিতো !
না আকাশ ,আমি খুব খুশি হয়েছি ।আমিও তো তোমার কথাই
ভাবছিলাম।
আমরা বোধহয় দুজন
দুজনকে ভালবেসে ফেলেছি তাইনা ?
হ্যাঁ বাবুই !তুমি যদি ফিরিয়ে দাও এই
ভয়ে বলতে পারিনি ।আমি তোমাকে আমার মনে ঠাঁই
দিয়েছি অনেক আগেই ।ভালবাসি খুব বেশি ।
তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে খুব।
আকাশ খুশীতে অনেক্ষন কথা বলতে পারেনা ।
আমি আসছি নীলু ।বলেই রাতুল মোবাইলটা রেখে দেয় ।
নীলা নিষেধ করার ও সময় পায়না ।পাগলটা এই
বৃষ্টিতে কিভাবে আসবে কে জানে ।
কিছুক্ষণ পর জানালা দিয়ে দেখে আকাশ রাস্তায়
বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে ।নীলা মুগ্ধ
হয়ে তাকিয়েই থাকে ।ওর হাতে বর্ষার প্রথম কদম ফুল
।।
নীলা মাকে ঘুমোতে দেখে খালি পায়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসে,
রাস্তায় পানি থই থই করছে ,আকাশ মুগ্ধ হয়ে দেখে ওর
ছুটে আসা দেখে !ওর খালি পা দেখে আকাশের মনে হয়,
পৃথিবীর সব সুন্দর যেন ওর পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে!
নিলা ওর মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় ।কদম ফুলটার
গায়ে বৃষ্টির ফোটা ফুলটাকে অপুর্ব সুন্দর লাগছে !
ফুলটা নীলার হাতে তুলে দেয় নিঃশব্দে ।দুজনার
না বলা কথা সব চোখে চোখে হয়ে যায় যেন।
হঠাত্ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে বলে উঠে আকাশ নীলু
তুমি নুপুর পরোনা কেন ?
নীলা কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায় ,আকাশ কখন ওর
পায়ের দিকে তাকালো ?ও লাজুক
হেসে বলে ভালবেসে কেউ পরিয়ে দেয়নি বলে !
আকাশ চমকে উঠে ,ওর চোখে চমত্কার রুপোর নুপুর
ভাসতে থাকে ।যে করেই হোক ওকে নুপুর কিনতেই হবে ।
জন্মদিনে ও যত্ন করে ওর প্রিয়ার
পায়ে পরিয়ে দিবে নিজ হাতে !
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বলে পড়াশুনার খরচ ,আর
হাত খরচের জন্য কয়েকটা টিউশনি করতে হয় তাকে।
নুপুর সম্পর্কে ওর আইড়িয়া না থাকায় ও
কয়েকটা দোকানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ওর
টিউশনির বেশ খানিকটা টাকাই বেরিয়ে যাবে রুপার
নুপুর কিনতে ।ওর কষ্ট হবে পুরো মাসের খরচ
সামলাতে ।তাও ও বানাতে অর্ডার দিয়ে আসে ।
ভালবাসার জন্য এটুকু কষ্ট এ আর এমন কি কঠিন !
নীলার পরীক্ষার জন্য বেশ কিছুদিন ওদের
দেখা না হলেও
ফেইসবুকে ,মোবাইলে যোগাযোগটা বেড়ে যায় আরো ।
নীলা বৃষ্টি ভেজা কদম ফুলের ছবি দেয় প্রোফাইলে ।
ওর ভালবাসাকে অমর করে রাখার চেষ্টা করে যেন !
হ্যালো কি করছো নীলু ?ভালো আছোতো ?মাঝরাতে কল
দেয় আকাশ !
পড়ছি ।জানো আমার মনটা খুব খারাপ !
কেন ?কেন ?
জানো কদমফুলটার সবগুলো পাপড়ি ঝরে গেছে ,ফুলটাও
কেমন শুকিয়ে গেছে !আমাদের ভালবাসাও যদি ...
কি বলছো এসব রুপন্তি ?ফুল কি অমর হয় ?আমাদের
ভালবাসা কখনো হারিয়ে যাবেনা দেখো ।
জন্মদিনে তোমাকে অনেকগুলো কদম ফুল দিবো ।অনেক
মজা করবো দুজন ।এখন ঘুমাও লক্ষিটি প্লিজ ।এত রাত
জাগলে অসুস্থ হয়ে যাবে যে ।
পরীক্ষার শেষদিন আকাশ কল দেয় নীলাকে !
নীলু কাল একটু বেরুতে পারবে প্লিজ ।কতদিন
দেখা হয়নি ।
আকাশের আকুলতায় রুপন্তি কিছুটা বিমুড় হয়ে যায়। ও
বুঝতে পারেনা কথাটা বলা উচিত হবে কিনা ।
তারপর ও বলে বাবুই কালতো দেখা হবেনা ,আমার এক
কাজিনের বিয়েতে আজ রাতেই গ্রামে যেতে হবে ।
যেতে চাইছিনা তাও বাবার বকুনিতে যেতে হচ্ছে ।
আকাশ কিছুটা নিস্তেজ হয়ে যায় যেন ,বলে ও তাই ?
ওকে কি আর করা ।
প্লিজ বাবুই রাগ করেনা ,২১ তারিখ আমরা ঠিকই
দেখা করবো ।সকালে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিও
প্লিজ।
ওকে নিলু সাবধানে থেকো ।ভালো থেকো ।
নীলা গ্রামে যাওয়ার পর আর কথা হয়না ওদের
নেটওয়ার্ক না থাকায়, ও অনেক চেষ্টা করেছে ।
২১তারিখ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আকাশ নীলার
দেয়া পাঞ্জাবি পড়ে বেরিয়ে যায় ।সাথে নেয় ওর
স্বপ্নের নুপুর !কদম ফুল তুলতে গিয়ে পা ব্যাথা পায়
আকাশ l তাও অনেক কষ্টে একটা রিক্সায় চড়ে বসে ।
নীলার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে অনেক্ষণ ।
ণিলাকে ওর জানালায় ও দেখা যায়না ।এদিকে ফোন
ও অফ ।
ও
কিছুটা দ্বিধা নিয়ে এগিয়ে যায় ,দারোয়ানকে বলে চাচা নীলা আসেনি গ্রাম
থেকে ?
আপনি কে ?আপুমনিতো হাসপাতালে ।
কি ?আকাশ আর্তনাদ করে ঊঠে . হাসপাতালের
ঠিকানা নিয়ে ও ছুটে যায় হাসপাতালে ।
পথেই নীলার ছোট ভাই নীল এর
সাথে দেখা হলে জানতে পারে বাড়ি থেকে আসার পথে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পরে যায় নীলা ।
কান্নায় ভেঙ্গে পডে আকাশ বলে এখন কি অবস্থা ?
এখনো অপারেশন থিয়েটরে।
একটূ পরেই নীলাকে কেবিনে নিয়ে আসে নার্স।
এখনো সেন্স আসেনি তার ।
ডাক্তার কিছুটা দ্বিধানিত হয়ে জানায় ওর দুটো পায়
ই কেটে ফেলতে হয়েছে । ও সেন্স না আসা পর্যন্ত ও ও
আশাংকামুক্ত নয় ।
আকাশের পৃথিবিটা আঁধার হয়ে যায় যেন । নীলার
পাশে বসে ও কাঁদতেই থাকে .
হাত থেকে কদমফুল আর
নূপুরটা খসে পড়ে যায় !!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now