বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
চার
তার এই ভীত-সন্ত্রস্ত চেহারাও এত সুন্দর যে, হঠাৎ রানা উপলব্ধি
করল নিঃশ্বাস ফেলতে ভুলে গেছে ও।
এখনও জিনসের ট্রাউজার ও সাদা সিল্ক শার্ট পরে রয়েছে
সুরাইয়া, মাথায় কর্ডোভান হ্যাট। দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা আড়ষ্ট, টান
টান; কপালে ও ঠোঁটের উপর বিন্দু বিন্দু জমা ঘাম টিউবের সাদা
আলোয় চিকচিক করছে।
প্যাসেজ পার হয়ে কামরার ভিতর ঢুকছে রানা, ঠোঁটের উপর
আঙুল রেখে কথা বলতে নিষেধ করল সুরাইয়া। তারপর চোখের
ইশারায় ওকে কাছে আসতে বলল।
‘মাইμোফোন,’ রানা কাছাকাছি আসতে ফিসফিস করল
সুরাইয়া। একটু ঘুরে ঝুঁকল সে, টেবিলের তলায় হাত ঢুকিয়ে
একটা যান্ত্রিক ছারপোকা বের করে আনল। সিধে হওয়ার সময়
রানার পাঁজরের সঙ্গে মৃদু ঘষা খেল বুক। সঙ্গে সঙ্গে আড়ষ্ট হয়ে
উঠল শরীর, রক্তিম আভা ফুটল মুখে। হাত নেড়ে গোটা স্যুইটটা
দেখিয়ে আবার বলল, ‘সব জায়গায়।’ দুজন এত কাছে চলে
এসেছে যে একজন আরেকজনের নিঃশ্বাসের আঁচ পাচ্ছে।
সুরাইয়ার হাত থেকে মাইμোফোনটা নিয়ে পরীক্ষা করল
রানা। আমেরিকার তৈরি, সাধারণত ইজরায়েলি ইন্টেলিজেন্স
মোসাদ ব্যবহার করে এগুলো। নিচু হয়ে টেবিলের তলায়, আঠার
সঙ্গে আটকে দিল সেটা।
সিধে হয়ে ফিসফিস করল ও, ‘আমার স্যুইটে, কেমন? চলুন,
একসঙ্গে বেরুই।’
উদ্বিগড়ব ও অস্থির দেখাচ্ছে সুরাইয়াকে, রানার কাঁধে হাত রেখে
যেন ভরসা পাওয়ার চেষ্টা করল। ‘নিরাপদ তো?’ নিচু গলায়
জানতে চাইল সে।
অভয় দিয়ে মাথা ঝাঁকাল রানা।
উঁকি দিয়ে করিডরটা দেখে নিয়ে একসঙ্গে বেরুল ওরা,
রানার বাহু প্রায় খামচে ধরেছে সুরাইয়া। ধাপ বেয়ে তিনতলা
থেকে চারতলায় ওঠার সময় রানার গা ঘেঁষে থাকল সে গরম
একটা অনুভূতি হলো রানার। সিঁড়িতে বা চারতলার করিডরে
কারও সঙ্গে ওদের দেখা হলো না।
নিজের স্যুইটের সামনে এসে ঝুঁকল রানা, তালার ফুটোয়
চোখ রাখল। ভিতরে সাদা মত কী একটা রয়েছে দেখে স্বস্তি
বোধ করল।
তালাটা কেউ খোলার চেষ্টা করলে মসুর-ডালের মত মোমের
টুকরোটা ওখানে থাকত না।
সুরাইয়াকে নিয়ে নিজের স্যুইটে ঢুকল রানা। আলো জ্বালার
পর দরজা বন্ধ করছে, অনুভব করল ওর পাশে দাঁড়িয়ে একটু
একটু কাঁপছে মেয়েটি।
ঘুরে তার দিকে তাকাল রানা। চোখ বন্ধ করে আছে সুরাইয়া,
ঘামছে, হাঁপাচ্ছেও। তাকে ডাবল সোফার দিকে নিয়ে এল ও।
ওখানে বসিয়ে সরে আসতে যাবে, কাঁপা হাতে ওর একটা হাত
ধরে ফেলল সুরাইয়া।
‘এখানে আপনার কোনও ভয় নেই,’ বলল রানা। ‘শান্ত হয়ে
একটু বসুন,’ বলল ও, ‘আমি আপনার জন্যে গরম কফি বানিয়ে
আনি।’
১৭
‘না!’ ওকে আরও জোরে আঁকড়ে ধরল সুরাইয়া, ফলে বাধ্য
হয়ে তার পাশে বসতে হলো রানাকে, গা ঘেঁষে।
‘বললাম তো, এখানে আপনার ভয় পাবার কোনও কারণ
নেই...’
এই সময় খেয়াল হলো সুরাইয়ার, রানাকে প্রায় নিজের
গায়ের উপর টেনে এনেছে সে। সঙ্গে সঙ্গে আড়ষ্ট হয়ে উঠল
শরীরটা, তারপর চেষ্টা করল সরে যেতে। বিড়বিড় করে বলল,
‘ঠিক আছে... কফি বানাতে যাবেন বলছিলেন, ভয় পাব না আমি,
আপনি যান।’
‘একটু পরেই না হয় যাই,’ বলল রানা।
‘ন্না, পি−জ!’
তার চিবুকটা দু’আঙুলে ধরে মুখটা নিজের দিকে ফেরাল
রানা, তারপর নরম সুরে বলল, ‘আপনাকে যে আমার অসম্ভব
ভাল লেগেছে সেটা আমি নানাভাবে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু
আপনি এখনও কোনও জবাব দেননি...’
এক মুহূর্ত চুপ করে থাকল সুরাইয়া। তারপর আশ্চর্য শান্ত
গলায় বলল, ‘কোনওদিনই আমি কাউকে ভালবাসতে পারব না।’
হকচকিয়ে গেল রানা। ‘মানে? কেন?’
‘সব প্রশেড়বর জবাব হয় না, রানা!’ ফিসফিস করল সুরাইয়া।
অপরূপার চিবুক থেকে আঙুল সরিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে রানা,
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সুরাইয়া, হঠাৎ তার কী হলো, ওর
চওড়া বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সমগ্র অস্তিত্বের সমস্ত ব্যাকুলতা নিয়ে
চুমো খাচ্ছে ওকে। ফোঁপাচ্ছে। বিড়বিড় করে বলছে, ‘ভালবাসি!
সত্যি ভালবাসি! জানি উচিত নয়, স্রেফ পাগলামি, তবু ...তবু
আমি তোমাকেই ভালবাসি!’
‘উচিত নয়? কেন উচিত নয়?’ নরম হাতে নিজেকে ছাড়িয়ে
নিল রানা। ‘সব কথা খুলে বলো আমাকে, সুরাইয়া।’ গভীর
আগ্রহ নিয়ে বিস্মিত দৃষ্টিতে বেদুঈন কন্যার দিকে তাকিয়ে
আছে। ‘অ্যালবার্ট হলের ওই অনুষ্ঠানে যাওনি কেন তুমি? বিরাট
একটা সুযোগ ছিল ওটা, অথচ সব ফেলে তুমি পালিয়ে এলে
...কেন?’
রানার মুখে চোখ বুলিয়ে কী যেন খুঁজল সুরাইয়া, তারপর মৃদু
সুরে বলল, ‘ঠিক বুঝতে পারছি না তোমাকে ডেকে পাঠিয়ে
কাজটা আমি ভাল করেছি কি না। আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার
করতে গিয়ে তোমার যদি কিছু হয়ে যায়...’
সুরাইয়ার ভয় দূর করবার চেষ্টা করল রানা। জানাল, যাদের
কাছে প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে পারবে, এমন লোক আছে ওর
আশপাশেই, কেউ ওদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।
আশ্বস্ত হয়ে শুরু করল সুরাইয়া।
আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত প্যালেস্টাইনে ছিল সে, একটা
খ্রিশ্চান মিশনারি স্কুলে। ওখান থেকে তাকে লন্ডনের যে
কলেজটায় পাঠানো হয়, সেখানে ছিল ছয় বছর। ওখান থেকেই
পারফর্মিং আর্টস-এ অনার্স করেছে।
অনার্স পাস করতে যখন দেড় বছর বাকি, হঠাৎ ওই কলেজ
সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য জেনে ফেলে সুরাইয়া। সে যে জানে,
এটা এতদিন পর হঠাৎ টের পেয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ, ফলে
তাকে কিডন্যাপ করার জন্যে লোক পাঠায় তারা, তাই ইংল্যান্ড
ছেড়ে এখানে পালিয়ে আসতে হয়েছে তাকে।
‘কী তথ্য?’ ভ্র কুঁচকে জানতে চাইল রানা।
‘আমি জানতে পারি, কলেজের ব্রাদার ও ফাদাররা কেউই
আসলে খ্রিশ্চান নয়,’ বলল সুরাইয়া। ‘ওটা মোসাদ-এর একটা
গোপন শাখা। সবাই তারা ছদ্মবেশী মোসাদ এজেন্ট, ইহুদি।’
তির্যক দৃষ্টিতে তাকাল রানা। ‘ওদের কাজটা কী?’
‘এই কলেজের কাজ হলো কারণে-অকারণে ইউরোপ-
আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হানা, এবং সেই সঙ্গে প্রচার করা যে
কাজগুলো হামাস, হিযবুলাহ, আল ফাত্তাহ্ বা আল কায়েদা
১৮
করেছে। তাদের এই একটাই কাজ, দুনিয়ার মানুষের চোখে
আঙুল দিয়ে দেখানো যে মুসলমানরা ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী, দুনিয়ার
অন্যান্য শান্তিপ্রিয় ধর্মাবলম্বীদের শত্র“।’
রানার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। ‘এরকম দু’একটা ঘটনার কথা
বলতে পারবে তুমি?’
‘হ্যাঁ, কেন পারব না। তবে বিশ্বাস করা না-করা তোমার
ব্যাপার,’ বলল সুরাইয়া। ‘ব্রিটেনের পাতাল রেলে যে বোমা
ফাটানো হয়েছে সেগুলো ওদের কাজ। ইসলামাবাদের মার্কিন
দূতাবাসে গ্রেনেড ছোঁড়ার কাজটাও। তা ছাড়া, নাইন/ ইলেভেন-
এর ঘটনা ইজরায়েল আগে থেকেই জানত, কিন্তু কাউকে কিচ্ছু
না বলে ওইদিন টুইন টাওয়ার থেকে দূরে থাকার জন্যে বেছে
বেছে শুধু ইহুদিদেরকেই নির্দেশ দিয়েছে তারা। ফলে সময়মত
খবর না পাওয়ায় ওই পে−ন হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে মাত্র
একজন ইহুদি মারা গেছে।’
অভিযোগটা আগেও শুনেছে রানা, তবে অকাট্য সাক্ষ্য-
প্রমাণের অভাবে আর সবার মত ওরও বিশ্বাস হয়নি। ‘কিন্তু
কীভাবে? কোনও প্রমাণ আছে?’
বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে শুরু করল সুরাইয়া। কমপিউটারে
কাজ করছে, এই সময় দৈবাৎ ওদের একটা ডেটা ব্যাঙ্কে ঢুকে
পড়েছিল সে। সেখানে একটা চিঠি ছিল, তাতে পরিষ্কার ভাষায়
বলা হয়েছে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, নাইন/ইলেভেনের দিন
একজন ইহুদিও যাতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে না থাকে।
সবাই জানে যে ঘটেছেও ঠিক তাই।
এরকম আরও বহু ডকুমেন্ট ওখানে দেখেছে সুরাইয়া।
যেমন, ইজরায়েলি এক মন্ত্রী ইয়াসির আরাফাতকে বিষ খাইয়ে
খুন করার জন্য তাগাদা দিয়েছে, বলেছে সেটা এমন বিষ হতে
হবে কোনও টেস্টেই যেন ট্রেস করা না যায়।
ঠিক তাই কি ঘটেনি?
‘এ-সব ডকুমেন্ট সম্পর্কে অনেক আগেই জেনেছ তুমি, তাই
না?’ প্রশড়ব করল রানা। ‘কিন্তু তুমি যে জানো, এটা ওরা এতদিন
পর ধরল কীভাবে?’
ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করল সুরাইয়া। কমপিউটারে এমন একটা
শব্দ টাইপ করে ফেলে সে, যেটা ওদের ডেটা ব্যাঙ্কের অ্যাকসেস
কোড ছিল। দৈবাৎ কোডটা ভাঙার পর কমপিউটার তাকে
জিজ্ঞেস করেছে, তুমি কে? কিছু না বুঝেই নিজের পরিচয় টাইপ
করেছে সুরাইয়া। তার উচিত ছিল কমপিউটার বন্ধ করার আগে
নিজের নামটা মুছে ফেলা।
এতদিন পর, সম্ভবত মাস চারেক আগে, অ্যাকসেস কোড
ব্যবহার করে কলেজের কোনও মোসাদ এজেন্ট সিμেট ডেটা
ব্যাঙ্ক ওপেন করেছে, অমনি তার চোখে পড়েছে সুরাইয়ার নাম
ওর আগে যে ওপেন করেছিল ফাইলটা।
ডকুমেন্টগুলো প্রকাশ করা হলে মোসাদ বিপদে পড়বে, তাই
সিদ্ধান্ত নিতে মোটেও দেরি করেনি ওরা। রয়াল অ্যালবার্ট হলে
আসবার পথে সুরাইয়াকে কিডন্যাপ করে ওরা। মোসাদের ধারণা:
ডকুমেন্টগুলো শুধু দেখেইনি সুরাইয়া, কপিও করেছে। সেগুলো
এখন ফেরত চাইছে।
চলন্ত গাড়িতেই জেরা করা হচ্ছিল সুরাইয়াকে, এক পর্যায়ে
এজেন্টদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করল তার বডিগার্ড ইউসুফ
মোরদেজা। হঠাৎ একটা গুলি হলো, সুরাইয়া দেখল বুকে হাত
চাপা দিয়ে স্থির হয়ে গেল ইউসুফ। মোসাদ এজেন্টরা তাকে
নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, এই ফাঁকে দরজা খুলে রাস্তায় লাফিয়ে
পড়ে পালিয়েছে সুরাইয়া। বোটে চড়ে টেমস নদী থেকে খোলা
সাগরে চলে আসে সে, তারপর একটা লেবাননি জাহাজে ওঠে।
পাসপোর্ট না থাকায় ঘুষ হিসাবে গায়ের সব গহনা খুলে দিতে হয়
ক্যাপটেনকে। বৈরুত হয়ে সোজা স্যালামেস বন্দরে চলে এসেছে
সে প্রথম সুযোগেই।
১৯
‘তারপর প্রতিদিন টিভির নিউজ শুনেছি, পেপার পড়েছি,’ ধরা
গলায় বলল সুরাইয়া, ‘কিন্তু ইউসুফের কোনও খবর পাইনি।’
কোলের উপর রাখা হাতে টপ টপ করে চোখের পানি পড়ছে।
‘শুধু আমাকে পালাবার সুযোগ করে দেয়ার জন্যেই ধস্তাধস্তি শুরু
করেছিল ও। ওরা নিশ্চয়ই লাশটা গুম করে ফেলেছে...’
একটু ঝুঁকে সুরাইয়ার কাঁধে হাত রাখল রানা। তারপর
জানতে চাইল, ‘এখানে আসার পর কি হলো?’
সান্ত্বনার ছোঁয়া পেয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সুরাইয়া। এক
সময় নিজেকে সামলে নিয়ে রানার গায়ে হেলান দিল সে, বলল,
‘হপ্তা দুয়েক হলো সেই লোকগুলোকেই দেখতে পেলাম, এখানে,
এই দ্বীপে, লন্ডনে যারা আমাকে কিডন্যাপ করতে যাচ্ছিল। বিশ্বস্ত
এক লোক লন্ডনে যাচ্ছে শুনে সাহায্যের জন্যে তাই তোমাকেই
মেসেজ পাঠালাম।’
সুরাইয়া থামার পরেও অনেকক্ষণ কিছু বলল না রানা।
‘চুপ করে আছ যে?’ এক সময় ফিসফিস করল সুরাইয়া, হাত
দুটো খুঁজে নিল ওকে।
‘কীভাবে কী করব ভাবছি।’
আরও কাছে সরে এসে রানার ঠোঁটে হাতচাপা দিল সুরাইয়া।
চাপা গলায় বলল, ‘যা করার কাল কোরো, এখন কোনও কথা
নয়, কেমন? আজই আমার শেষ সুযোগ!’ কথাটা ব্যাখ্যা না করে
আবার চুমোয় চুমোয় অস্থির করে তুলল ওকে। ওর গালে ঘষছে
গাল, বুক চেপে ধরছে বুকে। ধীরে ধীরে গরম হয়ে উঠল রানা।
একসময় সাড়া দিল সে-ও।
ঘুম ভাঙার পরও অন্ধকার ঘরে নিঃশব্দে শুয়ে থাকল রানা, শুনতে
পাচ্ছে বাইরে অবিরাম হাহাকার করছে ঝোড়ো বাতাস। খানিক
পর একটা হাত বাড়াল, সুরাইয়ার স্পর্শ না পেয়ে বুঝল বিছানায়
নেই ও।
গায়ের চাদর সরিয়ে হাতঘড়ি দেখল রানা। বারোটা
পনেরো। মনে পড়ল আজ রোববার, মাঝরাতে সুরাইয়ার একটা
শো আছে। চলে যাওয়ার সময় ওর ঘুম ভাঙায়নি সে।
বাথরুমে ঢুকে হাত-মুখ ধুয়ে কাপড় পরল রানা। সাড়ে
বারোটায় নীচে নেমে দেখল ক্যাসিনোয় এখনও কিছু লোক বসে
আছে, তবে বার প্রায় খালি।
একটা উঁচু টুলে বসে হাতে বানানো সিগারেটে টান দিচ্ছেন
আদনান মেনদেরেস, অন্যমনস্কভাবে পাতা ওল্টাচ্ছেন একটা
ইয়টিং ম্যাগাজিনের। বাতাসে গাঁজার গন্ধ পেয়ে তাঁর হাতে ধরা
সিগারেটের দিকে চট করে একবার তাকাল রানা।
মুখ তুলে রানাকে দেখে হাসলেন মেনদেরেস। ‘হ্যালো, ইয়াং
ম্যান।’
চোখ কুঁচকে খালি ডান্স ফ্লোরের দিকে তাকাল রানা।
‘ব্যাপারটা কী বলুন তো? শো শেষ হলো কখন?’
‘আজকের মিডনাইট শো তো হয়নি,’ বললেন মেনদেরেস।
‘বোধহয় বড় একটা ঝড় আসছে।’ যেন তাঁর কথার সমর্থনেই
দমকা একটা বাতাস ঝাঁকি দিল বন্ধ জানালায়।
ঘুরতে যাবে রানা, ওর ষষ্ঠইন্দ্রিয় কীসের যেন একটা আভাস
অনুভব করছে, এই সময় একটা ক্যাশ বাক্স নিয়ে ক্যাসিনো থেকে
বেরিয়ে এলেন জিমি মোরেল।
বার-এর পিছনে যাচ্ছেন মোরেল, তাঁর পথ আগলাল রানা।
‘আপনি কিছু জানেন, হের মোরেল? শো কেন হয়নি? দিলরুবা
কোথায়?’
‘দিলরুবা ওরফে সুরাইয়া, তাই না?’ ক্যাশ বাক্সটা বারের
একটা সিন্দুকে রেখে বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেললেন
মোরেল। কী কারণে যেন রানার দিকে তাকাতে পারছেন না
তিনি। ‘আপনি বরং এক ঢোক হুইস্কি খান, হের রানা।’
জবাবে রানা কিছু বলবার আগেই বাইরে থেকে একটা
টহফবৎ ঞযব খরপবহপব ঙভ ঈৎবধঃরাব ঈড়সসড়হং অঃঃৎরনঁঃরড়হ-ঘড়হপড়সসবৎপরধষ-ঝযধৎব অষরশব
িি.িগঁৎপযঙহধ.পড়স
২০
চিৎকার ভেসে এল। পরমুহূর্তে বিস্ফোরিত হলো দরজা। সগর্জনে
ভিতরে ঢুকল তীব্র বাতাস, আছড়ে পড়ল সামনের দেয়ালে।
‘হের রানা, আপনি বুঝতে পারছেন না,’ বললেন মোরেল।
‘ওই পে−নে দিলরুবা ওরফে আপনার সুরাইয়া ছিল।’
হোঁচট খেয়ে ভিতরে ঢুকেছে এক বুড়ো লোক। কোথাও
থেকে দৌড়ে আসায় হাঁপাচ্ছে সে, পরনের অয়েলস্কিন কোট
থেকে পানি ঝরছে মেঝেতে। বার-এর কিনারা আঁকড়ে ধরে
নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
পাথর হয়ে গেল রানা। একদৃষ্টে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে।
একটা অসুস্থ, ঠাণ্ডা ভাব গ্রাস করে ফেলছে ওকে। ঠিক সেই
মুহূর্তে কড়াৎ করে বজ্রপাতের আওয়াজের সঙ্গে আকাশ চিরে
দিয়ে শুরু হলো ঝমঝম বৃষ্টি।
বুড়োর নাম খিজির হায়াত, গভীর সাগরে মাছ ধরে, মরশুমের
সময় একটা চার্টার বোটও চালায়।
বার-এর পিছনে চলে গিয়ে একটা গ−াসে খানিকটা রাম
ঢাললেন মোরেল, তারপর সেটা বাড়িয়ে ধরলেন বুড়োর দিকে।
‘এটুকু খেয়ে শান্ত হও, তারপর সংক্ষেপে বলো কী হয়েছে।’
‘রাহি সামদানির ঝক্কড় মার্কা পে−নটা সাগরে পড়ে গেছে।’
খানিকটা রাম গিলে খক্-খক্ করে কাশল হায়াত। ‘মাইল দুয়েক
দূরে, আলমাস রিফ-এর কাছে ছিলাম আমি। সাগর ওদিকে এমন
খেপাই খেপে আছে, কার সাধ্য আগে বাড়ে।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now