বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--- পুরা ডাইনি মার্কা চেহারা, এই তুই প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে নে, টাকা যা লাগে আমি দিব, হাহাহাহা(সোহাগ)
--- সবসময় ফাইজলামি, ভাল লাগে না, তুমি কি কখনোই সিরিয়াস হবা না? সবসময় খালি বাজে কথা।(বিন্দু)
--- সিরিয়াস? ঐটা আবার কি?
--- আবার??? তুমি না, তুমি না জাস্ট অসহ্য,
--- একদম ঠিক, তুলিও বলছিল একই কথা, তোদেরই তো ক্লাসমেট, আহ! কত্ত সুন্দর করে কথা বলে।
--- কি!!! ঐ কুত্তিনির কথা গুলো তোমার সুন্দর লাগে???? ভাঙা বাঁশের মত লাগে কন্ঠটা।
--- আরে আরে তুই ওরে এসব বলিস ক্যান? কত্ত ভালো বল, কি কিউট কিউট এস এম এস করে!
--- কি????? তুমি ওরে নাম্বারও দিয়েছ??? না আর না, যাও ওর সাথে কথা বল গিয়ে, আমি কে? যাও
এটা বলেই হনহনিয়ে চলে গেল বিন্দু। সোহাগ হা করে তাকিয়ে রইল। ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসের উপর বসে ভাবছে, মেয়েটা কি তাকে ভালোবাসে? উত্তরটা তার নিজেরও খুব অজানা, কোন কোন সময় তার মনে হই সে বিন্দুকে অনেক ভালোবাসে, আবার মনে হই হইত না। আজ কেমন জানি বিন্দুর এভাবে চলে যাওয়াটা দেখে তার শুণ্যতা মনে হতে লাগল। কি একটা জানি নেই। যখন মেয়েটি সাথে থাকে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব থেকে সুখি যেন সে। "কেন এমন লাগে তার", ভাবতে থাকে।
বিন্দু হনহন করে হেটে যাচ্ছে, খুব রেগে আছে, বিড়বিড় করে যেন কি কতগুলো বলছে। বাসাই ঢুকেই ব্যাগটা ফেলে রুমে গিয়ে বসে ফোঁপাতে লাগল।
"মনে করে কি সে নিজেকে? খালি ঐ কুত্তিনির নাম যপে, টমাস কোথাকার, ভাল লাগে না এত আধিখ্যেতা।" বিন্দু যখন রেগে যায় তখন সে সোহাগকে টমাস বলে ডাকে। আজ তার খুব রাগ, কেন সোহাগ তাকে বোঝে না এই নিয়ে। আজ থেকে প্রাই ৩বছর তাদের মধ্যে আলাপ। সোহাগ পড়ছে একটা সনাম ধন্য বিশবিদ্যালয়ে বিবিএ ৭ম সেমিষ্টারে আর মেয়েটি ঐ বিশবিদ্যালয়ে ২য় সেমিষ্টারে। তারা একই কলেজেও পড়েছে, সেখান থেকেই তাদের পরিচয়। সোহাগ মেয়েটিকে সেই তখন থেকেই রাগাতো। আর আসতে আসতে বন্ধুত্ব, কথিত আছে একটি ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কখনো বন্ধুত্ব হয় না। একসময় সেটা প্রেমে রুপ নেয়। এখানে সেই প্রথম থেকে মেয়েটি ছেলেটিকে ভালোবাসে, আর ছেলেটি তা বোঝেই না। তাই বিন্দুর এত্ত রাগ, মেয়েরা বলতে নয় শুনতে ভালোবাসে, এটাও বোঝে না সে।
সোহাগ অনেক্ষন ধরেই ভাবল, ঘরে গিয়ে ঘুমাইতেই সপ্ন দেখল বিন্দুর কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। কি ভালো লাগছিল তার। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, আর ভালো লাগছে না। মেয়েটা একটা এস এম এসেরও উত্তর দিল না। না আর পারছে না সে। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল কাল সকালে ক্যাম্পাসেই বলে দিবে তার মনের কথা বিন্দুকে।
সকালে খুব পরিপাটি হয়েই বেরিয়ে পড়ল সে। ক্যাম্পাসে পৌঁছেই সে বিন্দুকে খুঁজতে লাগল, এদিক সেদিক সবখানে দেখল, পেল না।
তাদের দুইজনের সেই প্রিয় জায়গাটাই গেল সোহাগ, দেখল ছোট্ট সেই বেঞ্চিতে একটি মেয়ে বসে আছে, ভালো করে খেয়াল করতেই বুঝতে পারল সেটা বিন্দু। পেছনে পা টিপে টিপে গেল সে, চোখে হাত দিল, দেখল আরে হাত তো ভিজে গেছে, বিন্দু কাঁদছে। সাথে সাথেই সামনে গিয়ে বসে পড়ল সোহাগ,
--- আজ কান্না নই,(কথাটা বলেই চোখ মুছিয়ে দিল সোহাগ)।
--- কেন? তোমার তাতে কি?
--- আচ্ছা আমার কি? তোকে একটা কথা বলব আজ, অনেক দিন ধরে বলতে চাইছি,
--- কি?
--- না তুই আবার কান্না করবি,
--- এই দেখ, কাঁদছি না, বল
--- তোকে আজ খুব সুন্দর লাগছে,
--- শুধু এটা?
--- হুম,
--- আমি যাই, ভালো লাগছে না।
উঠতে যাবে এমন সময় আবার বসিয়ে দিয়ে সোহাগ বলল, আরে মেইন কথাটা না শুনেই যাচ্ছিস ক্যান,
--- আমি, মানে আমি না তোকে, মানে
--- এত মানে মানে করলে কিন্তু চলে যাব,
--- বলছি তো, তুই কি আমার 'তুমি' হবি? আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি,
মেয়েটি খুব জোরে কান্না করতে লাগল। আর বলল, "তাইলে এত্ত জ্বালাও কেন আমায়"
--- খুব ভালোবাসি তাই, তুমি বললে না যে,
--- আমিও তোমায় অনেক ভালোবাসি আমার টমাস,
এটা বলেই লাফিয়ে গলা জড়িয়ে ধরল সোহাগের বিন্দু। এবং শুরু হল একসাথে হাতেহাত ধরে ওদের জীবনের বাকি পথ চলা।
লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now