বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেদুঈন কন্য—০৯

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৯ সিরিয়ার বিশিষ্ট নাগরিক, মিলিওনেয়ার ব্যবসায়ী। দুটো রিফাইনারি ও স্টিল রি-রোলিং ফ্যাক্টরির মালিক ছাড়াও নানান ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ভদ্রলোক। বয়স পঞ্চানড়বর কম না হলেও, আউটডোর লাইফের টান এখনও তাঁকে ছাড়েনি, ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না। এরপর খুক করে কেশে কাফ্রি সরদার সালেভান রানাকে জানাল, ওর চেয়ে মাত্র কয়েক মিনিট আগে এই মেনদেরেস ভদ্রলোকই তার বোট ফরচুনা ভাড়া করতে গিয়েছিলেন। তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও, ভদ্রলোকের খুব ইচ্ছে বড় আকারের মাছ ধরবেন। ভাড়া করা একটা মোটর বোট নিয়ে শুরুও করেছিলেন, কিন্তু একটা লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মোটর বোটটার বেশ ক্ষতি হয়েছে, মেরামতের জন্য সময় লাগবে। বন্দরে ভাল কোনও বোট ভাড়া পাওয়া খুব কঠিন একটা ব্যাপার, সরদারও তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, কাজেই আপাতত হাত-পা গুটিয়ে ডাঙায় বসে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। এ নিয়ে নিজের কপালকে দায়ী করছেন মেনদেরেস, সৌজন্য বোধ থেকে রানা তাঁকে আশ্বস্ত করল, ‘একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে। আর তা যদি না হয়, আমাদের ইয়টে চলে আসবেন। আমারও তো মাছ ধরার খুব শখ।’ সন্ধে ঠিক সাতটায় ডান্স ফ্লোরে বেরিয়ে এল একদল নর্তকী। সবাই তারা রাশান তরুণী, ব্যালে শিল্পী। তাদের নাচ শেষ হতে ডান্স ফ্লোরে হাজির হলো মিশরীয় এক বেলি ডান্সার। এক মুহূর্ত পর ফ্লোরের এক কোণে রূপের আগুন নিয়ে যেন পূর্ণিমার চাঁদ উঠল হাতে মাইμোফোন নিয়ে গান ধরল এক তন্বী ফিলিস্তিনি। দিলরুবা নয়, প্রম দর্শনেই তাকে চিনতে পারল রানা, সুরাইয়া। তার গানের তালে তালে কোমর ও পেটে ঢেউ তুলছে মিশরীয় বেলি ডান্সার। আরও প্রায় চলি−শ মিনিট থাকল রানা ওখানে। পরিবেশটা খেয়াল করল, চোরা চোখে দেখে নিল উপস্থিত লোকজনকে, খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল সুরাইয়ার প্রতিটি আচরণ। না, পরিষ্কার বুঝল রানা, সুরাইয়া ওকে চিনতে পারেনি। কারণটা শুধু ছদ্মবেশ নয়, রানা বসেছেও বেশ অনেকটা দূরে। আরও একটা ব্যাপার স্পষ্ট, অত্যন্ত নার্ভাস বোধ করছে সুরাইয়া। খানিক পর পর এদিক-সেদিক ছুটে যাচ্ছে তার অস্থির দৃষ্টি। পরদিন কাজে নেমে পড়ল রানা। কারও মনে কোনও রকম সন্দেহ না জাগিয়ে সুরাইয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে ও। দুদিন পর পরিষ্কার একটা চিত্র পাওয়া গেল। বিচ ক্লাবের তিনতলার একটা স্যুইটে একা থাকে দিলরুবা ওরফে সুরাইয়া। প্রতিদিন সন্ধে সাতটায় অনুষ্ঠানে আসে সে, তা ছাড়া ওই স্যুইট ছেড়ে সাধারণত কোথাও তাকে যেতে দেখা যায়নি। স্থানীয় তরুণ বা বিদেশি ট্যুরিস্ট যারা বিচ ক্লাবে আসা-যাওয়া করে তারা প্রায় সবাই এই মধুকণ্ঠী অপ্সরার জন্য পাগল, কিন্তু কেউ তারা তার কাছ থেকে কোনওরকম প্রশ্রয় পায় না। সুরাইয়ার সঙ্গে কখনও কেউ দেখা করতে আসে না। অন্তত আজ পর্যন্ত আসেনি। তার অবসর সময় কাটে রোমান্টিক বই পড়ে, কানে ওয়াকম্যান লাগিয়ে গান শুনে, আর পায়চারি করে। আজ তিনদিন হলো স্যালামেসে এসেছে রানা, সুরাইয়ার গান শুনেছে চারবার। তার আচরণ থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে গেছে, মারাত্মক কোনও বিপদের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত হয়ে আছে সে। রাতে সিদ্ধান্ত নিল রানা, বিসিআই সেটআপ থেকে গ্রিন সিগনাল পাওয়া গেলে কালই সুরাইয়ার সঙ্গে দেখা করবে ও। গান শেষ হওয়ার পর, সরাসরি তার তিন তলার স্যুইটে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now