বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেদুঈন কন্য—০৭

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৭ দেবে আলকাতরাকেও। ‘এই যে, মিস্টার, এই বোট কি ভাড়া হবে?’ ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল রানা। ‘একবার তো বললাম ফোটেন, আবার দিকদারি করছেন কেন?’ ঝাঁঝের সঙ্গে বলল বিকট দানব। ‘ভুল করছেন, আমি এইমাত্র এসেছি,’ বলল রানা। ‘তা হলে আপনিও ফোটেন,’ চর্বি ও মাংসের ডিপো থেকে আওয়াজ বেরুল। ‘অভাবে না পড়লে আমি বোট ভাড়া দিই না।’ হাসি পেলেও চেপে রাখল রানা। ‘ও, আচ্ছা, কুঁড়ের বাদশা,’ বলল ও। ‘সেজন্যেই এত রকমের অভাব চোখে পড়ছে।’ ‘কী?’ কপাল থেকে হাত সরাল কালো ভূত, একটা চোখ মেলে তাকাল রানার দিকে। ‘এত রকমের অভাব মানে?’ ‘এই যেমন বুদ্ধি, ফিটনেস ইত্যাদি।’ প্রকাণ্ডদেহী লোকটা কুণ্ডলী ছাড়াল। শরীরটার মত, তার চোখ দুটোও বিরাট, বিস্ময়ের ধাক্কায় পিরিচের মত বড় হয়ে আছে। তার নড়াচড়ায় মনে হলো দুলে উঠল ইয়ট। ফুটবলের মত শরীরটা রেইলিং টপকে চলে এল জেটিতে। পিছু হটবে, তার সুযোগই পেল না রানা, হাতির পায়ের মত একজোড়া হাত দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরল লোকটা। নিজের চওড়া বুকের সঙ্গে পিষছে ওকে। ঝগড়ার মুডে নেই ও। ‘আই য়্যাম সরি। রিয়েলি সরি।’ বলতে চাইল রানা, দম নিতে কষ্ট হচ্ছে ওর। কিন্তু লোকটা ছাড়ছে না দেখে বাধ্য হলো জুজিৎসুর একটা জটিল প্যাঁচে ওকে তিনহাত দূরে ছিটকে ফেলতে। মাটিতে পড়েই একলাফে উঠে দাঁড়াল দানব, কালো মুখে ঝকঝকে সাদা হাসি। হাসছে দৈত্যটা। ‘আপনি আমাকে চিনতে পারেননি, মিস্টার মাসুদ রানা, সার। কিন্তু আপনাকে আমি ঠিকই চিনেছি,’ সারা শরীর কাঁপিয়ে হাসছে সে তার সরল হাসি। ‘আমি রডরিক-এর ভাই সালেভান। সেই রডরিক, মনে আছে, যে আপনাকে বলেছিল আই লাভ ইউ, ম্যান? মনে পড়ে?’ এতক্ষণে রানার চোখে পড়ল চেহারার মিলটা। কাঠামোর মিলও প্রায় অবিকল। ‘কেন মনে পড়বে না,’ দীর্ঘশ্বাস চেপে বলল ও। ‘তা আপনি এখানে?’ ‘এখানে আমি সরদারি করি, মিস্টার রানা। তুর্কি সাইপ্রাসের সব আফ্রিকান আমার শিষ্য। কেউ আমার নাম ধরে না, সেটা বোধহয় জানেই না সবাই আমাকে কাফ্রি সরদার বলে ডাকে। বেয়াদপি করেছি, সেজন্যে মাফ করবেন। আপনার জন্যে আমি কী করতে পারি বলুন। এখানে আপনার কী কাজ?’ ‘কী কাজ এখনও জানি না,’ বলল রানা। ‘আপাতত ট্যুরিস্ট হিসেবে সময় কাটাব, ঘুরেফিরে চারদিকটা দেখব, লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হব। তারপর দেখা যাবে।’ ‘রডরিক আপনাকে ভাই মনে করত, আমিও আপনাকে ভাই বলেই জানি,’ বলল কাফ্রি সর্দার। ‘আপনি আমাকে বিশ্বাস করে যে-কোনও কাজ দিতে পারেন। দেখবেন কাজটা হয়ে গেছে।’ ইয়ট ফরচুনা ভাড়া নিল রানা আগামী পনেরো দিনের জন্য। নিজের চেহারা খানিকটা বদলে নিয়েছে ও, সহজে যাতে কেউ ওকে চিনতে না পারে। অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রানা, হঠাৎ করে সুরাইয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ানো উচিত হবে না। প্রমে আড়াল থেকে লক্ষ রাখবে, বুঝতে চেষ্টা করবে কী ধরনের বিপদে পড়েছে সে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষা-দীক্ষা তেমন না থাকতে পারে, কিন্তু বুদ্ধিমান ও বিশ্বস্ত একজন মানুষ কাফ্রি সরদার সালেভান; ঠোঁটের ফাঁকে সারাক্ষণ লেগে আছে মুক্তোর মত দ্যুতি ছড়ানো নির্মল হাসি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ভাল লেগে গেল রানার। কাফ্রি সরদারের আরেকটা গুণ, বন্দর নগরী স্যালামেসের


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now