বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
করোনার" তখন জিজ্ঞেস করে, প্রাণটা বেরিয়ে যাওয়ার আগে বাবা কিছু বলেছিলেন?
ইদুর সম্বন্ধে কী যেন বলছিল।
‘মানে কি বুঝলে?’
‘ভুল বকছিল।
‘বাবার সঙ্গে ঝগড়াটা হল কী নিয়ে ?
‘বলব না।’
‘বলতেই হবে।
‘তার সঙ্গে এ ব্যাপারের কোনো সম্পর্ক নেই।’
‘সেটা কোর্ট বুঝবে। জবাব না-দিলে তোমার ক্ষতি হবে।’
‘হোক।’
‘কু ডাক দিয়ে বাবা তোমাকে ডাকত, তুমিও বাবাকে ডাকতে?
‘হ্যাঁ!”
কিন্তু বাবা তো জানতেন না তুমি বাড়ি ফিরেছ? ডাকলেন কেন?
ঘাবড়ে গেল জেমস। বললে, “বলতে পারব না।’
বিকট চিৎকার শুনে ফিরে এসে সন্দেহজনক কিছু দেখেছিলে?’
‘সে-রকম কিছু দেখিনি।
‘তাহলে কী দেখেছিলে ?’
‘আমি তখন পাগলের মতো বাবার দিকে দৌড়োচ্ছি— কোনোদিকে খেয়াল নেই। সেই সময়ে মনে হল যেন বা-দিকে ধূসর রঙের কী-একটা পড়ে আছে– অনেকটা আলখাল্লার মতো। বাবার পাশ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে জিনিসটা আর দেখিনি।’ ‘মি. টার্নারের বাড়ি যাওয়ার আগেই দেখলে জিনিসটা নেই।’
‘হ্যাঁ।’
‘ঠিক কী বলে মনে হয় জিনিসটা ?”
‘কাপড়ের মতো কিছু।"
‘ডেডবডি থেকে কত তফাতে?
‘প্রায় বারো গজ তফাতে।’
‘বন সেখানে কদ্দুর?
‘ওইরকমই।”
‘তাহলে বলতে চাও তুমি থাকতে থাকতেই জিনিসটা উধাও হয়ে গেল?
‘আমি কিন্তু সেদিকে পেছন করে বসে ছিলাম।”
জেরা এইখানেই শেষ ।
পড়া শেষ করে বললাম, ‘করোনার ঠিক ঠিক পয়েন্টেই চেপে ধরেছে। এক, বাবা তাকে দেখেনি, অথচ ডাকল কেন? দুই, ঝগড়ার বৃত্তান্ত চেপে যাওয়া। তিন, মরবার সময়ে ইদুর সম্বন্ধে কথা বলেছিলেন ম্যাকার্থি— মানেটা ছেলে বোঝেনি।’ হোমস হাসিমুখে বললে, ‘যে-অসংগতিগুলো দেখে তুমি আর করোনার খড়গহস্ত হয়েছ ছেলেটির ওপর— সেগুলোই কি ওর সত্যি কথা বলার প্রমাণ? পুরো ব্যাপারটা বানিয়ে বলার মতো কল্পনাশক্তিই যদি ওর থাকত, তাহলে ওই তিনটে অসংগতি চাপাচুপি দিয়ে চমৎকার তিনটে গল্প শুনিয়ে দিতে পারত। মিথ্যে যে বলে, সে কি গল্পের মধ্যে সন্দেহের বীজ রেখে উদ্ভট অসংগতি শোনাতে চায় ? না হে, ছেলেটা সত্যিই বলেছে। এখন আর এ নিয়ে কোনো কথা নয়। এই বইটা পড়তে বসলাম, বিশ মিনিটে সুইনডনে পৌছে লাঞ্চ খাব।”
রস শহরে যথাসময়ে পৌঁছোলাম। বেজির মতো ক্ষিপ্র, ইনস্পেকটর লেসট্রেড দাঁড়িয়েছিল প্ল্যাটফর্মে। চোখে সেয়ানা চাহনি ! আগে নিয়ে গেল সরাইখানায়। ঘর ঠিক করাই ছিল। চা খেতে খেতে বললে, “এখুনি গাড়ি আসছে। সোজা অকুস্থলে চলুন।
‘আজ রাতে গাড়ির দরকার হবে বলে মনে হয় না।’ ‘তাই বলুন। কাগজ পড়েই তাহলে সমাধানে পৌছে গেছেন? খুবই সোজা কেস। কিন্তু মেয়েটা নাছোড়বান্দা। আপনার সঙ্গে কথা না-বলা পর্যন্ত রেহাই দিচ্ছে না।— এই যে এসে গেছে।’ একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল সরাইখানায়। হুড়মুড় করে ঢুকল একজন পরমাসুন্দরী তরুণী। উদবেগ উৎকণ্ঠায় সামলাতে পারছে না নিজেকে।
মি. শার্লক হোমস?’ পর্যায়ক্রমে আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে হোমসকে ঠিক চিনে নিল মেয়েটা, ‘খুব আনন্দ হচ্ছে আপনাকে দেখে। জেমস নির্দোষ। এইটুকু বয়স থেকে ওকে চিনি। মাছি পর্যন্ত যে মারতে পারে না, সে করবে খুন? মি. হোমস, শুধু এই বিশ্বাস নিয়েই আপনি তদত্ত শুরু করুন।’
‘নিশ্চয় করব, জেমস যে নির্দোষ তাও প্রমাণ করব।”
‘ওর জবানবন্দি পড়ে কি আপনার মনে হয়নি ও নির্দোষ?”
‘সেইরকমই মনে হয়েছে।’
‘কী! বলেছিলাম না? লেসট্রেডের দিকে ফিরে তাচ্ছিল্যের সুরে বললে মেয়েটা। লেসট্রেড কাঁধ বাকিয়ে বললে, ‘মি. হোমস একটু তাড়াতাড়িই সিদ্ধান্তে পৌছে যাচ্ছেন।
‘কিন্তু হক কথা বলেছেন। জেমস নির্দোষ। বাবার সঙ্গে ঝগড়ার কারণটা কেন বলেনি জানেন? ওর মধ্যে আমিও আছি বলে।’
‘কীরকম ? শুধোয় হোমস।
‘জেমসের বাবা চান আমার সঙ্গে জেমসের বিয়ে হোক। কিন্তু আমরা ছেলেবেলা থেকে ভাইবোনের মতো পরস্পরকে ভালোবেসে এসেছি। বাপবেটায় প্রায়ই ঝগড়া হত এই নিয়ে।’
‘তোমার বাবা কী বলত?’
‘তার মত নেই। জেমসের বাবা ছাড়া কারোরই মত নেই,’ বলতে বলতে সুন্দর মুখখানা লাল হয়ে গেল মিস টানারের।
‘কালকে তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাব ভাবছি।’
‘ডাক্তার রাজি হবেন বলে মনে হয় না।’
‘কেন?’
‘গত কয়েক বছর ধরেই শরীর খুব খারাপ। তারপর এই ধাক্কায় একেবারে বিছানা নিয়েছেন।
হাল ছেড়ে দিয়েছেন ডাক্তার। ভিক্টোরিয়ায় থাকার সময় থেকেই তো বন্ধুত্ব মিস্টার ম্যাকার্থির সঙ্গে ।
‘ভিক্টোরিয়ায় ? খবরটা কাজে লাগবে।’
‘খনির কাজে ছিলেন।’
“সোনার খনি, তাই না? টাকা রোজগার করেছেন সেইখানেই ?
‘হ্যা।’
‘ধন্যবাদ। এ-খবরটাও কাজে লাগবে।’
‘জেমসের সঙ্গে নিশ্চয় দেখা করতে যাবেন জেলখানায়? ওকে বলবেন আমি জানি ও নির্দোষ।’
‘বলব, নিশ্চয় বলব!’
‘আর বসব না, চলি। বাবার অবস্থা ভালো নয়।’ বলতে বলতে বেগে বেরিয়ে গেল মিস টার্নার। একটু পরেই শুনলাম চাকার আওয়াজ— মিলিয়ে যাচ্ছে দূরে।
গম্ভীর গলায় লেসট্রেড বললে, ‘কাজটা ভালো করলেন না মি. হোমস। মিথ্যে আশা দিলেন মেয়েটাকে!’
‘লেসট্রেড, জেমসকে খালাস করতে পারব এ-বিশ্বাস আমার আছে। জেলখানায় গিয়ে দেখা করার অনুমতি পাব কি আমি ?’
‘শুধু আপনি আর আমি পাব।’
‘তাহলে চল বেরিয়ে পড়া যাক। ট্রেন পাওয়া যাবে?’
‘পাবেন।’
‘ওয়াটসন, ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ফিরছি আমি।
এই দুটো ঘণ্টা যেন আর কাটতে চাইল না আমার। ওদেরকে ট্রেনে তুলে দিয়ে একটু এদিক-ওদিক ঘুরে সরাইখানায় ফিরলাম। চটকদার উপন্যাস পড়বার চেষ্টা করলাম, কিন্তু মন চলে আসতে লাগল খুনের রহস্যে। বিরক্ত হয়ে বই ফেলে ভাবতে বসলাম। হোমসের খাতিরেই যদি ধরি ছেলেটা সত্যি বলছে, তাহলে সে বাবার কাছ থেকে চলে আসার সময় থেকে আরম্ভ করে বাবার চিৎকার শুনে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভয়ানক কিছু একটা ঘটেছিল। আবার, বাবার কাছে পিছন ফিরে বসে থাকার সময়েও কেউ সেখানে এসে পেছন থেকে ধূসর জিনিসটা সরিয়ে নিয়ে গেছে। ভারি আশ্চর্য ব্যাপার তো! জিনিসটা কী? খুনির পোশাক? আমি নিজে ডাক্তার। কাজেই আঘাতের ধরনটা অনুধাবন করতে গিয়ে দেখলা, চোট লেগেছে খুলির পেছনকার বা-দিকের হাড়ে— গুড়িয়ে গেছে গুরুভার অস্ত্রের আঘাতে। অথচ ছেলেটিকে দেখা গেছে বাপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ঝগড়া করতে। অবশ্য এ-যুক্তির কোনো মানে নেই। বাপ পেছন ফিরতেই হয়তো হাতিয়ার চালিয়েছিল জেমস। কিন্তু মরবার ঠিক আগে ইঁদুর নিয়ে বিড়বিড় করতে গেলেন কেন মি. ম্যাকার্থি? এ সময়ে আচমকা আঘাতে কেউ তো আবোল-তাবোল বকে না? কী বলতে চেয়েছিলেন ভদ্রলোক ?
হোমস এক ফিরল অনেক দেরিতে— লেসট্রেড শহরে থেকে গেছে।
আসন গ্রহণ করে বললে, ‘অকুস্থলে পৌছোনোর আগে বৃষ্টি আরম্ভ হয়ে গেলে মুশকিলে পড়ব।— জেমসের সঙ্গে দেখা হল জেলখানায়।’
‘কী মনে হল? অন্ধকারে আলো দেখাতে পারল জেমস ?
‘একেবারেই না। প্রথমে মনে হয়েছিল খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। পরে দেখলাম নিজেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে। খুব চৌকস নয় ছেলেটা, কিন্তু সুদর্শন। মনটা পরিষ্কার।’
‘মিস টার্নারের মতো মেয়েকে বিয়ে করতে যে চায় না, তার পছন্দরও খুব একটা তারিফ করা যায় না ?
‘ওহে ওর মধ্যেও একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা রয়েছে। ছোকরা বোর্ডিং স্কুলে থাকার সময়ে ব্রিস্টলের একটা হোটেলের মেয়ের পাল্লায় পড়ে। তাকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে পর্যন্ত করে। বোকা আর বলে কাকে। কাউকে কথাটা বলাও যাচ্ছে না। এদিকে বদমেজাজি বাবার কাছে ধমক খেতে হচ্ছে মিস টার্নারকে বিয়ে করতে চাইছে না বলে। হাত-পা ছুড়ে লেকের পাড়ে প্রতিবাদ জানিয়েও লাভ হয়নি। সত্যি কথাটা বললেই তো বাড়ি থেকে বার করে দেবে বাবা— গুমরে গুমরে তাই মরছে। তিন দিন ব্রিস্টলে স্ত্রী-র সঙ্গে কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পরেই খুন হয়ে গেল বাবা। কাগজে খবরটা পড়ল হোটেলের মেয়ে। জেমসের ফাঁসি হবেই বুঝতে পেরে নিজে থেকেই কেটে পড়ল। চিঠি লিখে জানিয়েছে, ওর আগের স্বামী বর্তমান— কাজেই জেমসের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।’
‘বেশ তো, জেমস যদি খুন না-করেই থাকে, তাহলে করলটা কে? ‘দুটো ব্যাপার নিয়ে তোমাকে ভাবতে বলব। এক নম্বর হল, জেমসের বাবা জানতেন না ছেলে বাড়ি ফিরেছে— তা সত্ত্বেও তিনি “কু” করে ডেকেছিলেন। দু-নম্বর হল, লেকের পাড়ে যার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সে আর যেই হোক তার ছেলে নয়— কারণ উনি জানতেন ছেলে এ-তল্লাটেই নেই। আজ আর এ-নিয়ে কোনো কথা নয়।’
সকাল বেলা গাড়ি নিয়ে এল লেসট্রেড। আকাশ নির্মেঘ। রাতেও বৃষ্টি হয়নি। গোলাবাড়ি আর হ্রদের দিকে রওনা হলাম আমরা।
যেতে যেতে লেসট্রেড বললে, ‘মি. টার্নার আর বাঁচেন কি না সন্দেহ।”
‘বয়স অনেক হয়েছে বুঝি?? হোমস বললে।
‘ষাট বছর তো বটেই। শরীরের ওপর অনেক অত্যাচার করেছেন বিদেশে থাকার সময়ে। এমনিতেই কাহিল ছিলেন, বন্ধু ম্যাকার্থির মৃত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন। বন্ধুর জন্যে কম করেননি— গোলাবাড়ির ভাড়া পর্যন্ত নেন না।’ ‘বটে। খবরটা শুভ।’
‘বিনা ভাড়ায় শুধু থাকতেই দেননি, আরও অনেক উপকার করেছেন ম্যাকার্থির— পাঁচজনে বলেছে।’
‘তাই নাকি! একটা ব্যাপারে কি তোমার খটকা লাগেনি লেসট্রেড ?’
‘কী বলুন তো?’
‘এত উপকার করা সত্ত্বেও মেয়ের সঙ্গে মি. ম্যাকার্থির ছেলের বিয়ে দিতে মি. টার্নার রাজি নন। অথচ মি. ম্যাকার্থি বিয়ের কথা সমানে বলে যাচ্ছেন— যেন খুবই স্বাভাবিক প্রস্তাব। মেয়েটি কিন্তু মি. টার্নারের সব সম্পত্তি পাবে। কী? আঁচ করতে পারলে ?’
‘ঘটনার ঠেলায় অস্থির হয়ে পড়েছি, আঁচ করার হেপাজত আর পোয়াতে পারব না।’
‘তা ঠিক। ঘটনার ঠেলায় তুমি হিমশিম খাচ্ছ, গম্ভীর গলা হোমসের।'
চটে গেল লেসট্রেড। ‘আপনি কিন্তু এখনও মরীচিকা দেখছেন। যা ভাবছেন, তা নয়।’
কুয়াশার চাইতে তো ভালো! হেসে বললে হোমস। এই যে, এসে গেছে গোলাবাড়ি। বেশ বড়ো গোলাবাড়ি। দোতলা। সদ্য শোকের ছাপ সর্বত্র। দরজায় ধাক্কা দিতেই ঝিঁ বেরিয়ে এল। হোমস তার কাছে দু-জোড়া জুতো চাইল। মারা যাওয়ার সময়ে মি. ম্যাকার্থি যে বুট পরে ছিলেন, সেইটা। আর তার ছেলের একজোড়া বুট।
জুতো এল। ফিতে বার করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সাত আট রকম মাপ নিল হোমস। তারপর রওনা হলাম লেকের দিকে।
এবং পালটে গেল ওর চোখ-মুখের চেহারা। বরাবর দেখেছি এই ধরনের সন্ধানী অভিযানে নামলেই ও যেন শিকারি কুকুরের মতো আত্মনিমগ্ন আর হন্যে হয়ে উঠে। তখন কারো কথা কানে ঢোকে না— বেশি কথা বলতে গেলে খেকিয়ে ওঠে। ভুরু কুঁচকে ইস্পাত-কঠিন চোখে মাটির দিকে তাকিয়ে, দু-কাঁধ বাঁকিয়ে, নাকের পাটা ফুলিয়ে হনহন করে হেঁটে যায় হেঁট মাথায়।
এইভাবেই মাঠে নামল, গেল লেকের ধারের জঙ্গলে। জলা জায়গায় অসংখ্য পদচিহ্ন। হোমসের নজর সব দিকেই। কখনো জোরে যাচ্ছে, কখনো আস্তে। মাঠটাকেও চক্কর দিয়ে এল একবার। রকম-সকম দেখে অবজ্ঞার হাসি হাসছে লেসট্রেড। আমার কৌতুহল কিন্তু বেড়েই চলেছে। শার্লক হোমসকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। অকারণে সে কিছু করে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now