বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মত আজও তনয় ফজরের নামাজ পরেই তনিমাকে
দেখতে এসেছে।আসবেই না কেন! তনিমা যে ওর
আদরের একমাত্র ছোট বোন। ওকে না দেখলে যে
তনয়ের দিনটাই শুরু হত না। সকাল থেকে রাত অব্দি দুইজন
বাসায় থাকলেই টম আর জেরির মত ঝগড়া করত। কিন্ত জিতটা
কিন্ত তনিমারই হত সব সময়, কেননা তনয় ইচ্ছা করেই ওর
কাছে হার মানত।এতে তনিমার মুখে যে হাসিটা ফুটত তা
দেখলেই যে তনয়ের জিত। মেয়েটা বড্ড অভিমানী
ছিল। তনয়ের কাছে কোন কিছুর আবদার করলে সেটা
একবারের বেশি বলত না। কিন্ত তনয়ও আগে ওকে একটু
রাগিয়ে নিয়ে তারপর ওর আবদার গুলো পুরন করত।
আজ কয়েকদিন ধরেই তনয়ের মা ওর বিয়ের কথা বলছে।
কিন্ত তনিমাকে ছাড়া ও কি করে বিয়ে করবে!!!
তনিমার যে অনেক সপ্ন ছিল ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে।তনয়
ভাবতে থাকে...
_ভাইয়া শোন,তুই বিয়ে করবি না?
_অবশ্যই। তবে তার আগে তোকে এই বাসা থেকে
তাড়াবো। তারপর আমি বিয়ে করব।
_ বাহরে! কি শখ।আমাকেই নাকি আমার বাসা থেকে তাড়াবে।
আমি গেলেতো।
_যাবিনা মানে। বের করে দিবো। একটা সুন্দর বান্দর
দেখে তনিমা বান্দরনিকে শপে দেবো।
_ বাহ! কি প্ল্যান। আমাকে তাড়িয়ে একা একা রাজত্ব করবে! তা
হবেনা। তার আগেই তোমাকে বিয়ে দিবো। আর হ্যা
তোর যদি পছন্দ করা কেউ থাকেও তাকে আমার কাছে
ইন্টার্ভিউ দিতে হবে। পাশ করলে তবেই সে আমার ভাবি
হবে।নইলে রিজেক্ট।
_জি না। দরকার হলে আমি বিয়েই করব না। তবু তোর
পছন্দমতো বিয়ে করতে পারব না। যা চয়েস তোর!!!
_ আমি না থাকলে আপনার বিয়েও হবেনা। বুঝেছেন!!
শোন তোর বিয়ের প্রত্যেকটা জিনিস আমি পছন্দ করে
কিনবো।১০ দিন আগে থেকে কেনাকাটা শুরু করব আর
আমার সব ফ্রেন্ডদের দাওয়াত করব। তবে তোর
ফ্রেন্ডদেরও বলতে পারবি।
_ তুই করবি চয়েস! তাহলে দেখা যাবে মার্কেট এর সব পচা
জিনিসগুলো আমাদের বাসায় এসে হাজির।
এসব কথায় তনিমা খুব রেগে যেত আর ওকে রাগিয়েই
তনয়ও মজাই পেত।
আর সেবার তনিমার জন্মদিনে কি কান্ডটাই না করছিল তনয়!!! ও।
ইচ্ছা করেই ওর বাবা-মা কে বলে রেখেছিল যেন উইশ না
করে।আর এমনভাব করে যেন সবাই ভুলেই গেছে আজ
ওর জন্মদিন। তাই হল। তনিমা প্রতিবারের মত রাত ১২ টার দিকে
অপেক্ষা করছে কখন সবাই একসাথে হ্যাপি বার্থডে
বলবে।কিন্ত ১২ টা পার হয়ে গেলেও যখন কেউ উইশ
করল না।ওর খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল এইটা ভেবে যে
সবাই কি করে তার বার্থডে ভুলে গেল! ও ভেবেছিল
হয়তো সবাই ঘুমিয়ে গেছে তাই মনে নেই। সকালে
উইশ করবে।ঘুম থেকে উঠেও কারো কোনও
কেয়ারই নেই তনিমার প্রতি। তনিমা শুধু রাগছিল কিছু বলতে
পারছিল না। সবাই কি করে ওর সাথে এমন করতে পারে। তনিমা
সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছিল এটা দেখে যে ওর
কোন কাছের ফ্রেন্ড ও ওকে উইশ করেনি। সারাদিন মন
খারাপ করে রুমেই বসেছিল। আর এই সুযোগে তনয়
নিজের
রুমটা বেলুন,কাগজ আর ফুল দিয়ে সাজিয়েছিল। সন্ধ্যায় যখন
তনিমার ফ্রেন্ডরা এসে ওকে উইশ করেছিল,ও খুশি হওয়ার
চাইতে অবাক হয়েছিল বেশি। কেননা ও জানতই না যে ওর
ভাই ওর ফ্রেন্ডদেরকেও বারণ করেছিল উইশ করতে
আর সাথে সন্ধ্যায় ওদের বাসায় আসার ইনভাইট করেছিল।
তনয়ের রুমে গিয়ে সত্যি খুব খুশি আর অবাক হয়েছিল তনিমা।
কিন্ত মুখ ফুলিয়ে বলেছিল,
_ কার জন্য এতসব শুনি। আমি কাটবোনা কেক। আজ সারাদিন
তোমরা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো।
তনয়ও হেসে বলছিলো..
_ আরে এই কেকতো আমি তোর জন্য আনি নাই। তোর
ফ্রেন্ডদের আসতে বলছিলাম।তাই আর কি...
আবার শুরু হয়ে যেত দুজনের ঝগড়া। তনয় এইবারও ওর
জন্মদিনের কেক এনেছিল আর ওগুলো পথের ছোট
বাচ্চাদের দিয়েছে। কারন তনিমাও পথশিশুদের খুব আদর
করত।চকলেট কিনে দিত। বেলুন কিনে দিত।মাঝে মাঝে
তনয়কেও শামিল করত ওর সাথে। আর আজ ইচ্ছা থাকলেও
তনয় তার বোনটাকে শামিল করতে পারবে না কোনও
খুশিতেই।
এসব ভাবতে ভাবতেই সেই ভয়ংকর দিনটার কিথা ভাবতে থাকে
তনয়।তনিমার কলেজের একটা ফাংশন ছিল। আগের দিনই ওকে
বলে রেখেছিল নিয়ে যাওয়ার জন্য। তনয় কিছু বলেছিল। না।
কারন ও খুব ভালো করেই জানত ওর বোন যখন বলেছে
তখন ওকে নিয়ে যেতেই হবে আর তনিমাও জানত যে
ওর ভাই কখনওই ওর আবদার অপূর্ণ রাখবে না।কিন্ত সকালে
রেডি হয়ে যখন তনিমা ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছিল তখন তনয়
একটু রাগের সাথেই বলেছিল ও যেতে পারবে না।
কেননা তনয়ের জানা ছিল ওকে ছাড়া ওর বোন যাবেনা। তাই
ভাবল আগে ওকে একটু রাগানো যাক। তনিমার রাগী মুখটা
দেখতে তনয়ের ভালোই লাগে।একটু পরে উঠেই তনয়
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে তনিমাকে ডাকতে লাগলো।কিন্তু তনিমার
কোন উত্তর পেলোনা।তখন ওর মা বলল যে তনিমা বের
হয়ে গেছে। তনয় প্রথমে খুব অবাক হয়েছিল যে
ওকে রেখেই ওর বোনটা চলে গেল।তার মানে আজ
ও খুব অভিমান করে বের হয়েছে তাই ও তাড়াতাড়ি না
খেয়েই বের হয়ে গেছিল। রাস্তায় একটু যেতেই
দেখে কিসের যেন জটলা বেধেছে লোকজনের।
ও সেদিকে যাচ্ছিল কিন্ত ওর মনে চিন্তা তনিমাকে নিয়ে ছিল
না জানি মেয়েটা কি পরিমান রেগে আছে। ও একজন মহিলার
কন্ঠ শুনতে পায় যে বলছিল,"আহারে এত ছোট একটা
মেয়ে।কি হল।ওর পরিবারের কেউ এখনো আসেনি।
বাইকের ধাক্কায় যে কারো ইন্সট্যান্ট মৃত্যু হয় কখনো
দেখিনি।"
কথাটা শুনেই তনয়ের বুকের মধ্যে একটা মোচড় দিয়ে
উঠেছিল।ও ধীরে ধীরে ভীড়ের দিকে এগিয়ে
গিয়ে যা দেখল....
এক বছর হয়ে গেলো। প্রতিদিন তনয় ফজরের নামাজ
পরেই বোনের কবরটা জিয়ারত করতে আসে। তনিমার
মৃত্যুর জন্য ও নিজেকেই দায়ী মনে করে। ফিরে যাওয়ার
সময় ভাবে তনিমা যেন ওকে ডেকে ডেকে বলছে..
"ভাইয়া আজও আমাকে নিয়ে যাবেনা তোমার সাথে?
জানো
কবরের ভেতরে না খুব অন্ধকার, আমার একা থাকতে খুব ভয়
করে। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। কথা দিচ্ছি আর
তোমার কাছে কোন আবদার করব না,জালাতন করব না।
আমাকে ফেলে যেও না।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now