বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইরা ফোন দিয়েই যাচ্ছে, বিশ্বাস করুন এই মেয়ের এত্তো ধৈর্য আছে! এত্তো ধৈর্য!! তা আমি আগে জানতাম না। পাঁচ মিনিট আগেই জাস্ট কথা হইছে তরকারিতে মসলা, লবনের পরিমাণ নিয়ে। এখন পাঁচ মিনিট পর আবার কল, কেটে দেয়া সত্ত্বেও ফোন। অফিসে বসে বসে এসব ডিসকাস করা কতটা অসহ্যকর বলার মতো না। শেষমেশ সুইচড্ অফ করে রাখলাম। কাজের সময় ন্যাকামি সহ্য হয় বলেন? যাক একটু কাজ করবো যেই ভাবলাম সেই গেটম্যান কালাম ভাই আইসা হাজির। স্যার মেডামে কল দিছে এই লন কথা কন। কি আর বলবো যাক ফোন নিয়ে জাস্ট হ্যালো বললাম, তারপর শুরু হলো এই তুমি ফোন ধরো না কেন? ফোন সুইচড্ অফ কেন? তুমি কোথায় কার সাথে আছো এক্ষুনি বাসায় আসো বলছি, আমি রান্না করতেছি একসাথে খাবো।
আমি জাস্ট বললাম ইরা তুমি খেয়ে নাও প্লিজ, আমার আসতে লেট হবে। আর হা, কালাম ভাইকে কল দিয়োনা আমার ফোন অন আছে এই বলে কেটে দিলাম।
.
এখন আবার সেই ননসেন্স কল। অপ্সসস!!! পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি। এই মেয়ের কমন সেন্স বলতে কিছুই নাই। আজকে এর একটা বিহিত করবো। কাজ ফেলেই বাসায় গেলাম, দরজায় বেল টিপছি দরজা খুলছে না। মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেল, ফোন দিয়ে খুলালাম। ইরা যেইমাত্র দরজা খুললো
এক নিঃশ্বাসে বলতে লাগলাম,
এই মেয়ে তোমার কি সমস্যা? আমাকে কি মানুষ মনে হয়না তোমার? তোমার জন্য একটা মুহূর্ত আমি শান্তি পাচ্ছি না কেন? উত্তর দাও, এত্তো ঢং আমার ভাল্লাগেনা বুঝছো? সারাটাদিন খাওয়া ঘুম আর সিরিয়াল নিয়ে পরে থাকো তো বুঝবা কি করে কতটা খেটে পয়সা কামাই করি, দিন দিন খেয়ে হাতির মতো হচ্চো, মাথায় ঘিলু হয়না কেন?
আরো অনেক কিছু বলেছি রাগের মাথায়, ইরা জাস্ট বললো, সরি আমি অপেক্ষা করে ঘুমায় পরছিলাম তাই দরজা খুলতে লেট হইছে, চোখ দিয়ে জরজর করে পানি পরতেছে ইরার, ব্যাপারটা আমলে নেই নাই। ইরা রুমে চলে গেল।
.
আমি ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম, ইরা দেখি ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে রেডি।
- কোথায় যাচ্ছো?
- জাহান্নামে, আমি সরি আর ডিস্টার্ব করবোনা। তোমার ফেভারিট ডিশ রান্না করছিলাম শখ করে তাই একটু এক্সাইটেড ছিলাম নাতিং এলস্। ক্ষমা করে দিও।
বলেই চলে গেল। আর আমি জানি তার দৌড় কত দূর। কাকলিতে ওর বাবার বাসা খুব একটা দূরে না তাই কিছু বলি নাই।
.
এখন ঘড়িতে বাজে বিকাল পাঁচটা, ডাইনিং এ খাবার রাখা, ইরা খায় নাই বুঝাই যাচ্ছে। ইচ্ছা মতো খেলাম। সন্ধ্যায় বের হলাম গলিতে আড্ডা মারলাম রাতের খাবার কিনে বাসায় ফিরে এসে খেলাম এর ভেতর কোনো খোজ নেই নাই ইরার।
সারারাত মুভি দেখলাম। সকালে উঠে দেখি লেট হয়ে গেছে অনেক। তারাতারি রেডি হয়ে অফিসে গেলাম। আজ টাই বাধি নাই গলায়, এটা ইরার দায়িত্ব ছিলো। দরজাটাও লক করি নাই ভাবছি ইরা আছে রুমে ও আটকাবে। অফিসে বসে শান্তি পাচ্ছি না। ইরাকে একটা ফোন দিলাম নাম্বার অফ, যাক নিজেকে হালকা করলাম এই বলে যে ঝামেলা দূরেই থাকুক।
.
অফিস থেকে বাসায় ফিরলাম, দুপুরে বাইরে খাওয়া দাওয়া করছি। বাইরের খাবার খুব একটা খাইনা, পেটের কন্ডিশনও ভাল্লাগছে না। রাতে নিজেই রান্না করবো ভাবছি, সন্ধ্যায় ঘুরাঘুরি করে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলাম। এখন রান্না করবো ইউটিউব অন করলাম 'মাংস ভুনা কেমনে করে' লিখে সার্চ দিলাম, অনেক সিস্টেম চলে এসেছে।
মোটা করে একজন মহিলা কেকা ফেরদৌসি নাম। উনি দেখাচ্ছেন করাইটা ধুতে হবে। তারপর বসালাম তেল ঢাললাম, পেঁয়াজ দিতে বললো। এইরে পেঁয়াজ তো কাটি নাই তারাতারি পেঁয়াজ কাটলাম এদিকে তেল সেই গরম হয়ে গেছে। পেঁয়াজ ছাড়া মাত্রই পুড়ে ছাই।
যাইহোক কেকা আপার কথা না শুইনা যা যা মসলা ছিলো দিয়ে দিলাম, এবার শুনি উনি বলতেছে মাংসটা ঢালুন, অপ্স!!! শিট ম্যান মাংসতো ফ্রিজে!
এবার এই মহিলার প্রতি সিরিয়াস মেজাজ গরম হয়ে গেছে। এই বেটির উচিত ছিলো আগে বলা যে মাংসটা বের করে রাখুন, রান্না বাদ দিয়ে দিলাম।
কলা আর ব্রেড খেয়ে শুয়ে পরছি।
.
পরদিন অফিসে যাবো উঠে দেখি পানি নাই, কিচেনে বাজে গন্ধ, ডাইনিংএ ইরার রেখে যাওয়ার খাবারের অংশ পচে গেছে। আমার শার্ট প্যান্টে ঘামের দাগ পরে গেছে, কুঁচ বলে গেছে। বাসায় ধুলোবালি ময়লায় খারাপ অবস্থা। আমি হারে হারে বুঝতে পারছি ইরার শূন্যতা। ইরা তার জায়গা থেকে কতটা সঠিক ছিলো তা বুঝতে আর বাকি নেই। আর একা একা মেয়েটা বাসায় থাকে, আমারও বুঝা উচিত ছিল।
.
আর এক মুহূর্ত দেরি করা যাবেনা যেভাবেই হোক আমার ইরাকে আনতে হবে। ইরাকে আনতে পারছি।
কিভাবে আনলাম এটা বইলেন না আর, সে আরেক ইতিহাস। এখন সব আবার ঝকঝকে তকতকে। অফিসে বসে আছি, কাজ ও করতেছি। ব্লুটুথ হ্যাডসেড অন করা ইরা লাইনেই আছে। ভুনা খিচুড়ি রান্না করছে, লবন কয় চামচ দিবে মাত্র চৌদ্দ বার বলছে। কোন রকম দাতে দাত চেপে কাজ করছি, কিচ্ছু করার নেই।
লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now