বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাত
ঘাড়ে একটা লোমশ হাত পড়তেই চমকে পেছনে ফেরে রিনক।
'ওহ তুমি', ফোস করে চেপে রাখা নিশ্বাস ফেলল রিনক।'আমাকেতো ভয় লাগিয়ে দিয়েছিলে।আরেকটু হলে হার্ট এটাক করে ফেলতাম।'
সহকারির কথা শুনে বেশ অবাক লাগল জাহিদের।রিনক কেন তাকে দেখে ভয় পাচ্ছে না? সেতো এখন ভ্যাম্পায়ার।আশ্চার্য! ওরতো এখন রক্তের নেশাটাও কেটে গেছে।
'এই কি ভাবছো তুমি?', জাহিদের কাধ ধরে ঝাকি দিল রিনক।'ভূতে ধরল নাকি?'
'অ্যা, ওহ না কিছু না', চটপট নিজেকে সামলে নিল জাহিদ।ভ্যাম্পায়ার থেকে পূনরায় মানুষে পরিণত হয়েছে ও।
'চল', জাহিদ বলল।'আজ ফিরে যাই।'
'হ্যা চল',
পূনরায় বাড়ীটার সামনে এসে সাইকেল দুটোয় চড়ে বসল দুইগোয়েন্দা।চাঁদনি রাতে হালকা ধূলো ওড়িয়ে এগিয়ে চলল দুইকিশোর।
পরদিন সকালবেলা।
রক্তের নেশায় পূনরায় উন্মাদ হয়ে উঠল গোয়েন্দা প্রধান জাহিদ।রাতে শিকারকে হাতের মুঠোয় পেয়েও কিছু করতে পারেনি তার জন্য নিজের উপর রাগ হচ্ছে তার।অস্থির হয়ে হেডকোয়াটারে গিয়ে ঢুকল।নিজের ডেস্কে বসে চিন্তা করতে লাগল কিভাবে রিনককে শিকার করা যায়।কিছুক্ষণ এভাবে চিন্তা করার পর হঠাৎ করেই ঝক ঝক করে ওঠল ওর চোখ দুটো।প্ল্যান পেয়ে গিয়েছে।ফোনটা কানে ঠেকিয়ে ডায়াল করল রিনকের বাড়ীতে।হেডকোয়াটারের সামনে আসতে বলে ফোনটা রেখে দিল।এরপর বাইরে বেড়িয়ে রিনকের জন্য অটেক্ষা করতে লাগল।বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না তাকে।সময় মত রিনক এসে উপস্থিত হল।
'আবার কোথাও যেতে হবে নাকি?', রিনক জিজ্ঞাসা করল।
'হু চল', জাহিদ বলল। 'ড.গ্রিফানোর খোজ পাওয়া গিয়েছে।'
'তাহলেতো আমাদের এখনি সাইফুল আংকেলকে জানানো উচিত।'
'এখনো সময় হয়নি চল',
রিনক জানে হাজারও চেষ্টা করেও জাহিদকে তার সিদ্ধান্ত থেকে নড়ানো যাবে না।তাই অযথা আর কথা বাড়ালো না।চুপচাপ ভদ্র ছেলের মত তার সাথে হাঁটতে লাগল।প্রায় ২০ মিনিট হাঁটার পর ওরা এসে একটি পরিত্যাক্ত মিলে এসে পৌছাল।
'এখানে ড. আসতে যাবে কেন?', অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল রিনক। 'এটাতো ভূতেদের আড্ডা।'
জাহিদ কোনো উত্তর দিল না।পা বাড়াল পরিত্যাক্ত মিলের দিকে।ব্রিটিশ আমলের এ মিলটা কুমিল্লার সদরের উত্তর দক্ষিণে একটা গ্রামে অবস্থিত।ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর থেকেই মিলটা পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে রয়েছে।তখনকার দিনে নিল চাষ করা হত আর সে নিল এনে জমা করা হত এ মিলে।আর এখান থেকেই সে নিল বাজারজাত করা হত।চারপাশে ছড়ানো ছিটানো অসংখ্য লোহার টুকরো পরে রয়েছে।বিশাল মেশিনের পার্টগুলো মর্চে ধরে লাল হয়ে রয়েছে।দেখলেই কেমন ঘা ছমছম করে উঠে। বড় একটা পরিত্যক্ত মেশিন পেরিয়ে এপাশে চলে এল ওরা।প্রায় ২০ ফুট উচু একটা মেশিন দেখিয়ে জাহিদ বলল, 'আমাদের ওখানে চড়তে হবে',
'কেন?', মেশিনটার দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলল রিনক।'ওখানে কেন?'
'চারপাশে চোখ রাখার জন্য', বলেই মেশিনের পাশে থাকা পুরোনো একটা মই বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করল জাহিদ।আর কোনো উপায় না পেয়ে রিনকও তার পেছন পেছন উঠতে লাগল।দীর্ঘ দিন অবহেলিতভাবে পরে থাকা লোহার মইটা মরচে ধরে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে।প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে ক্যাচ করে শব্দ করে টলে উঠছে সিড়িগুলো।যেকোনো সময়ে ভেঙে যাবে এমন ভাব।যেন অভিযাত্রিদের অগ্রিম বিপদ সংকেত দিয়ে রাখছে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকল পুরোনো মইটা।ওরা পৌছে গেল মেশিনটার উপরে।বিশাল দৈত্যাকার এ মেশিনটার ছাদটা পুরোপুরি সমান।একদম মেঝের মত।পাতলা একটা স্টিলের পারদ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছাদটা।সেখানে বসে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিল ওরা।রিনককে এপাশে থাকতে বলে জাহিদ অন্যপাশে চলে এল।মনে মনে সুযোগ খুজছে রিনককে মারার জন্য।ভেতরটা যে খুব দ্রুত হিংস্র হয়ে উঠছে সেটা বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছে ও।হঠাৎ করেই জাহিদের লোমগুলো সব বড় হয়ে গেল।মুখের সামনে দিয়ে বেড়িয়ে পরল বড় বড় দুটো দাত।মানুষ থেকে ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হয়েছে জাহিদ।রিনক এখন অন্যতিকে ফিরে পথের উপর নজর রাখছে।এটাই সুযোগ তাকে খুন করে তার রক্ত সাবাড় করার।উঠে দাড়াল গোয়েন্দা প্রধান।ধীরে ধীরে এগোতে লাগল রিনকের দিকে।মুখে ফুটে উঠেছে রহস্যময় হাসি।এটা আনন্দের হাসি।মানুষের রকক্ত খাওয়াটা যে কতটা মজাদার সেটা অন্যকেউ বুঝতে পারবে না।জাহিদ রিনকের কাছ থেকে কয়েক মিটার দূরে ঠিক এমন সময় নিচ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে আসলে,'এই ছেলেরা তোমরা ওখানে কি করছ? নামো ওখান থেকে নামো',
হকচকিয়ে গেল জাহিদ।ঘুরে অন্যদিকে দৌড় দিল সে।
'আরে পরে যাবেতো', চেচিয়ে উঠল রিনক।
রিনকের শব্দ কানে আসতেই দাড়িয়ে গেল জাহিদ।একটুর জন্য বেঁচে গেছে।নিজের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠল।পূনরায় মানুষে পরিণত হয়েছে ও।
'এই তোমরা নামছ না কেন?', নিচ থেকে ভেসে আসলো সে কণ্ঠ।
মই বেয়ে নিচে নেমে এল দুইগোয়েন্দা।
'তোমরা ওখানে উঠেছিলে কেন হ্যা?', জিজ্ঞাসা করল একজন পুলিশ।এতক্ষণ ওনিই ডাকছিলেন।
'ইয়ে-না-মানে স্যার', দ্বিধা করতে লাগল রিনক।
'কি ইয়ে ইয়ে করছো?', ধমকে উঠল পুলিশটা।'সোজাসুজি বল।তোমরা জান না এটা সংরক্ষিত মিল।এখানে বিনা অণুমতিতে ঢোকা বেআইনি'
ঢোক গিলল রিনক।সাহায্যের আশায় বন্ধুর মুখের দিকে তাকাল ও।মাথা নিচু করে কিছু একটা ভাবছে জাহিদ।কোনো কথা বলছে না।
'চল তোমরা থানায় চল', বলল পুলিশ।
চলবে.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now