বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাঁচ
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আতঙ্কটা ছড়িয়ে পরল জাহিদের মধ্যে।কিছু বুঝে ওঠবার আগেই শা করে মার্সেডিজ গাড়ীটা একেবারে শেষ মুহূর্তে ওদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল।এত বড় একটা বিপদের থেকে বেঁচে গেছে ওরা,সেটা কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না রিনকের।তার মাথা এখনো ভো ভো করছে।ভয়ের চোটে পাশে কাত হয়ে পরে গিয়েছিল রিনক।ওঠে দাড়ালো ও।হাত দিয়ে শরীরে লেগে থাকা ধূলো ঝাড়তে লাগল।
'আরি বাপরে', বোস করে চেপে রাখা নিশ্বাস ছাড়ল রিনক। 'লোকগুলো পুরোই উন্মাদ।এভাবে কেউ গাড়ী চালায়?'
'চালায় যদি ক্ষতি করার মতলব থাকে', বলল জাহিদ।
'কিন্তু আমাদেরতো কোনো ক্ষতি করল না', রিনক বলল।'শেষ মুহূর্তে পাশ কাটিয়ে বেড়িয়ে গেল।'
'কারণ,' জাহিদ বলল। 'ওরা আমাদের সাবধান করে গিয়েছে'
'মানে?'
'মানে হচ্ছে কেউ একজন আমাদের ঐ বাড়ীটা থেকে দূরে থাকতে বলছে।এ দেখ।' জাহিদ একটা কাগজ রিনকের চোখের সামনে তুলে ধরল।কিছু একটা লেখা রয়েছে কাগজে।রিনক মনে মনে পরল কাগজের লেখাটা,"ঐ বাড়ীটা থেকে দূরে থাক।ওটা তোমাদের জন্য বিপদজনক।নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে এনো না।এটাই আমার শেষ ওয়ার্ণিং।"
'এখন কি করবে?', পড়া শেষে জিজ্ঞাসা করল রিনক।
'বরাবর যেটা করে এসেছি', গর্বের সঙ্গে বলল জাহিদ।
'মানে কেসটার তদন্ত চালিয়ে যেতে চাও?'
মাথা নেড়ে সায় জানালো জাহিদ।রিনক জানে একবার যে কেস জাহিদ হাতে নেয় সে কেসের রহস্য উদগাটন না করা পর্যন্ত শত বিপদ থাকলেও পিছিয়ে আসেনা।কাজেই রিনক আর কোনো কথা বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করল না।বাড়ীর দিকে রওনা দিল দুজনে।কিন্তু রিনক এটা জানত না যে এ কেসটাই তার জন্য হয়তোবা শেষ কেস যেটা তার বিপর্যয় নিয়ে আসবে।বাড়ীতে পৌছেই জাহিদ সোজা হেডকোয়াটারে এসে ঢুকল।রিনক ওর নিজের বাড়ীতে চলে গিয়েছে।হেডকোয়াটারে এসেই নিজের চেয়ারে ঘা এলে দিল ও।পকেট থেকে ভাজ করা কাগজটা বের করে তার ভাজটা খুলল।চোখের সামনে মেলে ধরে কয়েকবার পড়ল লেখাটা।কে এ লোক যে ওদের ঐ বাড়ী থেকে দূরে থাকতে বলছে? আর কেনই বা বলছে? তাহলে কি সত্যিই ড.গ্রিফানো রয়েছেন সেখানে? নাহ আর ভাবতে পারছে না সে।মাথাটা কেমন যেন পাক খেয়ে উঠল।এরপর কখন যে ঘুমিয়ে পরল সে নিজেও জানে না।যখন ঘুম ভাঙে তখনো দিনের শেষ আলোটা বাকী।আজ এ দানব রহস্যের একটা ভিহিত করতে হবে ভেবে উঠে দাড়াল ও।সিদ্ধান্ত নিল একাই যাবে সে বাড়ীটাতে।গিয়ে দেখবে লুকিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে ড.গ্রিফানো কি করে?
শেষ বিকেল।সূর্যটা পশ্চিম আকাশে অবহেলিতভাবে মাথা দোলাচ্ছে।দূর থেকে পাহাড়ের সারিগুলো দেখতে অজনা কোনো দৈত্যের মত লাগছে।তারই মধ্য দিয়ে বুনো পথে সাইকেল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জাহিদ।এটাই উপযুক্ত সময় ড.গ্রিফানোর উপর চোখ রাখার।কারণ যতরকম রহস্য এ সন্ধার সময়েই দেখেছে ও।সাথে রিনক আসেনি।ওর বাড়ীতে কাজ রয়েছে।রহস্যময় বাড়ীটার কাছাকাছি এসে ঘ্যাচ করে ব্রেক কষল জাহিদ।বাড়ীর ভেতরে একটা আলোর নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছে ও।তার মানে ওর সন্দেহই ঠিক।বাড়ীতে কেউ একজন রয়েছে।সাইকেলটা একটা গাছের নিচে রেখে বাড়ীর দিকে এগিয়ে গেল জাহিদ।ঝোপের আড়ালে আড়ালে বাড়ীটার ঠিক দরজার সামনে চলে এল।সাবধানে মাথা উঠিয়ে ওকি দিল।দরজাটা সে আগের মতই বন্ধ আর কড়ায় ঝুলছে বড় তালাটা।তাহলে নিশ্চই অন্য কোনো পথ রয়েছে ভেতরে প্রবেশ করার, ভাবল সে।উঠে দাড়াল ও।নিঃশব্দে এগিয়ে গেল দরজার সামনে।কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে দৈত্যাকৃতির তালাটার দিকে তাকিয়ে রইলো ও।কিন্তু সন্দেহজনক তেমন কিছু চোখে পরল না।সবেমাত্র পেছনের দিকে ঘুড়ে দাড়িয়েছে জাহিদ ঠিক এমন সময় শক্ত একটা কিছু এসে আঘাত হানল তার মাথায়।একটা মুহূর্ত সবকিছু অন্ধকার লাগল ওর কাছে।এরপর টলে উঠল ওর দেহটা।পরক্ষণেই আটার বস্তার মত মেঝেতে আছড়ে পরল গোয়েন্দা প্রধানের দেহটা।জ্ঞান হারিয়েছে জাহিদ।
জ্ঞান ফিরতেই অবাক হয়ে চারপাশে তাকাতে লাগল সে।একটা তীব্র কেমিকেলের গন্ধ নাকে আসছে ওর।চারপাশটা অন্ধকার।কিছুই দেখা যাচ্ছে না।উঠতে চাইল সে।কিন্তু পারল না।হাত নাড়ানোর চেষ্টা করল।কিন্তু তাও পারল না।এতক্ষণে জাহিদ বুঝতে পারল একটা চেয়ারে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাধা রয়েছে সে।কিছুক্ষণ বাদে কিছুটা দূরে একটা ল্যাম্প জ্বলে উঠল।ল্যাম্পের সামনে এগিয়ে আসলো একটা ছায়ামূর্তি।৫ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা ছায়ামূর্তিটার গায়ে বড় একটা আলখেল্লা।আলোর থেকে অন্ধকারটা বেশি হওয়ায় ওটার রংটা বুঝা গেল না।মাথাভর্তি চুল আর হাতে একটা সিরিজ্ঞ নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে ছায়ামূর্তিটা।এবার সবকিছু বুঝতে পারল গোয়েন্দা প্রধান।সে রয়েছে রহস্যময় সে বাড়ীটার ভেতর আর ওর সামনে দাড়িয়ে থাকা ছায়ামূর্তিটা হচ্ছে ড.গ্রিফানো।এটাও ওর বুঝতে বাকী রইলো না যে ড.গ্রিফানোর এবারের শিকার সে নিজেই।শিকার পেয়ে বাঘ যেমন খুশি হয় তেমনি খুশি হয়ে কর্কশ একটা হাসি দিল পাগলা বিজ্ঞানী।নড়ে উঠল তিনি।ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল জাহিদের দিকে।আর তার হাতে শোভা পাচ্ছে একটা ইঞ্জেকশান।আলো পড়ে ইঞ্জেকশানের সুইটা চকচক করছে।
চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now