বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ড.গ্রিফানো!',অবাক হল রিনক। 'সে আবার কে?'
'একজন বিজ্ঞানী,এ দেখ', ডেস্কের উপর একটা পত্রিকা রাখল জাহিদ।পত্রিকাটা হাতে নিয়ে ডেস্কের দিকে ঝুকে পড়তে আরম্ভ করল রিনক।পত্রিকার এক বিশেষ জায়গায় ড.গ্রিফানোর কথা বলা হয়েছে যিনি গত কয়েক বছর ধরে আমাযন জঙ্গলে প্রাণীদের উপর গবেষণা করছে।আর তার লক্ষ্য এমন একটা ঔষধ আবিষ্কার করা যার দ্বারা এক প্রাণীর বৈশিষ্ট্য অন্য প্রাণীতে আনা যায়।আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হচ্ছে ড.গ্রিফানো এখন কুমিল্লায় রয়েছে।তবে কোথাও সেটা উল্লেখ নেই তাতে।পড়া শেষ করে পত্রিকাটা ডেস্কের উপর রাখল রিনক।মুখ তুলে জাহিদের দিকে তাকালো।চোখে অবিশ্বাসের ছাপ ফুটে ওঠেছে।
'আরি বাপরে', বলল রিনক।'এক প্রাণীর বৈশিষ্ট্য আরেক প্রাণীতে স্থাপন করা! এতো পুরো পাগলামি।'
'হ্যা পাগলামি বটে', সামনের দিকে ঝুকে পরল জাহিদ। 'তবে আমার সন্দেহ ঐ পাগলা বিজ্ঞানী আমাদের রহস্যময় ঐ বাড়ীটাতেই রয়েছে'
'কিন্তু আমরাতো ভালো করে পরিক্ষা করেছি, কিছুই পাইনি।দরজাতেও তালা লাগানো ছিল।আর কিভাবেই বা তুমি শিউর হচ্ছো?'
'দেখ আমরা যদি আমাদের সাথে ঘটা সকল ঘটনাগুলো পরপর সাজাই তাহলে একটা জোরালো প্রমাণ দাড় করাতে পারি এর পক্ষে।এমন একটা বাড়ী থেকে আমরা রহস্যময় প্রথম আওয়াজটা শুনি যে বাড়ীতে গত তিন দশক ধরে কেউ থাকে না।এরপর দেখা পাই বইয়ের পাতায় উল্লেখ করা দানব।আমার ঘাড়ে একটা তীর পাই যেটা একমাত্র আমাযনেই রয়েছে।আমি রহস্যময়ভাবে রাস্তা হারিয়ে আবার খুজে পাই।সবগুলোর ঘটনার পেছনে একটাই কারণ হতে পারে আর তা হল ড.গ্রিফানো।বাড়ীটা এবং তার আশেপাশের এলাকা নির্জন।এরমানে কারও চোখে পরার ভয় নেই।বাড়ীটাতে যেতেই তীরটা আমার কাধে বিধে।হয়তো ড.গ্রিফানোই ছুড়েছে।কোনো গোপন এক্সপেরিমেন্টের জন্য জায়গাটা একেবারে উপযুক্ত।আমি হলে এমন জায়গাতেই ওঠতাম।'
'কিন্তু তীরটা তোমার উপর ছুড়েছিল কেন?', রিনক জিজ্ঞাসা করল।
'হয়তো বিজ্ঞানী তার ঔষধ আবিষ্কার করে ফেলেছে।আর আমার উপর তা পরিক্ষা করেছে।কিন্তু ঐ দানবটা এল কি করে? ঐ বিজ্ঞানী কার উপর এমন নির্মম এক্সপেরিমেন্ট চালালো?', চিন্তার ছাপ দেখা দিল জাহিদের মুখে।
'জাহিহিদ', চেচিয়ে উঠল রিনক।'এ দেখ,' পত্রিকাটা দেখাল সে। 'বিজ্ঞানীর সহকারি ছিল জনি।আমারতো মনে হয়......' চুপ হয়ে গেল রিনক।
'হ্যা ঠিক ধরেছো', জাহিদ বলল। 'বিজ্ঞানীর প্রথম শিকার জনি!'
'আরি বাপরে',বাতাসে থাবা মারল রিনক। 'বিজ্ঞানীটাকেতো তাহলে পুলিশে দিতে হয়'
'তা অবশ্য ঠিক', মাথা দোলালো জাহিদ। 'এমন একটা বিপদজনক এক্সপেরিমেন্ট করা ঠিক না।তার থেকেও বড় কথা এমন একটা সাইকো বিজ্ঞানী যখন যা ইচ্ছে তা করে ফেলতে পারে।কিন্তু তার বিরুদ্ধেতো আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।আমাদের মত দুটো কিশোরের কথা প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করবে না পুলিশ।'
'আমরা কিন্তু সাইফুল আংকেলের সাথে কথা বলতে পারি এ বেপারে', রিনক পরামর্শ দিল।
'হ্যা ঠিক বলেছো, চল।'
'ক্যাপ্টিনের সাথে দেখা করতে চাও?', ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করল সার্জেন্ট আবির।চোখে সন্দেহ ফুটে উঠেছে। 'এখন সম্ভব না।ওনি জরুরি কাজে রয়েছেন।'
'প্লিজ স্যার', অনুরোধ করল রিনক। 'ওনার সাথে দেখা করাটা জরুরি।'
'বললাম না এখন হবে না', ধমকের সুরে বলল সার্জেন্ট। 'যাও ভাগো এখান থেকে।'
রিনকের পরামর্শ অনুযায়ি ওরা চীফের সাথে ড.গ্রিফানোর বেপারে কথা বলতে থানায় এসেছে।কিন্তু থানার গেইটে থাকা সার্জেন্ট কিছুতেই ওদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।
'বেশ দরকার ওনাকে', আবার বলল রিনক। 'আমাদের যেতে দিন।'
কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল সার্জেন্ট তাকে থামিয়ে দিয়ে জাহিদ শান্ত গলায় বলল, 'ক্যাপ্টেনকে গিয়ে বলুন দুইগোয়েন্দা এসেছে দেখা করতে।'
'কি তোমরা গোয়েন্দা?', ভ্রু দুটো কাছাকাছি হয়ে গেল লোকটার।
'হ্যা শখের গোয়েন্দা।' জাহিদ উত্তর দিল।
'বেশ তাহলে এটা বলতো ঐ লোকটাকে এমন চিন্তিত লাগছে কেন?', থানার সামনে বসে থাকা একটা ভদ্র লোককে দেখাল সার্জেন্ট।বেশ চিন্তিত হয়ে বসে রয়েছে আর বার বার নিজের আঙুলের উপর হাত চালাচ্ছে।সেদিকে একবার তাকাল জাহিদ।এরপর সার্জেন্টের দিকে তাকিয়ে বলল,'একটা হিরের আঙটি চুরি হয়ে গিয়েছে লোকটার আঙুল থেকে।বেশ দামি ছিল সে আঙটিটা।তাই এখানে রিপোর্ট লেখাতে এসেছেন আর বেশ চিন্তা করছেন।'
জাহিদের কথা শুনে বিস্ময়ে হা হয়ে গেল সার্জেন্টের মুখ।তার কথা সব অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছে।ছেলেদের আর আটকালো না সার্জেন্ট।ভেতরে সোজা চীফ সাইফুলের কেবিনে চলে আসলো ওরা।
'আরে জাহিদ যে', ওদের দেখতে পেয়ে বলে উঠল চীফ সাইফুল।'আরেকটা কেস পেয়েছো বুঝি?'
ঘাড় নেড়ে সায় জানালো জাহিদ।
চীফের সামনে থাকা চেয়ার দুটিতে বসল ওরা।এমন সময়ে কেবিনে প্রবেশ করল সার্জেন্ট।স্যালুউট করে চীফকে বলল, 'স্যার এ ছেলেটাতো সত্যিই অসাধারণ একটা গোয়েন্দা।যেন বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে।বাইরের লোকটাকে দেখে কেমন গড়গড় করে সব বলে দিল তার বেপারে।'
হেসে মাথা নাড়ল চীফ, 'ওকে এখনো তুমি চিনোনি আবির।সামান্য একটা সূত্র ধরে পুরো কেস সলব করে ফেলতে পারে।এমন সব সূত্র ও টেনে বের করে আনে যার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।পুলিশের অনেক কেসে ওরা সাহায্য করেছে।কই জাহিদ তোমাদের একটা কার্ড দেখাও ওকে।'
পকেট থেকে দুইগোয়েন্দার একটা কার্ড বের করে সার্জেন্টের দিকে এগিয়ে দিল জাহিদ।কার্ডটা হাতে নিয়ে একবার চোখ বুলিয়ে সার্জেন্ট বলল, 'আমাকে ক্ষমা করে দিও জাহিদ।তখন আসলে বুঝতে পারিনী।'
উত্তরে জাহিদ শুধু একটা হাসি দিল।এ প্রথম সে সার্জেন্টকে ভালো করে দেখল।৬ ফুট উচ্চতা।হাতের পেশিগুলো বেশ ফোলানো।তবে মাথায় ক্যাপ থাকাতে চুলের পরিমাণটা বুঝা গেল না।বয়স ২৩ এর কৌঠরায়।বুকের কাছে লেখা রয়েছে মোঃআবির হোসেন।আরও একবার স্যালুট দিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল সার্জেন্ট আবির।
'তো বল কিভাবে সাহায্য করতে পারি', ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললেন সাইফুল।
'আমাদের কোনো সাহায্য দরকার নেই আপাতত',বলল জাহিদ। 'তবে একটা বেপার আপনাকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করছি।'
'কী?'
'আসলে আঙকেল........', ওদের সাথে যা যা ঘটেছে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সব খুলে বলল জাহিদ।মাঝে মাঝে কথার খেই ধরল রিনক।
'হু', চিন্তিত হয়ে মথা দোলালেন চীফ।'বেপারটা বেশ বিপদজনক হবে যদি ড.গ্রিফানো সত্যি সত্যি ঔষধটা আবিষ্কার করে ফেলেন।কিন্তু জাহিদ তুমিতো জান প্রমাণ ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না।'
মাথা দোলালো জাহিদ।
'তবে তেমন কিছু হলে সাথে সাথে খবর দেবে।'
ঠিক আছে বলে চীফের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো ছেলেরা।
'আরি বাপরে', রাস্তায় এসে বলল রিনক।'ঐ লোকটার বেপারে এতকিছু জানলে কি করে তুমি?',
'তুমি খেয়াল করেছো লোকটা বার বার তার আঙুলের দিকে তাকাচ্ছিল।আর তার আঙুলে দীর্ঘদিনের একটা আঙটির ছাপ রয়েছে।তারমানে সেখানে একটা আঙটি ছিল।আর লোকটার বসার স্টাইল আর পোশাক-আশাক দেখে বোঝা যায় বেশ ধনী ।এমন একজন মানুষ নিশ্চই সাধারণ কোনো আঙটি পরবে না আঙুলে।'
'সাবাশ জাহিদ সাবাশ', চেচিয়ে উঠল রিনক।'সত্যিই তুমি....' কথা আটকে গেল তার।চোখে ফুটে উঠল আতঙ্কের ছাপ।কালো ৫ টন ওজনের একটা মার্সেডিজ গাড়ি তাদের দিকেই ধেয়ে আসছে উর্ধ্ব গতিতে।
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now