বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওতো কবিতা আবৃত্তি করছিল আর সাইকেল চালাচ্ছিলো।হয়তো অন্যমনস্ক হয়ে গিয়ে রাস্তা ভুল করে ফেলেছে ভেবে পাহাড়ি খাড়াই রাস্তা ধরে চূড়োর দিকে উঠতে লাগল।ওর ধারণা চারপাশটা ভালো করে একবার দেখলেই হাররানো রাস্তা পাওয়া যাবে।জাহিদ যখন পাহাড়ের চূড়োয় উঠল তখন ঘামে পুরো শরীর ভেজা তার।চূড়োটা ঘাসে ঢাকা।সে ঘাসের উপর সোজা হয়ে শুয়ে পরল ও।এভাবে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর উঠে বসল।চোখ মেলে চারদিকে তাকাল।সাথে সাথে দমে গেল গোয়েন্দা প্রধানের মন।চারদিকে বড় বড় পাহাড় মাথা উচিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে।পাহাড়গুলো সব সবুজে ঢাকা।এ জায়গায় যে সে কোনোদিনও আসেনি সেটা বেশ টের পাচ্ছে ।এ প্রথম জাহিদ খেয়াল করল সূর্যটা ওর মাথার উপর চড়ে বসেছে।
রিচওয়াচের দিকে তাকিয়ে আতকে উঠল রিনক।রাত ৮ টা বাজে।সন্ধা পেরিয়ে রাত হয়ে গেল অথচ এখনো জাহিদের দেখা নেই।এতক্ষণতো লাগার কথা না।তাহলে ও পথে কোনো বিপদে পরেনিতো? কথাটা তার মনে হতেই নিজেন অজান্তে কেপে উঠল সে।সাইকেলে চড়ে বসে জমিদার বাড়ীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দিয়ে এগোতে লাগল।এ রাস্তা দিয়েই জাহিদের আসার কথা।অন্ধকার রাত।যদিও চাঁদটা আকাশে রয়েছে পাশে জঙ্গল থাকায় সেটার আলো পৌছুতে পারছে না এখানে।আশ্চার্য রিনকের এখন একটুও ভয় লাগছে না।আসলে ও এমনি।বন্ধু বিপদে পরলে কোনো কিছু চিন্তা করে না সে।সোজা বিপদে ঝাপিয়ে পরে বন্ধুকে উদ্ধার করে।এর আগেও রাতের অন্ধকারে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা থাকার ফলে সাইকেল চালাতে তেমন একটা অসুবিধা হচ্ছে না ওর।বিশেষ একটা স্থানে এসে দাড়িয়ে পরল রিনক।জায়গাটার পাশ দিয়ে পাহাড়ি নদী কলকল করে বয়ে চলছে।আর অন্যপাশে রয়েছে ঘন জঙ্গল।চাঁদের আলোয় জায়গাটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।রাস্তার ধুলোয় স্পষ্ট সাইকেলের চাকার দাগ দেখা যাচ্ছে।সাইকেল থেকে নেমে দাগটা ভালো করে পরিক্ষা করল রিনক।।বেশি দেড়ি হয়নি দাগটার।তারমানে জাহিদ এখান দিয়েই এসেছিল।দাগটা ধরে কিছুদূর এগোতেই হাওয়া হয়ে গেল ওটা।চারপাশে একবার চোখ বুলালো রিনক।জাহিদের সাইকেলের চাকার দাগ এখানেই রয়েছে কিন্তু জাহিদ কোথায়? ভাবছে সে।
'জাহিহিহিহিদ', ডাক দিল রিনক।কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া গেল না।আবার ডাক দিল সে,'জাহিহিহিদ'।কিন্তু এবারো কোনো উত্তর পাওয়া গেল না।
চার
'জাহিহিহিদ', রিনকের গলার আওয়াজটা জাহিদের কানে আসতেই অবাক হয়ে চারপাশে তাকাতে লাগল সে। আশ্চার্যতো, ভাবছে সে।রিনকের গলা শুনা যাচ্ছে কেন? তাহলে কি রিনকও এখানে?
'জাহিহিহিদ', আবার শুনা গেল রিনকের গলা।শব্দটা পাহাড়ের নিচ থেকে আসছে।সাবধানে পাহাড়ের নিচে উকি দিল জাহিদ।কিন্তু কোথাও রিনককে দেখতে পেল না।নিশ্চই নিচের কোনো একটা ঝোপের মধ্যে রয়েছে রিনক, ভেবে সাইকেল নিয়ে পাহাড়ের নিচে নামতে লাগল সে।যখন ও পাহাড়ের নিচে নামলো তখনি একরাশ ধোয়ার কুন্ডলি এসে ঘিরে ধরল তাকে।এসব কি ঘটছে কিছুই বুঝতে পারছে না ও।কেমন জানি ভৌতিক ঘটনা যেমনটা হরর মুভিতে দেখা যায়।হঠাৎ করে আবার রিনকের অবাক কণ্ঠ ভেসে আসলো জাহিদের কানে,'এই তুমি কোথায় ছিলে?'
কথাটা শুনে চমকে চারপাশে তাকাতে লাগল জাহিদ।নদীর পাশে সে আগের জায়গায় দাড়িয়ে রয়েছে ও যেখান দিয়ে ও ফিরছিল।
'কি হয়েছে তোমার?', আবার জিজ্ঞাসা করল রিনক।
'আ-আ-আমি ঠিকাছি', কাপা কণ্ঠে জবাব দিল জাহিদ।এরপর দুজনে সাইকেলে চেপে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।রিনক জানে জাহিদ নিজে থেকে কিছু না বললে কোনোভাবেই কথা বের করা যাবে না।তাই সে কোনো প্রকার প্রতিবাদ না করে চুপচাপ সাইকেল চালাতে লাগল। বাড়ীতে পৌছেই জাহিদ সোজা বিছানায় চলে গেল শুতে আর রিনক চলল তার নিজের বাড়ীতে।কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিল ও।ঐ দানবের কথা এতক্ষণ বেমালুম ভুলেই গিয়েছিল ও।মনে পড়তেই তরাক করে লাফফ দিয়ে উঠে বসল বিছানায়।দানবটা কি ওরা সত্যিই দেখেছিল?! নাকি সেটা ছিল চোখের ভূল? তাহলে জাহিদ ঐ পাহাড়েই বা পৌছুলো কি করে? অনেক চিন্তা করেই এর পেছনে যখন কোনো যুক্তি দাড় করাতে পারল না তখন কেমন জানি গোল হয়ে আসল জাহিদের মস্তিষ্ক।ঘটনা দুটো সাজালে একটাই মানে দাড়ায় আর তা হল ভূত! কিন্তু পৃথিবীতে ভূত বলতে কিছু রয়েছে তা মানতে নারাজ সে।তাহলে এর পেছনের যুক্তিটা কি? গভির চিন্তায় ডুব দিল গোয়েন্দা প্রধান।মাথায় মৃদু টোকা দিতে লাগল।তবে বেশিক্ষণ চলল না এ যুক্তির খেলা।তার চিন্তায় ভাটা পরল মায়ের ডাক শুনে।ডিনারের জন্য ডাকছে তার মা।খবার খেয়ে নিজের ঘরে চলে এল ও।জানালার পাশে রাখা চেয়ারটায় বসে পা দুটো সামনে থাকা ডেস্কের উপর রেখে আরাম করে আধো শোয়া আর আধো বসা অবস্থায় রইলো ও।চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগল রহস্যময় সে বাড়ীটার কথা।সবকিছুর মূলে ঐ বাড়ীটাই।যত রহস্য সে বাড়ীটাকেই ঘিরে।ঘটনাগুলোকে পরপর সাজালে বাড়ীটার সাথেই সম্পর্ক পাওয়া যায়।হঠাৎ করে জাহিদ তার ঘাড়ে হাত দিতেই চমকে উঠল।দ্রুত হেডকোয়াটারে এসে প্রবেশ করল।রিসিবারটা তুলে ফোন করল রিনকের বাড়ীতে।
-হ্যালো, হ্যা রিনক,চলে এস দ্রুত,ফোনে বলা যাবে না,আসলেই জানতে পারবে।
ফোনটা রেখে ডেস্কের উপর পরে থাকা একটা পত্রিকা টেনে নিয়ে পরতে আরম্ভ করল জাহিদ।কিছুক্ষণ বাদে কট করে একটা আওয়াজ হয়ে সরে গেল সিক্রেট হোল-২ এর ঢাকনা।হেডকোয়াটারে প্রবেশের গোপন দুটি পথের মধ্যে একটি হল সিক্রেট হোল-২।রিনক ভেতরে প্রবেশ করে ঢাকনাটা পূনরায় লাগিয়ে দিল।
'বল কেন ডেকে পাঠিয়েছো এত রাতে?', নিজের চেয়ারে এসে বসল ও।
'বসো বলছি', গম্ভির গলায় বলল জাহিদ। 'আমার সাথে একটা অদ্ভূদ ঘটনা ঘটেছে'
'অদ্ভূদ ঘটনা!', রিনকের চোয়াল দুটো ঝুলে পরল।
'হ্যা অদ্ভূদ ঘটনা।অনেকটা ভৌতিকও বলতে পার' এরপর জাহিদ ওর সাথে ঘটা সবকিছু খুলে বলতে লাগল।জাহিদের কথা শুনার সময় রিনক বার বার শিহরিত হতে লাগল।
'আর তারপর তুমি আমায় দেখলে', বলা শেষ করল জাহিদ।
'আরি বাপরে,' রিনক বলল। 'এতো সত্যিই ভূতের কান্ড।তাইতো বলি হঠাৎ করে নদী থেকে আসলে কি করে।তো মি.ডিটেকটিভ সাহেব এবার বিশ্বাস হল যে ভূত আছে?'সবসময়তো সবকিছুর পেছনে যুক্তি দেখাও এবার এ ঘটনার কি যুক্তি দেবে?
'যুক্তি আছে', সগর্বে বলল গোয়েন্দা প্রধান। 'আর সে জন্যইতো তোমাকে ডেকেছি।'
'আছে?', বিশ্বাস করতে পারছে না রিনক।
' এ দেখ', রিনকের চোখের সামনে একটা ক্ষুদের তীর তুলে ধরল জাহিদ।'এতে একটা ঔষধ রয়েছে যার ফলে আমি অমনটা দেখেছিলাম।'
ক্ষুদে তীরটা রিনক খুব সাবধানে জাহিদে হাত থেকে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল।ইস্পাতের তৈরি ক্ষুদে তীরটা একটা চুলের মত চিকন আর দৈর্ঘে ২ ইঞ্চি।এসকল তীর যে ইনডিয়ানদের কাছে থাকে সেটা জানা আছে সহকারি গোয়েন্দা রিনকের।
'এটা বাংলাদেশে এল কি করে?', অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল রিনক।'এ তীরটাতো আমাযন জঙ্গলের ইনডিয়ান আদিবাসিদের কাছে থাকে।আর তোমার কাছেই বা এটা এল কি করে?'
'এটা আমার ঘাড়ে ছিল।আর এ তীরটা তার কাছেই থাকা সম্ভব যে এতদিন আমাযন জঙ্গলে ছিল।'
'কিন্তু কে হতে পারে সে?'
'ড.গ্রিফানো',
চলবে.......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now