বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে নন্দিনী। গাঁয়ে খুব জ্বর। তাঁর গাঁয়ের তাপে আমার শরীরও গরম হয়ে আছে। অসুস্থ হলেই এভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে।এভাবে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে নাকি তাঁর অসুস্থতা কমে না। হঠাৎ করেই বলে উঠলো "রাজ তোমাকে আমি খুব কষ্ট দেই তাই না।
চোখ বন্ধ করে আছি, নন্দিনীর এমন প্রশ্ন শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম।
.
তবুও বললাম- হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন?
সে বললো- তুমি আমার উপর কখনও রাগ করো?
- কেন রাগ করবো, রাগ করার কারণ কী?
- জানতে ইচ্ছে হলো?
- কেন জানতে ইচ্ছে হলো?
- এই যে আমি প্রায় সময় অসুস্থ থাকি, তুমি কাজ শেষে বাড়িতে এসে রান্নাবান্না করো। কখনও কি আমার উপর বিরক্ত হও না।
- না!
- না কেন?
- তুমি অসুস্থ থাকতেই পারো। অসুস্থতার উপর তো আর কারো হাত নেই।
- তুমি জানো! আামর মা যখন অসুস্থ থাকেতেন। আমার বাবা, দাদি তাঁরা বলতেন। মা নাকি ইচ্ছে করেই অসুস্থতার ভান করেন কাজ না করার জন্য।
- সবার মানসিকতা তো আর একরকম থাকেনা।
- হুমম।
- তুমি জানো নন্দিনী ! আমার মাও তোমার মতো প্রায় সময় অসুস্থ থাকতেন। আমার বাবা কাজ থেকে এসে নিজে রান্নাবান্না করতেন। আমাদেরকে খাওয়াতেন। মা'কে নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন। আমার বাবার মুখ থেকে কখনও কোনোদিন শুনিনি, যে আমার মা অসুস্থতার ভান ধরেছেন, কাজ না করার জন্য। বাবা কখনই মায়ের অসুস্থতায় মন খারাপ করতেন না। এবং ঈশ্বরের কৃপায় আমার মা বাবা তেমন ঝগড়াও করতেন না।
কোনোদিনও বাবা, মায়ের সাথে রাগও করতেন না। বাবা যখন দেখতেন যে কথা বলতে বলতে ঝগড়ার পর্যায়ে চলে যাচ্চে। তখন বাবা আর কোনো কথা বলতেন না। মা কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে যেতেন। তখন আর ঝগড়াও হতো না। একা একা কি আর ঝগড়া করা যায়।
আমার বাবা বলতেন, সংসার টিকিয়ে রাখার দ্বায়িত্বটা দুজনকেই নিতে হবে।দুজনকেই মানিয়ে নিতে হবে। একজন কথা বললে আরেকজন চুপ থাকতে হবে।
.
সংসার টিকিয়ে রাখার দ্বায়িত্ব আর ভালবাসাটা আমি আমার পরিবার থেকেই শিক্ষা পেয়ছি।
- তোমার মতো স্বামী পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। বলেই সে নীবরে কান্না করছে। বুকের উপর শুয়ে থাকার কারণে চোখের জল আমার বুকের মধ্যেই পড়ছে। তাই বুঝতে পারলাম সে কান্না করছে। চোখের জল মুছে দিয়ে, মাথায় চুলগুলো নাড়িয়ে দিয়ে বললাম।
.
- শুনেছি ঈশ্বর নাকি স্বামীর বুকের বাম পাঁজরের হাড় দিয়ে তাঁর স্ত্রী'কে তৈরী করেছেন।
বাম পাঁজরের হাড়গুলো যেমন আমার ঠিক তেমনি তুমিও আমার। আমার শরীর ভালো রাখার দ্বায়িত্ব যেমন আমার, ঠিক তেমনি তোমার শরীর ভালো রাখার দ্বায়িত্বও আমার। আর আমার শরীর ভালো রাখার দ্বায়িত্বও তোমার।
এই বিষয়টা যাঁরা বুঝতে পারে, তারাই সংসার জীবনে সুখি হয়। সুখ দুঃখ সর্বদাই আমাদের কাছাকাছি অবস্থান করে। আমাদের কাজের মাধ্যমেই আমরা সুখ দুঃখ'কে আমাদের ঘরে স্থান দেই।অনেকসময় দুঃখ জিনিসটা এমনি চলে আসে, কিন্তু সুখ জিনিসটাকে তৈরী করে নিতে হয়।
নন্দিনী আমাকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
কারণ আমাকে ভালো রাখার দ্বায়িত্বটাও তাঁর।
ভালো থাকুক ভালবাসা, ভালো থাকুক ভালবাসার প্রিয় মানুষগুলো।
লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now