বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত গ্রাম শেষ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ""শেষ পর্ব"" পরদিন গভীর রাতে লন্ঠণ হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো জিতু । চাঁদটা আজ ভালোই আলো দিচ্ছে । চারিদিকে সুনশান নীরবতা । শুধু মাঝে মাঝে পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ শোনা যাচ্ছে । আকাবাঁকা মাটির রাস্তা ধরে হাটঁছে ও । কিছুক্ষণপর জঙ্গলের কাছে এসে পৌঁছালো । চিকন সরু একটা রাস্তা জঙ্গলের ভিতর ঢুকে গেছে । বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে জিতু জঙ্গলের পথে হাঁটা শুরু করলো । হঠাৎ মনে হল কে যেন ওর পিছনে হাটঁছে । স্পষ্ট পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । ও পিছনে ফিরে তাকালো না । মনে সাহস রেখে ও হাটঁতে লাগলো । হঠাৎ ও দেখলো একদল কালো বিড়াল ওর দিকে তেড়ে আসছে । অন্ধকারেও বিড়ালগুলোর চোখ লাল টকটকে দেখা যাচ্ছে । ও থমকে দাড়াঁলো । কিন্তু বিচলিত হল না । কারণ ও জানে সাহস হারালে ওর মৃত্যু অনিবার্য । ওর কাছাকাছি আসতেই বিড়ালগুলো হঠাৎই উধাও হয়ে গেল । ও আবার হাটঁতে শুরু করলো । পুরাতন জমিদার বাড়ির সামনে এসে দাড়ালো । অনেক বছরের পুরানো এই জমিদার বাড়ি । ছাদটা অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে । দেয়ালও খসে পড়ছে অনেক জায়াগায় । বাড়ির ভিতর ঢুকতেই মনে হল এখানকার পরিবেশটা বাহিরের থেকে আলাদা । ঠান্ডা হিম শীতল বাতাস বইছে । আর মনে হচ্ছে যেন কয়েক জোড়া চোখ ওর দিকে সবসময় নজর রাখছে । জিতু গপ্তঘরটা খুজঁতে লাগলো । তখনই হঠাৎ আলো জ্বলে উঠলো বাড়িতে । মানুষজনে ভরে গেল বাড়িটা । কেউ গল্পে মত্ত ; কেউ বা খাচ্ছে ; কিছু তরুণী মেঝেতে আলপনা আঁকছে । এসব দেখে জিতু খুব অবাক হল । যদিও ও জানেই যে এমন অদ্ভুত সব ঘটনার সম্মুখীন ওকে হতে হবে । তবে এতকিছুর মাঝেও মনে সাহস রাখতে হবে । নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে । ও গুপ্তঘরটা খুজঁতে লাগলো । পশ্চিম দিকের কক্ষে ঢুকতেই আবারও বাড়িটা অন্ধকার হয়ে গেল । বাতাসর শোঁ শোঁ শব্দ শোনা গেল । মনে হচ্ছে যেন বাহিরে অনর্গল বজ্রপাত হচ্ছে । বাতাসে ভয়ংকর কিছুর গড় গড় শব্দ ভেসে আসছে । জিতু সেদিকে তোয়াক্কা না করে লন্ঠন হাতে রুমের ভিতর ঢুকলো । এক কোণে নিচে যাওয়ার একটা সিড়িঁ দেখা গেল । জিতু সিড়িঁ বেয়ে নিচে নামলো । মাকড়সার জালে ভরপুর রুমটা । ওর চোখ, মুখ , শরীর মাকরসার জালে ভরে গেল । এদিকে বাতাসে একটানা গড় গড় শব্দ ভেসেই আসছে । ওকে যেন কেউ ভয়ংকর কন্ঠে হুমকি দিচ্ছে । জিতু লন্ঠনটা উঁচু করে ধরে চারদিকে তাকিয়ে দেখলো বইটা ভাঙ্গা একটা টেবিলের উপর পড়ে আছে । দ্রুত বইটা হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো । বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কে যেন ডাকলো,"এই জিতু , এত রাতে এখানে কি করছিস ?" জিতু কন্ঠটা শুনে চমকে গেল । এটা যে ওর দাদুর কন্ঠ । ও পিছনে তাকাতে যাবে এমন সময় ওর মনে পড়লো ওর দাদু তো মারা গেছে । এখানে আসবে কি করে !! এছাড়া কবিরাজের সতর্কবাণীও মনে পড়লো ওর । ও পিছনে না তাকিয়ে সোজা হাটঁতে লাগলো । পিছন থেকে তখনও কে যেন ফিসফিস করে ডাকছে," জিতু !! জিতু !!" দমকা বাতাস বইছে তখনও । মনে হচ্ছে যেন জঙ্গলে ঝড় হচ্ছে । কেউ হয়তো চাচ্ছে না জিতু বইটা নিয়ে এখান থেকে চলে যাক !!! জিতু বইটা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসলো । পরদিন সকালে ওর বাড়ির উঠানে জমায়েত হল গ্রামবাসীরা । জিতু ওদের সবার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করলো - "কাল রাতে জমিদার বাড়ি থেকে যে বইটা এনেছি সেটা পড়েছি আমি । বই পড়ে জানলাম অনেক অদ্ভুত আর ভয়ংকর কিছু ঘটনা । বহু বছর আগে ঐ পুরাতন জমিদার বাড়িতে থাকতেন একজন প্রতাপশালী জমিদার । একবার খাজনা আদায়ের ব্যাপার নিয়ে তিনি একজন নির্দোষ চাষীকে মৃত্যুদন্ড দেন । মৃত্যুর আগে চাষীটা কেঁদে কেঁদে বলেছিল," আমি নির্দোষ । আমাকে বিনা অপরাধে মারা হচ্ছে । আমি অভিশাপ দিলাম খুব শীঘ্রই এই জমিদার বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে । এই গ্রামের পরবর্তী প্রজন্মও শান্তিতে থাকতে পারবে না ।" জমিদার ওর কথা গ্রাহ্য না করে প্রাণদন্ড দিয়ে দেন । পরিবার বলতে ঐ চাষীর শুধু একটা কালো বিড়াল ছিল । মৃত্যুর পর চাষীর কবরের কাছে সারারাত বসে ছিল বিড়ালটা । পরদিন সকালে ঐ বিড়ালটাকে মৃত অবস্থায় চাষীর কবরের পাশে পাওয়া যায় । লোকজন বিড়ালটা বস্তায় ভরে এই বাঁশঝাড়ের এখানে ফেলে দিয়ে যায় । তারপর থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সব কান্ড । একরাতে একদল কালো বিড়াল দেখা যায় জমিদার বাড়ির আঙ্গিনায় । ঐরাতেই মারা যায় জমিদার । তার কক্ষেই পাওয়া যায় মৃতদেহ । চোখ উপরানো আর চেহারাটাও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল তার । জমিদারের এত ভয়ংকর মৃত্যু দেখে জমিদারের পরিবার ভয়ে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যায় । সেই চাষী আর তার কালো বিড়ালের অতৃপ্ত আত্মাই এই গ্রামে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে এখন । ওরা এই গ্রামকে শশ্মান না করে যাবে না । তবে ঐ বইতে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় বলা আছে ।" - কি উপায় ? একজন জিজ্ঞাসা করলো । - সেটা বলা যাবে না । বললে আর কাজ হবে না । তবে কাল থেকে এই গ্রাম অভিশাপমুক্ত হয়ে যাবে । আজ রাতেই আমি সব কাজ সম্পন্ন করে ফেলবো । আপনাদের শুধু একটা কাজ করতে হবে । - কি কাজ করতে হবে ? - কয়েক মণ দুধ সংগ্রহ করে বাঁশঝাড়ের মাঝখানে গর্ত করে ঢালতে হবে । কালো বিড়ালটা নাকি খুব দুধ পছন্দ করতো । তাই ওকে তুষ্ট করার জন্য এটা করতেই হবে । মুহূর্তের মধ্যেই কাজে লেগে পড়লো সবাই । বিকালের মধ্যেই দুধ সংগ্রহ করা হয়ে গেল । তারপর বড় একটা গর্ত করে তাতে দুধ ঢালা হল । বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হল । আস্তে আস্তে অন্ধকার নেমে আসলো চারদিকে । রাত গভীর হল । চাঁদটা আজ মেঘে ঢেকে আছে । জিতু বাড়ি থেকে বেরিয়ে জঙ্গলের রাস্তা ধরে হাটঁতে লাগলো । একটু দূরে গিয়ে ও আবার ওর বাড়ির দিকে ফিরে তাকালো । ও দেখলো ওর দাদু সাদা কাপড় পড়ে দরজার সামনে হাসিমুখে দাড়িঁয়ে আছে । ওর দিকে হাত নাড়িয়ে বলল." তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস জিতু ।" জিতু চোখের পানি মুছে আবারও হাটঁতে লাগলো । কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গলে এসে পৌঁছালো ও । জঙ্গলের সরু পথ ধরে হাটঁতে লাগলো । ওর মনে হল পিছন থেকে হাজারো কন্ঠ ফিসফিস করে ওকে যেতে নিষেধ করছে । কিন্তু ও জানে ওকে যেতেই হবে । একবারও পিছনে ফিরে না তাকিয়ে ও সোজা জমিদার বাড়ির দিকে হাটঁতে লাগলো । বাড়ির পিছনেই জমিদারের পুরানো ফাঁসির মঞ্চ । এখানেই নির্দোষ চাষীকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল । জিতু ওটার পাশে গিয়ে দাড়াঁলো । তখনই খুব জোরে বাতাস বইতে লাগলো জঙ্গলে । আগের মতই ভয়ংকর গড় গড় শব্দ ভেসে আসছে বাতাসে আর সাথে বুক কাপাঁনো বিড়ালের ডাক । হঠাৎ কারো কান্নার কন্ঠ শোনা গেল । কেদেঁ কেঁদে কে যেন বলছে,"বিশ্বাস করেন বাবু , আমি নির্দোষ । আমাকে ছেড়ে দিন ।" বাতাসে বার বার ভেসে আসতে লাগলো এই কথা গুলো । জিতু ধীরে পায়ে এগিয়ে গেল মঞ্চের দিকে । মঞ্চে মোটা লোহার দন্ডে ঝুলছে ফাঁসির দড়ি । জিতু তাকালো দড়িটার দিকে । তখনই কারা যেন পিছন থেকে ডাক দিল- জিতু । ও পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখলো ও দাদু , রতন, মিতু হাসিমুখে দাড়িঁয়ে আছে । জিতু ওদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো । ওরা একসাথে বলল," তোমাকে এই গ্রাম , গ্রামের মানুষ কখনও ভুলবে না ।" পরদিন সকাল । গ্রামের সবাই জিতু বাড়ির সামনে এসে দেখলো দরজায় তালা ঝুলছে । খুব অবাক হল সবাই । নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করতে লাগলো ওরা । তখন সেই কবিরাজ এসে ওদের সামনে দাড়াঁলো । - আপনারা জিতুকে খুজঁছেন তো ? - হ্যা , ওকেই খুজঁছি । - ও আর আসবে না । - আসবে না মানে !! প্রায় সমস্বরে বলল সবাই । - না , আসবে না । এই গ্রামকে ভয়ংকর আত্মার কবল থেকে বাচাঁনোর জন্য ও নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে । বইতে লেখা ছিল কোন নির্দোষ মানুষ যদি মধ্যরাতে জমিদারের ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে ঐ চাষীর মত মৃত্যুবরণ করে তাহলেই এই গ্রাম সমস্ত বিপদ থকে মুক্ত হবে ; নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ঐ অভিশপ্ত আত্মা । কবিরাজের কথা শেষ হওয়ার আগেই গ্রামবাসী সবাই ছুটে গেল জমিদার বাড়িতে । গিয়ে দেখলো জিতুর লাশ ঝুলছে দড়িতে । চোখ খোলা ; মুখে স্পষ্ট হাসির চিহ্ন । জিতুর লাশ দেখে উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো । কয়েক বছর পরের কথা । এই গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে "জিতু গ্রাম" । একদিন অনেক দূর থেকে আসা একজন পথিক গ্রামের মোড়লকে জিজ্ঞাসা করলো,"জিতু তো মানুষের নাম ; এই গ্রামের নাম জিতু গ্রাম কেন ?" মোড়ল অশ্রুসজল চোখে উত্তর দিল,"এই গ্রামে একজন সাহসী জিতু ছিল । যে আমাদের জন্য , এই গ্রামের জন্য নিজের জীবন দিয়েছে । এই গ্রামকে নিয়ে গর্ব করার মত ঐ একটাই জিনিস আছে আমাদের "জয়তু জিতু" । সমাপ্ত.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now