বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত গ্রাম

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X ""পর্ব - এক"" জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিক । প্রচন্ড গরম পড়েছে । কোথাও একটু বাতাস নেই । গাছের পাতাগুলোও নড়ছে না । খেলা শেষে জিতু যখন বাড়ি ফিরলো তখন সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে এসেছে । বাড়ি ফিরতেই জিতুর দাদু চেচিঁয়ে বলল,"কিরে গরুগুলো ক্ষেত থেকে এনেছিস ? "ভুলেই গিয়েছিলাম দাদু । এখনই যাচ্ছি , বলে দৌঁড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল জিতু । জিতু আর ওর দাদু মিলে ছোট সংসার ওদের । ছোটবেলাতে মা বাবাকে হারায় জিতু । তারপর থেকে দাদুর সাথেই থাকে ও । জিতুর কথা শুনে মুচকি হেসে ওর দাদু বলল,"পাগল ছেলে একটা ।" অন্ধকার নেমেছে চারদিকে । একটা কালো বিড়াল আঙ্গিনায় বসে মিউ মিউ করছে । জিতুর দাদু হ্যারিকেন জ্বালিয়ে লাঠি দিয়ে তাড়া করলো বিড়ালটাকে । একটু দূরে গিয়ে কালো বিড়ালটা ফকফকে সাদা বিড়ালে রূপান্তরিত হয়ে গেল । খুব অবাক হল জিতুর দাদু । সাত পাঁচ না ভেবেই বিড়ালটার পিছনে ছুটলেন তিনি । বিড়ালটা দৌঁড়ে বাঁশঝাড়ের দিকে চলে গেল । মোট ছয়টা বাঁশঝাড় একসাথে এখানে । বিড়ালটার প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণে তিনি বিড়ালটার সাথে বাঁশঝাড় গুলোর মাঝখানে চলে আসলেন । বিড়ালটা স্থির হয়ে দাড়িঁয়ে গেল । এতক্ষণে যেন বোধ ফিরে আসলো জিতুর দাদুর । কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে । ধীরে ধীরে সাদা বিড়াল কালো আর কুৎসিত আর ভয়ংকর রূপ ধারণ করলো । পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠলো ভয়ংকর চেহারাতে । তীক্ষ্ন দাঁত বেয়ে লালা ঝরতে লাগলো । ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো জিতুর দাদু । কিন্তু একটুও শব্দ বের হল না । প্রাণীটা দুই হাতে গলা চেপে ধরলো তার । এদিকে জিতু গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে দেখলো ওর দাদু সাদা কাপড় পড়ে উঠানে বসে আছি । একটু অবাক হয়ে জিতু জিজ্ঞাসা করলো,"এই রাতের বেলা সাদা কাপড় পড়ে বসে আছো কেন দাদু ? "আমি আমার বোনের বাড়িতে যাবো", বলেই হাটঁতে শুরু করলেন তিনি । একটুপর আবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে অদ্ভুত ভারী কন্ঠে বললেন,"কালো বিড়াল থেকে সাবধানে থাকিস !!" জিতু ঘাড় নাড়লো । ওর দাদু চলে গেল । জিতু ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে ভাবলো দাদু কালো বিড়ালের কথা কেন বলল !! রাত গভীর হল । জিতু গভীর ঘুমে হারিয়ে গেল । পরদিন সকালে চিৎকার চেচাঁমিচি শুনে ঘুম ভাঙ্গলো জিতুর । ঘুম থেকে উঠে বাহিরে এসে দেখলো ওর দাদুর মৃতদেহ পড়ে আছে উঠানে । আর তার চারপাশে গ্রামের মানুষজন জড়ো হয়ে আছে । জিতু কিছুই বুঝতে পারলো না । রতন দৌঁড়ে এসে বলল,"সকালে বাঁশঝাড়ের দিকে গিয়ে দেখি তোর দাদুর লাশ পড়ে আছে । গলায় আঙ্গুলের লাল লাল ছাপ ।" জিতু কিছু বলল না ; বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো । ওর চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো । দুপুরের আগেই দাফন কাফন সম্পন্ন করা হল ওর দাদুর । বটগাছের গোড়ায় বসে কান্না করছে জিতু । ও কিছুতেই ভাবতে পারছে না ওর দাদু নেই । আর সবচেয়ে বেশি যেটা ভাবছে সেটা হল ওর দাদু মারা গেল কি করে সেটাই মাথায় ঢুকছে না । ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে শুধু দাদুর শেষ কথাটা - কালো বিড়াল থেকে সাবধানে থাকিস । দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল । আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো গ্রামে । রতন মাছ ধরে বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো । হঠাৎ ও শুনতে পেল কে যেন বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে করুণ কন্ঠে বাঁশি বাজাচ্ছে । একটু অবাক হল ও । এই সাঝেঁর বেলায় কে বাঁশি বাজাচ্ছে এখানে !! বাঁশঝাড়ের ভিতর ঢুকলো ও । তখনই শোঁ শোঁ বাতাস বইতে লাগলো । প্রচন্ড বাতাসে বাঁশ গুলো একটা আর একটার সাথে জোরশব্দে সংঘর্ষিত হতে লাগলো । হঠাৎ ও দেখলো বাঁশঝাড়ের একপাশে লাল টকটকে দুটো চোখ দেখা যাচ্ছে । ও ছুটে পালাতে চাইলো । কিন্তু এক পাও নড়তে পারলো না । আরো স্পষ্ট হতে লাগলো চোখ দুটো । একটু পরই হিংস্র আর বিকৃত চেহারার কেউ একজন ওর সামনে এসে দাড়াঁলো । ভয়ে ওর গায়ের সব লোম দাড়িঁয়ে গেল । ওর চিৎকার করতে চাইছে , ছুটে পালাতে চাইছে কিন্তু কিছুই পারছে না । অদ্ভুত কোন শক্তি যেন ওকে আটকে রাখছে । পরদিন সকালে রতনের লাশ পাওয়া গেল বাঁশঝাড়ে । ওর গলাতেও ছিল লাল লাল আঙ্গুলের ছাপ । চলবে........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিশপ্ত গ্রাম শেষ
→ অভিশপ্ত গ্রাম ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now