বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writer :-KM SAJU AHMED ROKIB
রকিব একজন সরকারি কর্মকর্তা,,,, সে ৩মাস এর ছুটি পেয়ে তার বোনের বাসায় গ্রামে বেড়াতে এসেছে,,,,
তার বোনের হাসব্যান্ডও একজন চাকুরীজিবি,,,,,রকিব শহর থেকে গ্রামে নন্দনপুর এসেছে,,, পথে এক মেয়ের সাথে তার দেখা হয়,,,
এই যে শুনুন,,, আসলাম সাহেবের বাড়িটা কোন দিকে বলতে পারেন,,,রকিব মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল।।।।
জ্বী আমাকে বলছেন???মেয়েটি রকিবকে উদ্দেশ্য করে বলল।।।
হে আপনাকেই বলছি,,,আসলে আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি তাই চিনতে পারছি না।।।
ঐ দিক দিয়ে যান গেলেই আসলাম সাহেবের বাড়ি পাবেন।।।
রকিব তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার আগেই মেয়েটি দ্রুত হেঁটে চলে গেল।।।।।।।।
রকিব আসলাম সাহেবের বাসায় চলে আসে,,,এসে দরজায় কড়া নারে,,,ভেতর থেকে কাজের মেয়ে দরজা খুলে বলল কাকে চাই???রকিবঃ- এটা কী আসলাম সাহেবের বাসা,,,বলতে না বলতেই রকিবের বোন দরজার কাছে এসে রকিব তুই বলে ভাইকে জরিয়ে ধরল।।।।আয় ভেতরে আয় বলে রকিবের বোন তাকে ভেতরে প্রবেশ করাল।।।
তারা ভাই বোন গল্প করতে লাগল,,,আচ্চা আমার ভাগেনটাকে দেখছি না যে রকিব বলে উঠল,,,এই তপু দেখ তুর মামা এসেছে এই বলে রকিবের বোন তার ছেলেকে ডাক দিল।।।।
পাশের রুম থেকে তপু বের হয়ে তার মামার সাথে কথা বলতে লাগল।।।
এবং দুপুরের লাঞ্চ তারা একসাথে করতে লাগল,,,রকিবের দুলা ভাই আসলাম সাহেবও ছিলেন,,,, রকিবকে বিভিন্ন কিছু জিগ্যেস করতে লাগলেন,,, এবং বললেন তা এখানে কয়েকদিন থাকা হবে নিশ্চয়ই???(দুলাভাই) নাহ দুলাভাই ৩দিন এর বেশি থাকতে পারব না,,,(রকিব)।।। ওমা একি কথা আমি ভাবছিলাম তুই বেশ কয়েকটা দিন এখানে থেকে যাবি(রকিবের বোন)।।।। না রে আপু আমাকে চলে যেতে হবে খুব তারা আছে(রকিব)।।।
বিকেল বেলা তপুর টিচার অর্ণি তাকে পড়াতে এসেছে,,, রকিবের বোন অর্ণিকে এনে চা খেতে দিয়ে বলল কী ব্যাপার অর্ণি কাল এলে না যে বরং???? জ্বী কাল একটু মাথা ব্যাথা ছিল তাই আসতে পারিনি (অর্ণি)।।।বলতে বলতে রকিব তার রুম থেকে বের হয়ে আসল,,,,এবং এসে দেখল রাস্তায় যে মেয়েটির সাথে তার দেখা হয়েছিল সেই মেয়েটি,,,,
রকিব এই হল তপুর টিচার,,, ওর নাম হচ্ছে অর্ণি খুব লক্ষী একটা মেয়ে।।। আর অর্ণি এই হল আমার ছোট ভাই রকিব,,, আমাদের এখানে বেড়াতে এসেছে।।। ঠিক আছে আপু আজ তাহলে যাই (অর্ণি)।।।অর্ণি খুবই জেদি মেয়ে কারও সাথে তেমন কথা বলে না,,,, সে রকিবের সাথে কোন কথা বার্তা না বলেই চলে গেল।।।।
পরদিন অর্ণি আবার আসল তপুকে পড়াতে,,, পড়ানো শেষ হলে রকিবের বোন তাকে নাস্তা খেয়ে যেতে বলল।।।ইতিমধ্যে রকিবও চলে আসল,,,এসে বলল আপু আমি একটু গ্রাম দেখতে বেরুচ্ছি।।।ওহ তাহলে অর্ণিকে সাথে করে দিচ্ছি রকিবের বোন তাকে বলল।।।অর্ণি আমার ভাইটাকে একটু গ্রামটা দেখিয়ে নিয়ে আস না,,,,ও গ্রামের কিছুই চিনে না।।।জ্বী ঠিক আছে আপু অর্ণি বলল।।
এই বলে তারা গ্রাম দেখতে বের হল।।। অর্ণি প্রায় সবসময় মন মরা হয়ে থাকে,,,এসব দেখে রকিবের ভাল লাগছিল না,,, সে (অর্ণি)কোন কথাও বলছিল না।।।হঠাৎ রকিব জিগ্যেস করে উঠল,,, আচ্চা আপনি এমন কেন সবসময় মুখটাকে কাল মেঘের মত বানিয়ে রাখেন,,,, কেমন যানি আপনাকে দেখে আমার ভয় ভয় লাগে,,, মনে হয় হঠাৎ করে এসে আামাকে কামড়ে দেন।।।।অর্ণি এ কথার জবাব না দিয়ে বলল আমাদের গ্রাম আপনার কেমন লাগল??? হুম অসাধারণ,,,, কিন্ত আপনি আমার কথার কোন জবাব দিলেন না(রকিব)।।।
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে তাদের এই পুরো পৃথিবীটা দেখার ইচ্ছা থাকলেও তা দেখতে নেই,,, সুখ, দুঃখ, কান্না,এসব কিছু আমার কাছে অতীত (অর্ণি)।।।আচ্চা বাদ দেন এসব কথা বলে শুধু শুধু আপনার আনন্দের ভ্রমনের সংঙ্গে দুঃখের কথা জুরে দিলাম প্লিজ কিছু মনে করবেন না,,, অর্ণি রকিবকে বলল।।। না না কিছু মনে করিনি,,, সুখ দুঃখ ভালবাসা নিয়েই তো আমাদের এই জীবন,,, হয়ত কিছু চাওয়া চাওয়াই থেকে যায়(রকিব)।।।
আজ তাহলে যাই,,, আপনি আপনার বোনের বাসায় চলে যান,,,,এই বলে অর্ণি চলে গেল।।।।
পরদিন রকিব অর্ণিদের বাসার কাছে চলে আসে,,, অর্ণি তা দেখে বাসা থেকে বের হয়ে আসল,,,এসে রকিবকে জিগ্যেস করল কেন আসলেন???রকিবঃ-এই তো গ্রাম দেখব বলে বের হলাম,,,আপনি আমাকে একটু ঘুরে দেখাবেন???অর্ণিঃ-বিরক্তির সুরে,,, আসেন।।। এই বলে তারা ঘুরতে লাগল।।।
হঠাৎ রকিব অর্ণিকে বলে উঠল,,, আচ্চা আমি যদি আপনার এই হাতটা ধরে সারাজীবন এর জন্য যেতে চাই অনেকদূর তাহলে কী আপনি আপনার হাতটা ধরতে দেবেন???অর্ণিঃ- দেখুন আপনি যেটা চাচ্ছেন আমি আপনার কথা বুঝতে পেরেছি,,, সরি এটা সম্ভব হবে না ।।।
রকিবঃ-কেন হবে না,,, দেখুন আমার হয়ত আরেকটু সময় নিয়ে ভেবে বলা উচিত ছিল,,,আপনার সাথে চলার পর আমার অন্যরকম মনে হয়েছে,,, আর আমি সবকিছুই ভেবেই বলেছি,,,আমার সময় খুবই কম,,,তাই আমি সময় নিতে পারিনি।।।
অর্ণিঃ-দেখুন,,,আমার বাবা ছিলেন একজন স্কুল টিচার,,, তাই আমি ছেয়েছিালাম আমার বাবার আদর্শের একজন মানুষ,,, খুব বেশি টাকা লাগবে না,,, দু বেলা দু মুটো ভাত হলেই কেটে যাবে আমাদের সময়,,, মাঝে মধ্যে দু একটাকার বাদাম এনে দিবে,,,এর ছেয়ে বেশি কী চাওয়ার আছে বলুন,,,, আমিও যে আপনার হাত ধরতে ইচ্ছে হয়নি তা বললে মিথ্যা বলা হবে।।।কিন্ত ভাগ্যের লিখন!!! ভুলে যাবেন আমাকে,,, ভাল থাকবেন।।।
রকিবঃ-আমার যা বলার ছিল আমি তা বলে দিয়েছি,,,বাকিটা আপনার উপর,,,আমি কাল চলে যাচ্ছি।।।
এই বলে রকিব তার বোনের বাসায় চলে যায়।।।
পরদিন বিকেল বেলায় রকিব সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে,,,এবং গড়িতে করে গ্রামে রাস্তা দিয়ে যেতে লাগল।।।।এদিকে অর্ণি বহু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফুল হাতে দারিয়ে আছে রাস্তার ধারে,,,হঠাৎ সে দেখতে পায় রকিব গাড়িতে করে চলে যাচ্ছে অর্ণির কান্নায় তার বুক ফেটে যাচ্ছে,,, সে ফুলে হাত বুলাতে বুলাতে কান্না করতে লাগল,,,হঠাৎ রকিব সেই দৃশ্য গাড়ির সামনের গ্লাসে দেখতে পেল এবং সে ড্রাইবারকে গাড়ি থামাতে বলল,,,,তারপর সে অর্ণির কাছে গেল এবং তার দু'চোখের জল মুছে দিল।।।।।(সমাপ্ত) ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now