বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার নাম রিদি। আমার best friend এর নাম জ্যোতি। আমার সাথে ওর পরিচয়টা বেশ অদ্ভুত ভাবেই।হয়ত সৃস্টিকর্তার ইচ্ছায়ই আমাদের পরিচয়।
আমি খুব ছোট তখন class 2 এ পড়া শেষ করে পরিবারসহ ঢাকায় এসেছি।বাবা কাজের সুএে আগেই ঢাকা থাকত। যাই হোক ঢাকায় এসে খালামনির বাসায় থাকব ১ মাস ঠিক হলো।তারপর মিরপুরে নতুন বাসা নিয়ে থাকব। খালামনির সব মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তার ছোটো মেয়ে তার সাথে থাকে আর বড় মেয়ে ঐ building এর নিচ তলায় family সহ থাকে।জ্যোতি তার মেয়ে।সম্পর্কে আমি তার খালা।হি হি হি। প্রথম প্রথম আমি ওর সাথে বেশি কথা বলতামনা। কিন্তু পরে আমরা আস্তে আস্তে অনেক close হয়ে গেলাম।আজ ১০দিন হয়েছে আমি খালামনিদের বাসায় এসেছি কিন্তু এর মধ্যে জ্যোতিদের বাসায় বেশি ছিলাম।একসাথে গোসল করা একপ্লেটে খাওয়া একসাথে ছাদে গিয়ে খেলা করা সব চলছিল।এরই মধ্যে কখন যে এক মাস হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না ।বাবার কাজের জন্য আরও ১৫দিন থাকতে হবে এখানে। শুনে আমি আর জ্যোতি তো মহাখুশি।তারপর যখন আমরা চলে আসব দুজনেই খুব মন খারাপ করলাম।কিন্তু কি করব বলেন উপায় নেই।আমি মিরপুরে এসে class 3 তে ভর্তি হলাম বাবার স্কুলে। মাঝে মাঝে খালামনির বাসায় যাওয়া হতো তখন আমাদের দেখা হতো।এর মাঝে ১ বছর কেটে গেল আমি classএ first হলাম।তারপর শীতের ছুটিতে জ্যোতিদের বাসায় গেলাম।তারপর আবারclass 4এ ভর্তি হলাম।এভাবে কেটে গেলো একটা বছর। জ্যোতির সাথে দেখা করার জন্য ছুটির অপেক্ষায় থাকতে হতো।তারপর class 5এ পরীক্ষা দিয়ে ওদের বাসায় গেলাম প্রথম প্রথম মাকে ছাড়া থাকতে একটু কষ্ট হলেও পরে জ্যোতির সাথে থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেলো।শীতের ছুটিতে গ্রাম থেকে মামা ঢাকায় আসলে আমি মামার সাথে গ্রামে চলে যাই।ওখানে মামাতো বোনদের সাথে অনেক মজা হলেও জ্যোতিকে খুব মিস করছিলাম। কিছুদিন পরে ও খালামনির সাথে গ্রামে আসে। এর মধ্যে আমাদের রেজাল্ট দেয় আমরা দুজনেই এ+ পাই।সেখানে অনেক মজা করার পর আমরা আবার ব্যস্ত নগরীতে ফিরে আসি।আবার আগের মতো জীবন চলতে থাকে।বছরে ৩ থেকে ৪ বার দেখা হতো জ্যোতির সাথে। তারপর বাবার ব্যস্ততা আর আমাদের ভাই বোনের পড়ালেখার ব্যস্ততায় ওদের বাসায় যাওয়া আসা কমে যায়। class 7 এ পড়ার সময় ঈদেরছুটিতে ওর সাথে আমার দেখা হয়।এরপর class 8 এ অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারনে শীতের ছুটিতে আর ওদের বাসায় যাওয়া হয়নি।তারপর পড়ালেখার ব্যস্ততায় ওর সাথে আমার ১ বছর দেখা হয়না কিন্তু এরমধ্য ও আমাকে ১ বার ফোন দেয়। এটাই ছিল আমার ওর সাথে প্রথম ফোনে কথা বলা।তারপর প্রায়ই আমাদের ফোনে কথা হতো। সব কথার শেষে ওর আর আমার মধ্যে একটা কথাই হতো আর সেটা হলো ---
জ্যোতি : তুই কবে আসবি বল। তোর সাথে আমার অনেক কথা আছে।অনেক কথা জমা হয়ে আছে। plz তাড়াতাড়ি আসার চেস্টা কর.....
আমি:পারলে আমি তোর সাথে এখনই দেখা করি।কিন্তু কি করব বল সামনে jsc পরীক্ষা এখন কিভাবে যাব আর কে নিয়ে যাবে।
জ্যোতি :পরীক্ষা শেষে তুই আমার বাসায় এসে একমাস থাকবি।
আমি: হুম।এখন রাখছি অনেক সময় হয়েছে।
জ্যোতি : হুম।bye bye
আমি:bye bye(দুজনেই মন খারাপ করে)
এভাবে প্রায়ই আমাদের ফোনে কথা হতো।কখনও কখনও messaging ও হতো আমাদের মধ্যে। কথা বলার সময় এতো কথা বলতাম যে কখন সময় চলে যেতো বুঝতেই পারতাম না। আসলে আমরা দুজন এতোটাই close হয়ে গেছি যে কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারিনা।পরীক্ষার আর বেশি দেরি নেই।তাই দিন গুনছি আর ভাবছি কবে ওর সাথে দেখা হবে। পরীক্ষার মাঝেও ওর সাথে আমার কথা হতো।
------আজ আমাদের Jsc পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১১ দিন হলো।পাঠকগণ কি ভাবছেন আমাদের দেখা হয়েছে।আমাদের মনের জমানো সব কথা বলতে পেরেছি। না আপনারা ভুল ভাবছেন। আমাদের আজও দেখা হয়নি। আমাদের বাবা মায়ের ব্যস্ততা এতো বেশি যে আমাদের দুজনকে তারা একটু সময় দিতে পারলনা। না আমাকে তারা জ্যোতির বাসায় দিয়ে আসতে পারল।আর না জ্যোতিকে আমাদের বাসায় দিয়ে যেতে পারল। আমি যে জ্যোতিকে কথা দিয়েছিলাম exam শেষে ওর সাথে ১ মাস থাকব।এদিকে বাসার সবাই গ্রামে যাওয়ার প্লান করছে। যদি যাওয়া হয় তাহলে আগামি ৩ বছরে আমাদের দেখা হবেনা। এটা ভেবেই আমাদের আজ দুজনের মনেই উথাল পাথাল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। আজ বড়ই অসহায় লাগছে নিজেকে। যানিনা কবে আমরা দেখা করতে পারব। তবে আমি এটা বলত পারি আমাদের বন্ধুত্ব টিকে থাকবে সারাজীবন।আমাদের ভালোবাসা অটুল থাকবে। আজ ইচ্ছে করছে জোর গলায় বলি জ্যোতি আমি তোকে অনেক বেশি ভালোবাসি।আর অনেক বেশি miss করছি। plz তুই এসে আমাকে তোর কাছে নিয়ে যা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now