বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে-
তৃষা আমাকে বললো-
.
-এমনভাবে তাকিয়ে কি দেখো।
[তৃষা]
.
-তোমাকে দেখি।
তুমি সত্যিই অনেক সুন্দর।
[তৃষার চোখের দিকে তাকিয়ে]।
.
-ঘোড়ার ডিম।
আর ঢপ দিতে হবেনা।
এবার হাত মুখে ধুয়ে খাবার খেতে আসো।
.
-না খাবো না।
তুমি আমাকে কিছু না বলেই এভাবে তুলে আনলা কেনো।[রাগ দেখিয়ে]।
.
-আগে খেয়ে নাও পরে তোমাকে সব বলছি।
.
-না।খাবো না।
আম্মুর কথা মনে পড়ছে খুব।
এএএএএ[কান্নার ভাব করে]।
.
-আমার বরটা দেখছি কাদেঁ।
তুমি পিচ্ছি নাকি যে কাদছো?[আমার দিকে তাকিয়ে]।
.
-হু পিচ্ছিই।
আম্মু আমাকে প্রতিদিন
নিজ হাতে খাইয়ে দিতো।
এখন কে খাইয়ে দিবে?
[মন খারাপ করে]।
.
-মা নেই কি হইছে।
বউ তো আছে!
এখন তোমার বউ খাইয়ে দিবে।[দুষ্টুমি করে]।
.
-বউ!
আমিতো বিয়েই করিনি বউ এলো কোথায় থেকে?
.
-আপনাকে এতো গবেষনা করতে হবেনা।
এখন খেতে আসুন আমি গেলাম।
.
এটা পরী না ছাই।
কই একটু আদর করবে তা না।
উল্টো রাগ দেখায়।বসে বসে আম্মুর কথা ভাবছিলাম।
হঠাৎ করেই একটা ছোট্র পরী আসলো!
সম্ভবত এটা তৃষার বোন।
.
-এইযে পিচ্ছি এদিকে আসো।
তোমার নাম কি?[আমি]
.
-আপনাকে কেন আমার নাম বলতে যাবো।
বলবো না![তৃষার বোন]।
.
-কেন বলবে না।
বলো বলছি।[ভয় দেখিয়ে]।
.
-এইযে মি.রিহান না কি যেন নাম।
আপু আপনার সব কথায় উওর দিতে পারে।
কিন্তু আমি দেবো না।[চোখ বড় বড় করে]।
.
ও আল্লা এটাতো দেখছি তৃষার থেকেও বেশি ফাজিল।
.
-ঐই যাও এখান থেকে ফাজিল কোথাকার।
.
যাচ্ছি যাচ্ছি।
এতো ধমকাতে হবেনা।আমাদের বাড়িতে এসে আমাকেই ধমকায়।
বলেই শালিটা চলে গেলো।
.
-ঐই কার সাথে এতো কথা বলছিলেন মি.রিহান সাহেব।[তৃষা]।
.
-তোমার পাজি বোনটার সাথে।[আমি]
.
-হয়েছে হয়ছে।
এই নেন খাবার খেয়ে নিন।[হাতে কিছু ফল দিয়ে]।
.
-শুধু ফল!
অন্যকিছু খাবোনা।[মন খারাপ করে]।
.
-আগে একটা ফল খেয়ে দেখেন।
তারপর অন্যকিছু খেতে চাইলে খাবেন।
.
-ঠিক আছে।
.
বলেই একটা ফলে কামড় দিলাম।
আহা।
কি স্বাদ!এতো মিষ্টি ফল কোনদিন খাইনি!
একটা খেয়েই পেট ভরে গেছে।
.
-কি মি.রিহান সাহেব।
আরও দিবো নাকি?[আরও একটা ফল মুখের দিকে এগিয়ে দিয়ে]।
.
-না।একটাই পেট ভরে গেছে।
আর দরকার নেই।
.
-ঠিক আছে।
চলুন আব্বু আম্মুর সাথে দেখা করবেন।
.-আপনার আব্বু আম্মুর সাথে দেখা করতে
হবে কেনো?
[অবাক হয়ে]।
.
-এই যে মি.এতো প্রশ্ন না করে যা বলছি
তা করেন।
নয়তো আর পৃথিবীতে যেতে পারবেন না।
[মুচকি হেসে]।
.
-ঠিক আছে চলুন।
.
হাঁটতে হাঁটতে একটা ইয়া বড় রুমে
প্রবেশ করলাম।
আমাকে ঢুকতে দেখে রুমের সবাই দাড়িয়ে গেলো।
রুমে ঢুকেই সবাইকে সালাম করলাম।
.
একজন বৃদ্ধ লোক আমার কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।
সম্ভবত এটাই তৃষার বাবা।
তারপর কি যেন বললো।
কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারিনি।
শুধু আব্বুর নামটা যখন বলছিলো তখন বুঝেছি।
.
তারপর তৃষার আম্মুর সাথে এভাবে সবার সাথে পরিচিত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম।
.
তৃষা আর আমি পাশাপাশি বসে আছি।
হঠাৎ করেই তৃষা কাদতে লাগলো!
.
-আজব!কাদছো কেনো?
আমি কি কিছু বলছি তোমায়?
.
-না বলেননি।
আপনাকে একটু পর পৃথিবীতে দিয়ে আসতে হবে।
খুব খারাপ লাগছে আমার।
.
-খারাপ লাগছে কেনো?
[আমি]।
.
-যখন থেকেই বুঝতে শিখেছি।
তখন থেকেই শুনে আসছি আমার বিয়ে নাকি আব্বুর কোন এক বন্ধুর ছেলের সাথে।
তাও আবার মানুষ।
আর তখন থেকেই আপনাকে নিয়ে সপ্ন দেখে এসেছি।
ভালোবেসেছি।
আপনাকে ছাড়া অন্যকোন ছেলেকে ভালোকরে দেখেনি পযর্ন্ত। [কেদে কেদে]
.এই অবস্থায় হাসবো নাকি কাদবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
আমিও তো ওকে ভালোবেসে ফেলেছি।
তাইতো বার বার ওর মনে হচ্ছিলো।
.
-তোমার সাথে কি আমার বিয়ে ছোটবেলা থেকেই ঠিক করা ছিলো।[তৃষার দিকে তাকিয়ে]।
.
-ছোটবেলা থেকেই।
কিভাবে যেন পৃথিবীতে আপনার আব্বু আমার আম্মুকে একটা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলো।
আর তখন থেকেই তারা বন্ধু।
আর একে অপরকে কথা দিয়েছিলো যে
একে অপরের প্রথম ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করাবে। .
ও।
তাইতো বলি আম্মু আমাকে বারবার বলতো কেন
যে
"বিয়ের সময় হলে বউ নিজেই এসে তোকে নিয়ে যাবে"।
.
এখন বুঝতে পারছি এটি বলার কারন
কি ছিলো।
তারমানে আম্মুও জানে যে আমি আকাশে আছি।
.
-চলেন আপনাকে বাড়িতে দিয়ে আসি।
[চোখের জল মুছতে মুছতে]।
.
-চলো।[আমি]।
.
-একটা করবো রিকুয়েস্ট রাখবেন।[তৃষা]।
.
-হু।
বলো কি রিকুয়েস্ট।
.
-আমার খুব ইচ্ছাছিলো আমার বরকে জড়িয়ে ধরে একদিন সারারাত আকাশে উড়ে বেড়াবো।
জানিনা এটা পূরন হবে কিনা![মন খারাপ করে]।
.
-ঠিক আছে।
তাহলে কালকে যাবো।
আজকে তোমার সাথে আকাশে ঘুরে বেড়াবো।
এবার তো একটু হাসো।
.
-তুমি অনেক ভালো।[জড়িয়েধরে কাঁদতে কাঁদতে]।
.
চলবে.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now