বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি সবে মাত্র ক্লাস সেভেনের Half Yearly Exem শেষ করেছি। কিছুদিন বাদেই পবিত্র ঈদ উল আযহা। তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে অনেক Plan করেছি।
আজকে রাত্রে খাওয়া দাওয়া করে পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতে পারি নি। কিন্তু রাত ১০টার সময় বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা। কিছু গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে। যখন ঘুম ভাঙে তখন ঘড়িতে দেখি ১০:৩০ বাজে। আমি তাড়াতাড়ি কাওকে কিছু না বলে বের হয়ে যায় বাসা থেকে।
বাসা থেকে আমাদের স্কুলটা অনেক দুরের যেখানে আমাদের দেখা করার কথা। আমি sure যেতে যেতে ১১ টা বাজবে। তাই আমি পাকা রাস্তা দিয়ে না গিয়ে কাচা মাটির রাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্য ওই রাস্তায় নেমে পড়লাম। যাতে তাড়াতাড়ি পৌছছানো যায়। আমি এর আগে এই রাস্তা দিয়ে আর যাওয়া আসা করি নাই রাত্রি বেলা। আমি রাস্তা দিয়ে ভয়ে ভয়ে এগুচ্ছি। হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেলো রাস্তার পাশের পুকুরটার দিকে। পুকুরটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে দেখলাম পুকুরটার পাড়ে একটা ছেলে বসে আছে আর একটা লাশ থেকে মাংস ছিড়ে খাচ্ছে। জোসনার রাত। তাই জ্যোৎস্না র আলোতে তা স্পষ্ট দেখতে পেলাম। তা দেখে আমার শরিরের রক্ত হীম হয়ে আসলো। গা ছমছম করে ঊঠলো। তবুও আরও পরিষ্কার করে দেখার জন্য টর্চ লাইটটা ওদিকে ধরলাম। আসার সময় লাইটটা নিয়ে এসেছিলাম। দেখলাম কেও নেই। আমি আরও ভয় পেয়ে গেলাম। তারপর ভাবলাম হয়ত মনের ভুল।
আমি দ্রুত হাটা দিলাম। আরও অনেকখানি রাস্তা হাটতে হবে। আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলা ছিলো কেও না আসলে তার জন্য ১১:৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি ১০:৪০ বাজে। আমি আরও দ্রুত হাটা দিলাম। এক ভয়ে আরেক তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। যেতে যেতে দেখি সামনে একটা পুরুনো তালগাছ। এই গাছটা নাকি কেও কাটতে পারে না। আর এই তালগাছে নাকি ভুত থাকে। এইসব ভাবতে ভাবতে আমি আরও ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু এখন আমার সাথে আর কিছুই হয়নি। এখন শুধু চিতাখলাটা পার হতে পারলেই কেল্লা ফতে । আমি আমার গন্তব্যে পৌছে যাব। আমি চিতাখলার পাশ দিয়ে যাচ্ছি। এখানে হিন্দুদের মরাদেহ দাহ করা হয়। হঠাৎ চোখ পড়ল যেখানে মরা দেহ রেখে দাহ করা হয়। জিনিসটা খুব কালো। সেখান থেকে মৃদু বাতাসে পোড়া কাচা মাংসের গন্ধ আসছে।
হঠা ৎ করে চেয়ে দেখি একটা সাদা কাপড় পড়া মহিলা আর সেই ছেলেটা। সে ই ছেলেটি এখন কাদছে। তারা দুজনই আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি চোখ বন্ধ করে সুরা ফাতিহা পড়তে থাকলাম। আর চোখ খুলে দেখি কেও নেই। এখন আমার বুঝতে বাকি নেই আমার সাথে কি ঘটছে। আমি দৌড়ে সেখান থেকে চলে আসলাম। আমি স্কুলে চলে এসেছি। এসে দেখি ১০:৫৯ বাজে। এক মিনিট কম আছে। সাধারনত এটা ধরা হয় না।
তারপর বন্ধুদের সাথে কথা বার্তা বলে যার যার মতো চলে আসতে লাগলাম। আমি ঘড়ি দেখার প্রয়োজন বোধ করি নাই। তাই আর দেখি নাই। আমি সাহস করে আবারও সেই রাস্তা দিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেই। আমি আসছিলাম। হঠাত দেখি সেই মহিলা আর ওই বাচ্চা টা। আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। লুটিয়ে দেই আমার ছোট্ট দেহটাকে মাটিতে। অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর আর কিছুই মনে নেই। জ্ঞান ফিরতেই দেখি আমি আমার ঘরে বিছানায় শুয়ে আছি। আব্বু আম্মু পাশে আর কাকু আমাকে জার ফুক দিচ্ছেন। কাকু হলেন বড় তান্ত্রিক বা কবিরাজ। তারপর আম্মুর মুখে শুনি আমার আসতে দেরি হওয়ায় আব্বু আর কাকু আমাকে খুজতে বের হয়। তারপর তারা আমাকে চিতাখলায় আবিষ্কার করে। কাকু আমাকে মন্ত্র পড়া পানি খেতে দিলেন। আমি বিশ্বাসের সহিত তা খেলাম।
ঈদ ঘনিয়ে এসেছে। মাত্র কিছুদিন আছে। এখন আমি দিনের বেলাতেও খুব কম বের হই। রাত্রি তো দুরের কথা। কিছুদিন পরেই ঈদ। তাই তখন আর বেশি পড়া হবে না। তাই এখনি সব পড়া শেষ করার চেষ্টা করছি। হঠাৎ শুনি আমাকে কে যেন ডাকছে। আমি বারান্দায় গিয়ে দেখি হানিফের বাবা। আমি বললাম,,,,,
আমিঃ আংকেল,,,, কেমন আছেন???
আংকেলঃ আমি ভালো বাবা,,,তুমি কেমন আছো।
আমিঃ আমিও ভালো,,,, তা ভিতরে আসেন।
আংকেলঃ না বাবা আমি আসবো না। তুমি হানিফকে পড়াগুলো দাগিয়ে দাও।
আমিঃ জ্বি আংকেল,,,, বইটা দেন,,,
আংকেলঃ বইতো আনিনি,,,তুমি যদি একটু আসতে। আমি আবার তোমাকে দিয়ে যাব।
আমি ভাবলাম বাসা কাছেও যাই একটু ঘুরে আসি। আর আংকেল তো আছেনি।
আমি যাচ্ছি। যেতে যেতে দেখলাম সেই পুকুরটা। আমি বুঝতে পারলাম না এখানে আসলাম কিভাবে। আমি আংকেলের দিকে তাকাতেই দেখি ও আংকেল নয়। ওর মুখটা একটা ভিবস্য চেহারা ধারন করেছে। তবুও আমি তার সাথে গেলাম। কেননা আমি এখন পিছনেও যেতে পারবো না।
তিনি বলে উঠলেন,,,,,
আংকেল রুপি ভুতঃ তুমিতো আমাকে চিনে গেছো তো আমার সাথে যাচ্ছো কেন?
আমি আমার মনের কথা টা চেপে রেখে বললাম,,,
আমিঃ আমি যানি তুমি আমার কোন ক্ষতি করবে না,,,,
ভুতঃ কিভাবে যানো,,,,
আমিঃ তুমি যদি ক্ষতি করতে তাহলে আগেই করতে,,,,
ভুতঃ হুম,,,,আমি সাধারন মানুষের কোন ক্ষতি করি না। আমি শুধু একজন কে হত্যা করে আমার মনের প্রতিশোধ নেবো। যে আমার ছেলেকে একটু কাজে দেওয়ার দেওয়ার জন্য পিটিয়ে হত্যা করেছিলো। গরিব ছিলাম বলে কিছু বলতে পারিনি । ছেলেকে হারিয়ে আত্নহত্যা করেছিলাম। আমি তার ছেলে কে হত্যা করে আমার ছেলে হত্যার প্রতিশোধ নেব।
আমি আর কিছুই বললাম না। তুমি আমার চেহারা দেখে ভয় পেয়ে যাবে।
এবার আমার কৌতুহল হলো দেখার জন্য। আমি বললাম দেখবো।
তার চেহারা পরিবর্তন হলো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তার চেহারা এমন। চোখ দুটো রক্তের চেয়ে লাল। একটা হাত কাটা। আর নাক নেই। সেখান থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে। আর যেই হাত কাটা সেখান থেকে রক্তের বারিপাত ঘটছে। তার মুখটা ছিলো সেলাই করা। আমি আবার তাকে সাধারন রুপ ধরার জন্য বললাম। আমাকে তখন সে বাড়িতে গেলো।
একদিন বিকালে আমি আর লিমন আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে ফুটবল খেলতে ছিলাম। হঠাত লিমনের কিকে বলটা একটু দূরে গিয়ে সেই ভয়ংকর রাস্তায় গিয়ে পড়ে। তখন সে বলটা আনতে যায়। আমরা আধ ঘন্টার মতো দাঁড়িয়ে আছি সে আসছে না। আমরা সেখানে যাওয়ার সাহস দেখালাম না । আমরা লিমনের আব্বাকে গিয়ে সবকিছু বললাম। তিনি এবং আরও সাহসী কিছু লোক গিয়ে তাকে খুজতে গেলো। আমি তাদের সাথে গেলাম।গিয়ে দেখি লিমনের লাশ টা পড়ে আছে। তার লাশটা দেখতে গত রাতের ভয়নকর ভুতটার মতো ছিলো। আমি বুঝে গেলাম যে, সেই ভুতটা একে মারার জন্যই অপেক্ষা করছিলো। আর সে তার ছেলে হত্যার প্রতিষোধ নিলো। পরে লিমনের বাবা এবং এলাকার কিছু লোক মিলে সেই রাস্তাকে বন্ধ করে দিলো।
পরের দিন রাতে এই ভুতটা এসে আমাকে বলল আজকে থেকে আমি মুক্তি। তোমাকে আমার সবসময় মনে থাকবে।
তারপর আমার সাথে আর এমন কোন ঘঠনা ঘটেনি। সেখানেই ওই ভুতটার সমাপ্তি ঘটেছিলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now