বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব-১
আচ্ছা ভাইয়া! বাবার কবরটা কী এই কবরস্হানে দেওয়াটা খুবই জরুরী?
-মানে কী? এই কবরস্হানটা আবার কী দোষ করলো?
-না মানে ভাইয়া! ঈমাম সাহেবও কিন্তু জানাজার নামাজ পড়িয়ে আর এই কবরস্হান পর্যন্ত আসেনি! এছাড়া এই গ্রামের মুরুব্বী লোকেরাও কিন্তু এই কবরস্হানে বাবাকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন। তাদের মতে এটা একটা অভিশপ্ত কবরস্হান এবং এখানে যাদেরই কবর দেওয়া হয় তাদের আত্মা নাকি কোনদিনই শান্তি পায় না! তাদের আত্মাগুলো আবার তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায় ! এবং এক পর্যায়ে তাদের পরিবারে ফিরে এসে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও খুন করে তার সাথে করে ওপারের দুনিয়ায় নিয়ে যায়!
-তুই কী পাগল হয়ে গেছিস? তুই না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র?! একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে এতোটা মুর্খের মতো কথা বলছিস কী করে তুই?! এরা গ্রামের মানুষ। এরা এখনো নানান কুসংস্কারে বিশ্বাস করেই জীবন যাপন করে। এরা মুর্খ! তাই এরা এইরকম বোকার মতো অদ্ভুত কথা বলছে! এই অশরীরী আত্মা বলে কিছুই হয় না! এইসবই হলো কুসংস্কার! এই কবরস্থানেই বাবার কবর দেওয়া হবে। আর আমাদের কিছুই হবে না! তাছাড়া এই গ্রামে আর কবরস্হান ইবা কই?! যদিও একটা আছে তাও গ্রামের অনেক ভেতরে। শহর থেকে এসে সেখানে গিয়ে বাড়ে বাড়ে কবর জিয়ারত করাটাও অনেক ভেজাল হবে। তার চেয়ে ভালো এখানেই কবরটা দেওয়া।
এছাড়া বাবার শেষ ইচ্ছাও ছিলো তার মৃত্যুর পর যেনো তার কবর শহরে না দিয়ে গ্রামে দেওয়া হয়। তাই তুই এটা নিয়ে আর এতোটা চিন্তা করিস না। বাবার কবর এখানেই দেওয়া হবে!! আমরা যে কয়জন আছি আমরা সবাই মিলেই কবরটা দিতে পারবো। গ্রামের কাউকেই আর লাগবে না! তুই শুধু দাঁড়িয়ে থাক।
.
.
কথা হচ্ছিলো আবির এবং আসিফের মধ্যে। তারা দুই ভাই। তারা দুজনেই স্হায়ীভাবে শহরে বাস করে। আবির পরিবারের ছোট ছেলে এবং আসিফ বড় ছেলে। আবির এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। আর আসিফ লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে একটা ব্যাংকে কাজ করে। আসিফ বিবাহিত এবং তার একটি ৫ বছর বয়সের মেয়েও আছে। তারা শহরে বাবা-মা এবং ২ ভাই, আসিফের স্ত্রী ও মেয়ে মিলে একটা জয়েন ফ্যামিলিতে থাকতো। কিন্তু হঠাৎই তাঁদের বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা যান। আর তার বাবার অনেক ইচ্ছা ছিলো তাকে যেনো গ্রামের বাড়িতে কবর দেওয়া হয়। তাই আসিফ এবং আবির তার বাবার লাশ নিয়ে এই গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। শহর থেকে আসিফের এক মামা এবং কিছু বন্ধুও তাঁদের সাথে এসেছেন কবর দিতে । আসিফ এবং আবির জন্মের পর থেকেই শহরে বড় হয়েছে। খুব একটা গ্রামে আসা হয়নি তাঁদের। তাই এই গ্রামটা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে না তারা! তাই কবর দিতে এসে নানান গ্রাম্য মানুষের নানান অদ্ভুত রকমের কথার শিকার হচ্ছেন তারা! তবে এসব কিছুকে ভুলে তারা তাদের বাবাকে কবর দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো গ্রাম থেকে কিছুটা দুরের একটা পুরাতন কবরস্হানে। কিন্তু গ্রামের লোকেদের মতে এটা একটা অভিশপ্ত কবরস্হান। এই কবরস্হানে ১২ বছর ধরে কাউকে কবর দেওয়া হয় না। এইখানে যাদেরই কবর দেওয়া হয়। তাদের আত্মা আর কোনদিন মুক্তি পায় না। তাদের আত্মা অভিশপ্ত হয়ে যায় এবং তাঁদের পরিবারের মানুষের কাছে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু তাঁদের পরিবার আর তাদের স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করে না এবং তাই এই আত্মাগুলো সেই পরিবারের সদস্যদের খুন করে তার সাথে করে ওপারের দুনিয়ায় নিয়ে যায়। গ্রামের লোকেরা বলেন এই রকম ঘটনা না কী পুর্বেও অনেকবার ঘটেছে। আবির গ্রামের লোকেদের কথা শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। কিন্ত আসিফ কিছুতেই তাঁদের কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এই কথাগুলোর সাথে বাস্তবতার সে কোন মিলই খুঁজে পায় না। গ্রামে থাকা তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরাও বাড়েবাড়ে তাঁদের নিষেধ করছিলো যে এই কবর স্হানে যাতে তাঁদের বাবাকে তারা কবর না দেয়! কিন্তু আসিফ তাঁদের কারো কথায়ই কান দেয় না। সে জেদ করেই বসে যে এই কবরস্হানেই তার বাবাকে কবর দিবে সে। এছাড়া শহর থেকে এই কবরস্হানে আসাটাও সহজ! তাই কবর দেওয়া নিয়ে আসিফের সাথে নানান তর্কে জড়িয়ে তার গ্রামের কোন আত্মীয় স্বজনই তার বাবার দাফন দিতে আসেনি এখানে। এখন সাড়ে তিন হাত গর্তের সামনে শুধু দাঁড়িয়ে আছে আসিফ, আবির, তাদের মামা, আসিফের ৪ জন শহরের বন্ধু এবং ২ জন লোক যারা এই কবরটা খুড়তে এসেছে। আর একটা খাটিয়া রয়েছে যেখানে তাদের বাবার লাশ রয়েছে। লাশটার দাফনের জন্য সবকিছুই প্রায় জোগাড় করা হয়েছে। এরপর যেই তারা দাফনের কাজ শুরু করবে ঠিক তখনি কবর স্হানে একটা পাগলের প্রবেশ। পাগল লোকটাকে দেখে সবাই প্রথমে বেশ ভয় পেয়ে যায়!! পাগলটার পরণে ছিলো শুধু একটা ছ্যাড়া লুঙ্গী আর একটা ছ্যাড়া গেন্জী! পাগল লোকটা দৌড়াতে দৌড়াতে তাঁদের সামনে এসে হাঁজির হলো। এরপর অনেকটা কাঁদতে কাঁদতেই তাঁদেরকে বিনয় করে বলতে লাগলো:
-তোমরা কি মরতে এখানে এসেছো?! তোমরা কি পাগল হয়ে গেছো?! তোমাদের কী নিজেদের জীবনের প্রতি কোনো মায়া নেই?! তোমরা চলে যাও এখান থেকে! এখানে কাওকে কবর দিয়ো না। তাহলে তোমাদের পরিবারের আর কেউ বেঁচে থাকবে না! ও তোমাদের কাউকে বাঁচতে দিবে না ! চলে যাও এখান থেকে! নিজে থেকে অভিশাপকে আহ্বান করো না!
.
.
পাগল লোকটার কথা শুনে আবির এবং সবাই বেশ ভয় পেয়ে যায়। এইদিকে আসিফ উল্টো অনেক বেশি রেগে যায়! সে পাগলটাকে ধাক্কা মারতে মারতে কবরস্হান থেকে বের করে দেয়। আর বলে:
-এতোটাই কী খারাপ পরিস্হিতীতে পড়েছি নাকি যে শেষ পর্যন্ত একটা পাগলের উপদেশ আমাদের শুনতে হবে?! আসলেই এইগুলো পাগলের প্রলাপ! চলো তাড়াতাড়ি কবরটা দিয়ে দেই! আকাশের অবস্হা বেশি ভালো না! মনে হয় বৃষ্টি আসবে!
.
এরপরেই তারা সেই কবরস্হানে তাঁদের বাবার কবর দিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই কবর দিয়ে দেয় দেয় তারা। কিন্তু কবর দেওয়ার সময় আসিফ এক অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করে। যা আসিফ এর আগে কখনো করেনি! আসিফ যখন কবরে নেমে তার বাবার লাশটা মাটিতে রাখে তখন এক অন্যরকম গায়ে শিহরণ আনা অদ্ভুত অনুভূতি তাকে গ্রাস করতে থাকে! কবরে লাশটা রাখার পর যেই লাশটার মুখের উপর থেকে কাফনের কাপড়টা সড়ায় আসিফ , সে তার বাবার লাশের মুখটা দেখেই অনেকটা ভয় পেয়ে যায়। সে ভাবে বাবার লাশের চেহারাটা তো এতক্ষন এতোটা ভয়ংকর লাগে নি!! স্বাভাবিক একটা লাশের মতোই লেগেছিলো! তাহলে কবরের ভেতর লাশটা রাখতেই এতোটা ভয়ংকর রূপ ধারণ করলো কেনো ?! সে এর আগেও অনেক আত্মীয়ের লাশই কবরে রেখেছে। কিন্তু এতোটা ভয়ংকর অনুভূতি তার মনে কখনো জন্ম নেয় নি। কবরে দাঁড়িয়েই কিছুক্ষণ এই বিষয়টা নিয়ে ভাবার পর আসিফ ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করে। সে ভাবলো গ্রামের লোকগুলোর মুখে কবরস্থানটা সম্পর্কে এইরোকম অদ্ভুত কথা শুনার পর হয়তো তার মনেও উল্টা পাল্টা চিন্তা এসে বাসা বাঁধছে!! আসলে সব ঘটনাই হয়তো স্বাভাবিক ভাবেই ঘটছে! এরপর দ্রুত তারা দাফনের কাজটা শেষ করে! কবর দেওয়ার পর তারা নিজেরাই মোনাজাত করে আবার তাঁদের শহরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এইদিকে কবর দেওয়ার পর সবাই স্বাভাবিক ভাবেই কবরস্হান থেকে বেরিয়ে আসলেও আবিরের মনে অনেকটা ভয় কাজ করছিলো। সে কবরস্হান থেকে বের হওয়ার পথে বাড়ে বাড়ে শুধু তার বাবার কবরের দিকে ফিরে ফিরে তাঁকাচ্ছিলো। তার কেনো যেনো মনে হচ্ছিলো তাকে সেখান থেকে কেউ ডাকছে! সে বেশ ভয় পেয়ে যায়! এরপর সে আর পিছনে ফিরে তাঁকালো না। সবার সাথে সোজা কবরস্হান থেকে বেরিয়ে আসলো। এরপর হঠাৎ তার মনে হলো তাকে কবরস্হানের ভেতর থেকে কেউ ডেকে বলছে:-
-আমায় এই অভিশাপে একা ফেলে রেখে চলে যাস না বাবা! আমায় সাথে করে নিয়ে যা! আমি আবার তোদের সাথে একত্রে থাকতে চাঁই!
.
আবির কন্ঠটা শুনেই আৎকে পেছনে ফিরে তাঁকালো! কিন্তু সে কাউকেই দেখতে পেলোনো! সে ভাবলো এটা হয়তো তার মনের ভুল ছিলো। সে আসলে এই অদ্ভুত বিষয়টা নিয়ে একটু বেশিই ভাবছে! তাই হয়তো তার মনে এইসব উল্টাপাল্টা চিন্তা ভেসে আসছে! এরপর আবিরও আর কিছু না ভেবে সবার সাথেই শহরে চলে আসলো।
.
শহরে আসার পর তাঁদের জীবনটা আবার আগের সেই স্বাভাবিক জীবনের মতোই চলতে থাকলো। প্রথমে বেশ কিছুদিন তারা বাবা হারানোর শোকে থাকলেও পরে শহরের ব্যাস্ততায় তারা তাঁদের বাবার কথা কিছুটা ভুলতে সক্ষম হয়! আর গ্রামের লোকদের বলা সেই অদ্ভুত কথা গুলোও তারা আর কেউ মনে রাখে না। শহরের আধুনিক জীবনের কাছে এই অভিশপ্ত কথাগুলো যেনো বড়ই হাস্যকর!
.
আসিফ, আবির এবং তাঁদের পরিবারের সকল সদস্যেরা স্বাভাবিক ভাবেই দিন কাটাচ্ছিলো। আসিফ রোজ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যাংকে কাজ করতো। আবির রোজ সকাল সকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতো, বিকেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতো, সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে পড়াশোনা করতো। এইভাবে তার দিন কেটে যাচ্ছিলো। আর তাঁদের মা, আসিফের স্ত্রী শম্মী এবং আসিফের ৫ বছরের মেয়ে আনিকা প্রায় সারাদিনই বাঁড়িতে থাকতো। এইভাবেই চলে যাচ্ছিলো তাঁদের দীর্ঘ দিন।
.
কিন্তু তাদের স্বাভাবিক জীবন আর বেশিদিন স্থায়ী হলো না! ধীরে ধীরে যেনো তাদের জীবনে অস্বাভাবিকতার আবির্ভাব ঘটতে লাগলো!
.
একদিন দুপুর বেলা আসিফের স্ত্রী শম্মী তার মেয়ে আনিকাকে ঘুম পাড়িয়ে ওয়াশরুমে গোসল করতে গিয়েছিলো। হঠাৎ ওয়াশরুমের ভেতরে থেকেই শম্মী শুনতে পেলো যে, ঘরের ভেতর আনিকা কারো সাথে কথা বলছে আর খিলখিল করে হাসছে! শম্মী প্রথমে বেশ অবাক হলো আর ভাবতে লাগলো! এই দুপুর বেলা আনিকা কার সাথে কথা বলছে?! মা তো পাশের ঘরে ঘুমিয়ে রয়েছে! এছাড়া বাড়িতেতো আর কেউ নেই! আসিফ এবং আবিরও তো বাড়ির বাহিরে আছে।
তাহলে আনিকা কার সাথে কথা বলছে ?! এরপর শম্মী দ্রুত গোসল শেষ করে আনিকার ঘরে দেখতে যায় যে, আনিকা কার সাথে কথা বলছিলো?! কিন্তু ঘরে গিয়ে দেখে আনিকা চুপচাপ ঘুমিয়ে রয়েছে! এইদিকে অন্য ঘরে আসিফের মাও ঘুমিয়ে রয়েছে!! শম্মী পুরো অবাক হয়ে যায়!! কারণ সে একটু আগেও ওয়াশরুম থেকে স্পষ্ট আনিকার খিলখিল হাসির শব্দ শুনেছে! এরপর কিছুক্ষন চুপচাপ এটা নিয়ে ভাবার পর শম্মীর মনে হলো, এটা হয়তো তার মনের ভুল ছিলো! আনিকাতো এখনো ঘুম থেকেই উঠেনি! তাহলে কথা বলবে কিভাবে?! আর হাসবেই বা কখন?! তাই সে এই ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নেয়।
.
কিন্তু এই ব্যাপারটা আর বেশিদিন স্বাভাবিক থাকে না! কিছুদিন পর এই ব্যাপারটাই শম্মীর রাতের ঘুম কেরে নেয়! কারণ এই ঘটনার পর থেকে আনিকা বেশ অস্বাভাবিক হয়ে যায়! শম্মী প্রায়ই লক্ষ করে যে আনিকা একা একা কারো সাথে কথা বলতে থাকে। আনিকা নিজে নিজে একা একাই কথা বলতে থাকে আর নিজেই হাসতে থাকে। আনিকা এমন ভাবে কথা বলে যেনো মনে হয় তার পাশে অন্য একটা লোক বসে রয়েছে! আর সে আনিকার সাথে গল্প করছে!! যদিও শম্মী আনিকার পাশে কাউকেই দেখতে পায় না! শম্মী এবং আনিকা রাতে এক সাথেই ঘুমায়। মাঝরাতে যেই শম্মীর ঘুম ভাঙে সে লক্ষ করে আনিকা কারো সাথে একা একাই কথা বলছে!! শম্মীকে ঘুম থেকে উঠতে দেখেই আনিকা চুপ হয়ে যায়। আর চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর অভিনয় করে। একটা ৫ বছর বয়সের মেয়ের হঠাৎ এইরকম অদ্ভুত ব্যবহার করাটা মোটেও কোন স্বাভাবিক ঘটনা না। আনিকার এই রকম অদ্ভুত ব্যবহার একমাত্র
শম্মীই লক্ষ করে। বাড়ির আর কারো চোখে এই অদ্ভুত ব্যবহার ধরা পড়ে না। শম্মী প্রথম দিকে এই ঘটনাটাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলো। তাই বাড়ির অন্য কাউকে এসম্পর্কে কিছুই বলে না ! কিন্তু ধীরে ধীরে বিষয়টা আরো জটিল হয়ে যাচ্ছিলো। তাই বাধ্য হয়েই আসিফকে এই ঘটনাটা খুলে বলে শম্মী। আসিফ প্রথমে শুনে ঘটনাটা বিশ্বাস করে না! সে ভাবে শম্মীর হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে! নাহলে একটা ৫ বছর বয়সের মেয়ে কি কখনো এই রকম অদ্ভুত ব্যবহার করতে পারে?! আসিফ প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরে ছুটির দিন গুলোতে আনিকার দিকে লক্ষ রাখতে থাকে। এরপর শম্মীর মতো আসিফও লক্ষ করে যে আনিকা এখন একা একা থাকতে বেশি পছন্দ করে। সে কখনো ছাদে, কখনো নিজের ঘরে শুধু একা একা বসে নিজে নিজেই কথা বলতে থাকে! সে এমন ভাবে কথা বলে যে, মনে হয় তার পাশে অন্য একজন লোক রয়েছে এবং সে তার সাথে গল্প করছে!! এবার বিষয়টা নিয়ে আসিফও শম্মীর মতো বেশ চিন্তায় পড়ে যায়! আসিফ বা শম্মী যখনি আনিকাকে এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন করে, আনিকা সরাসরি এই বিষয়টাকে অস্বীকার করে। সে বলে , তার একা থাকতে ভালো লাগে কিন্তু সে কারো সাথে কথা বলে না!
.
এরপরে আসিফ এবং শম্মী আরো বেশি চিন্তায় পড়ে যায়! আনিকার এই রকম গুছিয়ে মিথ্যা কথা বলাটা তাদের আরো বেশি
চিন্তায় ফেলে দেয়। কারণ আনিকা মোটেও এই ধরনের মেয়ে ছিলো না! আর ও একটা বাচ্চা মেয়ে! তাই তারা ভাবে এই বাচ্চা মেয়েটা হঠাৎ এতোটা বদলে গেলো কিভাবে?! এরপর তারা ভাবে আনিকা তার দাদাকে অনেক বেশি পছন্দ করতো। তাই হঠাৎ তার দাদার মৃত্যুর কারণে হয়তো আনিকা মানসিক ভাবে অসুস্হ্য হয়ে পড়ছে! তাই আনিকাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শম্মী আর আসিফ তাকে একটা শিশু বিশেসজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার অনেক্ষন আনিকার সাথে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে। এরপর আসিফ এবং শম্মীকে জানায় যে, আনিকা পুরোপুরি সুস্হ্য রয়েছে। বাচ্চা ছেলেমেয়েরা খেলার ছলে এমন একটু-আকটু অভিনয় আর দুষ্টুমী করেই থাকে। যেহেতু তাদের বাড়িতে আনিকার সাথে খেলার মতো সমবয়সী কেউ নেই! তাই হয়তো আনিকা একাকীত্ব দূর করার জন্য এমনটা করে!! এটা কয়েক মাস পর এমনিতেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এছাড়াও ডাক্তার, আনিকার দিকে বিশেষ যত্ন নেওয়ারো পরামর্শ দেয় তাদের। এরপর তারা কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপরেও আনিকার এইরকম অস্বাভাবিক আর অদ্ভুত ব্যবহার একটুও কমে না। তবে শম্মী এবং আসিফ এই বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবেই নিতে থাকে।
তারা ভাবে হয়তো একাকিত্বের জন্য সে এমনটা করছে!! এছাড়াও আনিকাকে একটু বেশি করে সময় দেওয়ার চেষ্টা করে তারা!!
.
.
এইভাবে দেখতে দেখতে আরো বেশ কিছুদিন চলে গেলো। কিন্তু এরপরেই সবচেয়ে বড় অঘটনটা ঘটলো। সেদিন ছিলো শুক্রবার। আসিফ এবং আবির দুজনেরই ছুটির দিন। তারা দুজনে মিলে সকাল ১০ টার দিকে বাজারে চলে গেলো ঘরের টুকিটাকি বাজার করতে। বাজার করতে করতে তাঁদের প্রায় দুপুর ১২টা বেজে যায়। তারা বাজার করা শেষে যেই বাড়ির উদ্দেশ্যে
রওনা দিবে। ঠিক সেই সময়েই আবিরের মোবাইলে একটা কল বেজে উঠলো। আবির পকেট থেকে মোবাইলটা বের করতেই দেখলো তার মা বাড়ি থেকে কল দিয়েছে। এরপর আবির কলটা ধরতেই ওপাশ থেকে তাঁর মা কাঁদতে কাঁদতে আবিরকে বলতে লাগলো:-
-আবির! বাবা! তুই তাঁড়াতাড়ি তোর ভাইয়াকে নিয়ে বাড়িতে চলে আয়! বাড়িতে বড় বিপদ ঘটে গেছে। আনিকা মারা গেছে! তোরা তাড়াতাড়ি বাড়িতে চলে আয়!
.
আবির এই কথাটা শুনে পুরোই আৎকে উঠলো!! সে কল ধরার পর মায়ের কাছ থেকে এই রকম কোন কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না! সে কথাটা শুনে প্রায় পাগল হয়ে গেলো!! সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না আনিকা কি করে মারা যাবে?! অনিকাকেতো একটু আগেই মা এবং দাদির সাথে তার বাসায় রেখে এসেছিলো তারা!! এরপর আবির তার ভাই আসিফকে এসম্পর্কে কিছু না বলেই দুজনে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
.................................…........
.
.
. . . . . . . . . . চলবে . . . . . . . . .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now