বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মায়াজাল(পর্ব ০৩)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উড়ন্ত পায়রা(guest) (০ পয়েন্ট)

X বাইরে এসে চারপাশের অবস্থা থেকে আন্দাজ করলাম এখন মাঝরাত। এমন সময় এমন অদ্ভুত আওয়াজ শুনে স্বাভাবিক আছে সব ভাবা যায় না। এমন হাজারো ভাবনা ভাবতে ভাবতে আবার সেই আওয়াজ কানে এলো। এবার অনেক কাছে থেকে আওয়াজ আসছিল তাই আরও জোরে শুনতে পেলাম....একই কথা.. ***এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দে**** আমি খানিকটা বিচলিত হলেও সাহস করে সামনে পা বাড়ালাম।এক পা দু পা করে দোতলার ঘরগুলোর শেষ সীমানায় চলে এসেছি।হঠাৎ মনে হলো পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে কারণ আমি সামনের দেয়ালে দুইটা ছায়া দেখতে পাচ্ছি...একটা ছায়া আমার হলেও দ্বিতীয় ছায়া আমার না এটা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।তবুও পেছন ফিরে তাকালাম না এটা বোঝার জন্য যে আসলে কি হচ্ছে এখানে।আমার দৃষ্টি দেয়ালের ওপর ..... এখনও দুইটা ছায়া ।আমি আরেকটু সামনে এগোলাম।কিন্তু সেই ছায়ার অবস্থান পরিবর্তন হলো না।আমি আরও দুকদম এগোতেই ছায়াটি অদৃশ্য হয়ে গেল।এ বার আমি পেছন ফিরে তাকালাম...কিন্তু যা দেখলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।আমার সামনে একটা লাশ পড়ে আছে।এক অর্ধবয়সী পুরুষের লাশ।আমি লাশটার কাছে গিয়ে বসলাম।পরনে ছিল নীল রঙ এর পোশাক। তবে অনেক আগের ধাঁচের।আমি পালস চেক করলাম...সত্যিই মৃত।!তবে দেখে মনে হচ্ছে মৃত্যু এখনই হয়েছে!হয়তো মিনিট দশেক হবে।তার মানে আমি যতক্ষণ দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ছায়াটির গতিবিধি পর্যবক্ষেণ করছিলাম তার মাঝেই!!বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে উঠল।এটা কিভাবে সম্ভব!!অামি কিছুই টের পেলাম না!!!!! আমি কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। খানিকক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে থেকে দৈাড়ে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম। আমার উচিত ছিল মেয়েটিকে ডেকে সব বলা।কিন্তু আমি তা না করে লাশটাকে ওখানেই রেখে চলে এলাম!যাইহোক.. দোষটা যদি আমার ওপর পরে খুন করার.!! না আর কিছু ভাবতে চাইনা...আর ভাবব না। এখন আমার ঘুম প্রয়োজন।হ্যাঁ ...এখন আমি ঘুমাবো।তাই বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলাম।কিন্তু দু চোখের পাতা এক করতে না করতেই আবার এক আওয়াজ.. ***এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দে*** আমি বালিশ দিয়ে কান ঢেকে নিয়েছি। কিন্তু আওয়াজ ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে...। তবুও আমি দরজা খুলব না..কিছুতেই না। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেল!!!! দরজায় কে যেন অনবরত কড়া নাড়ছে। আমার হৃদয়ের তখন কাঁপুনি শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে দরজাটাই ভেঙে ফেলবে। একে কারেন্ট নেই..তার ওপর দরজায় অনবরত কড়া নাড়ার শব্দ। আমি শেষ সাহসটুকু নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম..এরপর হাটি হাটি পা পা করে দরজার সামনে গেলাম...মাঝখানে দু তিনবার পরেও গেছি আসবাবের সাথে ধাক্কা লেগে।দরজার ছিটকিনি খুঁজে দরজা খুলতেই আমার গালে কারো সজোরে থাপ্পড় অনুভব করলাম। এতক্ষণ চোখ বন্ধ করেই ছিলাম।এখন চোখ খুলতেই দেখি সেই মেয়েটি মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে।তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার অন্তর আত্না শুকিয়ে গেল ।আমি তার চোখের দিকে তাকিয়েই আছি... মেয়েটা হঠাৎ বলে উঠল..""মৃত্যুর জন্য তৈরি হ"""" তার কণ্ঠটা এখন খুবই ভয়ানক।আমার হাত এতটাই জোরে চেপে ধরল যে কিছু বলার মতো অবস্থায় রইলাম না।আমাকে মেয়েটা টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে... আমি ইচ্ছে করলেও কেন জানি মেয়েটার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছি না। এক অদ্ভুত আকর্ষণ আমাকে মেয়েটির সাথে বাধ্য ছেলের মতো যেতে বাধ্য করছে । মেয়েটি আমাকে দোতলারই একটা ঘরে নিয়ে প্রায় ছুড়ে ফেলল। এরপর আলো জ্বলে উঠল। আমি দেখলাম..আমার সামনে এক বুড়ি বসে আছে আধভাঙ্গা চেয়ারে আর বলছে.. ***এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দে*** তার মানে এই অর্ধমৃত বুড়িই আওয়াজ টি করছিল......! মেয়েটি আমাকে বলল...**তোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা পাব এই অভিশাপ থেকে মুক্তি।পঞ্চাশ বছর ধরে আটকে আছি এই নিস্তব্ধনগরীতে।আত্মা আজও মুক্তি পায়নি...আজ তোর রক্ত দিয়েই পাব মুক্তি*** আমি বিনীত স্বরে বললাম..... **তোমরাও তো মানুষ ছিলে।কেন এখন মানুষকেই মেরে মুক্তি পেতে চাও?? আম কি জানতে পারি কেন এই নগরীতে যাঁরা এসেছে সবাই মারা গেছে???তোমরা কি চাও??কেন এত হিংস্র তোমরা*** আম ভেবেছিলাম এখুনি হয়তো আমায় মেরে ফেলব এই কথা বলার জন্য। কিন্তু না...মেয়েটি আমার সামনে বসে বলতে শুরু করল.... ***পঞ্চাশ বছর আগে......... এই নগরীর সবচেয়ে ধনী ছিল আমার বাবা।আনন্দ ...প্রাচুর্য সব ছিল হাতের মুঠোয়।এই যে দেখছিস এই বুড়ি..এ আসলে আমার মা...তখনকার সময় সবচেয়ে সুন্দরী ।আমার মায়ের ওপর ছিল অনেকের কুনজর।আমার তখন দশ বছর বয়স ছিল... মা বাবা আর আমি থাকতাম এই বাড়িটায়। আমাদের ক্ষতি করার বদ বুদ্ধি কিছু লোক বের করে...কিন্তু কিছুই করতে পারছিল না...এভাবে চলতে চলতে আমার বিশ বছর পূর্ণ হয়।একদিন..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now